বাংলা
ডে কেয়ার সম্বন্ধে বাবা-মায়ের যা জানা উচিত
https://cms-imgp.jw-cdn.org/img/p/500300103/univ/art/500300103_univ_sqr_xl.jpg
ijwhf প্রবন্ধ ১৪

পরিবারের জন্য সাহায্য | সন্তান লালনপালন

ডে কেয়ার সম্বন্ধে বাবা-মায়ের যা জানা উচিত

ডে কেয়ার সম্বন্ধে বাবা-মায়ের যা জানা উচিত

 যে-সমস্ত বাবা-মা চাকরি করে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের ছোটো সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর আগে ডে কেয়ার সেন্টারে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ডে কেয়ার সেন্টার হল, ক্লাসরুমের মতো জায়গা, যেখানে শিশুদের রাখা হয় এবং দেখাশোনা করার ব্যবস্থা করা হয়। আপনার শিশুকে কি এইরকম একটা জায়গায় রাখা ভালো হবে?

 আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন

 আমি যদি আমার সন্তানকে ডে কেয়ারে রাখি, তা হলে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কি খারাপ হয়ে যাবে? হ্যাঁ, এমনটা হতে পারে। আসলে, শিশুর জন্মের পর থেকেই তার মস্তিষ্ক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তখন থেকেই সে বুঝতে পারে, সে কাদের সঙ্গে রয়েছে আর এটা তার উপর প্রভাব ফেলে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময় কারণ এটার উপর নির্ভর করে তার বাকি জীবন গড়ে ওঠে। তাই এই সময়ে যতটা সম্ভব আপনার সন্তানের সঙ্গে থাকুন।—দ্বিতীয় বিবরণ ৬:৬, ৭.

  •    যে-সমস্ত বাবা-মা তাদের সন্তানকে ডে কেয়ারে রাখতে চাইছেন, তাদের অবশ্যই এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে হবে যে, তারা কীভাবে সন্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধন বজায় রাখবেন।

 ডে কেয়ারে রাখলে আপনার সন্তানের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কি দুর্বল হয়ে যাবে? এমনটা হতে পারে। হোল্ড অন টু ইয়োর কিডস্‌ বইটা বলে, “স্কুলে যাওয়ার আগে বাচ্চারা যত একে অন্যের সঙ্গে সময় কাটায়, তত তারা একে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়।”

  •    যে-সমস্ত বাবা-মা তাদের সন্তানদের ডে কেয়ারে রাখতে চাইছেন, তাদের অবশ্যই এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে হবে যে, তারা তাদের সন্তানকে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন কি না।

 ডে কেয়ারে থাকা কি আপনার সন্তানকে পরবর্তী সময়ে স্কুলে ভালোভাবে শিক্ষা অর্জন করতে সাহায্য করবে? অনেকে বলে, এটা তাদের সাহায্য করবে। আবার অন্যদের মতে, ডে কেয়ারে থাকা সন্তানের শিক্ষার বিকাশের ক্ষেত্রে সামান্যই সাহায্য করে কিংবা একেবারেই করে না। যা-ই হোক না কেন, শিশু মনস্তত্ত্ববিদ পেনেলোপ লিচ লেখেন, “এমনটা মনে করবেন না যে, আপনার সন্তান স্কুলে যা-কিছু শিখবে, সেটাই তাকে জীবনে চলার পথে সাহায্য করবে। আর এটাও বিশ্বাস করবেন না, সে যত তাড়াতাড়ি স্কুলে যাবে, ততই তার ভালো হবে।” আপনি যদি তা করেন, তা হলে আপনি এটা উপলব্ধি করতে ভুলে যাবেন যে, জন্মের পর থেকেই আপনি তাকে যে-শিক্ষা দিচ্ছেন, তা তার কাছে কতটা মূল্যবান।”

  •    যারা তাদের সন্তানদের ডে কেয়ারে রাখতে চাইছেন, তাদের এটা চিন্তা করা উচিত যে, সেটা আসলেই তাদের প্রয়োজন আছে কি না কিংবা কোনো উপকার করবে কি না।

 সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য আপনি অথবা আপনার সাথির মধ্যে কেউ কি চাকরি না করে ঘরে থাকতে পারেন? কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, আরও বেশি অর্থ উপার্জন করার জন্য বাবা ও মা, দু-জনেই চাকরি করা বেছে নেয়। এতে কি সত্যিই কোনো উপকার হয়?

