সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

“ঈশ্বরের প্রেমে আপনাদিগকে রক্ষা কর”

 অধ্যায় ২

কীভাবে আপনি এক উত্তম বিবেক বজায় রাখতে পারেন?

কীভাবে আপনি এক উত্তম বিবেক বজায় রাখতে পারেন?

“সৎসংবেদ রক্ষা কর।”—১ পিতর ৩:১৬.

১, ২. কেন কম্পাস অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক যন্ত্র আর কীভাবে এটাকে বিবেকের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে?

একজন নাবিক বিশাল সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে দিয়ে তার জাহাজ চালাচ্ছেন; একজন পথিক এক নির্জন প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে সুদীর্ঘ পথ হাঁটছেন; একজন বিমানচালক আকাশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মেঘের স্তর ভেদ করে বহু উঁচুতে তার বিমানকে পরিচালনা দিচ্ছেন। আপনি কি জানেন, এই ব্যক্তিদের মধ্যে কোন বিষয়ে মিল রয়েছে? প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ পথে একটা কম্পাস ছাড়া হয়তো বিরাট সমস্যায় পড়তে পারে—বিশেষ করে যদি অন্য কোনো আধুনিক প্রযুক্তি পাওয়া না যায়।

কম্পাস হল এক সাধারণ যন্ত্র, সাধারণত একটা ডায়াল, যেটার মধ্যে এমন একটা চুম্বক-কাঁটা থাকে, যা উত্তর দিককে নির্দেশ করে। এটা যখন সঠিকভাবে কাজ করে আর বিশেষভাবে এটাকে সঠিক মানচিত্রের সঙ্গে ব্যবহার  করা হয়, তখন তা জীবনরক্ষাকারী হতে পারে। কোনো কোনো দিক দিয়ে এটাকে এক মূল্যবান দান বা উপহারের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যা যিহোবা আমাদের দিয়েছেন আর তা হল, একটা বিবেক। (যাকোব ১:১৭) বিবেক ছাড়া আমরা সম্পূর্ণরূপে নির্দেশনাহীন হয়ে পড়ব। কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, এটা আমাদেরকে নিজেদের পথ খুঁজে পেতে এবং জীবনের সঠিক পথে থাকতে সাহায্য করতে পারে। তাই, আসুন আমরা বিবেচনা করি যে, বিবেক বলতে কী বোঝায় এবং কীভাবে তা কাজ করে। এরপর আমরা এই বিষয়গুলো আলোচনা করতে পারি: (১) যেভাবে বিবেককে প্রশিক্ষিত করা যেতে পারে, (২) যে-কারণে অন্যদের বিবেক সম্বন্ধে আমাদের বিবেচনা করা উচিত এবং (৩) যেভাবে এক উত্তম বিবেক বজায় রাখা বিভিন্ন আশীর্বাদ নিয়ে আসে।

বিবেক বলতে যা বোঝায় এবং যেভাবে এটা কাজ করে

৩. ‘সংবেদ’ বা বিবেকের জন্য ব্যবহৃত গ্রিক শব্দটার আক্ষরিক অর্থ কী আর এটা মানুষের মধ্যে কোন অদ্বিতীয় ক্ষমতা সম্বন্ধে বর্ণনা করে?

বাইবেলে, ‘সংবেদ’ বা বিবেকের জন্য ব্যবহৃত গ্রিক শব্দটার অর্থ হল, “একজনের অন্তর্নিহিত জ্ঞান।” অন্যান্য পার্থিব প্রাণীর বিপরীতে, আমাদের মধ্যে নিজেদেরকে জানার এক ঈশ্বরদত্ত ক্ষমতা রয়েছে। রূপকভাবে বললে, আমরা একটু থেমে নিজেদের অবস্থা দেখতে পারি এবং নৈতিক দিক দিয়ে আমরা কেমন, তা পরীক্ষা করে দেখতে পারি। একজন অন্তরস্থ সাক্ষি অথবা বিচারক হিসেবে আমাদের বিবেক আমাদের কাজ, মনোভাব ও বাছাইগুলোকে পরীক্ষা করতে পারে। এটা হয়তো আমাদেরকে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিতে অথবা মন্দ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক করতে পারে। পরবর্তী সময়ে, এটা হয়তো আমাদেরকে বিজ্ঞতার সঙ্গে বাছাই করার কারণে স্বস্তি দিতে নতুবা ভুলভাবে বাছাই করার কারণে তীব্র যন্ত্রণা দিয়ে শাস্তি দিতে পারে।

