সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

“ঈশ্বরের প্রেমে আপনাদিগকে রক্ষা কর”

 পরিশিষ্ট

একজন সমাজচ্যুত ব্যক্তির সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা উচিত

একজন সমাজচ্যুত ব্যক্তির সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা উচিত

কোনো আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে অনুতাপহীন পাপের কারণে মণ্ডলী থেকে বের করে দেওয়া হলে আমরা যতটা আঘাত পাই, তার চেয়ে খুব কম বিষয়ই আমাদেরকে আরও গভীরভাবে আঘাত দিতে পারে। এই সম্বন্ধে বাইবেলের নির্দেশনার প্রতি আমরা যেভাবে সাড়া দিই, তা ঈশ্বরের প্রতি আমাদের ভালোবাসার ও তাঁর ব্যবস্থার প্রতি আমাদের আনুগত্যের গভীরতা প্রকাশ করতে পারে। * এই বিষয়ে উত্থাপিত কিছু প্রশ্ন বিবেচনা করুন।

একজন সমাজচ্যুত ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের কীভাবে আচরণ করা উচিত? বাইবেল বলে: “ভ্রাতা নামে আখ্যাত কোন ব্যক্তি যদি ব্যভিচারী কি লোভী কি প্রতিমাপূজক কি কটুভাষী কি মাতাল কি পরধনগ্রাহী হয়, তবে তাহার সংসর্গে থাকিতে নাই, এমন ব্যক্তির সহিত আহার করিতেও নাই।” (১ করিন্থীয় ৫:১১) যে-ব্যক্তিরা “খ্রীষ্টের শিক্ষাতে না থাকে,” তাদের প্রত্যেকের সম্বন্ধে আমরা পড়ি: “তাহাকে বাটীতে গ্রহণ করিও না, এবং তাহাকে ‘মঙ্গল হউক’ বলিও না। কেননা যে তাহাকে ‘মঙ্গল হউক’ বলে, সে তাহার দুষ্কর্ম্ম সকলের সহভাগী হয়।” (২ যোহন ৯-১১) সমাজচ্যুত ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের কোনো আধ্যাত্মিক অথবা সামাজিক সাহচর্য নেই। ১৯৮১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রহরীদুর্গ (ইংরেজি) পত্রিকার ২৫ পৃষ্ঠা বলে: “কাউকে শুধু ‘অভিবাদনসূচক কিছু’ বলাই কথাবার্তা শুরু করার ও এমনকী বন্ধুত্ব গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে। একজন সমাজচ্যুত ব্যক্তির সঙ্গে আমরা কি এই প্রথম পদক্ষেপটা নিতে চাইব?”

সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা কি আসলেই অপরিহার্য? হ্যাঁ, আর তা বেশ কয়েকটা কারণে। প্রথমত, এটা ঈশ্বর ও তাঁর বাক্যের প্রতি আমাদের আনুগত্য প্রকাশ করে। আমরা কেবল সুবিধাজনক সময়েই যিহোবার বাধ্য থাকি এমন নয় কিন্তু সেই সময়েও বাধ্য থাকি, যখন তা করা কঠিন হয়ে থাকে।  ঈশ্বরের প্রতি প্রেম আমাদেরকে তাঁর সমস্ত আজ্ঞা পালন করতে অনুপ্রাণিত করে আর তা এই বিষয়টা উপলব্ধি করে যে, তিনি ন্যায্য ও প্রেমময় এবং তাঁর আইনগুলো সর্বোত্তম উপকার নিয়ে আসে। (যিশাইয় ৪৮:১৭; ১ যোহন ৫:৩) দ্বিতীয়ত, একজন অনুতাপহীন অন্যায়কারীর কাছ থেকে সরে আসা, আমাদেরকে এবং মণ্ডলীর বাকি সকলকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক কলুষতা থেকে সুরক্ষা করে এবং মণ্ডলীর সুনামকে উচ্চীকৃত করে। (১ করিন্থীয় ৫:৬, ৭) তৃতীয়ত, বাইবেলের নীতিগুলোর ব্যাপারে আমাদের দৃঢ় অবস্থান এমনকী সমাজচ্যুত ব্যক্তিকেও উপকৃত করতে পারে। বিচার সংক্রান্ত কমিটির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার দ্বারা আমরা হয়তো অন্যায়কারীর হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারি, যিনি এযাবৎ তাকে সাহায্য করার জন্য প্রাচীনদের প্রচেষ্টার প্রতি সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রিয়জনদের সঙ্গে মূল্যবান সম্পর্ক হারানো হয়তো তাকে “চেতনা” ফিরে পেতে, তার অন্যায়ের গুরুতর অবস্থা বুঝতে এবং যিহোবার কাছে ফিরে আসার জন্য পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করতে পারে।—লূক ১৫:১৭.

কোনো আত্মীয়কে যদি সমাজচ্যুত করা হয়, তাহলে? এইরকম ক্ষেত্রে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ বন্ধন আনুগত্যের এক প্রকৃত পরীক্ষা উত্থাপন করতে পারে। একজন সমাজচ্যুত আত্মীয়ের সঙ্গে আমাদের কেমন আচরণ করা উচিত? আমরা এখানে উত্থাপিত হতে পারে এমন প্রতিটা পরিস্থিতি সম্বন্ধে উল্লেখ করতে পারব না কিন্তু আসুন আমরা দুটো পরিস্থিতির উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করি।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে, পরিবারের সমাজচ্যুত সদস্য হয়তো এখনও নিকট পরিবারের অংশ হিসেবে একই ঘরে বাস করতে পারে। তিনি সমাজচ্যুত হওয়ার কারণে যেহেতু পরিবারের বন্ধন শেষ হয়ে যায়নি, তাই প্রতিদিনের স্বাভাবিক পারিবারিক কাজকর্ম এবং আচার-আচরণ চলতে পারে। তবে, সেই ব্যক্তি তার কাজের দ্বারা নিজের ও তার বিশ্বাসী পরিবারের মধ্যে আধ্যাত্মিক বন্ধন ভেঙে ফেলেছেন। তাই, তার সঙ্গে পরিবারের অনুগত সদস্যদের আর কোনো আধ্যাত্মিক সাহচর্য থাকতে পারে না। উদাহরণ স্বরূপ, পরিবার যখন পারিবারিক উপাসনার জন্য একত্রিত হয়, তখন সমাজচ্যুত ব্যক্তি সেই অধ্যয়নে উপস্থিত থাকলেও তিনি এতে অংশগ্রহণ করবেন না। কিন্তু, সমাজচ্যুত ব্যক্তি  যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান হয়, তাহলে বাবা-মা তখনও তাকে নির্দেশনা দেওয়ার ও শাসন করার জন্য দায়বদ্ধ। তাই, প্রেমময় বাবা-মা হয়তো সেই সন্তানের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করতে পারেন। *হিতোপদেশ ৬:২০-২২; ২৯:১৭.

অন্যান্য ক্ষেত্রে, সমাজচ্যুত আত্মীয় হয়তো নিকট পারিবারিক বৃত্তের বাইরে ও পরিবারের কাছ থেকে দূরে বাস করতে পারেন। যদিও প্রয়োজনীয় কোনো পারিবারিক বিষয়ের যত্ন নেওয়ার জন্য কদাচিৎ কোনো উপলক্ষ্যে সীমিত যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে, তবুও এইরকম যেকোনো যোগাযোগ কম রাখা উচিত। অনুগত খ্রিস্টান পরিবারের সদস্যরা, ঘরে বাস করে না এমন একজন সমাজচ্যুত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অজুহাত খুঁজে বেড়ায় না। বরং, যিহোবা ও তাঁর সংগঠনের প্রতি আনুগত্য তাদেরকে সমাজচ্যুত করা সম্বন্ধীয় শাস্ত্রীয় ব্যবস্থাকে উচ্চীকৃত করতে অনুপ্রাণিত করে। যিহোবার প্রতি ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে নেওয়া দৃঢ় পদক্ষেপ অন্যায়কারীর মঙ্গলের জন্য এবং এটা হয়তো তাকে তিনি যে-শাসন লাভ করেছেন, তা থেকে উপকার পেতে সাহায্য করতে পারে। *ইব্রীয় ১২:১১.

^ অনু. 1 এই সম্বন্ধে বাইবেলের নীতি সেই ব্যক্তিদের প্রতিও সমভাবে প্রযোজ্য, যারা নিজে থেকে মণ্ডলীর সঙ্গে মেলামেশা করা বন্ধ করে দিয়েছে।

^ অনু. 2 ঘরে বসবাসরত সমাজচ্যুত অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সম্বন্ধে আরও তথ্যের জন্য ২০০১ সালের ১ অক্টোবর প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ১৬-১৭ পৃষ্ঠা এবং ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রহরীদুর্গ (ইংরেজি) পত্রিকার ২০ পৃষ্ঠা দেখুন।

^ অনু. 3 সমাজচ্যুত আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা উচিত, সেই সম্বন্ধে ১৯৮৮ সালের ১৫ এপ্রিল প্রহরীদুর্গ (ইংরেজি) পত্রিকার ২৬-৩১ পৃষ্ঠা এবং ২০০২ সালের আগস্ট মাসের আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা-র ৩, ৪ পৃষ্ঠায় আলোচিত শাস্ত্রীয় পরামর্শ দেখুন।