বাংলা
কীভাবে আমি বাবা-মায়ের দেওয়া নিয়ম নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি?
https://cms-imgp.jw-cdn.org/img/p/502019475/univ/art/502019475_univ_sqr_xl.jpg
ijwyp প্রবন্ধ ৮৫

যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য

কীভাবে আমি বাবা-মায়ের দেওয়া নিয়ম নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি?

কীভাবে আমি বাবা-মায়ের দেওয়া নিয়ম নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি?

 “আমার যখন ১৫ বছর বয়স ছিল, তখন বাবা-মায়ের দেওয়া সমস্ত নিয়ম আমি একেবারে সঠিক বলে মনে করতাম। কিন্তু, এখন আমার বয়স ১৯ আর আমি চাই আমাকে যেন আরেকটু স্বাধীনতা দেওয়া হয়।”—সিলভিয়া।

 তুমিও কি সিলভিয়ার মতো মনে কর? যদি করে থাক, তা হলে এই প্রবন্ধ তোমাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে সাহায্য করবে।

 তোমার যা জানা উচিত

 বাবা-মায়ের দেওয়া নিয়ম নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার আগে নীচে দেওয়া বিষয়গুলো নিয়ে বিবেচনা করে দেখ:

  •  নিয়ম ছাড়া জীবন এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। একটা ব্যস্ত হাইওয়ের কথা চিন্তা কর। সেখানে যদি কোনো রোড সাইন, ট্র্যাফিক সিগন্যাল অথবা স্পীড লিমিট না থাকে, তা হলে কী হতে পারে? বাড়ির নিয়মগুলো ঠিক একইরকম। এগুলো বাড়ির মধ্যে একটা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তোমাকে সাহায্য করবে।

  •  বাবা-মা তোমাকে নিয়ম দেন, কারণ তারা তোমার জন্য চিন্তা করেন। তারা যদি কোনো নিয়ম স্থির না করতেন, তা হলে এটা দেখাত যে, তোমার জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন, এতে তাদের কিছু যায় আসে না। এভাবে কি সত্যিই তারা ভালো বাবা-মা হয়ে উঠতে পারবে?

 তুমি কি জান? বাবা-মায়েদেরও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। কোন নিয়মগুলো? এটা জানার জন্য আদিপুস্তক ২:২৪; দ্বিতীয় বিবরণ ৬:৬, ৭; ইফিষীয় ৬:৪; ১ তীমথিয় ৫:৮ পড়ো।

 তবুও তোমার যদি মনে হয়, বাবা-মায়ের দেওয়া নিয়মগুলো সঠিক নয়, তা হলে?

 তুমি যা করতে পার

 বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার আগে একটু চিন্তা করো। তুমি কি সাধারণত তোমার বাবা-মায়ের দেওয়া নিয়মগুলো পালন করে থাক? যদি না করে থাক, তা হলে তাদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলার সঠিক সময় এখন নয়। এর পরিবর্তে তুমি “How Can I Gain My Parents’ Trust?” শিরোনামের প্রবন্ধটা দেখ।

 কিন্তু তুমি যদি সবসময় তোমার বাবা-মায়ের কথা মেনে থাক, তা হলে এখন তাদের কী বলবে, সেই বিষয়ে একটু চিন্তা করো। এটা তোমাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে, তুমি তোমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা চাইছ, সেটা চাওয়া ঠিক হবে কি না। এরপর তোমার বাবা-মাকে বলো তারা যেন একটা সময় ও জায়গা স্থির করে, যেখানে তোমরা একসঙ্গে বসে শান্তিতে কথা বলতে পারবে। তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় এই বিষয়গুলো মনে রাখ:

 তাদের প্রতি সম্মান দেখাও। বাইবেল বলে: “কঠোরভাবে বলা কথা একজন ব্যক্তিকে রাগিয়ে তোলে।” (হিতোপদেশ ১৫:১) এই বিষয়ে সতর্ক থাক যে, যদি তুমি তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে তর্ক কর কিংবা তাদের দোষারোপ কর, তা হলে এই আলোচনা আরও খারাপের দিকে যাবে।

 “আমি আমার বাবা-মায়ের প্রতি যতটা সম্মান দেখাই, তারাও আমার প্রতি ততটাই সম্মান দেখায়। একে অপরের প্রতি সম্মান থাকার ফলে কোনো বিষয়ে একমত হওয়া আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে ওঠে।”—১৯ বছরের বিয়াঙ্কা।

