যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
কেন আমি আমার ভাই-বোনের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখব?
“ঝগড়া হলেও আমরা একে অপরের বন্ধু”
তোমার ভাই-বোন হল এমন বন্ধু, যার সঙ্গে তোমার ঝগড়াও হয়, আবার তোমরা একে অপরকে ছাড়া থাকতেও পার না। তুমি তাদের খুব ভালোবাস এবং তারাও তোমাকে খুব ভালোবাসে। তবে, কখনো কখনো তুমি তাদের সঙ্গে একদম মানিয়ে নিতে পার না। ১৮ বছর বয়সি হেলেনা বলে, “আমার ছোটো ভাই আমাকে ভীষণ বিরক্ত করে। ও জানে যে, কী করলে আমি খুব রেগে যাই আর ও সেটাই করে।”
ভাই-বোনদের মধ্যে কিছু সমস্যা কথা বলে সমাধান করা যায়। তাই, তাদের একে অপরের কথা শুনতে হবে এবং মানিয়ে নিতে হবে। যেমন:
দু-জন ভাই যারা একই ঘরে থাকে, তারা হয়তো নিজেদের মধ্যে একটু প্রাইভেসি চায় আর এটা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর সমাধান কী? তাদের একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং বুঝতে হবে, প্রত্যেকেরই কিছুটা প্রাইভেসির প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে লূক ৬:৩১ পদে দেওয়া বাইবেলের নীতিটা তারা কাজে লাগাতে পারে।
দু-জন বোন হয়তো না জিজ্ঞেস করেই একে অপরের “জামা পড়েছে।” এর সমাধান কী? তাদের এই বিষয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে হবে এবং জানিয়ে দিতে হবে যে, তারা একে অপরের কোন কোন জিনিসে হাত দিতে পারে আর কোন কোন জিনিসে নয়। এই ক্ষেত্রে ২ তীমথিয় ২:২৪ পদে দেওয়া বাইবেলের নীতিটা তারা কাজে লাগাতে পারে।
ভাই-বোনদের মধ্যে কিছু সমস্যা আবার গুরুতর হতে পারে আর এর পরিণতিও খুব খারাপ হতে পারে। বাইবেলের দুটো উদাহরণ লক্ষ করো:
মরিয়ম ও হারোণ তাদের ভাই মোশিকে হিংসা করতে শুরু করে আর এর পরিণতি খুবই খারাপ হয়। গণনাপুস্তক ১২:১-১৫ পদে দেওয়া বিবরণটা পড়ো এবং তারপর নিজেকে জিজ্ঞেস করো: “কেন আমার ভাই-বোনকে হিংসা করা উচিত নয়?”
কয়িন তার ভাই হেবলের প্রতি এতটাই রেগে গিয়েছিলেন যে, তাকে হত্যা করেছিলেন। আদিপুস্তক ৪:১-১২ পদে দেওয়া বিবরণটা পড়ো এবং তারপর নিজেকে জিজ্ঞেস করো: “ভাই-বোনের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি কীভাবে আমার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি?”
শান্তি বজায় রাখার দুটো কারণ
ভাই-বোনের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা যত কঠিনই হোক না কেন, অন্ততপক্ষে দুটো কারণে তুমি এটা করতে পার।
এটা একটা ম্যাচিওরিটির লক্ষণ। অ্যালেক্স নামে একজন যুবক বলে, “আমি একটুতেই আমার দুই বোনের উপর রেগে যেতাম। কিন্তু, এখন আমি অনেক শান্ত থাকি এবং তাদের প্রতি ধৈর্য ধরি। বলতে পারেন, আমি এখন অনেকটাই ম্যাচিওর হয়ে গিয়েছি।”
বাইবেল বলে, “যে তাড়াতাড়ি রেগে যায় না, সে খুবই বিচক্ষণ ব্যক্তি, কিন্তু যে অধৈর্য হয়ে পড়ে, সে নিজের মূর্খতা প্রকাশ করে।”—হিতোপদেশ ১৪:২৯.
ভবিষ্যতের জন্য এটা একটা ভালো প্রশিক্ষণ। তুমি যদি তোমার ভাই-বোনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পার, তা হলে কীভাবে তুমি তোমার বিবাহসাথি, সহকর্মী, অফিসের বস অথবা অন্য কারো সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে?
জীবনের বাস্তবতা: ভবিষ্যতে অন্যদের সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কতটা ভালো হবে, সেটা নির্ভর করে আজ তুমি তোমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলছ বা তাদের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিচ্ছ।
বাইবেল বলে: “শান্তিতে বাস করার জন্য তোমাদের সর্বোত্তমটা করো।”—রোমীয় ১২:১৮.
তোমার ভাই-বোনের সঙ্গে সমস্যা সমাধান করার জন্য তুমি কি কোনো সাহায্য চাও? নীচে দেওয়া “তোমার সঙ্গীসাথিরা যা বলে” অংশটা পড়ো আর এরপর “আমার ভাই-বোনের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেব?” শিরোনামের ওয়ার্কশিটটা দেখ।

