সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

প্রথম ঋতুস্রাবের জন্য আপনার মেয়েকে প্রস্তুত করা

প্রথম ঋতুস্রাবের জন্য আপনার মেয়েকে প্রস্তুত করা

প্রথম ঋতুস্রাবের জন্য আপনার মেয়েকে প্রস্তুত করা

বয়ঃসন্ধি হচ্ছে বিভিন্ন পরিবর্তনের এক সময়। অল্পবয়সি মেয়েদের জন্য বেড়ে ওঠার এই প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে প্রথম ঋতুস্রাব, যেটাকে “পিরিয়ডের শুরু” বলা হয়।

প্রথম ঋতুস্রাব অল্পবয়সি মেয়েদের জন্য অস্বস্তিকর সময় হতে পারে আর এই সময়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি দেখা যায়। বয়ঃসন্ধির সময়ে আরও অন্যান্য পরিবর্তনের মতো এটাও বিভ্রান্তিজনক হতে পারে। অনেক মেয়ে ভুল ধারণা ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিষয়টা সম্বন্ধে অজানা থাকার ফলে, তাদের প্রথম ঋতুস্রাবের সময় ভয় পায় ও দুশ্চিন্তা করে থাকে।

যে-মেয়েরা তাদের প্রথম ঋতুস্রাব সম্বন্ধে আগে থেকে অবগত রয়েছে, তারা তাদের প্রথম পিরিয়ডের সময় অতটা অস্বস্তিবোধ করে না। কিন্তু গবেষণা দেখায় যে, অনেক মেয়ে আগে থেকে অবগত থাকে না। ২৩টা দেশের অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটা সমীক্ষায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বলেছিল যে, প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার আগে পর্যন্ত তাদেরকে এই সম্বন্ধে কিছুই জানানো হয়নি। এই বিষয়ে কোনোকিছুই না জানা থাকায়, প্রথম ঋতুস্রাবের সময়টাতে কী করতে হবে, সেই সম্বন্ধে মেয়েরা কিছুই জানত না।

সেই মহিলাদের কিছুজন সবচেয়ে অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতাগুলোর বিষয়ে রিপোর্ট করেছিল, যাদের পিরিয়ড বা প্রথম ঋতুস্রাব সম্বন্ধে কোনো জ্ঞানই ছিল না। একটা গবেষণায় মহিলারা তাদের প্রথম ঋতুস্রাবের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছিলেন, যেমন “ঘাবড়ে যাওয়া,” “যন্ত্রণাদায়ক,” “বিব্রতবোধ করা” এবং “ভয় পাওয়া।”

রক্ত দেখলে লোকেরা সাধারণত ভয় পেয়ে থাকে, কারণ রক্তক্ষরণের সঙ্গে সাধারণত ব্যথা পাওয়া বা ক্ষতের বিষয়টা যুক্ত থাকে। তাই, এটা বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না যে, যখন আগে থেকে সঠিকভাবে অবগতির অথবা প্রস্তুতির অভাব থাকে, তখন সংস্কৃতিগত রীতিনীতি, মিথ্যা ধারণা বা এমনকি অজ্ঞতার কারণে একজন ব্যক্তি ভুলভাবে পিরিয়ডকে কোনো রোগ বা ক্ষত বলে মনে করতে বা এটাকে লজ্জাজনক কিছু বিষয় বলে ভাবতে পারে।

আপনার মেয়ের জানা দরকার যে, পিরিয়ডের সময় রক্তক্ষরণ হচ্ছে এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা সমস্ত সুস্থ মেয়েরই হয়ে থাকে। একজন বাবা অথবা মা হিসেবে, আপনি তার দুশ্চিন্তা বা ভয় দূর করার জন্য সাহায্য করতে পারেন। কীভাবে?