 মন দিয়ে শোনো। বাইবেল বলে: “শোনার ব্যাপারে ইচ্ছুক এবং কথা বলার ব্যাপারে ধীর হও।” (যাকোব ১:১৯) এটা মনে রেখো, তুমি তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করছ, তাদের উদ্দেশে কোনো ভাষণ দিচ্ছ না।

 “বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা মনে করি যে, আমরা আমাদের বাবা-মায়ের চেয়ে বেশি জানি। কিন্তু, আসলে সেটা সত্যি নয়। তাদের কথা এবং পরামর্শ শুনলে আমাদেরই ভালো হবে।”—২০ বছরের দেভান।

 তাদের কথা বোঝার চেষ্টা করো। বিষয়টাকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার চেষ্টা করো। বাইবেলের এই পরামর্শ মেনে চলো: “কেবল নিজেদের বিষয়ে চিন্তা কোরো না, কিন্তু অন্যের প্রতিও চিন্তা দেখাও।” (ফিলিপীয় ২:৪) আর এই ক্ষেত্রে তোমার বাবা-মায়ের বিষয়ে চিন্তা করো।

এর মধ্যে কোন পয়েন্টগুলো তুমি কাজে লাগাতে পার?

 “আমি সবসময় মনে করতাম আমার বাবা-মা আমার বিরোধী। কিন্তু, এখন আমি বুঝতে পারি, তারা শুধু ভালো বাবা-মা হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক যেমন আমি একজন দায়িত্ববান ব্যক্তি হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। তারা যা-কিছু করেছিলেন, সেগুলো শুধুমাত্র আমাকে ভালোবাসেন বলেই করেছিলেন।”—২১ বছরের জোশুয়া।

 কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটা তুলে ধরো। মনে কর, তুমি এমন একটা পার্টিতে যেতে চাও, যেখানে পৌঁছানোর জন্য তোমাকে এক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যেতে হবে। কিন্তু, তোমার বাবা-মা চান না, তুমি সেখানে যাও। তারা কেন চান না, সেটা বোঝার চেষ্টা কর। তুমি এত দূর গাড়ি চালিয়ে যাবে বলে কি তারা চিন্তিত, না কি তারা সেই পার্টির বিষয় নিয়ে চিন্তিত?

  •   তুমি এত দূর গাড়ি চালিয়ে যাবে বলে যদি তারা চিন্তিত হয়, তা হলে তুমি কি তোমার সঙ্গে এমন কাউকে নিয়ে যেতে পার, যে ভালো গাড়ি চালাতে পারে? এতে তারা হয়তো তোমাকে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে।

  •   কিন্তু, সেই পার্টির বিষয় নিয়ে যদি তারা চিন্তিত হয়, তা হলে তুমি কি তাদের জানাতে পার, কারা সেই পার্টিতে আসছে এবং কে এই পার্টিটা অ্যারেঞ্জ করেছে? এটা হয়তো তাদের স্বস্তি দিতে পারে।

 বাবা-মায়ের সঙ্গে সবসময় সম্মান দেখিয়ে কথা বল এবং ধৈর্য ধরে তাদের কথা শোনার চেষ্টা কর। তোমার কথাবার্তা এবং আচরণের মাধ্যমে দেখাও যে, তুমি ‘তোমার বাবা এবং তোমার মাকে সমাদর কর।’ (ইফিষীয় ৬:২, ৩) হয়তো তারা তোমার সঙ্গে একমত হবে। আবার এটাও হতে পারে যে, তারা তোমার সঙ্গে একমত হবে না। যাই হোক না কেন, নীচে দেওয়া বিষয়টা সবসময় মনে রেখো …

 নম্রভাবে তোমার বাবা-মায়ের সিদ্ধান্ত মেনে নাও। এটা এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেটা বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ে প্রায়ই উপেক্ষা করে থাকে। কিন্তু, এটা করলে তোমার বাবা-মা হয়তো তোমাকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেবেন। তুমি যেটা চাও, সেটা যদি না পেয়ে থাক আর সেটা নিয়ে তুমি যদি তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে তর্ক করতে শুরু কর, তা হলে পরবর্তী সময় তোমার পক্ষে তাদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়া হয়তো কঠিন হয়ে উঠবে। অন্যদিকে তুমি যদি তাদের কথা স্বেচ্ছায় মেনে নাও, তা হলে তারা হয়তো তোমাকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেবে।