সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

আপনি কি ডিজিটাল টেকনোলজি বিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যবহার করেন?

আপনি কি ডিজিটাল টেকনোলজি বিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যবহার করেন?

জেনি একটা ভিডিও গেমের প্রতি আসক্ত। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন আট ঘন্টা করে এই গেম খেলি আর এটা সত্যিই এক বড়ো সমস্যা।”

ডেনিস দেখতে চেয়েছিলেন যে, তিনি সাত দিন নিজের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া থাকতে পারেন কি না। তিনি মাত্র ৪০ ঘন্টা থাকতে পেরেছিলেন।

জেনি ও ডেনিস কিশোরবয়সি নন। জেনির বয়স ৪০ বছর এবং তিনি চার সন্তানের মা আর ডেনিসের বয়স ৪৯ বছর।

আপনি কি ডিজিটাল টেকনোলজি ব্যবহার করেন? * এর উত্তরে অনেকেই বলবে হ্যাঁ আর এর পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে, সামাজিক জীবনে এবং বিনোদনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাবহারিক ভূমিকা পালন করে।

কিন্তু, জেনি এবং ডেনিসের মতো বহু লোকই টেকনোলজির প্রতি অতিরিক্ত আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, ২০ বছর বয়সি নিকোল বলেন: “দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হল, আমার মোবাইল ফোন। আমি সবসময় এটাকে হাতের কাছে রাখি। কোনো এলাকায় গিয়ে আমি যদি টেলিফোনের সিগনাল না পাই, তা হলে আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। আধ ঘন্টা যেতে-না-যেতেই আমি নতুন মেসেজ দেখার জন্য পাগল হয়ে যাই। এটা একেবারে অসহ্য।”

কেউ কেউ মেসেজ অথবা বিভিন্ন আপডেট দেখার জন্য এমনকী সারারাত ধরে তাদের ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করে। তাদেরকে যখন এগুলো থেকে  দূরে রাখা হয়, তখন তারা হয়তো অস্থির হয়ে ওঠে। কিছু গবেষক এই ধরনের আচরণকে আসক্তি হিসেবে বর্ণনা করে, সেটা হতে পারে যেকোনো ডিজিটাল টেকনোলজির প্রতি অথবা নির্দিষ্টভাবে ইন্টারনেট কিংবা বিশেষ কোনো গ্যাজেট, যেমন স্মার্টফোনের প্রতি। অন্যেরা “আসক্তি” শব্দটা ব্যবহার করতে ইতস্তত করে, এর পরিবর্তে এই ধরনের আচরণকে তারা এমনভাবে ব্যাখ্যা করে, যা আপত্তিকর এবং নিয়ন্ত্রণ বা দমন করা যায় না।

এই আচরণকে যেভাবেই সম্বোধন করা হোক না কেন, যদি ডিজিটাল টেকনোলজির অপব্যবহার করা হয়, তা হলে এটা সত্যিই এক সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। উদাহরণ স্বরূপ, ২০ বছর বয়সি একজন মেয়ে দুঃখ করে বলেন: “বাবা এখন আর আমার কোনো খবরই রাখেন না। তিনি বসার ঘরে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে ই-মেল লিখতে থাকেন। তিনি কখনোই ফোন ছাড়া থাকতে পারেন না। আমার বাবা হয়তো আমার জন্য চিন্তা করেন কিন্তু কখনো কখনো তার আচরণ থেকে তা বোঝা যায় না।”

ডিজিটাল গ্যাজেটের প্রতি আসক্তি কাটিয়ে ওঠা

টেকনোলজির অপব্যবহার কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু দেশে বিভিন্ন সেন্টার রয়েছে, যেখানে লোকেদের বেশ কয়েক দিনের জন্য ইন্টারনেট ও ডিজিটাল গ্যাজেট থেকে পৃথক রাখা হয়। উদাহরণ স্বরূপ, ব্রেট নামে একজন যুবকের কথা বিবেচনা করুন, যিনি বলেন যে, একসময় তিনি দিনে প্রায় ১৬ ঘন্টা অনলাইন গেম খেলতেন। তিনি বলেন, “আমি যখন অনলাইনে থাকতাম, তখন মনে হতো যেন আমি নেশার ঘোরে রয়েছি।” এই ধরনের সেন্টারে গিয়ে যদিও তিনি ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করা বন্ধ করেন কিন্তু ততদিনে তার বিরাট ক্ষতি হয়ে যায়। যেমন তিনি চাকরি ও বন্ধুবান্ধব হারান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তার সচেতনতা নষ্ট হয়ে যায়। এইরকম পরিণতি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আপনি কী করতে পারেন?

