যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
কীভাবে আমি মনোযোগ দেওয়া শিখতে পারি?
কেন আমি মনোযোগ দিতে পারি না?
“আগে আমি অনেক বই পড়তাম, কিন্তু এখন আমি আর তা পারি না। এমনকী বড়ো অনুচ্ছেদ পড়তেও আমার ভালো লাগে না।”—ইলেন।
“কোনো ভিডিও দেখার সময় আমার যদি মনে হয়, সেটা দ্রুত শেষ হচ্ছে না, তা হলে আমি ভিডিওর স্পিড ফাস্ট করে দিই।”—মিরিন্ডা।
“আমি যখন গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনোযোগ দিয়ে করতে থাকি আর আমার মোবাইলে মেসেজ আসার শব্দ হয়, তখন আমার মাথায় ঘুরতে থাকে, ‘কে আমাকে মেসেজ করেছে?’”—জেন।
টেকনোলজির কারণে মনোযোগ দেওয়া কি কঠিন হয়ে পড়ছে? কেউ কেউ এমনটাই মনে করে। নিকোলাস কার নামে একজন গ্রন্থকার ও পরামর্শদাতা লেখেন: “আমরা যতবেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করি, ততবেশি আমরা আমাদের মস্তিষ্ককে বিক্ষিপ্ত হওয়ার জন্য অর্থাৎ পুরোপুরিভাবে মনোযোগ না দিয়ে খুব দ্রুত এবং কার্যকর উপায়ে তথ্য গ্রহণ করার জন্য প্রশিক্ষিত করি।” a
তিনটে ক্ষেত্র নিয়ে বিবেচনা করো, যেখানে টেকনোলজি তোমার মনোযোগে বাধা দিতে পারে।
কথা বলার সময়। মারিয়া নামে এক যুবতী বলে, “লোকেরা এমনকী সামনাসামনি কথা বলার সময়ও মোবাইলে মেসেজ পাঠাতে থাকে অথবা গেম খেলতে থাকে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া দেখতে থাকে—তারা যার সঙ্গে কথা বলছে, তার প্রতি পুরোপুরি মনোযোগ দেয় না।”
ক্লাসে থাকার সময়। ডিজিটাল কিড্স নামক বই বলে, “বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীই বলে যে, ক্লাস চলাকালীন তারা তাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইসে মেসেজ পাঠায়, ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করে কিংবা কিছু দেখে বা পড়ে।” বইটা আরও বলে, তারা এই ডিভাইসগুলো “শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত নয় এমন বিষয়গুলোর জন্য” ব্যবহার করছে।
পড়াশোনা করার সময়। ২২ বছর বয়সি ক্রিস বলে, “প্রতি বার আমার মোবাইলে যখন শব্দ হয়, তখন সেটা উপেক্ষা করা আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ে।” তুমি যদি স্কুলের একজন ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে থাক আর হোমওয়ার্ক করার সময় ডিভাইসের কারণে তোমার মনোযোগ যদি বিক্ষিপ্ত হয়, তা হলে এক ঘণ্টার হোমওয়ার্ক করতে তিন ঘণ্টা বা এর চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে।
মূল কথা: টেকনোলজি যদি তোমাকে বিক্ষিপ্ত ও নিয়ন্ত্রণ করে, তা হলে মনোযোগ দেওয়া তোমার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
অমনোযোগী মন একটা বুনো ঘোড়ার মতো—এটা তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করে
কীভাবে আমি আমার মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে পারি?
কথা বলার সময়। বাইবেল বলে: “কেবল নিজেদের বিষয়ে চিন্তা কোরো না, কিন্তু অন্যের প্রতিও চিন্তা দেখাও।” (ফিলিপীয় ২:৪) মনোযোগ দিয়ে কথা শোনার মাধ্যমে সেই ব্যক্তির প্রতি আগ্রহ দেখাও। ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে কথা শোনো এবং তোমার ডিভাইসের কারণে বিক্ষিপ্ত হোয়ো না।
“কথা বলার সময় মোবাইল চেক করার ইচ্ছা দমন করো। যার সঙ্গে তুমি কথা বলছ, তার প্রতি পুরোপুরি মনোযোগ দিয়ে তাকে সম্মান দেখাও।”—থমাস।
পরামর্শ: কথা বলার সময় তোমার মোবাইল চোখের আড়ালে রাখো। গবেষকেরা বলে, মোবাইল চোখের সামনে থাকলেই সেটা তোমার মনোযোগকে বিক্ষিপ্ত করতে পারে, কারণ এটা ইঙ্গিত দেয় যে, শীঘ্রই সামনে একটা বাধা আসতে চলেছে।
ক্লাসে থাকার সময়। বাইবেল বলে: “তোমরা কীভাবে শুনছ, তাতে মনোযোগ দাও।” (লূক ৮:১৮) তোমার স্কুলে যদি ক্লাসরুমে ইন্টারনেট ব্যবহার করার অনুমতি থাকে, তা হলে এই নীতির কথা মনে রেখে তুমি সেই সময়গুলোতে মেসেজ চেক কোরো না, গেম খেলো না কিংবা অনলাইনে চ্যাট কোরো না, যখন কিনা তোমার পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
“ক্লাসে আরও ভালোভাবে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করো। নোট নাও। যদি সম্ভব হয়, তা হলে ক্লাসরুমে সামনের দিকে বসার চেষ্টা করো, যাতে তোমার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত না হয়।”—ক্যারেন।
পরামর্শ: কম্পিউটারে নোট নেওয়ার পরিবর্তে হাতে নোট নাও। গবেষণা দেখায় যে, এতে তোমার মনোযোগ কম বিক্ষিপ্ত হবে এবং তুমি যা শিখেছ, তা আরও ভালোভাবে মনে রাখতে পারবে।
পড়াশোনা করার সময়। বাইবেল বলে: “প্রজ্ঞা অর্জন করো, বোঝার ক্ষমতা অর্জন করো।” (হিতোপদেশ ৪:৫) এগুলোর সঙ্গে শুধু পরীক্ষায় পাশ করার জন্য উপর উপর পড়ার চেয়ে বরং গভীরভাবে চিন্তা করা জড়িত।
“আমি যখন পড়াশোনা করি, তখন আমার ট্যাবলেট এয়ারপ্লেন মুডে রাখি এবং কেবল পড়াশোনার উপরই মনোযোগ দিই। কোনো নোটিফিকেশন এলেও আমি তা দেখি না। আমার যদি কোনো কিছু মনে রাখার প্রয়োজন হয়, তা হলে আমি সেটা লিখে রাখি।”—ক্রিস।
পরামর্শ: পড়াশোনার সময় পরিবেশ এমন রাখার চেষ্টা করো, যাতে তুমি মনোযোগ দিতে পারো। আশপাশ পরিষ্কার ও গোছানো রাখো।
a দ্যা শ্যায়ালস্—হোয়াট দি ইন্টারনেট ইজ ডুয়িং টু আওয়ার ব্রেইন নামক বই থেকে।

