বাংলা
কেন যিহোবার সাক্ষিরা রাজনৈতিক বিষয়ে অংশ নেয় না?
https://cms-imgp.jw-cdn.org/img/p/502014218/univ/art/502014218_univ_sqr_xl.jpg
ijwfq প্রবন্ধ ৩৭

কেন যিহোবার সাক্ষিরা রাজনৈতিক বিষয়ে অংশ নেয় না?

কেন যিহোবার সাক্ষিরা রাজনৈতিক বিষয়ে অংশ নেয় না?

 বাইবেলের শিক্ষা অনুযায়ী, যিহোবার সাক্ষিরা রাজনৈতিক বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকে অর্থাৎ তারা কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে অংশ নেয় না। আমরা কোনো নেতাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করি না। আমরা কোনো রাজনৈতিক দল বা পার্টিকে ভোট দিই না অথবা কোনো সরকারি পদ নেওয়ার চেষ্টা করি না। এ ছাড়া, আমরা সরকার পরিবর্তন করারও চেষ্টা করি না। কেন আমরা এগুলো করি না, তার অনেক কারণ বাইবেলে রয়েছে।

  •   আমরা যিশুর উদাহরণ অনুকরণ করি। একবার লোকেরা যখন তাঁকে জোর করে রাজা করার চেষ্টা করেছিল, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। (যোহন ৬:১৫) তিনি তাঁর শিষ্যদের শিখিয়েছিলেন যে, তারা “এই জগতের অংশ নয়।” এভাবে তিনি দেখিয়েছিলেন, তাদের রাজনৈতিক বিষয়ে কারো পক্ষ নেওয়া উচিত নয়।—যোহন ১৭:১৪, ১৬; ১৮:৩৬; মার্ক ১২:১৩-১৭.

  •   আমরা ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতি অনুগত এবং শুধুমাত্র এই রাজ্য বা সরকারকেই সমর্থন করি। যিশু এই বিষয় তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন: “পুরো পৃথিবীতে [রাজ্যের] সুসমাচার প্রচার করা হবে।” (মথি ২৪:১৪) তাই, আমরা যদি ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে সারা পৃথিবীতে এই রাজ্যের বিষয়ে ঘোষণা করে থাকি, তা হলে কীভাবে আমরা অন্য কোনো সরকার বা পার্টিকে সমর্থন করতে পারি, এমনকী নিজেদের দেশের সরকারকেও?—২ করিন্থীয় ৫:২০; ইফিষীয় ৬:২০.

  •   আমরা নিরপেক্ষ থাকি। আর এই কারণে, আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলের লোককে খুব সহজেই ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার জানাতে পারি। এ ছাড়া, আমরা কথা ও কাজের মাধ্যমে দেখাই, আমরা ঈশ্বরের রাজ্যের উপর বিশ্বাস করি এবং এটাও বিশ্বাস করি যে, এই রাজ্যই মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান নিয়ে আসবে।গীতসংহিতা ৫৬:১১.

  •   আমরা রাজনৈতিক দলে অংশ নিই না, তাই সারা পৃথিবীতে আমাদের মধ্যে একতা রয়েছে। (কলসীয় ৩:১৪; ১ পিতর ২:১৭) এর বিপরীতে, যে-সমস্ত ধর্মের লোকেরা রাজনৈতিক দলে অংশ নেয়, তাদের মধ্যে একতা নেই।—১ করিন্থীয় ১:১০.

 সরকারের প্রতি সম্মান। যদিও আমরা কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে অংশ নিই না, কিন্তু তারপরও আমরা যে-দেশেই থাকি না কেন, আমরা সেখানকার সরকারের অধীনে থাকি। ঠিক যেমন বাইবেলের এই নীতি বলে: “প্রত্যেক ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বশীভূত হোক।” (রোমীয় ১৩:১) আমরা সরকারের নিয়মকানুন মেনে চলি। যেমন, আমরা ট্যাক্স দিয়ে থাকি। এ ছাড়া, নাগরিকদের সুবিধার জন্য সরকার যে-সমস্ত কাজ করে থাকে, সেগুলোকেও আমরা সমর্থন করে থাকি। আমরা কোনো সরকারের বিরুদ্ধে যাই না। এর পরিবর্তে, আমরা বাইবেলের এই পরামর্শ মেনে চলি, যেটা বলে আমরা যেন “রাজাদের এবং কর্তৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের” জন্য প্রার্থনা করি। আর বিশেষ করে আমরা সেইসময় প্রার্থনা করি, যখন সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, যেটার ফলে আমাদের প্রচার কাজের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।—১ তীমথিয় ২:১, ২.

 আমরা রাজনৈতিক বিষয়ে প্রত্যেক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিও সম্মান দেখাই। তাই, আমরা ভোটের সময়ে শান্তি বজায় রাখি এবং যারা ভোট দিতে চায়, তাদের বাধা দিই না।

 রাজনীতিতে অংশ না নেওয়ার বিষয়টা কখন থেকে শুরু হয়েছে? এটা প্রথম শতাব্দী থেকে শুরু হয়েছে। সেই সময় খ্রিস্টানেরা কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে অংশ নিত না। এই সম্বন্ধে বিয়োন্ড গুড ইন্টেনশনস্‌ নামক বই বলে, “প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানেরা বিশ্বাস করত যে, তাদের সরকারি আধিকারিকদের আজ্ঞা মানতে হবে। কিন্তু, তারা কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে অংশগ্রহণ করত না।” একই বিষয়ে আরেকটা বই অন্‌ দ্যা রোড টু সিভিলাইজেশন এভাবে বলে, প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানেরা “কোনো রাজনৈতিক পদও গ্রহণ করত না।”

 আমরা রাজনৈতিক বিষয়ে অংশ নিই না বলে দেশের কি কোনো ক্ষতি হতে পারে? না। আমরা শান্তিপ্রিয় লোক। তাই, সরকারি কর্তৃপক্ষদের আমাদের নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। লক্ষ করুন, ২০০১ সালে ইউক্রেনের বিজ্ঞানের রাষ্ট্রীয় অ্যাকাডেমির একটা রিপোর্ট বলে: “বর্তমানে কিছু ব্যক্তি হয়তো যিহোবার সাক্ষিদের এই মনোভাবকে পছন্দ করে না। আর এই কারণে জার্মানির নাতসি এবং কমিউনিস্ট শাসনের সময়ে তাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল।” এ ছাড়া, সোভিয়েত শাসনের সময় তাদের উপর অত্যাচার করা হলেও, তারা “ভালো নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছিল। তারা যেখানেই কাজ করেছিল, সম্পূর্ণ মনোযোগ ও সততার সঙ্গে তা করেছিল। আর এভাবে তারা প্রমাণ করে দেখিয়েছিল যে, তাদের নিয়ে কমিউনিস্ট সরকারের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।” এই রিপোর্টের শেষে জানায়, একইভাবে বর্তমানেও যিহোবার সাক্ষিদের বিশ্বাস ও কাজের কারণে দেশের শান্তি ও সুরক্ষা বিপদের মুখে পড়বে না।