যোহনের কাছে প্রকাশিত বাক্য ১৩:১-১৮

  • সমুদ্র থেকে একটা হিংস্র পশু উঠে আসে, যার সাতটা মাথা রয়েছে (১-১০)

  • ভূমির মধ্য থেকে একটা পশু উঠে আসে, যার দুটো শিং রয়েছে (১১-১৩)

  • যে-পশুর সাতটা মাথা রয়েছে, সেটার মূর্তি (১৪, ১৫)

  • হিংস্র পশুর চিহ্ন ও সংখ্যা (১৬-১৮)

১৩  আর এটা* সমুদ্রের বালির উপর দাঁড়িয়ে রইল। পরে আমি সমুদ্র থেকে একটা হিংস্র পশু উঠে আসতে দেখলাম। সেই পশুর দশটা শিং এবং সাতটা মাথা আর প্রতিটা শিঙে একটা করে মুকুট রয়েছে এবং মাথাগুলোর উপর ঈশ্বরনিন্দাজনক নাম রয়েছে। ২  আমি যে-হিংস্র পশুকে দেখলাম, সেটা দেখতে চিতাবাঘের মতো, কিন্তু এর পায়ের পাতা ভল্লুকের পায়ের পাতার মতো এবং এর মুখ সিংহের মুখের মতো। আর সেই ভয়ংকর সাপ এর শক্তি ও সিংহাসন এবং প্রচুর ক্ষমতা সেই পশুকে দিল। ৩  পরে আমি দেখলাম, সেই পশুর একটা মাথা যেন গুরুতর আঘাত পেয়েছিল। যদিও সেই আঘাত মারাত্মক ছিল, কিন্তু সেই পশুর আঘাত সেরে উঠেছিল এবং পৃথিবীর সমস্ত লোক সেই হিংস্র পশুর প্রশংসা করতে করতে এটার পিছন পিছন চলল। ৪  আর তারা সেই ভয়ংকর সাপের উপাসনা করল, কারণ এটা হিংস্র পশুকে ক্ষমতা দিয়েছিল; আর তারা এই কথা বলে সেই হিংস্র পশুরও উপাসনা করল: “কেই-বা এই হিংস্র পশুর মতো আর কেই-বা এই পশুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে?” ৫  সেই পশুকে গর্ব সহকারে কথা বলার এবং ঈশ্বরের নিন্দা করার ক্ষমতা দেওয়া হল আর এটাকে ৪২ মাস পর্যন্ত এর ইচ্ছামতো কাজ করার ক্ষমতাও দেওয়া হল। ৬  আর সেই পশু ঈশ্বরের নিন্দা করার জন্য এর মুখ খুলল, যেন এটা ঈশ্বরের নামের এবং তাঁর বাসস্থানের এবং স্বর্গে বসবাসকারীদের নিন্দা করতে পারে। ৭  সেই পশুকে পবিত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং তাদের জয় করার অনুমতি দেওয়া হল এবং সেটাকে প্রত্যেক বংশ ও বর্ণ ও ভাষা ও জাতির লোকদের উপর ক্ষমতা দেওয়া হল। ৮  পৃথিবীতে বসবাসকারী এমন সকলে সেই পশুর উপাসনা করবে, যাদের নাম মানবজাতির শুরু* থেকে সেই মেষশাবকের জীবনপুস্তকে লেখা নেই, যাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। ৯  যার কান আছে, সে শুনুক। ১০  কাউকে যদি কারাগারে যেতে হয়, তা হলে সে কারাগারে যাবে। কেউ যদি খড়্গ দিয়ে হত্যা করে,* তা হলে তাকে খড়্গ দিয়ে হত্যা করা হবে। এই কারণে পবিত্র ব্যক্তিদের ধৈর্য ও বিশ্বাস বজায় রাখা প্রয়োজন। ১১  পরে আমি ভূমির মধ্য থেকে আরেকটা হিংস্র পশুকে উঠে আসতে দেখলাম। সেই পশুর মেষের মতো দুটো শিং রয়েছে, কিন্তু এটা ভয়ংকর সাপের মতো কথা বলতে লাগল। ১২  এটা প্রথম হিংস্র পশুর সমস্ত ক্ষমতা এটার সামনেই ব্যবহার করল। আর এটা পৃথিবী এবং পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের সেই প্রথম হিংস্র পশুর উপাসনা করতে বাধ্য করল, যেটার মারাত্মক আঘাত সেরে গিয়েছিল। ১৩  আর এটা লোকদের সামনে বড়ো বড়ো অলৌকিক কাজ করল এবং আকাশ থেকে পৃথিবীতে আগুন নামিয়ে আনল। ১৪  সেই প্রথম হিংস্র পশুর সামনে এটাকে যে-সমস্ত অলৌকিক কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর দ্বারা এটা পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের ভ্রান্ত করল এবং পৃথিবীতে বসবাসকারী লোকদের সেই প্রথম হিংস্র পশুর* মূর্তি তৈরি করতে বলল, যেটা খড়্গের আঘাতে আহত হওয়া সত্ত্বেও বেঁচে গিয়েছিল। ১৫  আর এটাকে সেই প্রথম হিংস্র পশুর মূর্তির মধ্যে জীবন* দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হল, যাতে সেই হিংস্র পশুর মূর্তি কথা বলতে পারে এবং হিংস্র পশুর মূর্তিকে উপাসনা করতে প্রত্যাখ্যান করে এমন সমস্ত লোককে হত্যা করার আদেশ দিতে পারে। ১৬  আর প্রথম হিংস্র পশু সাধারণ ও উঁচুশ্রেণী, ধনী ও দরিদ্র, স্বাধীন ও দাস, সকল লোককে তাদের ডান হাতে অথবা তাদের কপালে চিহ্ন গ্রহণ করতে বাধ্য করল। ১৭  আর যাদের এই চিহ্ন নেই অর্থাৎ হিংস্র পশুর নাম কিংবা এর নামের সংখ্যা নেই, তারা কেউই কিনতে অথবা বিক্রি করতে পারবে না। ১৮  এই বিষয়টা বোঝার জন্য একজন ব্যক্তির প্রজ্ঞার প্রয়োজন: যার অন্তর্দৃষ্টি আছে, সে সেই হিংস্র পশুর সংখ্যা গুনে দেখুক, কারণ এটা মানুষের সংখ্যা আর সেই সংখ্যা হল ৬৬৬।

পাদটীকাগুলো

অর্থাৎ সেই ভয়ংকর সাপ।
এটা আদম ও হবার সন্তানদের নির্দেশ করে।
বা সম্ভবত, “কাউকে যদি খড়্গের আঘাতে হত হতে হয়।”
আক্ষ., “পশুর উদ্দেশে।”
আক্ষ., “নিঃশ্বাস।”