৪, ৫. (ক) কীভাবে আমরা জানি যে, আদম ও হবা প্রত্যেকের একটা বিবেক ছিল আর তারা ঈশ্বরের আইন উপেক্ষা করেছিলেন বলে কী হয়েছিল? (খ) কোন উদাহরণগুলো দেখায় যে, প্রাক্‌খ্রিস্টীয় যুগে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বিবেক কার্যরত ছিল?

একেবারে শুরুতেই নারী ও পুরুষকে এই ক্ষমতা দিয়ে তৈরি করা  হয়েছিল। আদম ও হবা প্রত্যেকেই দেখিয়েছিলেন যে, তাদের একটা বিবেক রয়েছে। পাপ করার পর তাদের যে-লজ্জাবোধ হয়েছিল, সেটার মাধ্যমে আমরা এর প্রমাণ দেখতে পাই। (আদিপুস্তক ৩:৭, ৮) দুঃখের বিষয় যে, বিবেকের দংশন সেই মুহূর্তে তাদের আর কোনো উপকারই করতে পারেনি। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঈশ্বরের আইন উপেক্ষা করেছিলেন। এভাবে তারা জেনে-শুনে যিহোবা ঈশ্বরের বিদ্রোহী ও প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠা বেছে নিয়েছিলেন। সিদ্ধ মানুষ হিসেবে তারা জানতেন যে, তারা কী করছিলেন আর তাদের ফিরে আসার কোনো পথ ছিল না।

আদম ও হবার বিপরীতে, অনেক অসিদ্ধ মানুষ নিজেদের বিবেকের প্রতি সাড়া দিয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, বিশ্বস্ত ব্যক্তি ইয়োব বলতে পেরেছিলেন: “আমার ধার্ম্মিকতা আমি রক্ষা করিব, ছাড়িব না। আমি জীবিত থাকিতে আমার মন আমাকে ধিক্কার দিবে না।” * (ইয়োব ২৭:৬) ইয়োব সত্যিই একজন বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তিনি তার বিবেকের কথা শোনার ক্ষেত্রে সতর্ক ছিলেন, সেটাকে তার কাজ ও সিদ্ধান্তগুলোতে নির্দেশনা দিতে দিয়েছিলেন। তাই, প্রকৃত পরিতৃপ্তি সহকারে তিনি বলতে পেরেছিলেন যে, তার বিবেক লজ্জা ও অপরাধবোধ সহকারে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। ইয়োব ও দায়ূদের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করুন। দায়ূদ যখন যিহোবার অভিষিক্ত রাজা শৌলের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছিলেন, তখন “দায়ূদের অন্তঃকরণ ধুক্‌ ধুক্‌ করিতে লাগিল।” (১ শমূয়েল ২৪:৫) বিবেকের সেই তীব্র যন্ত্রণা নিশ্চিতভাবে দায়ূদকে উপকৃত করেছিল, পরবর্তী সময়ে তাকে এই ধরনের অসম্মান এড়িয়ে চলতে শিক্ষা দিয়েছিল।

৬. কী দেখায় যে, বিবেক সমস্ত মানবজাতির জন্য একটা উপহার?

উপহার স্বরূপ এই বিবেক কি শুধু যিহোবার দাসদেরই রয়েছে? প্রেরিত পৌলের এই অনুপ্রাণিত কথাগুলো বিবেচনা করুন: “যে পরজাতিরা কোন  ব্যবস্থা পায় নাই, তাহারা যখন স্বভাবতঃ ব্যবস্থানুযায়ী আচরণ করে, তখন কোন ব্যবস্থা না পাইলেও আপনাদের ব্যবস্থা আপনারাই হয়; যেহেতুক তাহারা ব্যবস্থার কার্য্য আপন আপন হৃদয়ে লিখিত বলিয়া দেখায়, তাহাদের সংবেদও সঙ্গে সঙ্গে সাক্ষ্য দেয়, এবং তাহাদের নানা বিতর্ক পরস্পর হয় তাহাদিগকে দোষী করে, না হয় তাহাদের পক্ষ সমর্থন করে।” (রোমীয় ২:১৪, ১৫) এমনকী যারা যিহোবার আইনগুলো সম্বন্ধে একেবারেই জানে না, তারাও মাঝে মাঝে ঐশিক নীতিগুলোর সঙ্গে মিল রেখে কাজ করার জন্য তাদের এই অন্তরস্থ সাক্ষ্যদানকারীর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়।

৭. কেন বিবেক মাঝে মাঝে ভুল পথের দিকে নির্দেশ করতে পারে?

কিন্তু, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিবেক হয়তো ভুল পথের দিকে নির্দেশ করতে পারে। কেন? যেমন, একটা কম্পাসকে যদি একটা চুম্বকের কাছে স্থাপন করা হয়, তাহলে সেটা হয়তো উত্তর দিককে নির্দেশ না করে বরং অন্য দিককে নির্দেশ করতে পরিচালিত হতে পারে। আর এটা যদি এক সঠিক মানচিত্র ছাড়া ব্যবহার করা হয়, তাহলে এই কম্পাস প্রায় অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। একইভাবে, আমাদের হৃদয়ের স্বার্থপর আকাঙ্ক্ষার দ্বারা অতিরিক্ত পরিচালিত হলে, আমাদের বিবেক হয়তো ভুল পথের দিকে নির্দেশ করতে পারে। আর এটা যদি ঈশ্বরের বাক্যের নিশ্চিত নির্দেশনা ছাড়া ব্যবহৃত হয়, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ের ক্ষেত্রে আমরা হয়তো সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারব না। আসলে, আমাদের বিবেক যাতে সঠিকভাবে কাজ করে, সেইজন্য যিহোবার পবিত্র আত্মার নির্দেশনা প্রয়োজন। পৌল লিখেছিলেন: “আমার সংবেদও পবিত্র আত্মাতে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিতেছে।” (রোমীয় ৯:১) তাহলে, কীভাবে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, আমাদের বিবেক যিহোবার পবিত্র আত্মার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এর জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।

যেভাবে বিবেককে প্রশিক্ষিত করা যেতে পারে

৮. (ক) কীভাবে হৃদয় বিবেককে প্রভাবিত করতে পারে আর আমাদের সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে কোন বিষয়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত? (খ) কেন একজন খ্রিস্টানের জন্য এক শুদ্ধ বিবেকই সবসময় যথেষ্ট নয়? (পাদটীকা দেখুন।)

কীভাবে আপনি বিবেকের উপর ভিত্তি করে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? কিছু লোক মনে হয় কেবল তাদের ভিতরের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি  পরীক্ষা করেই কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। আর এরপর তারা হয়তো বলে, “আসলে, এটা আমার বিবেককে দংশন করে না।” হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা অনেক প্রবল হতে পারে, এমনকী বিবেককেও প্রভাবিত করতে পারে। বাইবেল বলে: “অন্তঃকরণ সর্ব্বাপেক্ষা বঞ্চক, তাহার রোগ অপ্রতিকার্য্য, কে তাহা জানিতে পারে?” (যিরমিয় ১৭:৯) তাই, আমাদের হৃদয় যা আকাঙ্ক্ষা করে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয়। এর পরিবর্তে, আমরা প্রথমে এটা বিবেচনা করতে চাই যে, কী যিহোবা ঈশ্বরকে খুশি করবে। *

৯. ঈশ্বরীয় ভয় কী আর আমাদের মধ্যে ঈশ্বরীয় ভয় থাকলে, তা কীভাবে আমাদের বিবেককে প্রভাবিত করতে পারে?

কোনো সিদ্ধান্ত যদি সত্যিই আমাদের প্রশিক্ষিত বিবেকের উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে, তাহলে তা আমাদের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাগুলোকে নয় বরং ঈশ্বরীয় ভয়কে প্রতিফলিত করবে। একটা উপযুক্ত উদাহরণ বিবেচনা করুন। বিশ্বস্ত অধ্যক্ষ নহিমিয়ের, যিরূশালেমের লোকেদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পাওনা ও কর আদায় করার অধিকার ছিল। তা সত্ত্বেও, তিনি তা করেননি। কেন? তিনি ঈশ্বরের লোকেদের পীড়ন করার দ্বারা যিহোবার অসন্তোষ জন্মানোর ধারণাটাকেই ঘৃণা করতেন। তিনি বলেছিলেন: “আমি ঈশ্বরভয় প্রযুক্ত তাহা করিতাম না।” (নহিমিয় ৫:১৫) আন্তরিক ঈশ্বরীয় ভয় অর্থাৎ আমাদের স্বর্গীয় পিতাকে অখুশি করার ব্যাপারে পূর্ণহৃদয়ের ভয় অপরিহার্য। এই ধরনের সশ্রদ্ধ ভয় আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঈশ্বরের বাক্য থেকে নির্দেশনা খুঁজতে পরিচালিত করবে।

১০, ১১. মদ্য-জাতীয় পানীয় পান করার বিষয়ে বাইবেলের কোন নীতিগুলো প্রযোজ্য আর সেগুলো প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা ঈশ্বরের নির্দেশনা পেতে পারি?

 ১০ উদাহরণ স্বরূপ, মদ্য-জাতীয় পানীয়ের কথা বিবেচনা করুন। মাঝে মাঝে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয় যে, আমি কি পান করব, না কি করব না? প্রথমত, আমাদের নিজেদেরকে প্রশিক্ষিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে বাইবেলের কোন নীতিগুলো প্রযোজ্য? এটা ঠিক যে, বাইবেল মদ্য-জাতীয় পানীয়ের পরিমিত ব্যবহারকে নিন্দা করে না। দান হিসেবে দ্রাক্ষারস দেওয়া হয়েছে বলে বাইবেল যিহোবার প্রশংসা করে। (গীতসংহিতা ১০৪:১৪, ১৫) কিন্তু, বাইবেল অতিরিক্ত মদ্যপান ও রঙ্গরস বা উচ্ছৃঙ্খল পার্টিতে যোগদান করাকে নিন্দা করে। (লূক ২১:৩৪; রোমীয় ১৩:১৩) অধিকন্তু, এটা মাতাল হওয়াকে ব্যভিচার ও পারদারিকতার মতো গুরুতর পাপের সঙ্গে তালিকাভুক্ত করে। *১ করিন্থীয় ৬:৯, ১০.

১১ একজন খ্রিস্টানের বিবেক এই ধরনের নীতির দ্বারা প্রশিক্ষিত ও সংবেদনশীল হয়ে উঠে। তাই, আমরা যখন কোনো মেলামেশার সময় মদ্যপান করার সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হই, তখন আমরা নিজেদেরকে এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করে থাকি: ‘কোন ধরনের মেলামেশার ব্যবস্থা করা হয়েছে? এটা কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ও উচ্ছৃঙ্খল পার্টিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? আমার নিজের প্রবণতা কী? আমি কি মদ পান করার আকাঙ্ক্ষা করি, এটার উপর নির্ভরশীল এবং আমার সমস্যাগুলো ভুলে যাওয়ার বা সেগুলো থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য পান করে থাকি? আমি কতটুকু পান করব, তা নিয়ন্ত্রণ করার মতো প্রয়োজনীয় ইন্দ্রিয়দমন কি আমার রয়েছে?’ বাইবেলের নীতিগুলো এবং সেগুলো যে-প্রশ্ন উত্থাপন করে, তা নিয়ে চিন্তা করার সময় যিহোবার নির্দেশনার জন্য আমাদের প্রার্থনা করা উচিত। (পড়ুন, গীতসংহিতা ১৩৯:২৩, ২৪.) এভাবে, যিহোবার পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদেরকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আমরা তাঁকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এ ছাড়া, আমরা আমাদের বিবেককে ঐশিক নীতিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার  জন্যও প্রশিক্ষিত করছি। তবে, আরও একটা বিষয় রয়েছে, যা আমাদের সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

কেন আমাদের অন্যদের বিবেক সম্বন্ধে বিবেচনা করা উচিত?

বাইবেল প্রশিক্ষিত বিবেক আপনাকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে যে, আপনি মদ্য-জাতীয় পানীয় পান করবেন, না কি করবেন না

১২, ১৩. কিছু কারণ কী, যেগুলোর জন্য বিভিন্ন খ্রিস্টানের বিবেক ভিন্ন হয়ে থাকে আর এই ধরনের বৈসাদৃশ্যের সঙ্গে আমাদের কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত?

