সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যখন আপনার প্রিয়জন মারা যায়

যখন আপনার প্রিয়জন মারা যায়

“হঠাৎ একদিন আমার দাদা মারা যায় আর আমি খুব হতাশ হয়ে পড়ি। কয়েক মাস পরেও কখনো কখনো তার কথা মনে পড়ত আর আমি খুব কষ্ট পেতাম। মনে হতো, কেউ যেন আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করছে। কখনো কখনো আমি রেগেও যেতাম। চিন্তা করতাম, আমার দাদা কেন মারা গেল? আর তার সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারিনি বলে নিজেকে দোষী বলে মনে হতো।”—ভেনেসা, অস্ট্রেলিয়া।

যখন আপনার কোনো প্রিয়জন মারা যায়, তখন আপনার হয়তো বিভিন্নরকম অনুভূতি হয়। আপনি হয়তো কষ্ট পান, একাকিত্ব বোধ করেন এবং হতাশ হয়ে পড়েন। সেইসঙ্গে হয়তো আপনার রাগ হয়, নিজেকে দোষী বলে মনে হয় এবং আপনি ভয় পান। আপনি হয়তো এমনটাও মনে করতে পারেন যে, বেঁচে থাকার কি কোনো কারণ রয়েছে?

এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন, দুঃখ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, আপনি দুর্বল। এটা দেখায়, আপনি আপনার প্রিয়জনকে কতটা ভালোবাসেন। কিন্তু আপনি কি কষ্টদায়ক পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও কিছুটা স্বস্তি লাভ করতে পারেন?

যে-বিষয়গুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে

যদিও আপনার মনে হতে পারে যে, কষ্ট কোনো দিনই কমে যাবে না তবুও আপনি এই পরামর্শগুলো কাজে লাগিয়ে কিছুটা স্বস্তি লাভ করতে পারেন:

আপনার কষ্ট প্রকাশ করার জন্য সময় নিন

প্রত্যেক ব্যক্তি কষ্ট প্রকাশ করার জন্য আলাদা আলাদা পরিমাণ সময় নিয়ে থাকে আর তা করার উপায়ও এক নয়। তবুও একজন ব্যক্তি যদি কাঁদেন তবে তিনি কষ্ট থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন। আগে উল্লেখিত ভেনেসা বলেন: “আমি শুধুই কাঁদতাম আর এভাবে কষ্ট থেকে স্বস্তি পেতাম।” সোফিয়ার বোন হঠাৎ একদিন মারা যান আর সোফিয়া বলেন: “যা ঘটেছিল তা নিয়ে চিন্তা করা ছিল খুবই কষ্টকর। এটা যেন একটা ক্ষত খুলে পরিষ্কার করার মতো ছিল। সেই কষ্ট যেন সহ্য করা যায় না, কিন্তু এটার মাধ্যমে ক্ষত সেরে ওঠে।”

আপনার চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি নিয়ে কথা বলুন

সত্যি বলতে কী, কষ্ট পাওয়ার পর আপনি কখনো কখনো একা থাকতে পছন্দ করতে পারেন। কিন্তু একা একা কষ্ট সহ্য করা, একটা ভারি বোঝা একা একা বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো। মাত্র সতেরো বছর বয়সে যেরদ তার বাবাকে মৃত্যুতে হারিয়েছে। সে বলে: “আমি অন্যদের সঙ্গে আমার অনুভূতি নিয়ে কথা বলতাম আর স্পষ্টভাবে তা প্রকাশ করতে না পারলেও, অন্যদের সঙ্গে আমার অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে পেরে আমার ভালো লাগত।” শুরুর প্রবন্ধে উল্লেখিত জেনিস তার নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলার আরও একটা উপকার সম্বন্ধে উল্লেখ করেন: “অন্যদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে আমি প্রচুর পরিমাণে স্বস্তি লাভ করতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, অন্যেরা আমার অনুভূতি বুঝতে পারে আর আমাকে এই বোঝা একা বইতে হয় না।”

অন্যদের কাছ থেকে সাহায্য নিন

একজন ডাক্তার বলেন: “শোকার্ত ব্যক্তিরা যখন তাদের প্রিয়জন মারা যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে সাহায্য নেয় তখন তাদের পক্ষে কষ্ট সহ্য করা এবং স্বস্তি লাভ করা আরও সহজ হয়ে ওঠে।” তাই আপনার বন্ধুদের জানান যে, তারা আপনার জন্য কী করতে পারে। কারণ, তারা হয়তো আপনাকে সাহায্য করতে চায় কিন্তু কীভাবে সাহায্য করবে, তা জানে না।—হিতোপদেশ ১৭:১৭.

ঈশ্বরের নিকটবর্তী হোন

টিনা বলে: “আমার স্বামী হঠাৎ একদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর পর আমি তাকে আর আমার সমস্যা, উদ্‌বিগ্নতা ও অনুভূতি জানাতে পারতাম না। তাই আমি সমস্ত কিছু ঈশ্বরকে জানাতাম! প্রত্যেকটা দিন কাটানোর জন্য আমি তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করতাম। আমি তাঁর কাছে যা চেয়েছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি উপায়ে তিনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন।” যখন তার্শার মা মারা যান তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। তিনি বলেন: “প্রতিদিন বাইবেল পড়ার মাধ্যমে আমি স্বস্তি লাভ করেছিলাম আর উৎসাহজনক বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে পেরেছিলাম।”

পুনরুত্থানের বিষয়ে কল্পনা করুন

টিনা আরও বলেন: “প্রথম প্রথম পুনরুত্থানের আশা আমাকে স্বস্তি দেয়নি কারণ সেই মুহূর্তে আমি আমার স্বামীকে চেয়েছিলাম আর আমার ছেলেরা তাদের বাবাকে চেয়েছিল। কিন্তু চার বছর পর, এখন আমি পুনরুত্থানের আশাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি আর এটাই আমার বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। আমি কল্পনা করি যে, আমি তাকে আবার ফিরে পেয়েছি আর এই কল্পনা আমাকে অনেক স্বস্তি ও আনন্দ লাভ করতে সাহায্য করে!”

আপনি হয়তো সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি পাবেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও, ভেনেসার অভিজ্ঞতা আমাদের আশ্বস্ত করে। তিনি বলেন: “আপনি কখনো স্বস্তি পাবেন না বলে মনে করলেও আপনার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হবে।”

মনে রাখবেন, আপনি হয়তো সবসময় যিনি মারা গিয়েছেন তার অভাব বোধ করবেন কিন্তু তা সত্ত্বেও আপনার বেঁচে থাকার কারণ রয়েছে। ঈশ্বর আপনাকে ভালোবাসেন ও সাহায্য করেন। তাই, আপনি তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারবেন এবং আপনার জীবনের এক উদ্দেশ্য থাকবে। আর শীঘ্রই ঈশ্বর মৃত ব্যক্তিদের পুনরুত্থিত করবেন। তিনি চান যেন আপনি আপনার প্রিয়জনকে আবার জড়িয়ে ধরতে পারেন আর তখন আপনার হৃদয়ের সেই ক্ষত চিরকালের জন্য সেরে উঠবে!