সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

জেগে থাকুন!

ধর্ম ও ইউক্রেনের যুদ্ধ-এই সম্বন্ধে বাইবেল কী বলে?

ধর্ম ও ইউক্রেনের যুদ্ধ-এই সম্বন্ধে বাইবেল কী বলে?

 উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় নেতাদের সম্বন্ধে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ সম্বন্ধে নীচের মন্তব্যগুলো দেখুন:

  •   “রাশিয়ার অর্থডক্স চার্চের প্রধান, প্রেত্রিয়ার্ক কিরিল ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলেননি। . . . তার চার্চ সুসংগঠিতভাবে ইউক্রেন বিরোধী মিথ্যা প্রচার অভিযান চালিয়েছে আর পুতিন সেটাকে তার যুদ্ধ করার অযুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছেন।”—ই ইউ অবসারভার, মার্চ ৭, ২০২২.

  •   “পেত্রিয়ার্ক কিরিল . . . পুরোপুরি সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন, তাসত্ত্বেও তিনি ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার সামরিক আক্রমণকে পাপের সঙ্গে এক লড়াই বলে উল্লেখ করেছিলেন।”—এপি নিউজ, মার্চ ৮, ২০২২

  •   “ইউক্রেনের অর্থোডক্স চার্চের নেতা, কিইভের মেট্রোপলিটান এপিফেনিস প্রথম, সোমবার তার লোকদের ‘রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আশির্বাদ করেন।’ . . . [তিনি] এও বলেন যে, রাশিয়ার সৈন্যদের হত্যা করা আসলে পাপকাজ নয়।“—জেরুশালেম পোস্ট, মার্চ ১৬, ২০২২.

  •   “আমরা [দ্যা ইউক্রেনিয়ান কাউনসিল অভ চার্চেস অ্যান্ড রিলিজিয়াস অর্গানাইজেশনস (UCCRO)] ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী ও যারা আমাদের রক্ষা করছে তাদের সবাইকে সমর্থন করি আর আমাদের আক্রমণকারীদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য তাদের আমরা আশির্বাদ করি এবং তাদের জন্য আমরা প্রার্থনা করি।”—ইউ সি সি আর ও-র বিবৃতি, a ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২.

 আপনি কী মনে করেন? যে ধর্মগুলো যিশু খ্রিস্টকে অনুসরণ করে বলে দাবি করে, তাদের কি তাদের সদস্যদের যুদ্ধে যেতে উৎসাহ দেওয়া উচিত? এই বিষয়ে বাইবেল কী বলে?

যুদ্ধে ধর্মের ভূমিকা সম্বন্ধে ইতিহাস যা বলে

 ইতিহাস দেখায় যে, ধর্ম সবসময়ই শান্তি স্থাপন করতে চায়, এমন ভান করার আড়ালে সবসময়ই যুদ্ধের পক্ষ সমর্থন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, যিহোবার সাক্ষিরা শত শত বছর ধরে তাদের এই ভণ্ডামি সকলের সামনে প্রকাশ করে এসেছে। আমাদের প্রকাশনাতে তুলে ধরা এইরকম কিছু বিষয় পড়ে দেখুন।

  •  ক্রুশেড—এক ‘দুঃখজনক বিভ্রান্তি’” (ইংরেজি) প্রবন্ধে বলা হয়েছিল যে, কীভাবে রোমান ক্যাথলিক চার্চ ঈশ্বর ও খ্রিস্টের নামে যে গণহত্যা করা হয়েছিল তার জন্য দায়ী।

  •  আফ্রিকার ক্যাথলিক চার্চ” (ইংরেজি) প্রবন্ধে বর্ণনা করা হয়েছে কীভাবে ধর্ম সেখানকার আদিবাসীদের স্বার্থরক্ষা করতে ও এমনকি গণহত্যা আটকানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।

  •  ধর্মকে কি দোষ দেওয়া যেতে পারে?,” “যুদ্ধে ধর্মের ভূমিকা” এবং “ধর্ম পক্ষসমর্থন করে” (ইংরেজি) প্রবন্ধগুলো বর্ণনা করে যে, কীভাবে অর্থোডক্স এবং প্রটেস্ট্যান্ট যাজকশ্রেণী বহু যুদ্ধে দুপক্ষকেই সমর্থন করেছে।

খ্রিস্ট ধর্মের কী যুদ্ধকে সমর্থন করা উচিত?

 যিশু যা শিখিয়েছিলেন: “তুমি তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে।” (মথি ২২:৩৯) “সবসময় তোমার শত্রুদের ভালোবেসো”—মথি ৫:৪৪-৪৭.

 চিন্তা করে দেখুন: কোনো ধর্ম কী এর সদস্যদেরকে একই সঙ্গে প্রেম করার বিষয়ে যিশুর আজ্ঞার বাধ্য হওয়ার এবং যুদ্ধে অন্যদের খুন করার জন্য উৎসাহ দিতে পারে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য “যুদ্ধ ও সত্য খ্রিস্টানরা” এবং “কেউ কি তার শত্রুকে কী প্রেম করতে পারে?” (ইংরেজি) প্রবন্ধগুলো দেখুন।

 যিশু যা বলেছিলেন: “আমার রাজ্য এই জগতের অংশ নয়। আমার রাজ্য যদি এই জগতের অংশ হতো, তা হলে আমার অনুসারীরা লড়াই করত, যাতে আমাকে . . . তুলে দেওয়া না হয়।” (যোহন ১৮:৩৬) “যারা খড়্গ ব্যবহার করে, তারা সেটার আঘাতেই মারা যাবে।”—মথি ২৬:৪৭-৫২.

 চিন্তা করে দেখুন: খ্রিস্টানরা যদি এমনকি যিশুকে রক্ষা করার জন্যও লড়াই না করে তাহলে তাদের কি অন্য কোনো কারণে অস্ত্র তুলে নেওয়া উচিত হবে? যারা প্রথমদিকে খ্রিস্টান হয়েছিলেন তারা কীভাবে যিশুর উদাহরণ ও শিক্ষা বিশ্বস্তভাবে অনুসরণ করেছিলেন তা জানার জন্য দয়া করে “খ্রিস্টধর্ম কী যুদ্ধ অনুমোদন করে?” (ইংরেজি) প্রবন্ধটা পড়ুন।

যে ধর্মগুলো যুদ্ধের পক্ষ সমর্থন করে সেগুলোর কী হবে?

 বাইবেল শিক্ষা দেয়, ঈশ্বর সেই ধর্মগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেন যেগুলো যিশুর প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে অথচ তাঁর শিক্ষাগুলো মেনে চলে না।—মথি ৭:২১-২৩; তীত ১:১৬.

  •   প্রকাশিতবাক্য বই দেখায় যে, ঈশ্বর এইরকম ধর্মগুলোকে “পৃথিবীতে হত্যা করা হয়েছে এমন সমস্ত লোকের” মৃত্যুর জন্য দায়ী করবেন। (প্রকাশিত বাক্য ১৮:২১, ২৪) কিন্তু কেন, তা জানার জন্য দয়া করে “মহতী বাবিল আসলে কী?” (ইংরেজি) প্রবন্ধটা পড়ুন।

  •   যিশু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ঈশ্বরের প্রত্যাখ্যান করা সমস্ত ধর্মকে ধ্বংস করা হবে। যেহেতু একটা বিষাক্ত গাছ বিষাক্ত ফলই উৎপন্ন করে তাই “সেই গাছ কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়।” (মথি ৭:১৫-২০) এটা কীভাবে করা হবে তা জানার জন্য “ধর্মের নামে সংঘটিত মন্দ বিষয়গুলো কি শেষ হবে?” প্রবন্ধটা পড়ুন।

Photo credits, left to right: Photo by Sefa Karacan/Anadolu Agency/Getty Images; Maxym Marusenko/NurPhoto via Getty Images

a UCCRO অথবা দ্যা ইউক্রেনিয়ান কাউনসিল অভ চার্চেস অ্যান্ড রিলিজিয়াস অর্গানাইজেশনস-এর অধীনে অর্থোডক্স, গ্রীক, রোমান ক্যাথলিক, প্রটেস্ট্যান্ট এবং ইভাঞ্জেলিক্যাল চার্চসহ ১৫ টা চার্চের ও সেইসঙ্গে যিহূদী এবং মুসলিম প্রতিনিধিরা রয়েছেন।