সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

তাদের বিশ্বাস অনুকরণ করুন

 অধ্যায় পনেরো

তিনি ঈশ্বরের লোকেদের পক্ষসমর্থন করেছিলেন

তিনি ঈশ্বরের লোকেদের পক্ষসমর্থন করেছিলেন

১-৩. (ক) তার স্বামীর কাছে যেতে হবে জেনে কেন ইষ্টের হয়তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন? (খ) ইষ্টের সম্বন্ধে আমরা কোন প্রশ্নগুলো আলোচনা করব?

ইষ্টের শূশনের রাজপ্রাসাদের প্রাঙ্গণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন। এটা সহজ ছিল না। রাজপ্রাসাদের সব কিছুই—এর পাথরের ওপর খোদাই করা রংবেরঙের ডানাওয়ালা ষাঁড় ও তিরন্দাজের ভাস্কর্য এবং চকচকে ইটের তৈরি সিংহ, এর খোদাই করা স্তম্ভ ও কারুকার্যবিশিষ্ট মূর্তি, এমনকী তুষারাবৃত জাগ্রস পর্বতমালার কাছাকাছি অবস্থিত এক বিশাল সমভূমিতে এর অবস্থান এবং সেখান থেকে কোয়াসপিজ নদীর স্বচ্ছ জল দেখতে পাওয়া—বিস্ময় জাগিয়ে তোলার মতো ছিল। এই সমস্তকিছুই প্রত্যেক পরিদর্শনকারীকে সেই রাজার বিশাল ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দিত, যার সঙ্গে ইষ্টের দেখা করতে যাচ্ছেন এবং যিনি নিজেকে “রাজাধিরাজ” বলতেন। তিনি আবার ইষ্টেরের স্বামীও ছিলেন।

স্বামী! কোনো বিশ্বস্ত যিহুদি মেয়ে যে-ধরনের স্বামী আশা করেন, তার চেয়ে অহশ্বেরশ কতই-না আলাদা ছিলেন! * তিনি অব্রাহামের মতো বিশ্বস্ত ব্যক্তির উদাহরণ অনুকরণ করেননি, যিনি ঈশ্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী নম্রভাবে তার স্ত্রী সারার কথা শুনেছিলেন। (আদি. ২১:১২) রাজা ইষ্টেরের ঈশ্বর যিহোবার বা তাঁর নিয়ম সম্বন্ধে খুবই কম জানতেন অথবা কিছুই জানতেন না। কিন্তু অহশ্বেরশ পারস্যের আইন জানতেন, যেটার মধ্যে ইষ্টের এখন যে-কাজটা করতে যাচ্ছেন, তা করা নিষিদ্ধ ছিল। সেটা কী ছিল? সেই আইন অনুযায়ী, কেউ যদি বিনা আমন্ত্রণে পারস্যরাজের সামনে উপস্থিত হতো, তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। ইষ্টেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি কিন্তু যেভাবেই হোক তাকে রাজার সামনে উপস্থিত হতেই হবে। তিনি যতই ভিতরের প্রাঙ্গনের দিকে এগোতে থাকেন, সেখান থেকে রাজা তাকে দেখতে পাবেন, ততই তার মনে হতে থাকে যে, তিনি যেন মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছেন।পড়ুন,  ইষ্টের ৪:১১; ৫:১.

কেন তিনি এইরকম ঝুঁকি নিয়েছিলেন? আর এই অসাধারণ নারীর বিশ্বাস থেকে আমরা কী শিখতে পারি? প্রথমে, আসুন আমার দেখি যে, কীভাবে ইষ্টের পারস্যের রানি হওয়ার অসাধারণ সুযোগ লাভ করেছিলেন।

 ইষ্টেরের পটভূমি

৪. ইষ্টেরের পটভূমি কী ছিল আর কীভাবে তিনি তার কাকাতো দাদার সঙ্গে বাস করতে শুরু করেছিলেন?

ইষ্টেরের বাবা-মা ছিল না। আমরা তার বাবা-মা সম্বন্ধে খুব কমই জানি, যারা তার নাম রেখেছিল হদসা, যেটা হল এক সুন্দর গুল্ম-জাতীয় সাদা ফুল, গুলমেঁদির ইব্রীয় নাম। যখন ইষ্টেরের বাবা-মা মারা যান, তখন মর্দখয় নামে একজন দয়ালু ব্যক্তি তার দেখাশোনা করেন, যিনি তার একজন আত্মীয় ছিলেন। তিনি ছিলেন ইষ্টেরের কাকাতো দাদা, তবে বয়সে তার চেয়ে অনেক বড়ো। তিনি তাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন আর তাকে নিজের মেয়ের মতো বড়ো করে তোলেন।—ইষ্টের ২:৫-৭, ১৫.

