সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়?

 অধ্যায় দুই

বাইবেল—ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি বই

বাইবেল—ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি বই
  • কোন কোন দিক দিয়ে বাইবেল অন্য যেকোনো বইয়ের চেয়ে আলাদা?

  • কীভাবে বাইবেল ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোর সঙ্গে সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য আপনাকে সাহায্য করতে পারে?

  • কেন আপনি বাইবেলে লিপিবদ্ধ ভবিষ্যদ্‌বাণীগুলোর উপর নির্ভর করতে পারেন?

১, ২. কোন কোন দিক দিয়ে বাইবেল ঈশ্বরের কাছ থেকে এক রোমাঞ্চকর উপহার?

আপনি কি এমন এক সময়ের কথা মনে করতে পারেন, যখন আপনার প্রিয় কোনো বন্ধুর কাছ থেকে আপনি সুন্দর একটা উপহার পেয়েছিলেন? সম্ভবত সেই অভিজ্ঞতা শুধু রোমাঞ্চকরই নয় কিন্তু সেইসঙ্গে হৃদয়গ্রাহীও ছিল। বস্তুতপক্ষে, একটা উপহার আপনাকে সেই দাতার সম্বন্ধে কিছু বলে থাকে—এটা জানায় যে, তিনি আপনার বন্ধুত্বকে মূল্যবান বলে মনে করেন। কোনো সন্দেহ নেই যে, আপনার বন্ধুর দেওয়া সেই সুচিন্তিত উপহারের জন্য আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।

বাইবেল হচ্ছে ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা একটি উপহার, যেটির জন্য আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ হতে পারি। এই অদ্বিতীয় বইটি এমন কিছু বিষয় প্রকাশ করে, যা আমরা অন্য আর কোনোভাবে পেতাম না। উদাহরণ স্বরূপ, এটি আমাদের তারকাখচিত আকাশমণ্ডল, পৃথিবী এবং প্রথম মানব ও মানবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে বলে। জীবনের নানা সমস্যা এবং উদ্‌বেগগুলোর সঙ্গে সফলভাবে মোকাবিলা করতে আমাদের সাহায্য করার জন্য বাইবেলে নির্ভরযোগ্য নীতিগুলো রয়েছে। এটি ব্যাখ্যা করে যে, কীভাবে ঈশ্বর তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন এবং পৃথিবীতে আরও ভালো অবস্থা নিয়ে আসবেন। বাইবেল কতই-না রোমাঞ্চকর এক উপহার!

৩. যিহোবা আমাদের জন্য যে বাইবেল জুগিয়েছেন, সেটি তাঁর সম্বন্ধে আমাদের কী জানায় এবং কেন তা হৃদয়গ্রাহী?

 এ ছাড়া, বাইবেল এক হৃদয়গ্রাহী উপহার কারণ এটি এর দাতা যিহোবা ঈশ্বর সম্বন্ধেও কিছু প্রকাশ করে থাকে। তিনি যে এই ধরনের একটি বই জুগিয়েছেন, সেটাই হল একটা প্রমাণ যে তিনি চান যেন আমরা তাঁর সম্বন্ধে ভালোভাবে জানি। বস্তুতপক্ষে, বাইবেল আপনাকে যিহোবার নিকটবর্তী হতে সাহায্য করতে পারে।

৪. বাইবেল বিতরণের বিষয়টা আপনার উপর কোন ছাপ ফেলে?

আপনার কাছে যদি একটি বাইবেল থেকে থাকে, তা হলে সেটি শুধুমাত্র একা আপনার কাছেই নেই। বাইবেল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ২,৬০০-রও বেশি ভাষায় ছাপানো হয়েছে আর তাই, বিশ্বের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও বেশি লোক এটি পেতে পারে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে, দশ লক্ষেরও বেশি বাইবেল বিতরণ করা হয়ে থাকে! পুরো বা আংশিক বাইবেলের কোটি কোটি প্রতিলিপি উৎপাদিত হয়েছে। নিশ্চিতভাবেই, বাইবেলের মতো অন্য আর কোনো বই নেই।

“পবিত্র শাস্ত্রের নতুন জগৎ অনুবাদ” (ইংরেজি) অনেক ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে

৫. কীভাবে বাইবেল “ঈশ্বর-নিশ্বসিত”?

