দানিয়েল ৫:১-৩১
৫ রাজা বেল্শৎসর তার এক হাজার জন গণ্যমান্য ব্যক্তির জন্য একটা বিশাল বড়ো ভোজের আয়োজন করলেন। তিনি তাদের সামনে দ্রাক্ষারস* পান করলেন।
২ দ্রাক্ষারসের* নেশায় বেল্শৎসর আদেশ দিলেন, তার বাবা নবূখদ্নিৎসর জেরুসালেমের মন্দির থেকে যে-সোনা ও রুপোর বাসনপত্র নিয়ে এসেছিলেন, সেগুলো যেন নিয়ে আসা হয়, যাতে রাজা, তার গণ্যমান্য লোকেরা, তার উপপত্নীরা এবং তার অন্য স্ত্রীরা সেগুলো থেকে পান করতে পারেন।
৩ তখন তারা সেই সোনার বাসনপত্র নিয়ে এল, যেগুলো জেরুসালেমে থাকা ঈশ্বরের গৃহের মন্দির থেকে আনা হয়েছিল। আর রাজা, তার গণ্যমান্য লোকেরা, তার উপপত্নীরা এবং তার অন্য স্ত্রীরা সেগুলো থেকে পান করলেন।
৪ তারা দ্রাক্ষারস* পান করলেন আর সোনা, রুপো, তামা, লোহা, কাঠ ও পাথরের তৈরি দেবতাদের প্রশংসা করলেন।
৫ ঠিক সেই মুহূর্তে একজন মানুষের হাতের আঙুল দেখা গেল আর সেটা রাজার প্রাসাদের দেওয়ালের প্রলেপে প্রদীপদানির পাশে লিখতে শুরু করল। আর রাজা দেখতে পেলেন যে, হাতটা লিখছে।
৬ রাজার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল* আর তিনি খুব চিন্তিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তার কোমর কাঁপতে শুরু করল আর তার হাঁটু একটা অন্যটার সঙ্গে ঠোকাঠুকি করতে লাগল।
৭ তখন রাজা জোরে চিৎকার করে তান্ত্রিকদের, কল্দীয়দের* ও জ্যোতিষীদের ডেকে পাঠালেন। রাজা ব্যাবিলনের বিজ্ঞ ব্যক্তিদের বললেন: “যে-কেউ এই লেখাটা পড়তে পারবে এবং আমাকে এটার অর্থ বলতে পারবে, তাকে বেগুনি রঙের পোশাক পরানো হবে, তার গলায় সোনার হার পরানো হবে আর সে রাজ্যে তৃতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে শাসন করবে।”
৮ তখন রাজার সমস্ত বিজ্ঞ ব্যক্তি এল। কিন্তু, তারা লেখাটা পড়তেও পারল না আর রাজাকে সেটার অর্থ বলতেও পারল না।
৯ তাই, রাজা বেল্শৎসর খুব ভয় পেয়ে গেলেন আর তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তার গণ্যমান্য লোকেরা কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন না।
১০ রাজা এবং তার গণ্যমান্য লোকদের কথা শুনে রানি ভোজের ঘরে এলেন। রানি বললেন: “হে রাজা, আপনি চিরকাল বেঁচে থাকুন। কেন আপনার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে? আপনি চিন্তিত কিংবা আতঙ্কিত হবেন না।
১১ আপনার রাজ্যে একজন ব্যক্তি* রয়েছেন, যার মধ্যে পবিত্র দেবতাদের শক্তি রয়েছে। আপনার বাবার সময়ে এই ব্যক্তির মধ্যে জ্ঞান, বোঝার ক্ষমতা এবং দেবতাদের প্রজ্ঞার মতোই প্রজ্ঞা পাওয়া গিয়েছিল। আপনার বাবা, রাজা নবূখদ্নিৎসর তাকে জাদুবিদ্যা চর্চাকারী পুরোহিতদের, তান্ত্রিকদের, কল্দীয়দের* ও জ্যোতিষীদের প্রধান করেছিলেন। হে রাজা, আপনার বাবা সত্যিই এমনটা করেছিলেন।
১২ দানিয়েল, যার নাম রাজা বেল্টশৎসর রেখেছিলেন, তার অসাধারণ ক্ষমতা, জ্ঞান এবং বোঝার ক্ষমতা ছিল, তাই তিনি স্বপ্নের অর্থ বলতে পারতেন, ধাঁধা বুঝিয়ে দিতে পারতেন এবং জটিল সমস্যার সমাধান করতে* পারতেন। তাই, এখন দানিয়েলকে ডেকে পাঠানো হোক। তিনি আপনাকে এটার অর্থ বলবেন।”
১৩ তখন দানিয়েলকে রাজার সামনে আনা হল। রাজা দানিয়েলকে জিজ্ঞেস করলেন: “তুমিই কি দানিয়েল, যিহূদার বন্দিদের মধ্যে একজন, যাকে আমার বাবা অর্থাৎ রাজা যিহূদা থেকে নিয়ে এসেছিলেন?
