সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

আপনি কি সত্য জানতে চান?

আপনি কি সত্য জানতে চান?

কোন বিষয়ে সত্য? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন সম্বন্ধে সত্য, যেগুলো মানুষ সবসময় জিজ্ঞেস করে থাকে। আপনিও হয়তো এই ধরনের প্রশ্নগুলো সম্বন্ধে চিন্তা করেছেন, যেমন:

  • ঈশ্বর কি প্রকৃতই আমাদের জন্য চিন্তা করেন?

  • যুদ্ধ ও দুঃখকষ্ট কি কখনো শেষ হবে?

  • আমরা মারা গেলে আমাদের কী হয়?

  • মৃতদের জন্য কি কোনো আশা আছে?

  • কীভাবে আমি প্রার্থনা করতে পারি ও ঈশ্বর আমার প্রার্থনা শুনতে পারেন?

  • কীভাবে আমি জীবনে সুখ খুঁজে পেতে পারি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি কোথায় খুঁজবেন? আপনি যদি লাইব্রেরি অথবা বইয়ের দোকানগুলোতে গিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি হয়তো এমন হাজার হাজার বই খুঁজে পেয়েছেন, যেগুলো উত্তর দেয় বলে দাবি করে। তবে, প্রায় সময়ই দেখা যায় যে, একটি বই অন্যটির বিপরীত। অন্যগুলো বর্তমানে উপযুক্ত বলে মনে হলেও শীঘ্রই সেগুলো সেকেলে হয়ে যায় এবং পুনর্সংস্করণ বা পরিবর্তন করা হয়।

কিন্তু, এমন একটি বই রয়েছে, যেখানে নির্ভরযোগ্য উত্তরগুলো পাওয়া যায়। এটি হল সত্যের বই। যিশু খ্রিস্ট প্রার্থনায় ঈশ্বরের কাছে বলেছিলেন: “তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ।” (যোহন ১৭:১৭) আজকে আমরা সেই বাক্যকে পবিত্র বাইবেল হিসেবে জানি। পরের পৃষ্ঠাগুলোতে আপনি ওপরের প্রশ্নগুলো সম্বন্ধে বাইবেলের স্পষ্ট, সত্য উত্তরের এক আভাস পাবেন।

 ঈশ্বর কি প্রকৃতই আমাদের জন্য চিন্তা করেন?

যেকারণে এই প্রশ্ন ওঠে: আমরা এমন একটা জগতে বাস করি, যা নিষ্ঠুরতা ও অবিচারে পূর্ণ। অনেক ধর্ম শিক্ষা দেয় যে, আমরা যে-দুঃখকষ্ট ভোগ করি, সেগুলো ঈশ্বরেরই ইচ্ছা।.

বাইবেল যা শিক্ষা দেয়: ঈশ্বর কখনো দুষ্টতা ঘটান না। “ইহা দূরে থাকুক যে, ঈশ্বর দুষ্কার্য্য করিবেন, সর্ব্বশক্তিমান্‌ অন্যায় করিবেন,” ইয়োব ৩৪:১০ পদ বলে। মানুষের জন্য ঈশ্বরের এক প্রেমময় উদ্দেশ্য রয়েছে। এই কারণে যিশু আমাদের প্রার্থনা করতে শিখিয়েছেন: “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ, . . . তোমার রাজ্য আইসুক, তোমার ইচ্ছা সিদ্ধ হউক, যেমন স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও হউক।” (মথি ৬:৯, ১০) ঈশ্বর আমাদের জন্য এতটা গভীরভাবে চিন্তা করেন যে, তিনি তাঁর ­উদ্দেশ্যের পরিপূর্ণতাকে নিশ্চিত করার জন্য যথাসম্ভব সমস্ত কিছু করেছেন।—যোহন ৩:১৬.

এ ছাড়া দেখুন, আদিপুস্তক ১:২৬-২৮; যাকোব ১:১৩ ১ পিতর ৫:৬, ৭.

যুদ্ধ ও দুঃখকষ্ট কি কখনো শেষ হবে?

যেকারণে এই প্রশ্ন ওঠে: যুদ্ধ ক্রমাগত অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। আমরা সকলেই মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে প্রভাবিত হচ্ছি।

বাইবেল যা শিক্ষা দেয়: ঈশ্বর এমন একটা সময় সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, যখন তিনি পৃথিবী­ব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন। তাঁর রাজ্যের অর্থাৎ এক স্বর্গীয় সরকারের অধীনে লোকেরা “আর যুদ্ধ শিখিবে না।” এর পরিবর্তে, তারা “আপন আপন খড়্‌গ ভাঙ্গিয়া লাঙ্গলের ফাল গড়িবে।” (যিশাইয় ২:৪) ঈশ্বর সমস্ত অবিচার ও দুঃখকষ্টের শেষ নিয়ে আসবেন। বাইবেল প্রতিজ্ঞা করে: “[ঈশ্বর] তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্ত্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না; কারণ প্রথম বিষয় সকল [ও সেইসঙ্গে আজকের অবিচার এবং দুঃখকষ্ট] লুপ্ত হইল।”—প্রকাশিত বাক্য ২১:৩, ৪.

এ ছাড়া দেখুন, গীতসংহিতা ৩৭:১০, ১১; ৪৬:৯ মীখা ৪:১-৪.

আমরা মারা গেলে আমাদের কী হয়?

যেকারণে এই প্রশ্ন ওঠে: জগতের বেশির ভাগ ধর্ম শিক্ষা দেয় যে, মৃত্যুর পর একজন ব্যক্তির ভিতরের কিছু একটা বেঁচে থাকে। কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে, মৃতেরা জীবিতদের ক্ষতি করতে পারে অথবা ঈশ্বর দুষ্টদের এক অগ্নিময় নরকে অনন্তকালীন যাতনা দেওয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেন।

বাইবেল যা শিক্ষা দেয়: মৃত্যুতে মানুষ অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। “মৃতেরা কিছুই জানে না,” উপ­দেশক ৯:৫ পদ বলে। যেহেতু মৃতেরা কোনোকিছু সম্বন্ধে জানতে, অনুভব করতে অথবা অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে না, তাই তারা জীবিত ব্যক্তিদের ক্ষতি—অথবা সাহায্য—করতে পারে না।—গীতসংহিতা ১৪৬:৩, ৪.

এ ছাড়া দেখুন, আদিপুস্তক ৩:১৯ উপদেশক ৯:৬, ১০.

 মৃতদের জন্য কি কোনো আশা আছে?

যেকারণে এই প্রশ্ন ওঠে: আমরা বেঁচে থাকতে চাই আর সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে জীবন উপভোগ করতে চাই, যাদেরকে আমরা ভালবাসি। এটা খুবই স্বাভাবিক যে, আমরা আমাদের মৃত প্রিয়জনদের আবারও দেখার আকাঙ্ক্ষা করি।

বাইবেল যা শিক্ষা দেয়: যেসমস্ত লোক মারা গিয়েছে, তাদের অধিকাংশই পুনরুত্থিত হবে। যিশু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, “কবরস্থ সকলে . . . বাহির হইয়া আসিবে।” (যোহন ৫:২৮, ২৯) ঈশ্বরের আদি উদ্দেশ্য অনুযায়ী, যারা মানুষ হিসেবে পুনরুত্থিত হবে, তারা এক পরমদেশ পৃথিবীতে বাস করার সুযোগ পাবে। (লূক ২৩:৪৩) এই প্রতিজ্ঞাত ভবিষ্যতের অন্তর্ভুক্ত হল, বাধ্য মানবজাতির জন্য নিখুঁত স্বাস্থ্য ও অনন্তজীবন। বাইবেল বলে: “ধার্ম্মিকেরা দেশের” বা পৃথিবীর “অধিকারী হইবে, তাহারা নিয়ত তথায় বাস করিবে।”—গীতসংহিতা ৩৭:২৯.

এ ছাড়া দেখুন, ইয়োব ১৪:১৪, ১৫; লূক ৭:১১-১৭ প্রেরিত ২৪:১৫.

কীভাবে আমি প্রার্থনা করতে পারি ও ঈশ্বর আমার প্রার্থনা শুনতে পারেন?

যেকারণে এই প্রশ্ন ওঠে: প্রায় সব ধর্মের লোকই প্রার্থনা করে থাকে। কিন্তু, অনেকে মনে করে যে, তাদের প্রার্থনার উত্তর দেওয়া হয় না।

বাইবেল যা শিক্ষা দেয়: যিশু আমাদের প্রার্থনায় গৎবাঁধা শব্দের পুনরাবৃত্তি করা এড়িয়ে চলতে শিক্ষা দিয়েছিলেন। “প্রার্থনাকালে,” তিনি বলেছিলেন, “তোমরা অনর্থক পুনরুক্তি করিও না।” (মথি ৬:৭) আমরা যদি চাই যে, ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনা শুনুন, তাহলে আমাদের এমনভাবে প্রার্থনা করতে হবে, যেভাবে তিনি অনুমোদন করেন। তা করার জন্য আমাদের জানতে হবে যে, ঈশ্বরের ইচ্ছা কী এবং এরপর সেই অনুযায়ী প্রার্থনা করতে হবে। প্রথম যোহন ৫:১৪ পদ ব্যাখ্যা করে: “যদি [ঈশ্বরের] ইচ্ছানুসারে কিছু যাচ্ঞা করি, তবে তিনি আমাদের যাচ্ঞা শুনেন।”

এ ছাড়া দেখুন, গীতসংহিতা ৬৫:২; যোহন ১৪:৬, ১৪ ১ যোহন ৩:২২.

কীভাবে আমি জীবনে সুখ খুঁজে পেতে পারি?