অধিকন্তু, বাইবেল হচ্ছে “ঈশ্বর-নিশ্বসিত।” (পড়ুন, ২ তীমথিয় ৩:১৬.) কীভাবে? স্বয়ং বাইবেলই উত্তর দেয়: “মনুষ্যেরা পবিত্র আত্মা দ্বারা চালিত  হইয়া ঈশ্বর হইতে যাহা পাইয়াছেন, তাহাই বলিয়াছেন।” (২ পিতর ১:২১) উদাহরণ স্বরূপ: একজন ব্যাবসায়ী হয়তো একজন সচিবকে দিয়ে একটা চিঠি লেখাতে পারেন। সেই চিঠিতে ব্যাবসায়ীর চিন্তা ও নির্দেশনাগুলো রয়েছে। অতএব, চিঠিটা আসলে তারই, সেই সচিবের নয়। অনুরূপভাবে, বাইবেলে ঈশ্বরের বার্তা রয়েছে, সেই ব্যক্তিদের বার্তা নয় যারা সেগুলো লিখেছিল। তাই, পুরো বাইবেল সত্যিই “ঈশ্বরের বাক্য।”—১ থিষলনীকীয় ২:১৩.

সংগতিপূর্ণ ও সঠিক

৬, ৭. বাইবেলের বিভিন্ন বিষয়বস্তুর মধ্যে সংগতি কেন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?

বাইবেল ১,৬০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লেখা হয়েছিল। এর লেখকরা বিভিন্ন সময়ে বেঁচে ছিলেন এবং বিভিন্ন পটভূমি থেকে এসেছিলেন। কেউ ছিলেন কৃষক, কেউ ছিলেন জেলে এবং কেউ ছিলেন মেষপালক। অন্যেরা ছিলেন ভাববাদী, বিচারক এবং রাজা। সুসমাচার লেখক লূক ছিলেন একজন চিকিৎসক। এর লেখকরা বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা সত্ত্বেও, বাইবেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংগতিপূর্ণ। *

বাইবেলের প্রথম পুস্তক আমাদের বলে যে, মানবজাতির সমস্যাগুলো কীভাবে শুরু হয়েছিল। শেষ পুস্তক দেখায় যে, পুরো পৃথিবী এক পরমদেশে বা উদ্যানে পরিণত হবে। বাইবেলের সমগ্র বিষয়বস্তু হাজার হাজার বছরের ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সেগুলো কোনো-না-কোনোভাবে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। বাইবেলের এই সংগতি ছাপ ফেলার মতো আর ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি বই সম্বন্ধে আমরা এটাই আশা করব।

৮. বাইবেল যে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সঠিক সেটার পক্ষে কিছু উদাহরণ দিন।

বাইবেল বিজ্ঞানসম্মতভাবে সঠিক। এতে এমনকী সেই তথ্যও রয়েছে, যা এর সময়ের তুলনায় অগ্রিম জ্ঞান ছিল। উদাহরণ স্বরূপ, লেবীয় পুস্তকে প্রাচীন ইস্রায়েলের জন্য রোগসংক্রমণ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পৃথক থাকার ও স্বাস্থ্যবিধান সংক্রান্ত নিয়মগুলো ছিল অথচ আশেপাশের জাতিগুলো এইরকম বিষয় সম্বন্ধে কিছুই জানত না। একসময় পৃথিবীর আকার নিয়ে বিভিন্ন ভুল ধারণা  বিদ্যমান ছিল, অথচ বাইবেল এটাকে চক্র বা গোলক বলে উল্লেখ করেছিল। (যিশাইয় ৪০:২২) বাইবেল সঠিকভাবেই বলেছিল যে, পৃথিবী “অবস্তুর উপরে” ঝুলে আছে। (ইয়োব ২৬:৭) অবশ্য, বাইবেল বিজ্ঞানের কোনো পাঠ্যপুস্তক নয়। কিন্তু, যখন এটি বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে, তখন তা সঠিক। ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা একটি বই সম্বন্ধে কি আমরা এটাই আশা করব না?