বাবামার ভূমিকা অপরিহার্য

পিরিয়ড সম্বন্ধে জানার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে, যেমন শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্বাস্থ্যকর্মী, বইপত্র ও এমনকি শিক্ষামূলক তথ্যচিত্রগুলো। অনেক বাবামা দেখেছে যে, এই মাধ্যমগুলো প্রায়ই পিরিয়ডের সময় যে-বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়া হয় সেই সম্বন্ধে ও সেইসঙ্গে ঋতুস্রাবের সময়ে স্বাস্থ্যবিধান সংক্রান্ত বিষয় সম্বন্ধে অনেক মূল্যবান তথ্য প্রদান করে থাকে। তবে, মেয়েদের হয়তো আরও অনেক প্রশ্ন ও প্রয়োজন থাকতে পারে, যা এই মাধ্যমগুলো থেকে জানা যায় না। পিরিয়ড হলে তাদের কী করতে হবে, সেই সম্বন্ধে মেয়েরা যদিও বা জানে কিন্তু সেই সময়ের বিভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, সেই বিষয়ে তারা প্রায়ই জানে না।

ঠাকুমা-দিদিমা, দিদিরা এবং বিশেষভাবে মায়েরা অল্পবয়সি মেয়েদের প্রয়োজনীয় আরও কিছু তথ্য জানাতে এবং আবেগগত সমর্থন জোগাতে পারে। অধিকাংশ সময়ে, মেয়েরা তাদের মাকেই পিরিয়ড সম্বন্ধে তথ্য পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।

বাবাদের বিষয়ে কী বলা যায়? অনেক মেয়ে বাবার সঙ্গে পিরিয়ডের বিষয়ে কথা বলতে বিব্রতবোধ করে থাকে। কিছু মেয়ে চায় যে, তাদের বাবা সরাসরি জড়িত না হয়ে বরং তাদের সমর্থন ও তাদের প্রতি বিবেচনা দেখিয়ে তাদের সাহায্য করুন, আবার কেউ কেউ চায় যে, তাদের বাবা যেন এই বিষয়ে একেবারেই জড়িত না হন।

অনেক দেশে, একক বাবা রয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা বিগত কয়েক দশকে বৃদ্ধি পেয়েছে। * তাই, দিন দিন অধিক সংখ্যক বাবাকে তাদের মেয়েদের পিরিয়ড সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা গ্রহণ করতে হবে। এই বাবাদের পিরিয়ড সম্বন্ধে মৌলিক বিষয়গুলো ও সেইসঙ্গে তাদের মেয়েরা যে-অন্যান্য শারীরিক ও আবেগগত পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছে, তা জানা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে ব্যবহারিক উপদেশ ও সাহায্যের জন্য বাবারা হয়তো তাদের নিজের মা বা বোনদের কাছে যেতে চাইতে পারে।

কখন আলোচনা শুরু করা যায়

যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিম ইউরোপের মতো কিছু শিল্পোন্নত দেশে, প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার গড় বয়স সাধারণত ১২ থেকে ১৩ বছর, যদিও এটা খুব তাড়াতাড়ি হলে ৮ বছরের মধ্যে আর খুব দেরি হলে ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে হতে পারে। আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু কিছু জায়গায়, প্রথম ঋতুস্রাব গড়ে একটু বেশি বয়সে হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, নাইজেরিয়াতে গড় বয়স হচ্ছে ১৫. বংশগত কারণে, অর্থনৈতিক অবস্থা, পুষ্টি, শারীরিক কাজ এবং পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করা প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার সময়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মেয়ের প্রথমবার পিরিয়ড হওয়ার আগেই তার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলা ভাল। তাই, শারীরিক পরিবর্তন ও পিরিয়ড সম্বন্ধে আলোচনা যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব, হয়তো যখন আপনার মেয়ের বয়স প্রায় আট বছর হয়ে যায়, তখনই শুরু করা উচিত। আপনার হয়তো মনে হতে পারে যে, এটা অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আপনার মেয়ের বয়স যদি আট থেকে দশ বছরের মধ্যে হয়ে থাকে, তা হলে সম্ভবত তার শরীর ইতিমধ্যেই হরমোনের বৃদ্ধির ফলে ভিতরে ভিতরে পরিপক্ব হয়ে উঠছে। বয়ঃসন্ধির সঙ্গে সঙ্গে আপনি বাহ্যিক পরিবর্তনগুলো লক্ষ করবেন, যেমন স্তন বড় হওয়া এবং ত্বকে লোমের বৃদ্ধি পাওয়া। বেশির ভাগ মেয়ে প্রথম ঋতুস্রাবের ঠিক আগে দ্রুত বেড়ে ওঠে (উচ্চতা ও ওজনের ক্ষেত্রে দ্রুত বৃদ্ধি পায়)।

