বাংলা
সন্তানকে বিজ্ঞতার সঙ্গে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে শেখান
https://cms-imgp.jw-cdn.org/img/p/500300105/univ/art/500300105_univ_sqr_xl.jpg
ijwhf প্রবন্ধ ১৬

পরিবারের জন্য সাহায্য | সন্তান লালনপালন

সন্তান ও স্মার্টফোন—ভাগ ২: সন্তানকে বিজ্ঞতার সঙ্গে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে শেখান

সন্তান ও স্মার্টফোন—ভাগ ২: সন্তানকে বিজ্ঞতার সঙ্গে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে শেখান

 স্মার্টফোন একটা শক্তিশালী হাতিয়ারের মতো। এটা আপনাকে একদিকে যেমন সাহায্য করতে পারে, আবার অন্য দিকে ক্ষতিও করতে পারে আর তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে, এটাকে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কীভাবে আপনি আপনার সন্তানকে শেখাতে পারেন, যাতে সে বুঝে-শুনে এই শক্তিশালী হাতিয়ার ব্যবহার করে? যেমন আপনি চিন্তা করতে পারেন, সারা দিনে তাকে কতক্ষণ সেটা ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত? a

 আপনার যা জানা উচিত

  •   যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করে, তারা বিপদের মুখোমুখি হয়। সন্তান ও স্মার্টফোন—ভাগ ১: আমার সন্তানকে কি একটা স্মার্টফোন দেওয়া উচিত? প্রবন্ধে যেমনটা তুলে ধরা হয়েছে, স্মার্টফোনের সাহায্যে আপনার সন্তান ইন্টারনেটে যা-কিছু রয়েছে, তা দেখতে পায়, হোক তা ভালো কিংবা মন্দ।

     “আমাদের সন্তানেরা স্মার্টফোন ব্যবহার করার মাধ্যমে যে বিভিন্ন ধরনের খারাপ লোক এবং ভ্রান্ত মতবাদের মুখোমুখি হতে পারে, তা আমরা সহজেই ভুলে যাই।”—ব্রেন্ডা।

  •   সন্তানদের নির্দেশনার প্রয়োজন। অল্পবয়সিরা টেকনোলজি অর্থাৎ প্রযুক্তির যুগে জন্ম নিয়েছে আর অনেক প্রাপ্তবয়স্কই এই ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত নতুন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, বাবা-মায়েরা টেকনোলজি সম্বন্ধে কিছুই জানে না আর তাই, ছোটো ছেলে-মেয়েরা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি যোগ্য যে, কখন ও কীভাবে তারা স্মার্টফোন ব্যবহার করবে।

     এটা ঠিক যে, স্মার্টফোন চালানোর ক্ষেত্রে আপনাদের থেকে আপনাদের ছেলে-মেয়েরা বেশি দক্ষ, কিন্তু এর মানে এই নয়, তারা বিজ্ঞতার সঙ্গে তা ব্যবহার করতে পারবে। এমনকী যে-সন্তানেরা টেকনোলজি সম্বন্ধে অনেক কিছু জানে, তাদেরও বাবা-মায়েদের কাছ থেকে শিখতে হবে যে, কীভাবে বুঝে-শুনে স্মার্টফোন ব্যবহার করা উচিত।

     “প্রশিক্ষণ না দিয়ে স্মার্টফোন হাতে দেওয়া অনেকটা এইরকম: আপনি আপনার সন্তানের হাতে একটা গাড়ির চাবি দিয়েছেন, তাকে ড্রাইভারের সিটে বসতে দিয়েছেন, ইঞ্জিন স্টার্ট দিতে অনুমতি দিয়েছেন আর বলছেন, ‘সোনা, সাবধানে চালিও,’ অথচ আপনি তাকে গাড়ি চালাতেই শেখাননি।”—শেথ।

 আপনি যা করতে পারেন

  •   আপনার সন্তানের ফোনে কোন কোন ফিচার আছে, তা জানুন। আপনার সন্তান যাতে বুঝে-শুনে ফোন ব্যবহার করতে পারে, সেই বিষয়ে তাকে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন টুলস সম্বন্ধে পরিচিত হোন। যেমন:

     সন্তান কত সময় ধরে ফোন ব্যবহার করছে আর কোন কোন ওয়েবসাইট দেখছে, তা যাতে বাবা-মা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সেইজন্য ফোনে কোন সেটিংস রয়েছে?

     আপনি কি জানেন, আপনি যদি ফোনে কিছু অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু ব্লক করে দেন, সেটা আবারও খোলা যায়, সেটাকে পুরোপুরিভাবে ব্লক করা যায় না?