৯. (ক) কোন কোন দিক দিয়ে স্বয়ং বাইবেল দেখায় যে, এটি ঐতিহাসিকভাবে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য? (খ) বাইবেলের লেখকদের সততা আপনাকে এটি সম্বন্ধে কী জানায়?

এ ছাড়া, বাইবেল ঐতিহাসিক দিক দিয়েও সঠিক ও নির্ভরযোগ্য। এর বিবরণগুলো একেবারে নির্দিষ্ট। সেগুলো শুধুমাত্র ব্যক্তিদের নামগুলোকেই নয়, কিন্তু সেইসঙ্গে তাদের পূর্বপুরুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। * জাগতিক ইতিহাসবেত্তারা, যারা সাধারণত তাদের নিজের জাতির পরাজয়গুলোর কথা উল্লেখ করে না, তাদের বৈসাদৃশ্যে বাইবেলের লেখকরা ছিলেন সৎ, তারা এমনকী তাদের নিজেদের ও তাদের জাতির ব্যর্থতাগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে, বাইবেলের গণনাপুস্তকের লেখক মোশি তার নিজের সেই গুরুতর ভুলের কথা স্বীকার করেন, যেটার জন্য তাকে চরমভাবে তিরস্কার করা হয়েছিল। (গণনাপুস্তক ২০:২-১২) এই ধরনের সততা অন্যান্য ঐতিহাসিক বিবরণে খুবই বিরল, কিন্তু বাইবেলে তা পাওয়া যায় কারণ এটি ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি বই।

ব্যাবহারিক প্রজ্ঞার একটি বই

১০. কেন এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই যে, বাইবেল হল একটি ব্যাবহারিক বই?

১০ বাইবেল যেহেতু ঈশ্বর-নিশ্বসিত বা অনুপ্রাণিত, তাই এটি “শিক্ষার, অনুযোগের, সংশোধনের . . . নিমিত্ত উপকারী।” (২ তীমথিয় ৩:১৬) হ্যাঁ, বাইবেল হল একটি ব্যাবহারিক বই। এটি মানবস্বভাবের এক গভীর বোধগম্যতাকে প্রতিফলিত করে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই কারণ এর গ্রন্থকার হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা যিহোবা ঈশ্বর! তিনি আমাদের চিন্তাভাবনা ও আবেগ, আমাদের চেয়েও আরও ভালো বোঝেন। এ ছাড়া, যিহোবা জানেন যে, সুখী হওয়ার জন্য আমাদের কী দরকার। সেইসঙ্গে তিনি এও জানেন যে, কোন পথগুলো আমাদের পরিহার করা উচিত।

১১, ১২. (ক) পর্বতেদত্ত উপদেশে যিশু কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন? (খ) বাইবেলে অন্য কোন ব্যাবহারিক বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে এবং কেন এর পরামর্শ সবসময় প্রযোজ্য?

 ১১ মথি ৫ থেকে ৭ অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ পর্বতেদত্ত উপদেশ হিসেবে খ্যাত যিশুর বক্তৃতা বিবেচনা করুন। শিক্ষাদানের এই শ্রেষ্ঠকর্মে যিশু বিভিন্ন বিষয়ের উপর কথা বলেছিলেন, যেগুলোর অন্তর্ভুক্ত প্রকৃত সুখ খুঁজে পাওয়ার উপায়, কীভাবে বিরোধ মেটাতে হয়, কীভাবে প্রার্থনা করতে হয় এবং বস্তুগত বিষয়গুলোর প্রতি  কীভাবে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা যায়। যিশুর কথাগুলো বর্তমানে ঠিক ততটাই জোরালো ও ব্যাবহারিক, যতটা তখন ছিল যখন তিনি সেগুলো বলেছিলেন।

১২ বাইবেলের কিছু নীতি পারিবারিক জীবন, কাজ করার অভ্যাস এবং অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করে। বাইবেলের নীতিগুলো সমস্ত লোকের প্রতি প্রযোজ্য এবং এর পরামর্শ সবসময়ই উপকারজনক। বাইবেলে প্রাপ্ত প্রজ্ঞা ভাববাদী যিশাইয়ের মাধ্যমে ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা সংক্ষেপে এভাবে বর্ণিত হয়েছে: “আমি সদাপ্রভু তোমার ঈশ্বর, আমি তোমার উপকারজনক শিক্ষা দান করি।”—যিশাইয় ৪৮:১৭.

ভবিষ্যদ্‌বাণীর একটি বই

বাইবেল লেখক যিশাইয় বাবিলের পতন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন

১৩. যিহোবা বাবিল সম্বন্ধে কোন বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করার জন্য ভাববাদী যিশাইয়কে অনুপ্রাণিত করেছিলেন?

১৩ বাইবেলে অসংখ্য ভবিষ্যদ্‌বাণী রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো ইতিমধ্যেই পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। একটা উদাহরণ বিবেচনা করুন। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে বসবাসরত ভাববাদী যিশাইয়ের মাধ্যমে যিহোবা ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন যে, বাবিল নগর ধ্বংস হবে। (যিশাইয় ১৩:১৯; ১৪:২২, ২৩) ঠিক কীভাবে নগরটা জয় করা হবে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। আক্রমণকারী সৈন্যবাহিনী বাবিলের নদীকে শুকিয়ে ফেলবে এবং কোনোরকম যুদ্ধ ছাড়াই নগরে প্রবেশ করবে। এখানেই শেষ নয়। যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্‌বাণী এমনকী সেই রাজার নামও উল্লেখ করেছিল, যিনি বাবিলকে জয় করবেন আর তিনি হচ্ছেন কোরস।—পড়ুন, যিশাইয় ৪৪:২৭–৪৫:২.

১৪, ১৫. বাবিল সম্বন্ধে যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্‌বাণীর কিছু বিস্তারিত বর্ণনা কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল?

১৪ প্রায় ২০০ বছর পর—খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ সালের ৫/৬ অক্টোবর রাতে—এক সৈন্যবাহিনী বাবিলের কাছাকাছি শিবিরস্থাপন করেছিল। এর সেনাপতি কে ছিলেন? পারস্য-রাজ কোরস। এভাবে এক বিস্ময়কর ভবিষ্যদ্‌বাণী পরিপূর্ণ হওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, ভবিষ্যদ্‌বাণী অনুযায়ী কোরসের সৈন্যবাহিনী কি কোনোরকম যুদ্ধ ছাড়াই বাবিল আক্রমণ করেছিল?

১৫ বাবিলীয়রা সেই রাতে একটা উৎসব করছিল আর তাদের নগরের প্রকাণ্ড প্রাচীরের ভিতরে নিরাপদ বোধ করেছিল। এই সময়ের মধ্যে, কোরস দক্ষতার  সঙ্গে নগরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীর জলকে ভিন্নমুখী করেছিলেন। শীঘ্রই সেই জল এতটা কমে এসেছিল যে, তার লোকেরা নদীগর্ভের মধ্যে দিয়ে পার হতে পেরেছিল এবং নগরের প্রাচীরের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছিল। কিন্তু, কোরসের সৈন্যবাহিনী কীভাবে বাবিলের প্রাচীরকে অতিক্রম করবে? যেকোনো কারণেই হোক, সেই রাতে নগরদ্বারগুলো অসতর্কতাবশত খোলা ছিল!

১৬. (ক) বাবিলের চূড়ান্ত পরিণতি সম্বন্ধে যিশাইয় কী ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন? (খ) বাবিল জনশূন্য হওয়ার বিষয়ে যিশাইয়ের ভবিষ্যদ্‌বাণী কীভাবে পরিপূর্ণ হয়েছিল?

১৬ বাবিল সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করা হয়েছিল: “তাহার মধ্যে আর কখনও বসতি হইবে না, পুরুষপুরুষানুক্রমে তথায় কেহ বাস করিবে না, আরবীও সে স্থানে তাম্বু ফেলিবে না, মেষপালকেরাও সেখানে আপন আপন পাল শয়ন করাইবে না।” (যিশাইয় ১৩:২০) এই ভবিষ্যদ্‌বাণী শুধুমাত্র একটা নগরের পতন সম্বন্ধেই বলেনি। এটা দেখিয়েছিল যে, বাবিল স্থায়ীভাবে জনশূন্য হয়ে পড়বে। আপনি এই কথাগুলোর পরিপূর্ণতার প্রমাণ দেখতে পারেন। প্রাচীন বাবিলের—ইরাকের বাগদাদ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে—বসতিহীন জায়গা হল প্রমাণ যে, যিশাইয়ের মাধ্যমে যিহোবা যা বলেছিলেন তা পূর্ণ হয়েছিল: “আমি . . . সংহাররূপ মার্জ্জনী দ্বারা মার্জ্জন করিব।”—যিশাইয় ১৪:২২, ২৩. *

বাবিলের ধ্বংসাবশেষ

১৭. বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণীর পরিপূর্ণতা কীভাবে বিশ্বাসকে দৃঢ় করে?

 ১৭ বাইবেল কীভাবে নির্ভরযোগ্য ভবিষ্যদ্‌বাণীর একটি বই তা বিবেচনা করা বিশ্বাসকে দৃঢ় করে, তাই নয় কি? সত্যিই, যিহোবা যদি তাঁর অতীতের প্রতিজ্ঞাগুলো পূর্ণ করে থাকেন, তা হলে আমাদের নিশ্চিত হওয়ার উপযুক্ত কারণ রয়েছে যে, পরমদেশ পৃথিবীর বিষয়ে তাঁর প্রতিজ্ঞাও তিনি পূর্ণ করবেন। (পড়ুন, গণনাপুস্তক ২৩:১৯.) বাস্তবিকই, আমাদের ‘সেই অনন্ত জীবনের আশা রহিয়াছে, যাহা মিথ্যাকথনে অসমর্থ ঈশ্বর অতি পূর্ব্ব কালে প্রতিজ্ঞা করিয়াছিলেন।’—তীত ১:২. *

“ঈশ্বরের বাক্য জীবন্ত”

১৮. “ঈশ্বরের বাক্য” সম্বন্ধে খ্রিস্টান প্রেরিত পৌল কোন জোরালো বিবৃতি দিয়েছিলেন?

১৮ এই অধ্যায়ে আমরা যা আলোচনা করেছি, সেগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, বাইবেল সত্যিই এক অদ্বিতীয় বই। তা সত্ত্বেও, বাইবেলের মূল্য এর অভ্যন্তরীণ  সংগতি, বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক যথার্থতা, ব্যাবহারিক প্রজ্ঞা এবং নির্ভরযোগ্য ভবিষ্যদ্‌বাণীকেও ছাড়িয়ে যায়। খ্রিস্টান প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “ঈশ্বরের বাক্য জীবন্ত ও কার্য্যসাধক, এবং সমস্ত দ্বিধার খড়্গ অপেক্ষা তীক্ষ্ন, এবং প্রাণ ও আত্মা, গ্রন্থি ও মজ্জা, এই সকলের বিভেদ পর্য্যন্ত মর্ম্মবেধী, এবং হৃদয়ের চিন্তা ও বিবেচনার সূক্ষ্ম বিচারক।”—ইব্রীয় ৪:১২.

১৯, ২০. (ক) নিজেকে পরীক্ষা করে দেখতে বাইবেল কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারে? (খ) কীভাবে আপনি ঈশ্বরের অদ্বিতীয় উপহার বাইবেলের প্রতি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন?

