সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য

বাইবেল কীভাবে আমাকে সাহায্য করতে পারে?—ভাগ ১: বাইবেল পড়া শুরু করা

বাইবেল কীভাবে আমাকে সাহায্য করতে পারে?—ভাগ ১: বাইবেল পড়া শুরু করা

“আমি বাইবেল পড়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু এটা এত বড়ো, আমার দেখেই ভয় লাগে!”—ব্রিয়ানা।

তোমারও কি এমনটাই মনে হয়? যদি তা-ই হয়ে থাকে, তা হলে এই প্রবন্ধ তোমাকে সাহায্য করতে পারে।

 কেন বাইবেল পড়ব?

বাইবেল পড়ার কথা চিন্তা করলেই তোমার কি এটা একঘেয়ে বলে মনে হয়? এমনটা মনে হওয়া স্বাভাবিক। মনে হতে পারে, বাইবেলে হাজার হাজার পৃষ্ঠা রয়েছে, এতে কোনো ছবিও নেই। এটি পড়ার চেয়ে টিভি বা ইন্টারনেট থেকে ভিডিও দেখাই বেশি ভালো!

কিন্তু এভাবে চিন্তা করে দেখো: ধরে নাও, তুমি একটা বহুমূল্য রত্নে ভরা বড়ো সিন্দুক খুঁজে পেয়েছ। তুমি কি সেটাকে খুলে দেখতে চাইবে না, সেটার ভিতরে কী কী রয়েছে?

আমরা বাইবেলকে এমনই একটা সিন্দুকের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। এটির মধ্যে রত্নের মতো বিভিন্ন পরামর্শ রয়েছে, যা তোমাকে এই বিষয়গুলো করতে সাহায্য করবে:

  • ভালো সিদ্ধান্ত নিতে

  • তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে

  • উত্তম বন্ধুবান্ধব খুঁজে পেতে

  • চাপ কাটিয়ে উঠতে

এত পুরোনো বই আজকের দিনে কি কাজে লাগতে পারে? হ্যাঁ কাজে লাগতে পারে কারণ “শাস্ত্রে লেখা সমস্ত কথা ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত।” (২ তীমথিয় ৩:১৬) এর অর্থ হল, বাইবেলে এই নিখিলবিশ্বের সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ রয়েছে।

বাইবেল হল একটা সিন্দুকের মতো আর এর মধ্যে থাকা পরামর্শগুলো অমূল্য রত্নের মতো

 আমার কীভাবে বাইবেল পড়া উচিত?

একটা উপায় হল, বাইবেলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া। এটা তোমাকে বাইবেলের মূল বার্তা বুঝতে সাহায্য করবে। বাইবেল পড়ার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। তার মধ্যে দুটো উপায় লক্ষ করো:

  •  তুমি চাইলে বাইবেলের ৬৬টি বই, আদিপুস্তক থেকে প্রকাশিত বাক্য পর্যন্ত পড়তে পার।

  •  তুমি চাইলে বাইবেল কালানুক্রমেও পড়তে পার অর্থাৎ ঘটনাগুলো আসলে যে-ধারাবাহিক সময়ে ঘটেছে, সেই সময় অনুযায়ী পড়তে পার।

পরামর্শ: ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়নের জন্য এক সহায়িকা পুস্তিকায় থাকা ধারাবাহিক প্রবন্ধ, যিশুর পার্থিব জীবনের প্রধান ঘটনাগুলো পড়তে পার। এই পুস্তিকায় পৃথিবীতে থাকাকালীন যিশুর জীবনে যে-প্রধান ঘটনাগুলো ঘটেছিল, সেগুলোর তালিকা রয়েছে।

দ্বিতীয় উপায় হল, তুমি এখন যে-সমস্যার মধ্যে রয়েছ, সেটার সঙ্গে মিল রয়েছে, এমন কোনো বাইবেলের ঘটনা বাছাই করা ও সেটা পড়া। যেমন:

  • তুমি কি নির্ভরযোগ্য বন্ধুবান্ধব খুঁজে পেতে চাও? যোনাথন ও দায়ূদের কাহিনি পড়ো। (১ শমূয়েল ১৮-২০ অধ্যায়) লক্ষ করো, দায়ূদের মধ্যে এমন কোন কোন গুণ ছিল, যেগুলো হয়তো যোনাথন ও দায়ূদকে ভালো বন্ধু হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল।

  • তুমি কি মন্দ কাজ করার প্রলোভনের সঙ্গে লড়াই করার জন্য আরও দৃঢ় হতে চাও? যোষেফ কীভাবে মন্দ কাজ করার প্রলোভনের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, সেই কাহিনিটা পড়ো। (আদিপুস্তক ৩৯ অধ্যায়) লক্ষ করো, এমন প্রলোভনের সঙ্গে লড়াই করার জন্য যোষেফ কার কাছ থেকে শক্তি পেয়েছিলেন।

  • তুমি কি জানতে চাও, প্রার্থনা করা তোমাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারে? নহিমিয়ের কাহিনি পড়ো। (নহিমিয় ২ অধ্যায়) নহিমিয়: “সদাপ্রভুতে যে আনন্দ, তাহাই তোমাদের শক্তি”—ভাগ ১ এবং দেখো। লক্ষ করো, কীভাবে ঈশ্বর নহিমিয়ের প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন?

পরামর্শ: তুমি যখন বাইবেল পড়বে, তখন একটা শান্ত পরিবেশ বেছে নাও, যাতে তুমি মন দিয়ে তা পড়তে পার।

বাইবেল পড়ার তৃতীয় উপায় হল, যেকোনো একটা ঘটনা বা গীত বেছে নেওয়া ও সেটা পড়া। আর তারপর চিন্তা করে দেখা যে, কীভাবে তুমি সেটা কাজে লাগাতে পার। পড়ার পর নিজেকে জিজ্ঞেস করো যে:

  •  কেন যিহোবা বাইবেলে এই ঘটনাটা লিখিয়েছিলেন?

  •  এটা থেকে আমি যিহোবার ব্যক্তিত্ব এবং তিনি যেভাবে কাজ করেন, সেই সম্বন্ধে কী শিখতে পারি?

  •  এই বিষয়টা আমি আমার জীবনে কীভাবে কাজে লাগাতে পারি?

পরামর্শ: একটা লক্ষ্য স্থির করো। বাইবেল পড়া শুরু করার জন্য একটা দিন বেছে নাও। এর জন্য jw.org ওয়েবসাইটে দেওয়া বাইবেল পাঠের তালিকা ব্যবহার করতে পার।