মর্দখয়ের তার পালিত মেয়ের জন্য গর্ববোধ করার উপযুক্ত কারণ ছিল

৫, ৬. (ক) মর্দখয় কীভাবে ইষ্টেরকে বড়ো করে তুলেছিলেন? (খ) শূশনে ইষ্টের ও মর্দখয়ের জীবনযাত্রা কেমন ছিল?

মর্দখয় ও ইষ্টের পারস্যের রাজধানীতে নির্বাসিত যিহুদি হিসেবে বাস করতেন। তাদের ধর্ম ও তারা যে-ব্যবস্থা পালন করতেন, সেটার কারণে তাদেরকে হয়তো কিছুটা তাচ্ছিল্য করা হতো। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই, ইষ্টের ও তার দাদার মধ্যে সম্পর্ক সেইসময় আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছিল, যখন মর্দখয় তাকে করুণাময় ঈশ্বর যিহোবা সম্বন্ধে শেখাতেন, যিনি অতীতে অনেক বার তাঁর লোকেদের সমস্যা থেকে উদ্ধার করেছিলেন ও ভবিষ্যতে আবারও করবেন। (লেবীয়. ২৬:৪৪, ৪৫) কোনো সন্দেহ নেই যে, ইষ্টের ও মর্দখয়ের মধ্যে এক প্রেমময় ও অনুগত বন্ধন গড়ে উঠেছিল।

স্পষ্টতই, মর্দখয় শূশন প্রাসাদে একজন রাজকর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন আর প্রত্যেক দিন রাজার অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে রাজদ্বারে বসতেন। (ইষ্টের ২:১৯, ২১; ৩:৩) অল্পবয়সি ইষ্টের বড়ো হয়ে ওঠার সময় কীভাবে সময় কাটাতেন, তা আমরা শুধুমাত্র অনুমান করতে পারি। তবে এমনটা হতে পারে যে, তিনি খুব ভালোভাবে তার দাদা ও ঘরের দেখাশোনা করতেন, যা সম্ভবত নদীর যে-তীরে রাজপ্রাসাদ ছিল তার অপর তীরে অবস্থিত নগরের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকায় ছিল। তিনি হয়তো শূশনের বাজারে যেতে ভালোবাসতেন, যেখানে সোনা-রূপার কারিগর ও অন্য ব্যাবসায়ীরা তাদের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে আসত। ইষ্টের হয়তো চিন্তাও করেননি যে, এইসমস্ত বিলাসদ্রব্যগুলো পরবর্তী সময়ে তার কাছে সাধারণ বিষয় হয়ে উঠবে; তার কোনো ধারণাই ছিল না যে, ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে।

তিনি “রূপবতী ছিলেন”

৭. কেন বষ্টীকে রানির পদ থেকে পদচ্যুত করা হয় আর এর ফলাফল কী হয়েছিল?

একদিন, শূশনে একটা খবর নিয়ে লোকেদের মধ্যে  কানাঘুষো হচ্ছিল যে, রাজার পরিবারে কিছু একটা নিয়ে গণ্ডগোলের সৃষ্টি হয়েছে। এক মহাভোজে যখন রাজা অহশ্বেরশ ভালো ভালো খাবার ও দ্রাক্ষারস দিয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আপ্যায়ন করছিলেন, তখন রাজা তার সুন্দরী রানি বষ্টীকে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন, যিনি মহিলাদের সঙ্গে আলাদা ভোজে বসেছিলেন। কিন্তু বষ্টী আসতে রাজি হননি। রেগে গিয়ে ও অপমানিত হয়ে রাজা তার পরামর্শদাতাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, কীভাবে বষ্টীকে শাস্তি দেওয়া উচিত। এর ফল কী হয়েছিল? তাকে রানির পদ থেকে পদচ্যুত করা হয়। রাজার দাসেরা দেশের সব জায়গায় সুন্দরী, যুবতী কুমারীদের খোঁজ করতে শুরু করে, যাদের মধ্যে থেকে রাজা তার নতুন রানি নির্বাচন করবেন।—ইষ্টের ১:১–২:৪.

৮. (ক) ইষ্টের বড়ো হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কেন মর্দখয় হয়তো কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন? (খ) শারীরিক সৌন্দর্যের বিষয় বাইবেলের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে আমরা যেভাবে প্রয়োগ করতে পারি, সেই সম্বন্ধে আপনি কী মনে করেন? (এ ছাড়া, হিতোপদেশ ৩১:৩০ পদ দেখুন।)

আমরা হয়তো কল্পনা করতে পারি, মর্দখয় যখন মাঝে মাঝে স্নেহভরে ইষ্টেরের দিকে তাকিয়ে থাকতেন আর লক্ষ করতেন যে, তার ছোট্ট বোনটি কত বড়ো হয়ে গিয়েছে ও অপূর্ব সুন্দরী হয়ে উঠছে, তখন তার বুক গর্বে ভরে যেত আবার সেইসঙ্গে কিছুটা উদ্‌বিগ্নও হয়ে উঠত। আমরা পড়ি, “সেই কন্যা সুন্দরী ও রূপবতী ছিলেন।” (ইষ্টের ২:৭) শারীরিক সৌন্দর্য সম্বন্ধে বাইবেল এক ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে আর তা হল, এটা মনোরম তবে এর সঙ্গে অবশ্যই প্রজ্ঞা ও নম্রতা থাকতে হবে। তা না হলে, হৃদয়ের মধ্যে দম্ভ, অহংকার এমনকী অন্যান্য খারাপ গুণ বাসা বাঁধতে পারে। (পড়ুন, হিতোপদেশ ১১:২২.) আপনি কি কখনো তা ঘটতে দেখেছেন? ইষ্টেরের সৌন্দর্য কি তাকে সাহায্য করবে, না কি তাকে গর্বিত করে তুলবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।

৯. (ক) রাজার দাসেরা যখন ইষ্টেরকে লক্ষ করেছিল, তখন কী হয়েছিল আর মর্দখয়কে ছেড়ে যাওয়া কেন তার জন্য বেদনাদায়ক ছিল? (খ) কেন মর্দখয় একজন পৌত্তলিক অবিশ্বাসীকে বিবাহ করার জন্য ইষ্টেরকে অনুমতি দিয়েছিলেন? (বাক্সটা অন্তর্ভুক্ত করুন।)

রাজার দাসেরা ইষ্টেরকে লক্ষ করেছিল। মেয়েদের অন্বেষণ করার সময় তারা তাকে মর্দখয়ের কাছ থেকে নদীর অপর তীরে বিশাল রাজপ্রাসাদে নিয়ে আসে। (ইষ্টের ২:৮) যেহেতু তাদের সম্পর্ক ছিল বাবা ও মেয়ের মতো, তাই তার এই বিদায় অনেক বেদনাদায়ক ছিল। মর্দখয় নিশ্চয়ই কোনো অবিশ্বাসীর সঙ্গে তার পালিত মেয়ের বিবাহ দিতে চাননি, তা তিনি রাজাই হোন না কেন। কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টা তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। * আমরা কল্পনা করতে পারি যে, তাকে নিয়ে যাওয়ার আগে মর্দখয় তাকে যে-পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা তিনি মন দিয়ে শুনেছিলেন। তাকে যখন শূশনের রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তার মনে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। এরপর তার জীবন কেমন হবে?

‘যে কেহ তার প্রতি দৃষ্টি করিত’ সে তাকে অনুগ্রহ করত

১০, ১১. (ক) নতুন পরিবেশ ইষ্টেরকে হয়তো কীভাবে প্রভাবিত করতে পারত? (খ) মর্দখয় কীভাবে দেখিয়েছিলেন যে, তিনি ইষ্টেরের জন্য চিন্তা করতেন?

১০ ইষ্টের এমন এক জগতে নিজেকে খুঁজে পেয়েছিলেন, যা তার কাছে একেবারে  নতুন এবং অজানা। তিনিও সেই ‘অনেক কন্যার’ মধ্যে ছিলেন, যাদেরকে পারস্য সাম্রাজ্যের দূরদূরান্ত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাদের প্রথা, ভাষা ও মনোভাব একে অপরের চেয়ে অনেক আলাদা ছিল। হেগয় নামে একজন রাজকর্মচারীর অধীনে সেই যুবতী নারীদেরকে দীর্ঘ এক বছর ধরে বিভিন্ন রূপচর্চা করানো হয়েছিল, যেটার মধ্যে ছিল সুগন্ধি তেল দিয়ে তাদের অঙ্গসংস্কার বা মালিশ করা। (ইষ্টের ২:৮, ১২) এইরকম পরিবেশ এবং জীবনধারা হয়তো খুব সহজেই সেই যুবতী নারীদের মধ্যে তাদের রূপলাবণ্য ও সাজগোজ আর সেইসঙ্গে অহংকার ও প্রতিযোগিতার মনোভাবের প্রতি মোহ জাগিয়ে তুলেছিল। এগুলো ইষ্টেরের ওপর কেমন প্রভাব ফেলেছিল?