  •    যারা তাদের সন্তানদের ডে কেয়ারে রাখতে চাইছেন, তাদের এটা নিয়ে চিন্তা করা উচিত যে, তারা তাদের প্রয়োজনীয় খরচ কমাতে পারে কি না, যাতে তাদের মধ্যে একজন চাকরি না করে ঘরে থাকতে পারে।

 সুবিধা-অসুবিধা সমস্ত দিক ভালোভাবে বিবেচনা করার পরই সন্তানকে ডে কেয়ারে রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এরপরেও যদি আপনার মনে হয়, সন্তানকে ডে কেয়ারে রাখাই আপনার পরিবারের পক্ষে ভালো হবে, তা হলে আপনি কী করবেন?

 আপনি যা করতে পারেন

 বাইবেল বলে: “সতর্ক ব্যক্তি প্রতিটা পদক্ষেপের আগে চিন্তা করে।” (হিতোপদেশ ১৪:১৫) সন্তানকে ডে কেয়ারে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই নীতিটা বিবেচনা করুন।

 বিভিন্ন দিকগুলো সম্বন্ধে জানুন

  •    কোনো কোনো বাবা-মা কারো ঘরে তাদের সন্তানকে রাখার ব্যবস্থা করে। সেখানে কিছু বাচ্চার দেখাশোনা করার জন্য এক জন বা কয়েক জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  •    অনেকে তাদের বাচ্চার দেখাশোনার জন্য ঘরেই কোনো আত্মীয়, কাজের লোক কিংবা আয়া রাখে।

 প্রত্যেকটার ভালো দিকও আছে আবার খারাপ দিকও আছে। আপনি সেই বাবা-মায়েদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, যারা তাদের সন্তানদের জন্য এইরকম কোনো ব্যবস্থা করেছেন। বাইবেল বলে, “প্রজ্ঞা সেই ব্যক্তিদেরই, যারা পরামর্শ চায়।”—হিতোপদেশ ১৩:১০.

 আপনি যদি কোনো ডে কেয়ার সেন্টারে আপনার সন্তানকে রাখার ব্যবস্থা করেন, তা হলে কী করবেন? সেই ক্ষেত্রে …

 সন্তানকে যেখানে রাখছেন, সেই সেন্টার সম্বন্ধে খোঁজখবর নিন

  •    এটার কি লাইসেন্স রয়েছে অথবা এরা কি সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলে? এই সেন্টারের কি সুনাম রয়েছে?

  •    জায়গাটা কি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ?

  •    সেখানে থাকার সময় আপনার সন্তান কী করবে? a

 যারা আপনার সন্তানের দেখাশোনা করবে, তাদের সম্বন্ধে খোঁজখবর নিন

  •    তারা এরজন্য কোন কোন প্রশিক্ষণ পেয়েছে? এর মধ্যে রয়েছে, ছোটো শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সিপিআর অর্থাৎ হঠাৎ হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি।

  •    আপনি কি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন, যারা আপনার শিশুর দেখাশোনা করবে, তারা কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না?

  •    সেখানে কি প্রায়ই পুরাতন লোক চলে গিয়ে নতুন লোক আসে? এ-রকমটা হওয়ার মানে হল, আপনার সন্তানকে প্রায়ই নতুনদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

  •    সেখানে কত জন দেখাশোনা করার লোক আছে আর কত জন শিশু রয়েছে? এক জন ব্যক্তিকে যদি অনেক শিশুর দেখাশোনা করতে হয়, তা হলে এর মানে হল, আপনার সন্তানকে ভালোভাবে দেখাশোনা করা হবে না। অবশ্য আপনার সন্তানের কতটা দেখাশোনা করা প্রয়োজন, তা তার বয়স ও ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।

  •    আপনার যদি কিছু জানার থাকে, তা হলে সেই ব্যক্তিরা কি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চায়? অথবা তারা কি আপনার কাছ থেকে আপনার সন্তানের বিষয়ে কিছু জানতে চায়?

a যেমন, সেখানে কি বাচ্চাদের টিভির সামনে বসিয়ে রাখা হয়, না কি এমন কিছু শেখানো হয়, যেগুলো তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে?