বাংলা
যেভাবে আপনি একজন ভালো বাবা হতে পারেন
https://cms-imgp.jw-cdn.org/img/p/500300119/univ/art/500300119_univ_sqr_xl.jpg
ijwhf প্রবন্ধ ২৮

পরিবারের জন্য সাহায্য | সন্তান লালনপালন

যেভাবে আপনি একজন ভালো বাবা হতে পারেন

যেভাবে আপনি একজন ভালো বাবা হতে পারেন

এই প্রবন্ধে রয়েছে

 পরিবারে একজন বাবার ভূমিকা কী?

  •   সন্তান জন্ম নেওয়ার আগে। আপনি এখন স্বামী হিসেবে কেমন, সেটা ইঙ্গিত দেয় যে, পরবর্তী সময়ে আপনি কেমন বাবা হবেন। ডু ফাদার্স ম্যাটার? নামক বই বলে:

     “যে-স্বামী তার গর্ভবতী স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু জোগান, তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান এবং আলট্রাসাউন্ডে গর্ভের মধ্যে থাকা ভ্রূণকে দেখেন আর সেই শিশুর হৃদ্‌স্পন্দন শোনেন, তিনি সাধারণত সন্তানের জন্মের পর তার স্ত্রী ও শিশুর বেশি খেয়াল রাখেন।”

     “আমি জানি, গর্ভধারণের সময়টা খুবই কষ্টকর আর আমি চাইতাম না, আমার স্ত্রী এটা মনে করুক যে, তাকে একাকেই এই ভার বহন করতে হবে। তাই আমি যতটা পারতাম, তাকে সাহায্য করতাম। আমরা এমনকী দু-জনে মিলে আমাদের বাচ্চার ঘর গুছাতাম। আমাদের সন্তানের জন্মের আগের এই প্রস্তুতি নেওয়ার সময়টা আমরা কখনো ভুলতে পারব না।”—জেম্‌স।

     বাইবেলের নীতি: “কেবল নিজেদের বিষয়ে চিন্তা কোরো না, কিন্তু অন্যের প্রতিও চিন্তা দেখাও।”—ফিলিপীয় ২:৪.

  •   সন্তান জন্ম নেওয়ার পর। আপনার ছোট্ট সন্তানের সঙ্গে খেলা করে এবং তাকে জড়িয়ে ধরে আপনি তার সঙ্গে এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। প্রত্যেক দিন তাকে খাওয়ানো, স্নান করানোর মতো অনেক কাজ করতে হয় আর আপনিও সেই কাজে সাহায্য করতে পারেন। সন্তানকে বড়ো করে তোলার জন্য আপনার এই কাজ সত্যিই সাহায্য করবে। সন্তানের সঙ্গে আপনার এই বন্ধন দেখায় যে, আপনার কাছে আপনার সন্তান কতটা মূল্যবান!

     “আপনার বাচ্চার সঙ্গে বাচ্চার মতো আচরণ করুন। তার সঙ্গে খেলা করুন, মজা করুন। গম্ভীর না হয়ে তার সঙ্গে হাসি-মজা করুন। মনে রাখবেন, সেই ছোট্ট শিশু আপনার কাছ থেকে শিখবে যে, ভালোবাসা কী।”—রিচার্ড।

     বাইবেলের নীতি: “সন্তানেরা যিহোবার কাছ থেকে পাওয়া উপহার, গর্ভের ফল তাঁর কাছ থেকে পাওয়া পুরস্কার।”—গীতসংহিতা ১২৭:৩, পাদটীকা।

  •   সন্তান বেড়ে ওঠার সময়। গবেষণা দেখায়, যে-সন্তানেরা তাদের বাবার খুব ঘনিষ্ঠ থাকে, তারা স্কুলে ভালো রেজাল্ট করে এবং আবেগগত সমস্যায় ততটা ভোগে না। এ ছাড়া, তাদের মধ্যে ড্রাগের অপব্যবহার করার কিংবা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা কম থাকে। আপনার সন্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য তাদের পিছনে সময় ব্যয় করুন।

     “ছোটোবেলায় আমি যখন আমার ছেলেকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যেতাম কিংবা একসঙ্গে খেতে বসতাম, তখন তার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতাম। বড়ো হয়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার সময় সে আমাকে বলে, তার সেই সময়ের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে। আমরা যে-দিন মনে করতাম, আজ কথা বলার মতো তেমন কোনো বিষয় নেই, ঠিক সেই দিনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হত। এটা এইজন্যই হত কারণ আমরা একসঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটাতাম।”—ডেনিস।

     বাইবেলের নীতি: “তোমরা কীভাবে চলছ, তা ভালোভাবে লক্ষ করো। মূর্খ ব্যক্তির মতো না চলে বরং বিজ্ঞ ব্যক্তির মতো চলো, তোমাদের সময়কে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করো।”—ইফিষীয় ৫:১৫, ১৬.