১১ মর্দখয় ইষ্টেরের জন্য খুবই চিন্তিত ছিলেন। আমরা পড়ি, তিনি প্রতিদিন অন্তঃপুরের কাছাকাছি আসতেন এবং ইষ্টের কেমন আছেন, তা জানার চেষ্টা করতেন। (ইষ্টের ২:১১) যখন কেউ, হয়তো-বা রাজপ্রাসাদের কোনো দাস, তাকে এসে বলত যে, ইষ্টের ভালো আছেন, তখন মর্দখয় নিশ্চয়ই পিতৃসুলভ গর্ববোধ করতেন। কেন?

১২, ১৩. (ক) ইষ্টের তার আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলেছিলেন? (খ) ইষ্টের যে তার যিহুদি বংশ পরিচয় গোপন রেখেছিলেন, তা জেনে কেন মর্দখয় খুশি হয়েছিলেন?

 ১২ ইষ্টের হেগয়ের ওপর এত ভালো প্রভাব ফেলেছিলেন যে, তিনি ইষ্টেরকে সাত জন দাসী ও অন্তঃপুরের সবচেয়ে ভালো কক্ষ দিয়ে, তার প্রতি প্রেমপূর্ণ-দয়া দেখিয়েছিলেন। বিবরণ বলে: “যে কেহ ইষ্টেরের প্রতি দৃষ্টি করিত, সে তাঁহাকে অনুগ্রহ করিত।” (ইষ্টের ২:৯, ১৫) শুধুমাত্র সৌন্দর্য কি সবাইকে এতটা গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে? না, ইষ্টেরের কাছে এর চেয়েও বেশি কিছু ছিল।

ইষ্টের বুঝতে পেরেছিলেন শারীরিক সৌন্দর্যের চেয়েও নম্রতা ও প্রজ্ঞা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ

১৩ উদাহরণস্বরূপ, আমরা পড়ি: “ইষ্টের আপন জাতির কি গোত্রের পরিচয় দিলেন না; কারণ মর্দখয় তাহা জানাইতে তাঁহাকে বারণ করিয়াছিলেন।” (ইষ্টের ২:১০) ইষ্টের যে একজন যিহুদি তা লোকেদেরকে জানাতে মর্দখয় নিষেধ করেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন, পারস্য সাম্রাজ্যের মধ্যে তাদের লোকেদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করা হতো। তিনি এটা জেনে কতই-না খুশি হয়েছিলেন যে, ইষ্টের তার থেকে অনেক দূরে থাকা সত্ত্বেও, সেই একইরকম বিজ্ঞতা ও বাধ্যতা দেখিয়ে চলেছেন!

১৪. বর্তমানে কীভাবে যুবক-যুবতীরা ইষ্টেরের উদাহরণ অনুকরণ করতে পারে?

 ১৪ বর্তমানে যুবক-যুবতীরা একইভাবে তাদের বাবা-মা ও অভিভাবকদের আনন্দিত করতে পারে। যখন তারা তাদের বাবা-মার চোখের আড়ালে—এমনকী হয়তো দায়িত্বজ্ঞানহীন, অনৈতিক অথবা নিষ্ঠুর ব্যক্তিদের মাঝে—থাকে তখনও তারা সেই মন্দ ব্যক্তিদের প্রভাবকে প্রতিরোধ করতে ও যা সঠিক, সেই মানগুলো বজায় রাখতে পারে। যখন তারা তা করে, তখন ইষ্টেরের মতো তারাও তাদের স্বর্গীয় পিতার হৃদয়কে আনন্দিত করে।—পড়ুন, হিতোপদেশ ২৭:১১.

১৫, ১৬. (ক) ইষ্টের কীভাবে রাজার মন জয় করেছিলেন? (খ) ইষ্টেরের জীবনে যে-পরিবর্তনগুলো এসেছিল, সেগুলো হয়তো কেন তার কাছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বরূপ ছিল?

১৫ যখন রাজার কাছে ইষ্টেরকে হাজির করার সময় এসেছিল, তখন নিজেকে আরও সুন্দরী দেখানোর জন্য যা-কিছুর প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করতেন, তা বেছে নেওয়ার অধিকার তাকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিনয়ীভাবে শুধু সেইসমস্ত জিনিসই নিয়েছিলেন, যা হেগয় তার জন্য বাছাই করে রেখেছিলেন। (ইষ্টের ২:১৫) খুব সম্ভবত, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, শুধুমাত্র সৌন্দর্য দিয়েই রাজার মন জয় করা যাবে না; এর জন্য নম্রতার মনোভাবও প্রয়োজন, যা রাজদরবারের লোকেদের মধ্যে ছিল না। তার এই চিন্তা কি সঠিক ছিলেন?

১৬ বাইবেলের বিবরণ এটার উত্তর দেয়: “রাজা অন্য সকল স্ত্রীলোক অপেক্ষা ইষ্টেরকে অধিক ভালবাসিলেন, এবং অন্য সকল কুমারী অপেক্ষা তিনিই রাজার দৃষ্টিতে অনুগ্রহ ও দয়া প্রাপ্ত হইলেন; অতএব রাজা তাঁহারই মস্তকে রাজমুকুট দিয়া বষ্টীর পদে তাঁহাকে রাণী করিলেন।” (ইষ্টের ২:১৭) তার জীবনে যে-পরিবর্তনগুলো হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এই নম্রমনা যিহুদি মেয়ের পক্ষে নিশ্চয়ই খুব কঠিন ছিল, যাকে সেই সময়ের পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সম্রাটের নতুন রানি ও স্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। এই নতুন পদ পাওয়ার কারণে তিনি কি গর্বিত হয়ে পড়েছিলেন? না, তা নয়!

১৭. (ক) কোন কোন উপায়ে ইষ্টের তার পালক পিতার বাধ্য ছিলেন? (খ) ইষ্টেরের উদাহরণ কেন বর্তমানে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

১৭ ইষ্টের তখনও তার পালক পিতা মর্দখয়ের বাধ্য ছিলেন। ইষ্টের যিহুদি লোকেদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টা গোপন রেখেছিলেন। তা ছাড়া, মর্দখয় যখন অহশ্বেরশকে হত্যা করার চক্রান্ত ফাঁস করে দিয়েছিলেন, তখন ইষ্টের তার কথা মেনে রাজাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন, যার ফলে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল। (ইষ্টের ২:২০-২৩) এ ছাড়া, তিনি নম্র ও বাধ্য হয়ে তার ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন। বর্তমান দিনে যখন বাধ্যতাকে কোনো মূল্যই দেওয়া হয় না এবং অবাধ্যতা ও বিদ্রোহী মনোভাব সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে, তখন ইষ্টেরের উদাহরণ মনে রাখা আমাদের জন্য কতই-না প্রয়োজন! কিন্তু যে-ব্যক্তিদের প্রকৃত বিশ্বাস আছে, তারাও ইষ্টেরের মতোই বাধ্যতাকে মূল্যবান বলে মনে করে।

 ইষ্টেরের বিশ্বাস পরীক্ষিত হয়

১৮. (ক) কেন মর্দখয় হামনের কাছে মাথা নত করতে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন? (এ ছাড়া, পাদটীকা দেখুন।) (খ) আজকে বিশ্বস্ত পুরুষ ও নারীরা কীভাবে মর্দখয়ের উদাহরণ অনুকরণ করে?

১৮ রাজা অহশ্বেরশের রাজদরবারে হামন নামে একজন ব্যক্তিকে উচ্চপদ দেওয়া হয়েছিল। রাজা তাকে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্য পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন আর তাকে সাম্রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান দিয়েছিলেন। রাজা এমনকী এই আদেশ জারি করেছিলেন যে, তাকে দেখামাত্র তার সামনে সবাইকে মাথা নত করতে হবে। (ইষ্টের ৩:১-৪) এই আইন মর্দখয়ের জন্য এক সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। তিনি রাজার বাধ্য থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ঈশ্বরকে অসম্মান করে নয়। আপনি হয়তো লক্ষ করেছেন, হামন একজন অগাগীয় ছিলেন। এটার অর্থ হল, তিনি ছিলেন অমালেকীয় রাজা অগাগের বংশধর, যাকে ঈশ্বরের ভাববাদী শমূয়েল হত্যা করেছিলেন। (১ শমূ. ১৫:৩৩) অমালেকীয়রা এত মন্দ ছিল যে, তারা যিহোবা ও ইস্রায়েলের শত্রু হয়ে উঠেছিল। ঈশ্বর অমালেকীয়দের পুরো জাতিকে নিন্দা করেছিলেন। * (দ্বিতীয়. ২৫:১৯) কীভাবে একজন বিশ্বস্ত যিহুদি একজন অমালেকীয়ের কাছে মাথা নত করতে পারেন? মর্দখয় তা করতে পারতেন না। তিনি হামনের কাছে মাথা নত করতে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত বিশ্বস্ত পুরুষ ও নারীরা এই নীতি মেনে চলার জন্য তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে: “মনুষ্যদের অপেক্ষা বরং ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করিতে হইবে।”—প্রেরিত ৫:২৯.

১৯. হামন কী করতে চেয়েছিলেন আর কীভাবে তিনি রাজাকে তা করার জন্য রাজি করিয়েছিলেন?