১২ মাঝে মাঝে আপনি হয়তো বিভিন্ন খ্রিস্টানের বিবেক কতটা ভিন্ন হতে পারে, সেটা দেখে অবাক হতে পারেন। একজন ব্যক্তির কাছে কোনো একটা অভ্যাস অথবা প্রথাকে আপত্তিকর বলে মনে হতে পারে; আবার আরেকজন ব্যক্তি হয়তো সেটা পছন্দ করেন ও তা নিন্দা করার কোনো ভিত্তি খুঁজে পান না। উদাহরণ স্বরূপ, সামাজিক মেলামেশায় পান করার ব্যাপারে একজন ব্যক্তি হয়তো কোনো এক বিকেলে কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে একত্রে অবসর-বিনোদনের সময় একটু পান করাকে আনন্দজনক বলে মনে করতে পারেন; আবার আরেকজন ব্যক্তি হয়তো এই অভ্যাসকে বিরক্তিকর বলে মনে করতে পারেন। কেন এইরকম বৈসাদৃশ্য আর এটার দ্বারা আমাদের সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে প্রভাবিত হওয়া উচিত?

১৩ লোকেরা অনেক কারণের জন্য ভিন্ন হতে পারে। পটভূমি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ, কেউ কেউ এমন কোনো দুর্বলতা সম্বন্ধে খুব ভালোভাবে অবগত আছে, যেটার সঙ্গে তাদের অতীতে লড়াই করতে হয়েছে—হয়তো সবসময় সফল হয়নি। (১ রাজাবলি ৮:৩৮, ৩৯) মদ্য-জাতীয় পানীয়ের বিষয়ে এই ধরনের ব্যক্তিরা সম্ভবত বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠবে। এইরকম কোনো ব্যক্তি যদি আপনার বাড়িতে বেড়াতে আসেন, তাহলে তার বিবেক হয়তো উপযুক্তভাবে তাকে মদ পান করার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করতে পরিচালিত করতে পারে। আপনি কি এতে অসন্তুষ্ট হবেন? পান করার জন্য জোরাজুরি করবেন? না। আপনি তার সেই কারণগুলো জানুন বা না-ই জানুন—যে-কারণগুলো তিনি হয়তো এই পরিস্থিতিতে গোপন রাখা বেছে নিতে পারেন—ভ্রাতৃপ্রেম আপনাকে বিবেচনা দেখাতে পরিচালিত করবে।

১৪, ১৫. কোন বিষয়ে প্রথম শতাব্দীর মণ্ডলীতে বিভিন্ন ব্যক্তির বিবেক ভিন্ন ছিল আর পৌল কোন সুপারিশ করেছিলেন?

 ১৪ প্রেরিত পৌল দেখেছিলেন যে, প্রথম শতাব্দীতে খ্রিস্টানদের মধ্যেও বিভিন্ন জনের বিবেক প্রায়ই অনেক ভিন্ন ছিল। সেই সময়, কিছু খ্রিস্টান প্রতিমার কাছে উৎসর্গীকৃত কিছু খাবারের বিষয়ে বিঘ্ন পেয়েছিল। (১ করিন্থীয় ১০:২৫) পৌলের বিবেক সেইসমস্ত খাদ্যের বিষয়ে আপত্তি জানায়নি, যেগুলো পরে বাজারে বিক্রি করা হতো। তার কাছে প্রতিমা ছিল অবস্তু; প্রতিমার কখনো নিজের কোনো খাদ্য থাকতে পারে না, খাদ্যের উৎস হলেন যিহোবা এবং এটা কেবল তাঁর অধিকারভুক্ত। তা সত্ত্বেও, পৌল বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই বিষয়ে অন্যদের তার মতো একই দৃষ্টিভঙ্গি নেই। খ্রিস্টান হওয়ার আগে কেউ কেউ হয়তো প্রতিমাপূজার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তাদের কাছে এমনকী আগে প্রতিমাপূজার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল এমন যেকোনো বিষয়ই আপত্তিকর ছিল। কীভাবে পৌল এই বিষয়টা সমাধান করেছিলেন?