১৪ আমি শুনেছি, তোমার মধ্যে দেবতাদের শক্তি রয়েছে আর তোমার মধ্যে জ্ঞান, বোঝার ক্ষমতা এবং অসাধারণ প্রজ্ঞা পাওয়া গিয়েছে।
১৫ আমার সামনে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের এবং তান্ত্রিকদের আনা হয়েছিল, যাতে তারা আমাকে এই লেখাটা পড়ে শোনায় এবং এটার অর্থ আমাকে বলে। কিন্তু, তারা এই বার্তার অর্থ আমাকে বলতে পারেনি।
১৬ তবে আমি শুনেছি, তুমি অর্থ বলে দিতে পার এবং জটিল সমস্যার সমাধান করতে* পার। এখন তুমি যদি লেখাটা পড়তে পার এবং আমাকে এটার অর্থ বলতে পার, তা হলে তোমাকে বেগুনি রঙের পোশাক পরানো হবে, তোমার গলায় সোনার হার পরানো হবে আর তুমি রাজ্যে তৃতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে শাসন করবে।”
১৭ তখন দানিয়েল রাজাকে বললেন: “আপনার উপহার আপনার কাছেই থাকুক, আপনি চাইলে সেগুলো অন্য কাউকে দিতে পারেন। তবে, আমি রাজাকে লেখাটা পড়ে শোনাব আর সেটার অর্থ বলব।
১৮ হে রাজা, সর্বমহান ঈশ্বর আপনার বাবা নবূখদ্নিৎসরকে রাজ্য, মহত্ব, সম্মান ও প্রতাপ দিয়েছিলেন।
১৯ ঈশ্বর তাকে যে-মহত্ব দিয়েছিলেন, সেটার কারণে সমস্ত জাতি ও ভাষার লোক তার সামনে ভয়ে কাঁপত। তিনি যাকে ইচ্ছা, তাকে মেরে ফেলতেন কিংবা বাঁচিয়ে রাখতেন এবং যাকে ইচ্ছা, তাকে উচ্চীকৃত করতেন কিংবা অপমানিত করতেন।
২০ কিন্তু, যখন তার হৃদয় অহংকারী হয়ে উঠল, তিনি একগুঁয়ে হয়ে গেলেন আর এর ফলে, তিনি দুঃসাহস দেখালেন, তখন তাকে তার রাজ্যের সিংহাসন থেকে নামিয়ে দেওয়া হল আর তার সম্মান কেড়ে নেওয়া হল।
২১ তাকে মানুষদের মধ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হল, তার হৃদয়টা পশুর হৃদয়ের মতো করে দেওয়া হল, তিনি বুনো গাধাদের সঙ্গে বাস করলেন, তিনি ষাঁড়ের মতোই ঘাস খেলেন আর তার শরীর আকাশের শিশিরে ভিজল, যতক্ষণ না তিনি বুঝতে পারলেন, সর্বমহান ঈশ্বরই মানুষের রাজ্যে শাসক আর তিনি যাকে ইচ্ছা, তাকে সেটা দেন।
২২ “হে বেল্শৎসর, আপনি তারই ছেলে। কিন্তু, আপনি এই সমস্ত কিছু জানা সত্ত্বেও আপনার হৃদয়কে নম্র করেননি।
২৩ এর পরিবর্তে, আপনি নিজেকে স্বর্গের প্রভুর বিরুদ্ধে উচ্চীকৃত করেছেন এবং তাঁর গৃহের বাসনপত্র নিজের কাছে আনিয়েছেন। আর তারপর, আপনি, আপনার গণ্যমান্য লোকেরা, আপনার উপপত্নীরা এবং আপনার অন্য স্ত্রীরা সেগুলো থেকে দ্রাক্ষারস* পান করলেন এবং সোনা, রুপো, তামা, লোহা, কাঠ ও পাথরের তৈরি দেবতাদের প্রশংসা করলেন, যারা কিছু দেখতে পায় না, কিছু শুনতে পায় না এবং কিছু জানেও না। কিন্তু, আপনি সেই ঈশ্বরের গৌরব করেননি, যাঁর হাতে আপনার শ্বাস এবং আপনার পুরো জীবন রয়েছে।
২৪ এইজন্যই ঈশ্বর এই হাতটা পাঠিয়েছেন আর এই কথাগুলো লেখা হয়েছে।
২৫ লেখাটা এই: মিনে, মিনে, তকেল ও পারসীন।
২৬ “এই কথাগুলোর অর্থ এই: মিনে অর্থাৎ ঈশ্বর আপনার রাজ্যের দিন গুনেছেন আর সেটাকে শেষ করে দিয়েছেন।
২৭ “তকেল অর্থাৎ আপনাকে দাঁড়িপাল্লায় ওজন করা হয়েছে আর দেখা গিয়েছে, আপনার মধ্যে ঘাটতি রয়েছে।
২৮ “পেরেস অর্থাৎ আপনার রাজ্যকে ভাগ করে মাদীয়দের ও পারসিকদের দেওয়া হয়েছে।”
২৯ তখন বেল্শৎসরের আদেশ অনুসারে দানিয়েলকে বেগুনি রঙের পোশাক পরানো হল এবং তার গলায় সোনার হার পরানো হল আর তার বিষয়ে এই ঘোষণা করা হল যে, তিনি রাজ্যে তৃতীয় ক্ষমতাবান শাসক হবেন।
৩০ সেই রাতেই কল্দীয় রাজা বেল্শৎসরকে হত্যা করা হল।
৩১ আর মাদীয় দারিয়াবস রাজ্যটা পেলেন। সেই সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৬২ বছর।