১৯ হামন খুবই রেগে গিয়েছিলেন। কিন্তু, শুধু মর্দখয়কেই হত্যা করার পরিকল্পনা করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। তিনি মর্দখয়ের পুরো জাতিকে নির্মূল করতে চেয়েছিলেন। তিনি রাজার দৃষ্টিতে যিহুদিদের মন্দ প্রমাণিত করেছিলেন। তাদের নাম উল্লেখ না করে, তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, তারা ছিল তুচ্ছ, “জাতিগণের মধ্যে বিকীর্ণ” বা ছড়িয়ে থাকা “অথচ পৃথক্‌কৃত” এক জাতি। এর চেয়েও খারাপ বিষয়টা হল, তিনি বলেছিলেন যে, তারা রাজার আইন পালন করে না; তাই তারা ছিল এমন বিদ্রোহী, যারা রাজ্যের পক্ষে বিপদজনক। সাম্রাজ্যের মধ্যে যিহুদিদের হত্যা করার ব্যয়ভার বহন করার জন্য তিনি রাজকোষে প্রচুর পরিমাণ অর্থ দান করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। * অহশ্বেরশ তার সিলমোহর বসানো আংটি হামনকে দিয়েছিলেন, যাতে হামন নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো আদেশ জারি করতে পারেন।—ইষ্টের ৩:৫-১০.

২০, ২১. (ক) হামন যে-আদেশ জারি করেছিলেন, তা কীভাবে মর্দখয়-সহ পারস্য সাম্রাজ্যের সমস্ত যিহুদিদের প্রভাবিত করেছিল? (খ) মর্দখয় ইষ্টেরকে কী করার জন্য বিনতি করেছিলেন?

২০ এর পরই বার্তাবাহকেরা দ্রুত ঘোড়ায় চেপে সেই বিশাল সাম্রাজ্যের সর্বত্র গিয়েছিল  আর যিহুদি লোকেদের ওপর যে-মৃত্যুদণ্ডাদেশ জারি করা হয়েছিল, তা ঘোষণা করেছিল। এই সংবাদ যখন সুদূর যিরূশালেমে পৌঁছেছিল, তখন কেমন প্রভাব ফেলেছিল তা একটু কল্পনা করুন, যেখানে বাবিলের বন্দিত্ব থেকে ফিরে আসা অবশিষ্ট যিহুদিরা এমন একটা নগর পুনর্নির্মাণ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, যেটার চারপাশে তখনও প্রতিরোধ করার মতো কোনো প্রাচীর ছিল না। মর্দখয় যখন এই ভয়াবহ সংবাদ শুনেছিলেন, তখন তিনি হয়তো সেই যিহুদিদের কথা আর সেইসঙ্গে শূশনে তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের বিষয় চিন্তা করেছিলেন। দুঃখে কাতর হয়ে মর্দখয় নিজের গায়ের বস্ত্র ছিঁড়ে, চটের বস্ত্র পরে ও মাথায় ভস্ম দিয়ে নগরের মধ্যস্থানে জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন। অন্যদিকে হামন, তার কারণেই যে শূশনের বহু যিহুদি ও তাদের বন্ধুবান্ধব শোকে আচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছে, তাতে কোনো ভ্রূক্ষেপ না করে রাজার সঙ্গে মদ্যপান করতে বসেছিলেন।—পড়ুন, ইষ্টের ৩:১২–৪:১.

২১ মর্দখয় জানতেন যে, যিহুদিদের উদ্ধার করার জন্য তাকে কিছু করতে হবে। কিন্তু তিনি কী করতে পারেন? ইষ্টের তার কষ্টের কথা জানতে পেরে তার জন্য বস্ত্র পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু মর্দখয় তা নিতে রাজি হননি। মর্দখয় হয়তো অনেক দিন ধরেই চিন্তা করছিলেন, কেন তার ঈশ্বর যিহোবা প্রিয় ইষ্টেরকে, তার কাছ থেকে নিয়ে এক পৌত্তলিক শাসকের রানি করেছিলেন। এই বার তার কাছে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। মর্দখয় রানির কাছে একটা সংবাদ পাঠালেন, যাতে ইষ্টের রাজার কাছে “স্বজাতির জন্য” বিনতি করেন।—ইষ্টের ৪:৪-৮.