 ১৫ পৌল বলেছিলেন: “বলবান যে আমরা, আমাদের উচিত, যেন দুর্ব্বলদিগের দুর্ব্বলতা বহন করি, আর আপনাদিগকে তুষ্ট না করি। কারণ খ্রীষ্টও আপনাকে তুষ্ট করিলেন না।” (রোমীয় ১৫:১, ৩) পৌল যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, নিজেদের চেয়ে বরং আমাদের ভাই-বোনদের প্রয়োজনকে আগে রাখা উচিত, যেমনটা খ্রিস্ট রেখেছিলেন। সম্পর্কযুক্ত এক আলোচনায় পৌল বলেছিলেন যে, তিনি এমন এক মূল্যবান মেষের বিঘ্ন জন্মানোর চেয়ে বরং মাংসই খাবেন না, যে-মেষের জন্য খ্রিস্ট নিজের জীবন দান করেছেন।—পড়ুন, ১ করিন্থীয় ৮:১৩; ১০:২৩, ২৪, ৩১-৩৩.

১৬. যাদের বিবেক নির্দিষ্ট কোনো কিছু করতে বাধা দেয়, তাদের কেন সেই ব্যক্তিদের বিচার করা এড়িয়ে চলা উচিত, যাদের বিবেক তাদের থেকে ভিন্ন?

১৬ অন্যদিকে যাদের বিবেক নির্দিষ্ট কোনো কিছু করতে বাধা দেয়, তাদের উচিত নয় অন্যদের সম্বন্ধে সমালোচনা করা, এই বিষয়ে দাবি করে যে,  বিবেকের বিষয়গুলোকে সকলে তাদের মতো করেই দেখবে। (পড়ুন, রোমীয় ১৪:১০.) আসলে, আমাদের বিবেককে নিজেদের বিচার করার জন্য ব্যবহার করা উচিত, অন্যদের নয়। যিশুর কথাগুলো স্মরণ করে দেখুন: “তোমরা বিচার করিও না, যেন বিচারিত না হও।” (মথি ৭:১) মণ্ডলীর সকলের উচিত বিবেকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর ব্যাপারে তর্কবিতর্ক এড়িয়ে চলা। এর পরিবর্তে, আমরা প্রেম ও একতা বৃদ্ধি করার বিভিন্ন উপায় খুঁজি এবং পরস্পরকে ভেঙে না ফেলে বরং গেঁথে তুলি।—রোমীয় ১৪:১৯.

যেভাবে এক উত্তম বিবেক বিভিন্ন আশীর্বাদ নিয়ে আসে

এক উত্তম বিবেক আমাদেরকে জীবনের যাত্রাপথে নির্দেশনা দিতে এবং আমাদের জন্য আনন্দ ও মনের শান্তি নিয়ে আসতে পারে

১৭. আজকে অনেকের বিবেকের অবস্থা কী হয়েছে?

১৭ প্রেরিত পিতর লিখেছিলেন: “সৎসংবেদ রক্ষা কর।” (১ পিতর ৩:১৬) যে-বিবেক যিহোবা ঈশ্বরের চোখে শুচি, তা এক চমৎকার আশীর্বাদ। এটা বর্তমানে বিদ্যমান অনেকের বিবেকের মতো নয়। পৌল সেই ব্যক্তিদের সম্বন্ধে বর্ণনা করেছিলেন, “যাহাদের নিজ সংবেদ তপ্ত লৌহের দাগের মত দাগযুক্ত হইয়াছে।” (১ তীমথিয় ৪:২) তপ্ত লৌহ মাংসকে দগ্ধ করে ফেলে এবং সেটাকে বিক্ষত করে দেয় ও অসংবেদনশীল করে তোলে। বস্তুতপক্ষে, অনেকের এমন বিবেক রয়েছে, যেটা মৃত—এতটাই বিক্ষত ও অসংবেদনশীল যে, এটা আর সতর্কবাণী জানায় না, প্রতিবাদ করে না অথবা অন্যায় কাজের জন্য লজ্জা ও অপরাধবোধ করে না। আজকে অনেকে তাদের অপরাধবোধকে খুশিমনে উপেক্ষা করে থাকে।

১৮, ১৯. (ক) অপরাধ বা লজ্জাবোধের কোন উপকার থাকতে পারে? (খ) অতীতে করা আমাদের পাপের জন্য ইতিমধ্যেই অনুতপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, আমাদের বিবেক যদি আমাদেরকে ক্রমাগত শাস্তি দিয়েই যায়, তাহলে আমরা কী করতে পারি?

