সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  অক্টোবর ২০১৫

 প্রচ্ছদ বিষয় | দুশ্চিন্তার সঙ্গে মোকাবিলা করা

দুশ্চিন্তার কারণ যখন বিপদ

দুশ্চিন্তার কারণ যখন বিপদ

“সাইরেনের শব্দ শোনার সঙ্গেসঙ্গে ভয়ে আমার বুক কাঁপতে শুরু করে আর আমি বোমার আঘাত থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকি,” আলোনা বলেন। “কিন্তু, সেখানেও দুশ্চিন্তার হাত থেকে রেহাই পাই না। অবস্থা আরও বেশি খারাপ হয়, যখন আমি বাইরে থাকি, যেখানে লুকানোর কোনো জায়গা নেই। একবার, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আমি কাঁদতে শুরু করি এবং আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। শান্ত হতে আমার কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। তারপর আবার সাইরেন বাজতে শুরু করে।”

আলোনা

যুদ্ধ ছাড়াও আমাদের বিপদের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, আপনি যখন জানতে পারেন যে, আপনার নিজের অথবা কোনো প্রিয়জনের গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে, তখন আপনার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। আবার অন্যেরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুশ্চিন্তা করতে পারে। তারা চিন্তা করে, ‘আমাদের সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিদের কি যুদ্ধ, অপরাধ, দূষণ, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মহামারীতে পূর্ণ এক জগতে বাস করতে হবে?’ কীভাবে আমরা এইরকম দুশ্চিন্তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারি?

মন্দ বিষয়গুলো যেকোনো সময় ঘটতে পারে, তা জেনে “সতর্ক লোক বিপদ দেখিয়া আপনাকে লুকায়।” (হিতোপদেশ ২৭:১২) আমাদের শারীরিক মঙ্গলের চেষ্টা করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের মন ও হৃদয়কে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারি। দৌরাত্ম্যপূর্ণ আমোদপ্রমোদ আর এমনকী ভয়ঙ্কর ছবিসহ সংবাদও আমাদের নিজেদের এবং সন্তানদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। দৌরাত্ম্যমূলক ছবিগুলো এড়িয়ে চলার অর্থ এটা নয় যে, আমরা বাস্তব বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করছি। মন্দ বিষয়গুলো দিয়ে মনকে পূর্ণ করার জন্য ঈশ্বর আমাদের  মস্তিষ্ক সৃষ্টি করেননি। এর পরিবর্তে, আমাদের মনকে “সত্য, . . . ন্যায্য, . . . বিশুদ্ধ, . . . প্রীতিজনক” বিষয়গুলো দিয়ে পূর্ণ রাখতে হবে। তা করলে, “শান্তির ঈশ্বর” আমাদের মন ও হৃদয়ে শান্তি দেবেন।—ফিলিপীয় ৪:৮, ৯.

প্রার্থনার গুরুত্ব

প্রকৃত বিশ্বাস আমাদেরকে দুশ্চিন্তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। বাইবেল আমাদের ‘প্রার্থনার নিমিত্ত প্রবুদ্ধ থাকিবার’ জন্য জোরালো পরামর্শ দেয়। (১ পিতর ৪:৭) পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা ঈশ্বরের কাছে তাঁর সাহায্য আর সেইসঙ্গে প্রজ্ঞা ও সাহস চাইতে পারি। তা করার সময় আমরা এই আস্থা রাখতে পারি, “আমরা যাহা যাচ্ঞা করি, তিনি তাহা শুনেন।”—১ যোহন ৫:১৫.

স্বামী অভির সঙ্গে

বাইবেল বর্ণনা করে, ঈশ্বর নন বরং শয়তান হল “এ জগতের অধিপতি” আর “সমস্ত জগৎ সেই পাপাত্মার মধ্যে [“শয়তানের ক্ষমতার নীচে,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন] শুইয়া রহিয়াছে।” (যোহন ১২:৩১; ১ যোহন ৫:১৯) তাই, যিশু যখন প্রার্থনা করতে শিখিয়েছিলেন: “মন্দ [“শয়তানের হাত,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন] হইতে রক্ষা কর,” তখন তিনি কোনো রূপক অভিব্যক্তি ব্যবহার করেননি। (মথি ৬:১৩) আলোনা বলেন, “যখনই সাইরেনের শব্দ শুরু হয়, তখনই আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করি, যাতে তিনি আমার অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করেন। এ ছাড়া, আমার স্বামী আমাকে টেলিফোন করেন এবং আমার সঙ্গে প্রার্থনা করেন। প্রার্থনা সত্যিই সাহায্য করে।” ঠিক যেমন বাইবেল বলে: “সদাপ্রভু সেই সকলেরই নিকটবর্ত্তী, যাহারা তাঁহাকে ডাকে, যাহারা সত্যে [“অন্তর দিয়ে,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন] তাঁহাকে ডাকে।”—গীতসংহিতা ১৪৫:১৮.

ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আশা

পর্বতেদত্ত উপদেশে যিশু তাঁর অনুসারীদের প্রার্থনা করতে শিখিয়েছিলেন: “তোমার রাজ্য আইসুক।” (মথি ৬:১০) ঈশ্বরের রাজ্য যেকোনো দুশ্চিন্তা চিরকালের জন্য দূর করে দেবে। “শান্তিরাজ” যিশুর মাধ্যমে ঈশ্বর “পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত যুদ্ধ নিবৃত্ত” করবেন। (যিশাইয় ৯:৬; গীতসংহিতা ৪৬:৯) “তিনি [ঈশ্বর] অনেক জাতির মধ্যে বিচার করিবেন, . . . এক জাতি অন্য জাতির বিপরীতে আর খড়্গ তুলিবে না, তাহারা আর যুদ্ধ শিখিবে না। . . . কেহ তাহাদিগকে ভয় দেখাইবে না।” (মীখা ৪:৩, ৪) সুখী পরিবারগুলো “গৃহ নির্ম্মাণ করিয়া তাহার মধ্যে বসতি করিবে, দ্রাক্ষাক্ষেত্র প্রস্তুত করিয়া তাহার ফল ভোগ করিবে।” (যিশাইয় ৬৫:২১) “আর নগরবাসী কেহ বলিবে না, আমি পীড়িত।”—যিশাইয় ৩৩:২৪.

বর্তমানে, অনেক সতর্ক থাকার পরও সবসময় ‘দৈবকে’ প্রতিরোধ করা অর্থাৎ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকা এড়ানো সম্ভব নয়। (উপদেশক ৯:১১) শত শত বছর ধরে যুদ্ধ, দৌরাত্ম্য এবং রোগব্যাধি ভালো লোকেদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। সেই নির্দোষ ব্যক্তিদের জন্য কোন আশা রয়েছে?

সেই লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি আবারও বেঁচে উঠবে, যাদের সংখ্যা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন। এখন তারা ঘুমিয়ে রয়েছে এবং ঈশ্বরের স্মৃতিতে সুরক্ষিত রয়েছে। তারা ততদিন পর্যন্ত সেই অবস্থায় থাকবে, যতদিন না ‘কবরস্থ সকলে বাহির হইয়া আইসে।’ (যোহন ৫:২৮, ২৯) পুনরুত্থান সম্বন্ধে বলার সময় বাইবেল আমাদের এই আশ্বাস দেয়: “আমাদের সেই প্রত্যাশা আছে, তাহা প্রাণের লঙ্গরস্বরূপ, অটল ও দৃঢ়।” (ইব্রীয় ৬:১৯) আর ঈশ্বর “সকলের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিয়াছেন, ফলতঃ মৃতগণের মধ্য হইতে [যিশুকে] উঠাইয়াছেন।”—প্রেরিত ১৭:৩১.

বর্তমানে যারা ঈশ্বরকে খুশি করার চেষ্টা করে, তাদের জীবনেও দুশ্চিন্তা থাকবে। ব্যাবহারিক পদক্ষেপ নেওয়ার, প্রার্থনায় ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়ার এবং ভবিষ্যতের বিষয়ে বাইবেলের আশার উপর বিশ্বাস গড়ে তোলার মাধ্যমে পল, জ্যানেট এবং আলোনা দুশ্চিন্তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পেরেছেন। তাদের মতো ‘প্রত্যাশার ঈশ্বর আপনাদিগকেও বিশ্বাস দ্বারা সমস্ত আনন্দে ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করুন।’—রোমীয় ১৫:১৩. ▪ (w15-E 07/01)