বিষয়টা নিয়ে যেভাবে কথা বলা যায়

যে-মেয়েদের প্রথম ঋতুস্রাবের বয়স হচ্ছে, তারা প্রায়ই যা ঘটতে চলেছে, সেই বিষয়ে কৌতূহলী হয়ে থাকে। সম্ভবত তারা স্কুলে অন্য মেয়েদের এই বিষয়ে আলোচনা করতে শুনেছে। এই সম্বন্ধে অনেক মেয়ের হয়তো নানা প্রশ্ন থাকতে পারে কিন্তু কীভাবে তা জিজ্ঞেস করবে তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। তারা হয়তো এই বিষয়টা নিয়ে বিব্রতবোধ করে থাকে।

বাবামাদের বেলায়ও এমনটা হয়ে থাকে। যদিও পিরিয়ড সম্বন্ধে তথ্য প্রধানত মায়েদের কাছ থেকেই পাওয়া যেতে পারে কিন্তু তারা প্রায়ই এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করার সময় অপ্রস্তুত ও অস্বস্তিবোধ করে থাকে। সম্ভবত আপনিও তা-ই বোধ করেন। তা হলে, আপনি আপনার মেয়ের সঙ্গে কীভাবে প্রথম ঋতুস্রাব ও পিরিয়ড সম্বন্ধে আলোচনা শুরু করবেন?

কৈশোরে পড়তে চলেছে এমন মেয়েরা, যাদের প্রথম ঋতুস্রাবের বয়স হচ্ছে, তারা সম্ভবত সহজ, নির্দিষ্ট তথ্য বুঝতে পারে। এই ধরনের তথ্যের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে কত বার পিরিয়ড হয়, কত দিন থাকে বা এই সময় কতখানি পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়। তাই, পিরিয়ড সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়ার প্রাথমিক পর্যায়গুলোতে, পিরিয়ড হলে তৎক্ষণাৎ কী করতে হয় সেই বিষয়ে ও এর ব্যবহারিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করলে সবচেয়ে ভাল হবে। এ ছাড়া, আপনাকে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে হতে পারে, যেমন: এই সময়ে কেমন লাগবে? বা কী ঘটতে চলেছে?

পরবর্তী সময়ে, আপনি হয়তো পিরিয়ডের সময়ে ঘটিত নানা শারীরিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইতে পারেন। প্রায়ই, আপনি স্বাস্থ্যকর্মী বা লাইব্রেরি বা বইয়ের দোকান থেকে শিক্ষামূলক তথ্য পেতে পারেন। এইরকম তথ্যগ্রন্থগুলো হয়তো বিস্তারিত বিষয় ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হতে পারে। কিছু কিছু মেয়ে হয়তো এই তথ্যগুলো নিজে নিজেই পড়ে নিতে পছন্দ করতে পারে। অন্যেরা হয়তো, আপনি যদি সেই তথ্যগুলো তাদের সঙ্গে বসে একত্রে পড়েন, তাতে স্বচ্ছন্দবোধ করতে পারে।

আলোচনা শুরু করার জন্য এক নিরিবিলি জায়গা বেছে নিন। বড় হয়ে ওঠার ও পরিপক্ব হওয়ার মতো সাধারণ বিষয় নিয়ে কথা বলে শুরু করুন। সম্ভবত আপনি বলতে পারেন: “শীঘ্রই তুমি এমন কিছুর অভিজ্ঞতা লাভ করতে চলেছ, যা খুবই স্বাভাবিক আর সব মেয়েরই তা হয়ে থাকে। তুমি কি জানো সেটা কী?” অথবা একজন মা হয়তো তার ব্যক্তিগত মন্তব্য দিয়ে শুরু করতে পারেন, যেমন: “আমি যখন তোমার বয়সি ছিলাম, তখন আমি ভাবতে শুরু করেছিলাম যে, পিরিয়ড হলে কেমন লাগবে। স্কুলে আমার বন্ধুদের সঙ্গে আমি এই বিষয় নিয়ে কথা বলতাম। তোমার বন্ধুরা কি এই বিষয় নিয়ে কিছু আলোচনা করতে শুরু করেছে?” জানার চেষ্টা করুন যে, পিরিয়ড সম্বন্ধে সে ইতিমধ্যেই কী জানে এবং কোনোরকম ভুল ধারণা থাকলে তা দূর করুন। এই বিষয়টার জন্য তৈরি থাকুন যে, প্রথম প্রথম আলোচনায় আপনাকেই হয়তো সব না হলেও প্রায় বেশির ভাগ কথাই বলতে হবে।

একজন মহিলা হিসেবে সে যেহেতু প্রথম ঋতুস্রাব সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন হওয়ার ও দুশ্চিন্তা করার দ্বারা আপনার মতোই অভিজ্ঞতা লাভ করছে, তাই এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করার সময় আপনি আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করতে পারেন। আপনার কী জানার প্রয়োজন হয়েছিল? আপনি কী জানতে চেয়েছিলেন? কোন তথ্যটা আপনার জন্য সাহায্যকারী হয়েছিল? পিরিয়ডের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলোর ব্যাপারে এক ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করার চেষ্টা করুন। প্রশ্নের উত্তর দিতে তৈরি থাকুন।

ক্রমাগত শিক্ষা দিন

পিরিয়ড সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়াকে শুধু একবারের আলোচনা বলে না দেখে এক ক্রমাগত শিক্ষা হিসেবে দেখা উচিত। আপনার একটা আলোচনায় বিস্তারিতভাবে সমস্তকিছু বলে শেষ করার দরকার নেই। একসঙ্গে অনেক কিছু জানানো একটা অল্পবয়সি মেয়ের জন্য অনেক বেশি হয়ে যেতে পারে। বাচ্চারা বিভিন্ন পর্যায়ে একটু একটু করে শেখে। এ ছাড়া, বিষয়গুলোকে বিভিন্ন সময়ে পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন হতে পারে। অল্পবয়সি মেয়েরা বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তারিত বিষয়গুলো বুঝতে সক্ষম হয়।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে যে, বয়ঃসন্ধির সময়কালে পিরিয়ড সম্বন্ধে মেয়েদের দৃষ্টিভঙ্গি পালটাতে থাকে। আপনার মেয়ে পিরিয়ড সম্বন্ধে আরও বেশি অভিজ্ঞতা লাভ করার পর, তার সম্ভবত নতুন নতুন দুশ্চিন্তা ও প্রশ্ন আসবে। তাই, আপনাকে ক্রমাগত বিষয়গুলো তাকে বলে যেতে এবং তার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে। আপনার মেয়ের বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী, কোন বিষয়টা সবচেয়ে অর্থপূর্ণ এবং উপযুক্ত, সেই বিষয়টার ওপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করুন।

নিজে থেকে এগিয়ে যান

কিন্তু, আপনার মেয়ে যদি এই বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী নয় বলে মনে হয়, তা হলে কী করবেন? এর কারণ হতে পারে যে, সে ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে ইতস্ততবোধ করে। অথবা এইরকম হতে পারে যে, এই বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার মতো স্বচ্ছন্দবোধ করার জন্য তার হয়তো আরেকটু সময় লাগবে। সে হয়তো এমনকি এইরকম বলতে পারে যে, সে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সবকিছু জানে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১১ বছর বয়সি মেয়েদের ওপর করা একটা গবেষণা দেখিয়েছিল যে, অধিকাংশ মেয়েই নিজেদেরকে প্রথম ঋতুস্রাবের জন্য তৈরি বলে মনে করেছিল। কিন্তু, আরও কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার পর, এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, তাদের জ্ঞান অসম্পূর্ণ ছিল এবং তা প্রকাশ করেছিল যে, তারা ইতিমধ্যেই সংস্কৃতিগত রীতিনীতি ও মিথ্যা ধারণাগুলোর ওপর ভিত্তি করা ভুল ধারণাগুলোকে সত্য বলে গ্রহণ করে নিয়েছে। তাই, আপনার মেয়ে যদিও বলে যে, সে ইতিমধ্যেই প্রথম ঋতুস্রাব সম্বন্ধে জানে, তবুও তার সঙ্গে আপনার এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।

সম্ভবত আপনাকেই, পিরিয়ড সম্বন্ধে একটু একটু করে বিষয়গুলো জানাতে শুরু করতে এবং তা জানিয়ে যেতে হবে। সত্যি, বাবা অথবা মা হিসেবে এটা হচ্ছে আপনার দায়িত্ব। আপনার মেয়ে, সাহায্যের প্রয়োজন আছে বলে স্বীকার করুক বা না করুক, আপনার সাহায্য তার লাগবেই। আপনি হয়তো হতাশ ও অপ্রস্তুতবোধ করতে পারেন কিন্তু হাল ছেড়ে দেবেন না। ধৈর্য ধরুন। একসময় আপনার মেয়ে নিঃসন্দেহে উপলব্ধি করতে পারবে যে, আপনার প্রচেষ্টা কতখানি মূল্যবান ছিল। (g ৫/০৬)

[পাদটীকা]

^ জাপানে একক বাবা রয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা ২০০৩ সালে নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে, প্রতি ৬টা একক অভিভাবক পরিবারের মধ্যে ১টা পরিবারে একক বাবা রয়েছে।

[১১ পৃষ্ঠার ব্লার্ব]

আপনার মেয়ের প্রথমবার পিরিয়ড হওয়ার আগেই তার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলা ভাল

[১৩ পৃষ্ঠার বাক্স]

পিরিয়ড সম্বন্ধে আপনার মেয়ের সঙ্গে যেভাবে কথা বলবেন

সে ইতিমধ্যেই কী জানে, তা জানার চেষ্টা করুন। ভুল ধারণাগুলো দূর করুন। আপনি ও সে সঠিক তথ্য জানেন কি না, তা নিশ্চিত করুন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলুন। প্রথম ঋতুস্রাব সম্বন্ধে আপনার নিজের অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করার ও তাকে জানানোর দ্বারা, আপনি আপনার মেয়ের জন্য বহু প্রয়োজনীয় আবেগগত সমর্থন জোগাতে পারেন।

ব্যবহারিক তথ্য জানান। অল্পবয়সি মেয়েরা যে-সাধারণ প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করে থাকে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: “স্কুলে গিয়ে যদি পিরিয়ড শুরু হয়, তা হলে আমি কী করব?” “পিরিয়ডের সময় আমি কী ব্যবহার করব?” “সেগুলো আমি কীভাবে ব্যবহার করব?”

সঠিক তথ্যগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরুন। আপনার মেয়ের বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী বিষয়বস্তুকে খাপ খাইয়ে নিন।

শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টা চালিয়ে যান। আপনার মেয়ের প্রথম ঋতুস্রাব হওয়ার আগেই তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করুন এবং এমনকি তার পিরিয়ড শুরু হওয়ার কিছু সময় পরেও প্রয়োজন হলে কথা বলা চালিয়ে যান।

[১২, ১৩ পৃষ্ঠার চিত্র]

বিবেচনা দেখান। আপনার মেয়ে হয়তো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে ইতস্ততবোধ করতে পারে