১৮ সত্যি বলতে কী, অপরাধবোধ আমাদেরকে বিবেকের এই কথা বলার একটা উপায় হতে পারে যে, আমরা অন্যায় করেছি। এই ধরনের অনুভূতি যখন একজন পাপীকে অনুতপ্ত হতে পরিচালিত করে, তখন এমনকী সবচেয়ে খারাপ পাপগুলোকেও ক্ষমা করা যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, রাজা দায়ূদ গুরুতর অন্যায় কাজ করার অপরাধে দোষী ছিলেন কিন্তু তার আন্তরিক অনুতাপের জন্যই তাকে মূলত ক্ষমা করা হয়েছিল। নিজ অন্যায় কাজের  প্রতি তার ঘৃণা এবং এরপর থেকে যিহোবার আইনগুলো মেনে চলার বিষয়ে তার দৃঢ়সংকল্প তাকে স্বচক্ষে দেখতে পরিচালিত করেছিল যে, যিহোবা “মঙ্গলময় ও ক্ষমাবান্‌” বা ক্ষমা করার জন্য তৈরি। (গীতসংহিতা ৫১:১-১৯; ৮৬:৫) কিন্তু, অনুতপ্ত হওয়ার ও ক্ষমা লাভ করার পরও যদি প্রচণ্ড অপরাধবোধ ও লজ্জাবোধ থেকে যায়, তাহলে?

১৯ মাঝে মাঝে বিবেক হয়তো একজন পাপী ব্যক্তিকে খুবই কষ্ট দেয় আর সেই কারণে তিনি হয়তো তখনও নিজেকে অপরাধী বলে মনে করতে পারেন, যখন তার এইরকম অনুভব করার কোনো কারণ নেই। এইরকম ক্ষেত্রগুলোতে, আমাদের আত্মদোষারোপকারী হৃদয়কে হয়তো এই আশ্বাস দিতে হবে যে, যিহোবা মানুষের সমস্ত অনুভূতির চেয়ে আরও মহান। আমাদেরকে তাঁর প্রেম ও ক্ষমার প্রতি বিশ্বাস দেখাতে ও তা গ্রহণ করতে হবে, ঠিক যেমন আমরা অন্যদেরকে তা করার জন্য উৎসাহিত করে থাকি। (পড়ুন, ১ যোহন ৩:১৯, ২০.) অন্যদিকে, এক শুচি বিবেক মনের শান্তি, প্রশান্ত মনোভাব ও সেই গভীর আনন্দ নিয়ে আসে, যা এই জগতে বলতে গেলে পাওয়াই যায় না। আগে গুরুতর পাপে জড়িত ছিল এমন অনেকে এই অপূর্ব স্বস্তি লাভ করেছে এবং আজকে যিহোবা ঈশ্বরকে সেবা করার সময় এক উত্তম বিবেক বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছে।—১ করিন্থীয় ৬:১১.

২০, ২১. (ক) এই প্রকাশনাটা আপনাকে কী করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি করা হয়েছে? (খ) খ্রিস্টান হিসেবে আমরা কোন স্বাধীনতা উপভোগ করি, তবে সেটাকে আমাদের কীভাবে ব্যবহার করা উচিত?

২০ সেই আনন্দ খুঁজে পেতে এবং শয়তানের বিধিব্যবস্থার এই সংকটময় শেষকালের বাকি সময়টাতে এক উত্তম বিবেক বজায় রাখতে আপনাকে সাহায্য করার জন্য এই বইটা প্রস্তুত করা হয়েছে। অবশ্য, এই বইটা বাইবেলের সেইসমস্ত আইন ও নীতি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেনি, যেগুলো নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে এবং প্রতিদিন উত্থাপিত পরিস্থিতিগুলোতে প্রয়োগ করতে হবে। অধিকন্তু, বিবেকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলোতে সাধারণ ও সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন আশা করবেন না। এই বইটার উদ্দেশ্য হল, আপনার রোজকার জীবনে কীভাবে ঈশ্বরের বাক্য কাজে লাগানো যায়, তা অধ্যয়ন করার মাধ্যমে আপনার বিবেককে প্রশিক্ষিত ও সংবেদনশীল করতে সাহায্য করা। মোশির ব্যবস্থার  বিপরীতে, “খ্রীষ্টের ব্যবস্থা” এর অনুসারীদেরকে লিখিত নিয়মকানুনের চেয়ে বরং বিবেক ও নীতির দ্বারা জীবনযাপন করার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। (গালাতীয় ৬:২) এভাবে যিহোবা খ্রিস্টানদেরকে আস্থা সহকারে অসাধারণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু, তাঁর বাক্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আমরা যেন সেই স্বাধীনতাকে কখনো “দুষ্টতার আবরণ” হিসেবে ব্যবহার না করি। (১ পিতর ২:১৬) এর পরিবর্তে, এই ধরনের স্বাধীনতা আমাদেরকে যিহোবার প্রতি আমাদের প্রেম প্রকাশ করার এক অপূর্ব সুযোগ করে দেয়।