যেকারণে এই প্রশ্ন ওঠে: অনেক লোক মনে করে যে, টাকাপয়সা, খ্যাতি অথবা সৌন্দর্য তাদেরকে সুখী করবে। তাই, তারা এই ধরনের বিষয়ের পিছনে ছুটে থাকে—আর দেখতে পায় যে, সুখ তাদের নাগালের বাইরে।

বাইবেল যা শিক্ষা দেয়: যিশু সুখের চাবিকাঠিকে শনাক্ত করেন, যখন তিনি বলেন: “ধন্য [“সুখী,” বাংলা জুবিলী বাইবেল] যাহারা আত্মাতে দীনহীন।” (মথি ৫:৩) প্রকৃত সুখ কেবলমাত্র তখনই পাওয়া যেতে পারে যদি আমরা আমাদের সবচেয়ে বড় চাহিদা—ঈশ্বর ও আমাদের জন্য তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আধ্যাত্মিক সত্যের জন্য আমাদের ক্ষুধা—মেটানোর জন্য ­পদক্ষেপগুলো নিই। সেই সত্য বাইবেলে পাওয়া যায়। সেই সত্য জানা আমাদের এটা নির্ণয় করতে সাহায্য করতে পারে যে, কী আসলেই গুরুত্বপূর্ণ এবং কী গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাইবেলের সত্যের দ্বারা আমাদের সিদ্ধান্ত ও কাজ­গুলোকে পরিচালিত হতে দেওয়া আরও অর্থপূর্ণ জীবনের দিকে পরিচালিত করে।—লূক ১১:২৮.

এ ছাড়া দেখুন, হিতোপদেশ ৩:৫, ৬, ১৩-১৮ ১ তীমথিয় ৬:৯, ১০.

 ওপরের ছয়টা প্রশ্ন সম্বন্ধে বাইবেলের উত্তরগুলো কেবল সংক্ষেপে বিবেচনা করা হল। আপনি কি এর চেয়ে আরও বেশি জানতে চান? আপনি যদি সেই ব্যক্তিদের মধ্যে থাকেন, যারা “আত্মাতে দীনহীন,” তাহলে কোনো সন্দেহ নেই যে, আপনি তা জানতে চান। আপনি হয়তো অন্যান্য প্রশ্ন নিয়েও চিন্তা করে থাকেন যেমন: ‘ঈশ্বর যদি আমাদের জন্য চিন্তাই করে থাকেন, তাহলে কেন তিনি ইতিহাস জুড়ে এত মন্দতা ও দুঃখকষ্ট থাকতে দিয়েছেন? কীভাবে আমি আমার পারিবারিক জীবনের মানকে উন্নত করতে পারি?’ এগুলো ও অন্যান্য আরও অনেক প্রশ্নের সম্পূর্ণ ও পরিতৃপ্তিদায়ক উত্তর বাইবেল দিয়ে থাকে।

কিন্তু, অনেকে বাইবেল পরীক্ষা করতে দ্বিধা করে। তারা এটিকে এমন একটি বড় বই হিসেবে দেখে থাকে, যেটি মাঝেমধ্যে বোঝা কঠিন। আপনি কি বাইবেল থেকে উত্তরগুলো খুঁজে পেতে সাহায্য চান? যিহোবার সাক্ষিরা দুটো হাতিয়ার দিতে পারে, যেগুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

প্রথমত, বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়? বইটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর বাইবেল থেকে পরীক্ষা করার জন্য ব্যস্ত লোকেদের সাহায্য করতে তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয় হাতিয়ারটা হল, বিনামূল্যে গৃহ বাইবেল অধ্যয়নের কার্যক্রম। কোনো টাকাপয়সা ছাড়াই বাইবেল শেখানোর ব্যাপারে যোগ্য এমন একজন বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী আপনার বাড়িতে অথবা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে আসতে পারেন এবং প্রতি সপ্তাহে আপনার সঙ্গে বাইবেল আলোচনার জন্য সামান্য সময় ব্যয় করতে পারেন। সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ লোক এই কার্যক্রম থেকে উপকৃত হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে এই রোমাঞ্চকর উপসংহারে পৌঁছেছে: “আমি সত্য খুঁজে পেয়েছি!”

এর চেয়ে মূল্যবান ধন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাইবেলের সত্য আমাদের কুসংস্কার, বিভ্রান্তি ও আতঙ্কজনক ভয় থেকে স্বাধীন করে। এটি আমাদের আশা, উদ্দেশ্য ও আনন্দ প্রদান করে। যিশু বলেছিলেন: “তোমরা সেই সত্য জানিবে, এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে।”—যোহন ৮:৩২.

আরও জানুন

বিনা মূল্যে বাইবেল অধ্যয়নের জন্য অনুরোধ করুন

কেন বাইবেল অধ্যয়ন করবেন?

বাইবেল পৃথিবীব্যাপী লক্ষ লক্ষ লোককে জীবনের বড়ো বড়ো প্রশ্নগুলোর উত্তর জানাচ্ছে। আপনি কি তাদের মধ্যে একজন হতে চান?