     আপনি আপনার সন্তানের স্মার্টফোন সম্বন্ধে যত বেশি জানবেন, তত আপনি তাকে বুঝে-শুনে ফোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারবেন।

     বাইবেলের নীতি: “বিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা থাকে।”—হিতোপদেশ ২৪:৫.

  •   সীমা নির্ধারণ করুন। আপনি সিদ্ধান্ত নিন, আপনি আপনার সন্তানকে কোনটা করার অনুমতি দেবেন আর কোনটা করার অনুমতি দেবেন না। যেমন:

     আপনি কি খাওয়ার সময় কিংবা আত্মীয়স্বজন অথবা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মেলামেশা করার সময় আপনার সন্তানকে ফোন ব্যবহার করার অনুমতি দেবেন?

     আপনি কি তাকে ফোন নিয়ে ঘুমাতে যাওয়ার অনুমতি দেবেন?

     আপনি তাকে কোন কোন অ্যাপ ব্যবহার করতে দেবেন?

     দিনের মধ্যে তাকে কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করার অনুমতি দেবেন?

     তাকে এই নিয়মগুলো সম্বন্ধে জানান আর সে যদি সেগুলো মেনে না চলে, তা হলে তাকে সংশোধন করার জন্য শাসন করুন।

     বাইবেলের নীতি: “যুবককে শাসন করা থেকে বিরত হোয়ো না।”—হিতোপদেশ ২৩:১৩, পাদটীকা।

  •   আপনার সন্তানের ফোন চেক করুন। আপনার সন্তানের ফোনের পাসওয়ার্ড কী, তা জানুন আর প্রয়োজনে তার ফোনের টেক্সট ম্যাসেজ, অ্যাপ, ছবি এবং কোন সাইটগুলোকে সে ভিজিট করেছে, তা দেখুন।

     “আমরা আমাদের মেয়েকে বলে দিয়েছিলাম, আমরা তাকে না জানিয়েই সময় সময় তার ফোন চেক করব। আমরা তাকে এও বলেছিলাম, সে যদি সঠিকভাবে তার ফোন ব্যবহার না করে, তা হলে আমরা ভেবে দেখব, তার হাতে ফোন দেওয়া ঠিক হবে কি না।”—লরেইন।

     একজন বাবা অথবা মা হিসেবে আপনার এটা জানার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে যে, আপনার সন্তান কীভাবে তার স্মার্টফোন ব্যবহার করছে।

     বাইবেলের নীতি: “একটি বাচ্চার কাজ দেখেও বোঝা যায়, তার আচরণ বিশুদ্ধ ও সঠিক কি না।”—হিতোপদেশ ২০:১১.

  •   সন্তানকে মূল্যবোধ সম্বন্ধে শেখান। আপনার সন্তানকে সাহায্য করুন, যাতে তার মনে সঠিক কাজ করার ইচ্ছা গড়ে ওঠে। কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ? এর কারণ হল, কোনো সন্তান যদি সত্যিই তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে কোনো কিছু লুকাতে চায়, তা হলে সেটা করার জন্য সে কোনো-না-কোনো উপায় বের করবেই। b

     সেইজন্য আপনার সন্তানকে সততা, আত্মসংযমের মতো ভালো গুণ গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ দিন আর তাকে শেখান যে, সে যা করবে, সেটার ফল তাকেই ভোগ করতে হবে। যে-সন্তানের নৈতিক মূল্যবোধ থাকে, সে সাধারণত বুঝে-শুনে নিজের ফোন ব্যবহার করে।

     বাইবেলের নীতি: “পূর্ণবয়স্ক [ব্যক্তিরা] … তাদের চিন্তা করার ক্ষমতাকে … সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করার জন্য প্রশিক্ষিত করেছে।”—ইব্রীয় ৫:১৪.

a এই প্রবন্ধে “স্মার্টফোন” বলতে সেই মোবাইল ফোনকে বোঝায়, যেটা ইন্টারনেট চালিয়ে ব্যবহার করা হয়। আসলে এটা একটা ছোটো কম্পিউটার।

b উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ কেউ তাদের ফোনে “ঘোষ্ট অ্যাপ” ডাউনলোড করে রাখে। এই অ্যাপ দেখতে আর পাঁচটা সাধারণ অ্যাপের মতো, যেমন ক্যালকুলেটার। কিন্তু এই অ্যাপ বাবা-মায়েদের কাছ থেকে কোনো তথ্য লুকানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।