সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

আপনার পরিবার সুখী হতে পারে

 খণ্ড ১

এক সুখী বিবাহিত জীবনের জন্য ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করুন

এক সুখী বিবাহিত জীবনের জন্য ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করুন

“সৃষ্টিকর্ত্তা আদিতে পুরুষ ও স্ত্রী করিয়া তাহাদিগকে নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন।” —মথি ১৯:৪

যিহোবা * ঈশ্বর প্রথম বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। বাইবেল আমাদের জানায়, তিনি প্রথম নারী সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাকে ‘আদমের নিকটে আনিয়াছিলেন।’ এতে আদম অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বলেছিলেন: “এবার [হইয়াছে]; ইনি আমার অস্থির অস্থি ও মাংসের মাংস।” (আদিপুস্তক ২:২২, ২৩) যিহোবা এখনও চান যেন, বিবাহিত লোকেরা সুখী হয়।

আপনি যখন বিয়ে করেন, তখন হয়তো এইরকমটা মনে করেন যে, সমস্তকিছু একেবারে নিখুঁত হবে। কিন্তু, সত্যি বলতে কী, পরস্পরকে প্রকৃতই ভালোবাসে এমন একজন স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যেও কিছু-না-কিছু সমস্যা দেখা দেবে। (১ করিন্থীয় ৭:২৮) এই ব্রোশারে আপনি বাইবেলের বিভিন্ন নীতি খুঁজে পাবেন, যেগুলো কাজে লাগালে আপনার বিয়ে এবং পরিবার সুখী হতে পারবে।—গীতসংহিতা ১৯:৮-১১.

 ১ যিহোবা আপনাকে যে-ভূমিকা দিয়েছেন, তা পালন করুন

বাইবেল যা বলে: স্বামী হলেন পরিবারের মস্তক।—ইফিষীয় ৫:২৩.

আপনি যদি একজন স্বামী হয়ে থাকেন, তাহলে যিহোবা চান যেন আপনি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কোমলভাবে ব্যবহার করেন। (১ পিতর ৩:৭) তিনি তাকে আপনার এক “অনুরূপ সহকারিণী [“পরিপূরক,” NW]” হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি চান যেন আপনি তার সঙ্গে মর্যাদা দেখিয়ে ও প্রেমের সঙ্গে আচরণ করেন। (আদিপুস্তক ২:১৮) আপনার স্ত্রীকে এতটাই ভালোবাসতে হবে যে, নিজের চেয়ে বরং তার আগ্রহের বিষয়গুলো প্রথম রাখতে হবে।—ইফিষীয় ৫:২৫-২৯.

আপনি যদি একজন স্ত্রী হয়ে থাকেন, তাহলে যিহোবা চান যেন আপনি আপনার স্বামীকে গভীর “ভয় [“সম্মান,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন]” করেন এবং তাকে তার ভূমিকা পালন করতে সাহায্য করেন। (১ করিন্থীয় ১১:৩; ইফিষীয় ৫:৩৩) তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করুন এবং পূর্ণহৃদয়ে তাকে সহযোগিতা করুন। (কলসীয় ৩:১৮) আপনি যদি তা করেন, তাহলে আপনার স্বামী ও যিহোবার দৃষ্টিতে আপনি মূল্যবান হয়ে উঠবেন।—১ পিতর ৩:১-৬.

আপনি যা করতে পারেন:

  • আপনার সাথিকে জিজ্ঞেস করুন যে, কীভাবে আপনি আরও উত্তম এক স্বামী অথবা স্ত্রী হতে পারেন। মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং উন্নতি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করুন

  • ধৈর্য ধরুন। কীভাবে আপনারা পরস্পরকে সুখী করতে পারেন, তা জানার জন্য দু-জনেরই সময় লাগবে

২ আপনার সাথির অনুভূতির প্রতি প্রকৃত আগ্রহ দেখান

বাইবেল যা বলে: আপনার বিবাহসাথির আগ্রহের বিষয়গুলোর প্রতি আপনাকে ভালোভাবে লক্ষ রাখতে হবে। (ফিলিপীয় ২:৩, ৪) আপনার সাথিকে মূল্যবান হিসেবে গণ্য করুন এবং মনে রাখবেন, যিহোবা চান যেন তাঁর দাসেরা “সকলের প্রতি কোমল” হয়। (২ তীমথিয় ২:২৪) “অবিবেচনার কথা . . . খড়্‌গাঘাতের মত, কিন্তু জ্ঞানবানদের জিহ্বা স্বাস্থ্যস্বরূপ।” তাই, সতর্কতার সঙ্গে শব্দ বাছাই করুন। (হিতোপদেশ ১২:১৮) যিহোবার আত্মা আপনাকে মাধুর্য বা দয়া এবং প্রেম দেখিয়ে কথা বলতে সাহায্য করবে।—গালাতীয় ৫:২২, ২৩; কলসীয় ৪:৬.

আপনি যা করতে পারেন:

  • শান্ত থাকার জন্য প্রার্থনা করুন এবং আপনার সাথির সঙ্গে কোনো গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা করার আগে, মেনে নেওয়ার মতো মনোভাব বজায় রাখুন

  • আপনি কী বলবেন এবং কীভাবে বলবেন, তা আগে থেকেই ভালোভাবে চিন্তা করুন

 ৩ দু-জনে মিলে চিন্তা করুন

বাইবেল যা বলে: আপনি যখন বিয়ে করেন, তখন আপনার সাথি এবং আপনি “একাঙ্গ” হয়ে ওঠেন। (মথি ১৯:৫) তা সত্ত্বেও, আপনারা দু-জন আলাদা ব্যক্তি এবং আপনাদের হয়তো ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। তাই, আপনাদেরকে চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতির ক্ষেত্রে একমত হওয়া শিখতে হবে। (ফিলিপীয় ২:২) সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একতা অপরিহার্য। বাইবেল বলে: “পরামর্শ দ্বারা সকল সঙ্কল্প স্থির হয়” বা সফল হয়। (হিতোপদেশ ২০:১৮) একত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বাইবেলের নীতি মেনে চলুন।—হিতোপদেশ ৮:৩২, ৩৩.

আপনি যা করতে পারেন:

  • আপনার সাথিকে কেবল বিভিন্ন তথ্য অথবা মতামতের বিষয়েই নয় কিন্তু সেইসঙ্গে আপনার অনুভূতির কথাও বলুন

  • কাউকে কথা দেওয়ার আগে আপনার বিবাহসাথির সঙ্গে আলোচনা করে নিন

^ অনু. 4 যিহোবা হল ঈশ্বরের নাম, যা বাইবেলে প্রকাশ করা হয়েছে।