যোহনের কাছে প্রকাশিত বাক্য ১৭:১-১৮

  • ‘মহতী বাবিলের’ শাস্তি (১-১৮)

    • মহাবেশ্যা গাঢ় লাল রঙের এক পশুর উপর বসে আছে (১-৩)

    • পশু ‘ছিল, এখন নেই, তবে অতল গহ্বর থেকে বের হয়ে আসবে’ ()

    • দশটা শিং মেষশাবকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে (১২-১৪)

    • দশটা শিং বেশ্যাকে ঘৃণা করবে (১৬, ১৭)

১৭  পরে যে-সাত জন স্বর্গদূতের হাতে সাতটা বাটি ছিল, তাদের মধ্যে একজন এসে আমাকে বললেন: “এসো, আমি তোমাকে দেখাই, অনেক জলের উপর যে-মহাবেশ্যা বসে আছে, তাকে কীভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। ২  পৃথিবীর রাজারা তার সঙ্গে যৌন অনৈতিক কাজ* করেছে এবং পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের তার যৌন অনৈতিকতার* দ্রাক্ষারস* খাইয়ে মাতাল করা হয়েছে।” ৩  পরে সেই স্বর্গদূত আমাকে পবিত্র শক্তির দ্বারা প্রান্তরে নিয়ে গেলেন। আর আমি একজন মহিলাকে দেখলাম, যে গাঢ় লাল রঙের এক হিংস্র পশুর উপর বসে আছে। সেই হিংস্র পশু ঈশ্বরনিন্দাজনক নামে পরিপূর্ণ আর এর সাতটা মাথা এবং দশটা শিং রয়েছে। ৪  সেই মহিলা বেগুনি রঙের এবং গাঢ় লাল রঙের কাপড় পরে আছে আর তার গায়ে সোনা, মূল্যবান পাথর ও মুক্তোর অলংকার রয়েছে আর তার হাতে একটা সোনার পাত্র, যেটা ঘৃণ্য বিষয়বস্তু এবং তার যৌন অনৈতিকতার* অশুচি বিষয়গুলো দিয়ে পরিপূর্ণ। ৫  তার কপালে এই রহস্য­ময় নাম লেখা রয়েছে: “মহতী বাবিল, সমস্ত বেশ্যা এবং পৃথিবীর ঘৃণ্য বিষয়বস্তুর জননী।” ৬  আর আমি দেখলাম, সেই মহিলা পবিত্র ব্যক্তিদের রক্ত খেয়ে এবং যিশুর সাক্ষিদের রক্ত খেয়ে মাতাল হয়ে আছে। তাকে দেখে আমি খুবই অবাক হয়ে গেলাম। ৭  তখন সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন: “তুমি অবাক হচ্ছ কেন? আমি তোমাকে এই মহিলার এবং সেই হিংস্র পশুর রহস্য জানাচ্ছি, যে-পশুর উপর এই মহিলা বসে আছে এবং যেটার সাতটা মাথা এবং দশটা শিং রয়েছে: ৮  তুমি যে-হিংস্র পশুকে দেখলে, সেটা ছিল, কিন্তু এখন নেই, তবে শীঘ্রই অতল গহ্বর* থেকে বের হয়ে আসবে এবং এটাকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। আর পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকেরা, যাদের নাম মানবজাতির শুরু* থেকে জীবনপুস্তকে লেখা হয়নি, তারা এটা দেখে অবাক হয়ে যাবে যে, হিংস্র পশুটা ছিল, কিন্তু এখন নেই, তবে ফিরে আসবে। ৯  “এটা বোঝার জন্য প্রজ্ঞা ও বুদ্ধির প্রয়োজন: সাতটা মাথা সেই সাতটা পর্বতকে চিত্রিত করে, যেগুলোর উপর সেই মহিলা বসে আছে। ১০  এগুলো সাত জন রাজাকে চিত্রিত করে: পাঁচ জন পতিত হয়েছে, একজন আছে এবং আরেকজন এখনও আসেনি; সে আসার পর তাকে কেবল অল্পসময় থাকতে হবে। ১১  আর যে-হিংস্র পশু ছিল, কিন্তু এখন নেই, সেটা নিজেও অষ্টম রাজা, তবে সেটা সেই সাত জন রাজার মধ্য থেকে এসেছে আর সেটাকে অবশেষে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ১২  “আর তুমি যে-দশটা শিং দেখলে, সেগুলো দশ জন রাজাকে চিত্রিত করে, যারা এখনও রাজ্য লাভ করেনি, তবে তারা অল্প সময়ের* জন্য সেই হিংস্র পশুর সঙ্গে রাজা হিসেবে শাসন করার ক্ষমতা লাভ করবে। ১৩  তাদের উদ্দেশ্য একই আর তাই তারা সেই হিংস্র পশুকে তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দিয়ে দেয়। ১৪  তারা মেষশাবকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে আর মেষশাবক যেহেতু প্রভুদের প্রভু এবং রাজাদের রাজা, তাই তিনি তাদের পরাজিত করবেন। আর যারা তাঁর সঙ্গে রয়েছে অর্থাৎ যাদের আহ্বান করা হয়েছে এবং মনোনীত করা হয়েছে এবং যারা বিশ্বস্ত, তারাও তাদের পরাজিত করবে।” ১৫  সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন: “তুমি যে-জল দেখলে, যার উপর সেই বেশ্যা বসে আছে, সেই জল বিভিন্ন বর্ণ ও জনতা ও জাতি ও ভাষাকে চিত্রিত করে। ১৬  আর তুমি যে-দশটা শিং এবং হিংস্র পশুকে দেখলে, সেগুলো ওই বেশ্যাকে ঘৃণা করবে আর তার সমস্ত কিছু কেড়ে নেবে এবং তাকে উলঙ্গ অবস্থায় ফেলে রাখবে; এরপর এগুলো তার মাংস খেয়ে ফেলবে এবং পরে তাকে আগুনে পুরোপুরিভাবে পুড়িয়ে দেবে। ১৭  কারণ এই ইচ্ছা ঈশ্বরই এদের হৃদয়ে দিলেন, যেন এরা নিজে­দেরই যে-একই উদ্দেশ্য রয়েছে, সেই অনুযায়ী কাজ করে, যেটা আসলে ঈশ্বরেরই উদ্দেশ্য। ঈশ্বর তা করলেন, যাতে এরা ঈশ্বরের বাক্য সফল না হওয়া পর্যন্ত এদের শাসন করার ক্ষমতা সেই হিংস্র পশুকে দিয়ে দেয়। ১৮  আর তুমি যে-মহিলাকে দেখলে, সে সেই মহানগরীকে চিত্রিত করে, যা পৃথিবীর রাজাদের উপর শাসন করে।”

পাদটীকাগুলো

গ্রিক পাঠ্যাংশে এখানে যে-শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা পরনিয়া শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দকোষ দেখুন, “যৌন অনৈতিকতা।”
গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন।
বা “ওয়াইন।”
গ্রিক, পরনিয়া। শব্দকোষ দেখুন।
অর্থাৎ এক গভীর গর্ত। শব্দকোষ দেখুন।
এটা আদম ও হবার সন্তানদের নির্দেশ করে।
আক্ষ., “তারা এক ঘণ্টার।”