টেকনোলজিকে কীভাবে ও কতক্ষণ ধরে ব্যবহার করেন, তা পরীক্ষা করুন। টেকনোলজি আপনার জীবনে কেমন প্রভাব ফেলেছে, তা পরীক্ষা করে দেখুন। নিজেকে এই ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন:

  • আমি যখন ইন্টারনেট অথবা আমার ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করতে পারি না, তখন আমার কি মেজাজ গরম হয়ে যায় অথবা আমি কি একটুতেই রেগে যাই?

  • ইন্টারনেট অথবা গ্যাজেট ব্যবহার বন্ধ করার জন্য আগে থেকে যে-সময় নির্ধারণ করে রাখা হয়, তা পার হয়ে যাওয়ার পরেও কি আমি অনেকক্ষণ ধরে সেগুলো ব্যবহার করি?

  • আমি সারাক্ষণ মেসেজ পড়তে থাকি বলে কি আমার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে?

  • টেকনোলজি ব্যবহার করার কারণে আমি কি পরিবারকে অবহেলা করি? এই প্রশ্নের উত্তরের সঙ্গে কি আমার পরিবারের সদস্যরা একমত হবে?

টেকনোলজি ব্যবহার করার কারণে আপনি যদি “যাহা যাহা ভিন্ন প্রকার [“শ্রেয়,” পাদটীকা],” সেগুলো অবহেলা করে থাকেন, যেগুলোর অন্তর্ভুক্ত নিজের পরিবার ও অন্যান্য দায়দায়িত্ব, তা হলে আপনাকে এখনই কিছু পরিবর্তন করতে হবে। (ফিলিপীয় ১:১০) কীভাবে তা করবেন?

যুক্তিযুক্ত সীমা নির্ধারণ করতে শিখুন। কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়, এমনকী সেটা যদি উত্তম হয়ে থাকে। তাই, আপনি ডিজিটাল টেকনোলজি কাজের জন্য অথবা আনন্দের জন্য, যেকারণেই ব্যবহার করুন না কেন, সেটা কতক্ষণ ব্যবহার করবেন, সেই বিষয়ে সীমা নির্ধারণ করুন এবং তা মেনে চলুন।

পরামর্শ: এই ক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্য অথবা বন্ধুর সাহায্য নিন না কেন? বাইবেল বলে: “এক জন অপেক্ষা দুই জন ভাল, . . . কারণ তাহারা পড়িলে এক জন আপন সঙ্গীকে উঠাইতে পারে।”—উপদেশক ৪:৯, ১০.

আকর্ষণ যেন কখনোই “আসক্তি” হয়ে না ওঠে

নতুন নতুন গ্যাজেটের মাধ্যমে যত সহজে ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা যাচ্ছে টেকনোলজির অপব্যবহারও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু, আকর্ষণ যেন কখনোই “আসক্তি” হয়ে না ওঠে। ‘সুযোগ কিনিয়া লওয়ার’ বা সময়ের সদ্‌ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি ডিজিটাল টেকনোলজির অপব্যবহার এড়িয়ে চলতে পারেন।—ইফিষীয় ৫:১৬. ▪ (g15-E 04)

^ অনু. 5 এই প্রবন্ধে “ডিজিটাল টেকনোলজি” বলতে এমন যেকোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটকে বোঝানো হয়েছে, যা ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। এই ডিজিটাল তথ্যের অন্তর্ভুক্ত ই-মেল, ফোন কল, টেক্সট মেসেজ, ভিডিও, গান, গেম এবং ছবি।