২২. কেন ইষ্টের তার স্বামী, যিনি রাজা ছিলেন, তার কাছে যেতে ভয় পেয়েছিলেন? (এ ছাড়া, পাদটীকা দেখুন।)

 ২২ ইষ্টের এই খবর শুনে নিশ্চয়ই খুব উদ্‌বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তার সামনে বিশ্বাস প্রদর্শন করার সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষার সময় এসে পড়েছিল। তিনি খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন আর তা তিনি মর্দখয়কে খোলাখুলিভাবে জানিয়েছিলেন। তিনি মর্দখয়কে রাজার আইনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। বিনা আমন্ত্রণে কেউ রাজার সামনে গেলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো। কিন্তু, রাজা যদি তার স্বর্ণময় রাজদণ্ড অন্যায়কারীর দিকে বাড়িয়ে দিতেন, একমাত্র তাহলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো। রাজার আদেশ সত্ত্বেও উপস্থিত না হওয়ায় বষ্টীর যে-পরিণাম হয়েছিল, তা মাথায় রেখে ইষ্টেরের এইরকম আশা করার কি কোনো কারণ ছিল যে, তার প্রতি দয়া দেখানো হবে? ইষ্টের মর্দখয়কে বলেছিলেন যে, ৩০ দিন হয়ে গিয়েছে তিনি রাজার আমন্ত্রণ পাননি। তাকে যেহেতু এতদিন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তাই তিনি মনে করেছিলেন যে, রাজা হয়তো মন পরিবর্তন করে ফেলেছেন আর তিনি তাকে আর ভালোবাসেন না। *ইষ্টের ৪:৯-১১.

২৩. (ক) ইষ্টেরের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য মর্দখয় কী বলেছিলেন? (খ) কেন মর্দখয়ের উদাহরণ অনুকরণযোগ্য?

২৩ ইষ্টেরের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য মর্দখয় দৃঢ়ভাবে উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি তাকে আস্থার সঙ্গে বলেছিলেন, তিনি যদি কিছু করতে না-ও পারেন, তাহলে অন্য কোনো উৎস থেকে যিহুদিদের নিস্তার আসবে। কিন্তু একবার যদি তাড়না শুরু হয়, তাহলে কীভাবেই-বা তিনি নিজে তা থেকে রেহাই পাওয়ার আশা করতে পারেন? এই সময় মর্দখয় যিহোবার ওপর তার দৃঢ় বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন, যিনি কখনোই তাঁর লোকেদের পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে এবং তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলো ব্যর্থ হতে দেবেন না। (যিহো. ২৩:১৪) এরপর মর্দখয় ইষ্টেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “কে জানে যে, তুমি এই প্রকার সময়ের জন্যই রাজ্ঞীপদ পাও নাই?” (ইষ্টের ৪:১২-১৪) মর্দখয়ের উদাহরণ কি অনুকরণযোগ্য নয়? তিনি সম্পূর্ণভাবে তার ঈশ্বর যিহোবার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। আমরাও কি তা করি?—হিতো. ৩:৫, ৬.

 মৃত্যুভয়ের চেয়েও দৃঢ় এক বিশ্বাস

২৪. ইষ্টের কীভাবে তার বিশ্বাস ও সাহস দেখিয়েছিলেন?

২৪ ইষ্টেরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় উপস্থিত হয়েছিল। তিনি মর্দখয়কে তার স্বজাতীয়দের নিয়ে তার সঙ্গে তিন দিন ধরে উপবাস করতে বলেছিলেন। ইষ্টের তার বার্তাটা এমন একটা কথা বলে শেষ করেছিলেন, যা আজকে আমাদের দিন পর্যন্ত সরল বিশ্বাস ও সাহসের এক বার্তা হিসেবে প্রতিধ্বনিত হয়ে আসছে: “যদি বিনষ্ট হইতে হয়, হইব।” (ইষ্টের ৪:১৫-১৭.) ওই তিন দিন তিনি এত আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেছিলেন যে, তার জীবনে এমনভাবে আর কখনও করেননি। অবশেষে, সেই সময় উপস্থিত হয়েছিল। তিনি তার সবচেয়ে ভালো রাজকীয় পোশাক পরে রাজার কাছে অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য যা-কিছু করা প্রয়োজন তা করেছিলেন। এরপর তিনি রাজার সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন।

ইষ্টের ঈশ্বরের লোকেদের রক্ষা করার জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন

২৫. ইষ্টের যখন তার স্বামীর সামনে এসে দাঁড়ান, তখন যে-ঘটনাগুলো ঘটে তা বর্ণনা করুন।

২৫ এই অধ্যায়ের শুরুতে যেমন আলোচনা করা হয়েছে, ইষ্টের রাজদরবারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তার মন ও হৃদয় যে কত উদ্‌বিগ্ন ছিল আর তিনি যে কত আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করছিলেন, তা আমরা শুধুমাত্র কল্পনা করতে পারি। তিনি প্রাঙ্গনের সেই অংশে এসে দাঁড়ালেন, যেখান থেকে রাজসিংহাসনে উপবিষ্ট অহশ্বেরশকে দেখা যায়। তিনি হয়তো রাজার মুখের প্রতিক্রিয়া দেখার চেষ্টা করছিলেন। যদি তাকে সেখানে অপেক্ষা করতে হতো, তাহলে মনে হতো যেন সময় থমকে গিয়েছে। কিন্তু, একটু পরেই তার স্বামী তাকে দেখতে পান। তিনি নিশ্চয়ই অবাক হয়ে যান, কিন্তু তার চোখে-মুখে এক কোমলভাব ফুটে ওঠে। তিনি তার স্বর্ণময় রাজদণ্ড বাড়িয়ে দেন।—ইষ্টের ৫:১, ২

২৬. কেন সত্য খ্রিস্টানদের ইষ্টেরের মতো সাহসের প্রয়োজন আর কেন বলা যেতে পারে যে, ইষ্টেরের কাজ সবেমাত্র শুরু হয়েছিল?