 কীভাবে একজন বাবার ভূমিকা অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে আলাদা?

 অনেক লোক মনে করে, একজন বাবা পরিবারের ভরণ-পোষণ এবং সুরক্ষা জোগাবে আর একজন মা সন্তানদের ভালোবাসা দেবে আর তাদের ভালো ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। (দ্বিতীয় বিবরণ ১:৩১; যিশাইয় ৪৯:১৫) তবে কোনো কোনো পরিবারের ক্ষেত্রে, বাবার দায়িত্বগুলো মা করে থাকে আবার মায়ের কিছু দায়িত্ব বাবা পূরণ করে। যা-ই হোক না কেন, গবেষকেরা বলে থাকে, সন্তানকে লালনপালন করার জন্য বাবা ও মা, দু-জনেরই অবদান থাকে। a

 জুডিথ ওয়ালারস্টিন পরিবার নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখেন: “একবার আমরা ১২ বছরের মেয়েকে একটা গাড়ি ধাক্কা মারে। তাকে যখন অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন সে চেয়েছিল, তার বাবা যেন তার সঙ্গে যায়। সে মনে করেছিল, সেই সময় তার বাবাই তাকে সুরক্ষা জোগাতে পারবে। কিন্তু পরে হাসপাতালে থাকার সময় সে চেয়েছিল, আমি যেন তার পাশে সারাদিন বসে থেকে তাকে সান্ত্বনা দিই।” b

 “একজন বাবা যেভাবে পরিবারের যত্ন নেয় এবং সুরক্ষা জোগায়, তা একজন মায়ের পক্ষে করা কঠিন। আবার অন্য দিকে, একজন মা তার সন্তানদের কথা মন দিয়ে শোনে, তাদের ভালোবাসে আর এভাবে তাদের জন্য এক মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলে। তারা দু-জনেই একসঙ্গে একটা দল হিসেবে কাজ করে।”—ড্যানিয়েল।

 বাইবেলের নীতি: “ছেলে আমার, তোমার বাবার শাসনের প্রতি কান দাও আর তোমার মায়ের নির্দেশনা ত্যাগ কোরো না।”—হিতোপদেশ ১:৮.

 বাবা ও তার মেয়ে

 একজন পুরুষের কাছ থেকে কেমন আচরণ আশা করা উচিত, তা বাবা হিসেবে আপনি আপনার মেয়েকে শেখান। সে দুটো উপায়ে তা শিখবে:

  •   আপনি তার মায়ের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেন, তা লক্ষ করার মাধ্যমে। আপনি যখন আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসেন ও সম্মান করেন, তখন আপনার মেয়ে এটা বুঝতে পারে যে, ভবিষ্যতে নিজের জীবনসঙ্গীর মধ্যে কোন কোন গুণ খোঁজা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।—১ পিতর ৩:৭.

  •   আপনি তার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেন, তা লক্ষ করার মাধ্যমে। আপনি যখন আপনার মেয়েকে সম্মান করেন, তখন আপনি আসলে তাকে শেখান, সেও যেন নিজেকে সম্মান করে। এ ছাড়া সে এও আশা করতে শেখে যে, অন্য পুরুষেরাও তাকে সম্মান দেখাবে।

     এর বিপরীতে, আপনি যদি সবসময় তার খুঁত ধরতে থাকেন, তা হলে সে নিজেকে অযোগ্য বলে মনে করবে। এর ফলে, সে এমন পুরুষদের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার চেষ্টা করবে, যাদের হয়তো খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে।

     “কোনো মেয়ে যদি তার বাবার ভালোবাসা ও সমর্থন পায়, তা হলে সম্ভবত সে এমন কোনো ব্যক্তির প্রেমে পড়বে না, যার মধ্যে ভালো স্বামী হওয়ার যোগ্যতা নেই।”—ওয়েন।

a এমন অনেক মা রয়েছে, যারা তাদের স্বামীদের সাহায্য ছাড়াই সন্তানদের বড়ো করে তুলতে সফল হয়েছে।

b দ্যা আনএক্সপেক্টেড লিগেসি অভ্‌ ডিভোর্স বই থেকে।