১৯ বাইবেলে ঈশ্বরের “বাক্য” বা বার্তা পড়া আমাদের জীবনকে বদলে দিতে পারে। এটি আমাদের নিজেদেরকে আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখতে সাহায্য করতে পারে। আমরা হয়তো ঈশ্বরকে ভালোবাসি বলে দাবি করতে পারি, কিন্তু তাঁর অনুপ্রাণিত বাক্য বাইবেল যা শিক্ষা দেয়, তা আমাদের মনের প্রকৃত ধারণাকে এমনকী হৃদয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করে দিতে পারে।

২০ বাইবেল সত্যিই ঈশ্বরের কাছ থেকে একটি বই। এটি এমন এক বই, যেটিকে পড়তে হবে, অধ্যয়ন করতে হবে এবং ভালোবাসতে হবে। বাইবেলের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করে চলার দ্বারা এই ঐশিক উপহারের প্রতি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। আপনি যখন তা করবেন, তখন আপনি মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে এক গভীর বোধগম্যতা অর্জন করবেন। সেই উদ্দেশ্য কী আর তা কীভাবেই বা বাস্তবায়িত হবে, তা পরের অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে।

^ অনু. 6 যদিও কিছু লোক বলে থাকে যে, বাইবেলের নির্দিষ্ট কিছু অংশ অন্য অংশের সঙ্গে পরস্পরবিরোধী, কিন্তু এই ধরনের দাবির কোনো ভিত্তি নেই। যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত বাইবেল—ঈশ্বরের বাক্য অথবা মানুষের? (ইংরেজি) বইটার ৭ অধ্যায় দেখুন।

^ অনু. 9 উদাহরণ স্বরূপ, লূক ৩:২৩-৩৮ পদে যিশুর বিস্তারিত পুরুষানুক্রমিক ধারা লক্ষ করুন।

^ অনু. 16 বাইবেলের ভবিষ্যদ্‌বাণী সম্বন্ধে আরও তথ্যের জন্য যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত সমস্ত লোকের জন্য একটি পুস্তক (ইংরেজি) ব্রোশারের ২৭-২৯ পৃষ্ঠা দেখুন।

^ অনু. 17 বাবিলের ধ্বংস হচ্ছে বাইবেলের পরিপূর্ণ ভবিষ্যদ্‌বাণীগুলোর মধ্যে কেবল একটা উদাহরণ। অন্য উদাহরণগুলো সোর ও নীনবী শহরের ধ্বংসকে অন্তর্ভুক্ত করে। (যিহিষ্কেল ২৬:১-৫; সফনিয় ২:১৩-১৫) এ ছাড়া, দানিয়েলের ভবিষ্যদ্‌বাণী বাবিলের পর যে-বিশ্ব সাম্রাজ্যগুলো পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় আসবে সেই বিষয়ে আগে থেকে জানিয়েছিল। এগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল মাদীয় ও পারসীক এবং যবন বা গ্রিস। (দানিয়েল ৮:৫-৭, ২০-২২) মশীহ সম্বন্ধে অনেক ভবিষ্যদ্‌বাণী যেগুলো যিশু খ্রিস্টে পরিপূর্ণ হয়েছিল, সেই বিষয়ে আলোচনার জন্য পরিশিষ্টে দেওয়া “যিশু খ্রিস্ট—প্রতিজ্ঞাত মশীহ” শিরোনামের প্রবন্ধ দেখুন।

আরও জানুন

বিনা মূল্যে বাইবেল অধ্যয়নের জন্য অনুরোধ করুন

কেন বাইবেল অধ্যয়ন করবেন?

বাইবেল পৃথিবীব্যাপী লক্ষ লক্ষ লোককে জীবনের বড়ো বড়ো প্রশ্নগুলোর উত্তর জানাচ্ছে। আপনি কি তাদের মধ্যে একজন হতে চান?