২১ বাইবেলের নীতিগুলো অনুযায়ী জীবনযাপন করা কতটা উত্তম, তা প্রার্থনাপূর্বক বিবেচনা করে এবং এরপর আপনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করে আপনি ক্রমাগত এমন এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে এগিয়ে যাবেন, যে-প্রক্রিয়া প্রথম যখন আপনি যিহোবাকে জেনেছিলেন, তখন শুরু হয়েছিল। আপনার “জ্ঞানেন্দ্রিয় সকল অভ্যাস প্রযুক্ত” পটু বা প্রশিক্ষিত হবে। (ইব্রীয় ৫:১৪) রোজকার জীবনে আপনার বাইবেল প্রশিক্ষিত বিবেক আপনার জন্য এক আশীর্বাদ স্বরূপ হবে। একটা কম্পাস যেমন একজন পর্যটককে নির্দেশনা দেয়, তেমনই আপনার বিবেক আপনাকে সেই সিদ্ধান্তগুলো নিতে সাহায্য করবে, যেগুলো আপনার স্বর্গীয় পিতাকে খুশি করে। এটা হল ঈশ্বরের প্রেমে নিজেকে রক্ষা করার এক নিশ্চিত উপায়।

^ অনু. 5 ইব্রীয় শাস্ত্র-এ ‘সংবেদ’ বা বিবেকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট শব্দ আসেনি। কিন্তু, এইরকম উদাহরণগুলোতে বিবেকের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও এখানে বিবেক শব্দটা ব্যবহার করা হয়নি কিন্তু ইয়োব যা বলেছিলেন, তা তার বিবেকেরই প্রতিক্রিয়া ছিল। খ্রিস্টান গ্রিক শাস্ত্র-এর মধ্যে যে-গ্রিক শব্দটাকে ‘সংবেদ’ বা বিবেক হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে, সেটা প্রায় ৩০ বার এসেছে।

^ অনু. 8 বাইবেল দেখায় যে, এক শুদ্ধ বিবেক থাকাই সবসময় যথেষ্ট নয়। উদাহরণ স্বরূপ, পৌল বলেছিলেন: “আমি আমার নিজের বিরুদ্ধে কিছু জানি না, তথাপি ইহাতে আমি নির্দ্দোষ বলিয়া প্রতিপন্ন হইতেছি না; কিন্তু যিনি আমার বিচার করেন, তিনি প্রভু [“যিহোবা,” NW]।” (১ করিন্থীয় ৪:৪) এমনকী যারা খ্রিস্টানদের তাড়না করে, যেমনটা পৌল একসময় করতেন, তারাও হয়তো এক শুদ্ধ বিবেক নিয়ে তা করতে পারে, কারণ তারা মনে করে যে, ঈশ্বর তাদের কাজকে অনুমোদন করেন। তাই, আমাদের বিবেককে আমাদের নিজেদের চোখে সৎ বা শুদ্ধ ও সেইসঙ্গে ঈশ্বরের চোখেও শুচি হতে হবে।—প্রেরিত ২৩:১; ২ তীমথিয় ১:৩.

^ অনু. 10 এই বিষয়টা লক্ষ করা উচিত যে, অনেক ডাক্তার বলেন, মদ্যপায়ী ব্যক্তির পক্ষে পরিমিত মাত্রায় পান করাটা আসলে সম্ভব নয়; তাদের জন্য “পরিমিত মাত্রা” মানে পান না করা।