২৬ রাজা ইষ্টেরের কথা শুনতে রাজি হন। তিনি তার ঈশ্বর ও তার লোকেদের পক্ষ নিয়েছিলেন, যা আজ পর্যন্ত ঈশ্বরের সমস্ত দাসের জন্য বিশ্বাসের এক সুন্দর উদাহরণ স্থাপন করেছে। সত্য খ্রিস্টানরা এইরকম উদাহরণকে অনেক মূল্যবান বলে মনে করে। যিশু বলেছিলেন যে, তাঁর প্রকৃত অনুসারীরা আত্মত্যাগমূলক প্রেমের দ্বারা পরিচিত হবে। (পড়ুন, যোহন ১৩:৩৪, ৩৫.) এইরকম বিশ্বাস দেখানোর জন্য অবশ্যই ইষ্টেরের মতো সাহস প্রয়োজন। যদিও সেই দিন ইষ্টের তার লোকদের পক্ষ নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তার কাজ সবেমাত্র শুরু করেছিলেন। তিনি কীভাবে রাজাকে প্রমাণ দেবেন যে, তার প্রিয় পরামর্শদাতা হামন একজন দুষ্ট ষড়যন্ত্রকারী? তার লোকেদের রক্ষা করার জন্য তিনি কীভাবে সাহায্য করতে পারেন? পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

^ অনু. 2 অনেকে মনে করে যে, অহশ্বেরশ হলেন জার্কসিজ ১ম, যিনি খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে পারস্য সাম্রাজ্যের ওপর রাজত্ব করতেন।

^ অনু. 9 ১৬ অধ্যায়ে “ইষ্টের সম্বন্ধে কিছু প্রশ্ন” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।

^ অনু. 18 হামন হয়তো সর্বশেষ অমালেকীয় ছিলেন, কারণ যে-অমালেকীয়রা ‘রক্ষা পেয়েছিল’ তাদের রাজা হিষ্কিয়ের দিনে বিনষ্ট করা হয়েছিল।—১ বংশা. ৪:৪৩.

^ অনু. 19 হামন ১০,০০০ তালন্ত রৌপ্য মুদ্রা দিতে চেয়েছিলেন, যার মূল্য বর্তমানে প্রায় কয়েক কোটি টাকা। অহশ্বেরশ যদি জার্কসিজ ১ম হয়ে থাকেন, তবে হামন তাকে যে-অর্থ দিতে চেয়েছিলেন, তা তার কাছে খুবই লোভনীয় ছিল। জার্কসিজকে গ্রিসের বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ পরিকল্পিত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে হয়েছিল, যে-যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।

^ অনু. 22 জার্কসিজ ১ম তার খামখেয়ালি স্বভাব ও প্রচণ্ড রাগের জন্য পরিচিত ছিলেন। গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস গ্রিসের সঙ্গে জার্কসিজের যুদ্ধ থেকে কয়েকটা উদাহরণ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। সেই রাজা হেলিস্পন্ট প্রণালীর ওপর জাহাজকে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে একটা ভাসমান সেতু নির্মাণ করার আদেশ দিয়েছিলেন। একটা ঝড়ে যখন সেতুটা ভেঙে গিয়েছিল, তখন জার্কসিজ ইঞ্জিনিয়ারদের মাথা কেটে ফেলার আদেশ দিয়েছিলেন এবং তার লোকেদের বলেছিলেন যেন তারা হেলিস্পন্ট প্রণালীর জলে চাবুক মেরে ও সেইসঙ্গে সেটার উদ্দেশে একটা অপমানজনক ঘোষণা জোরে জোরে পড়ে সেটাকে “শাস্তি” দেয়। সেই একই যুদ্ধের সময়, একজন ধনী ব্যক্তি যখন অনুরোধ করেছিলেন যে, তার ছেলেকে যেন সৈন্যদলে যোগদান করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, তখন জার্কসিজ সেই ছেলেকে কেটে দু-টুকরো করে সবার সামনে তার দেহকে রাখার আদেশ দিয়েছিলেন, যাতে অন্যেরা সতর্ক হয়।