সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  নং  ১ ২০১৬

 আমাদের পাঠক-পাঠিকাদের জিজ্ঞাস্য . . .

বড়োদিনের রীতিনীতি পালন করা কি ভুল?

বড়োদিনের রীতিনীতি পালন করা কি ভুল?

বড়োদিন দীর্ঘকাল ধরে এক খ্রিস্টীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে, যেটার উদ্দেশ্য হল, যিশুর জন্মদিন উদ্‌যাপন করা। তবে, এই উৎসবে যে-রীতিনীতিগুলো পালন করা হয়, সেগুলো দেখে আমরা হয়তো ভাবতে পারি, এই রীতিনীতিগুলোর সঙ্গে যিশুর জন্মের কী সম্পর্ক?

এইরকম চিন্তা করার পিছনে একটা কারণ হল, স্যান্টা ক্লজ সম্বন্ধে প্রচলিত বিভিন্ন অবাস্তব কাহিনি। আমরা এখন যে-হাসিখুশি, সাদা দাড়ি ও গোলাপী গালওয়ালা, লাল কাপড় পরা স্যান্টাকে দেখি, সেই স্যান্টা আসলে ১৯৩১ সালে উত্তর আমেরিকার এক পানীয় প্রস্তুতকারক কোম্পানির দ্বারা তৈরি বড়োদিনের একটা জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন। ১৯৫০-এর দশকে ব্রাজিলের কিছু লোক স্যান্টা ক্লজের পরিবর্তে স্থানীয় কাল্পনিক চরিত্র গ্র্যান্ডপা ইন্ডিয়ানকে আনার চেষ্টা করেছিল। এর ফলাফল কী হয়েছিল? স্যান্টা ক্লজ যে শুধু গ্র্যান্ডপা ইন্ডিয়ানকে হারিয়ে দিয়েছিল তা-ই নয়, অধ্যাপক কার্লোস ই. ফান্টিনাটির কথা অনুযায়ী, স্যান্টা “শিশু যিশুকে পিছনে ফেলে ২৫  ডিসেম্বর উৎসবের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল।” কিন্তু শুধুমাত্র স্যান্টা ক্লজের মতো অবাস্তব কাহিনিগুলোর মধ্যেই কি সমস্যা রয়েছে? এর উত্তর পাওয়ার জন্য আসুন আমরা খ্রিস্টধর্মের শুরুতে ফিরে যাই।

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা বলে: “খ্রিস্টধর্মের শুরুর প্রথম দু-শো বছর পর্যন্ত শহিদদের আর সেইসঙ্গে যিশুর জন্মদিন পালন করার রীতিনীতি চরম বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিল।” কেন? খ্রিস্টানরা জন্মদিন পালন করাকে পৌত্তলিক রীতিনীতি হিসেবে দেখত, যে-রীতিনীতিকে তারা পুরোপুরিভাবে এড়িয়ে চলত। আরেকটা আগ্রহজনক বিষয় হল, যিশু কোন দিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেটার উল্লেখ বাইবেলে পাওয়া যায় না।

যিশুর মৃত্যুর প্রায় ৩০০ বছর পর, জন্মদিন পালনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক খ্রিস্টানদের দৃঢ় অবস্থান সত্ত্বেও ক্যাথলিক গির্জা বড়োদিন পালন করতে শুরু করে। ক্যাথলিক গির্জা তাদের পায়ের তলার জমি শক্ত করার জন্য পথের কাঁটা দূর করতে চেয়েছিল আর সেই কাঁটা ছিল, রোমীয়দের পৌত্তলিক ধর্ম এবং তাদের মকরক্রান্তি উৎসবের জনপ্রিয়তা। আমেরিকায় বড়োদিন (ইংরেজি) বইয়ে পেনি এল. রেস্টাড নামে একজন ব্যক্তি বলেন: প্রত্যেক বছর ১৭ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত “রোমীয়দের অধিকাংশই খাওয়া-দাওয়া, বিভিন্ন খেলাধুলা, আনন্দোৎসব, প্রদর্শনীর মতো বিভিন্ন উৎসবে যোগ দিত এবং সবাই মিলে তাদের দেব-দেবীদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করত।” আর ডিসেম্বর মাসের ২৫ তারিখে তারা অজেয় সূর্যের জন্মদিন পালন করত। ক্যাথলিক গির্জা সেই একই দিনে বড়োদিন উদ্‌যাপন প্রবর্তন করে, বহু রোমীয়কে সূর্যের জন্মদিন পালন করার পরিবর্তে যিশুর জন্মদিন পালন করার জন্য প্ররোচিত করেছিল। গেরি বোলার লিখিত স্যান্টা ক্লজ, একটা জীবনী (ইংরেজি) বই অনুযায়ী, রোমীয়রা “তখনও তাদের শীতকালীন উৎসবের সঙ্গে জড়িত আনুষঙ্গিক  বিষয়গুলো পালন করতে পারত।” বাস্তবে, তারা “তখনও আগের রীতিনীতি অনুসারে এই নতুন ছুটির দিনটা পালন  করছিল।”

তাই এই বিষয়টা পরিষ্কার যে, বড়োদিন পালন করার পিছনে প্রধান সমস্যা হল, এর অপ্রীতিকর উৎপত্তি। বড়োদিনের জন্য সংগ্রাম (ইংরেজি) বইয়ের লেখক স্টিভেন নিসানবমের মতে, বড়োদিন “খ্রিস্টীয় রীতিনীতির আবরণে পৌত্তলিক উৎসব ছাড়া আর কিছুই নয়।” আর সেইজন্য, বড়োদিন ঈশ্বর ও তাঁর পুত্র যিশু খ্রিস্টকে অসম্মান করে। এটা কি কোনো সামান্য বিষয়? বাইবেল বলে: “ধর্ম্মে ও অধর্ম্মে পরস্পর কি সহযোগিতা? অন্ধকারের সহিত দীপ্তিরই বা কি সহভাগিতা?” (২ করিন্থীয় ৬:১৪) একটা গাছের পেঁচিয়ে যাওয়া কাণ্ডের মতো বড়োদিন মিথ্যা ধর্মের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে  রয়েছে যে, তা আর “সোজা করা যায় না।”—উপদেশক  ১:১৫. ▪ (w১৫-E ১২/০১)