সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  জুলাই ২০১৫

 প্রচ্ছদ বিষয়

শেষ কি খুব কাছেই?

শেষ কি খুব কাছেই?

বর্তমানে মানুষ একে অপরের উপর কর্তৃত্ব করছে ও সেইসঙ্গে মানবজাতির ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। ঈশ্বর কি এই অবস্থা ক্রমাগত চলতে দেবেন? না, ইতিমধ্যেই আমরা যেমন দেখেছি, শত শত বছর ধরে চলতে থাকা দুর্দশা ও অত্যাচার শেষ করার জন্য তিনি পদক্ষেপ নেবেন। মানুষ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা চান যেন আপনি জানতে পারেন যে, খুব শীঘ্রই তিনি পদক্ষেপ নেবেন। কীভাবে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্ঞান প্রকাশ করেন?

এই উদাহরণ বিবেচনা করুন: আপনি যখন কোনো জায়গায় যেতে চান, তখন আপনি হয়তো প্রথমে ইন্টারনেটে খোঁজখবর নেন, মানচিত্র দেখেন অথবা লিখিত নির্দেশিকাপুস্তক পরীক্ষা করেন। এরপর, পথে যাওয়ার সময় নির্দেশনা অনুযায়ী আপনি যখন বিভিন্ন চিহ্ন ও দিকনির্দেশ দেখতে পান, তখন নিশ্চিত হন যে, আপনি আপনার গন্তব্যের একেবারে কাছেই আছেন। একইভাবে, ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর বাক্য প্রদান করেছেন, যেটি জগতের লক্ষণীয় বিষয় সম্বন্ধে বর্ণনা করে। এই লক্ষণীয় ঘটনাগুলো দেখে আমরা নিশ্চিত হই যে, আমরা সেই সময়কালেই রয়েছি, যেটা শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাইবেল বলে, জগতের ইতিহাস এক অদ্বিতীয় ও গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা শেষ আসার মাধ্যমে সমাপ্ত হবে। সেই সময় বিশ্বব্যাপী যে-ঘটনা এবং পরিস্থিতিগুলো দেখা যাবে, সেগুলো মানব ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। সেই সময়ের কিছু বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করুন, যেগুলোর বিষয়ে ঈশ্বরের বাক্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

১. পৃথিবীব্যাপী বড়ো বড়ো পরিবর্তন মথি ২৪ অধ্যায়ে উল্লেখিত একটা ভবিষ্যদ্‌বাণীতে পৃথিবীর বিভিন্ন ঘটনার এক তালিকা রয়েছে, যেগুলো একটা যৌগিক চিহ্নকে নির্দেশ করে। সেই চিহ্ন দেখাবে যে, আমরা ‘যুগান্তে’ রয়েছি এবং সেইসঙ্গে বুঝতে সাহায্য করবে, কখন “শেষ উপস্থিত হইবে।” (৩, ১৪ পদ) চিহ্নের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, বড়ো বড়ো যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, স্থানে স্থানে ভূমিকম্প, অধর্মের বৃদ্ধি, প্রেমের অভাব এবং লোকেদের ভ্রান্ত করার জন্য ধর্মীয় নেতাদের চতুরতা। (৬-২৬ পদ) অবশ্য, শত শত বছর ধরে এইরকম অনেক ঘটনাই ঘটেছে, তবে এতটা বড়ো আকারে ঘটেনি। কিন্তু, শেষ যতই এগিয়ে আসছে, এই ঘটনাগুলো একেবারে একসঙ্গে একই সংকটময় যুগে দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে পরবর্তী তিনটে সাবধানবাণীমূলক সংকেতও রয়েছে।

২. লোকেদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বাইবেল বলে, ‘শেষ কাল’ অর্থাৎ যে-সময়কাল শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই সময় লোকেদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাবে। এটি বলে: “মনুষ্যেরা আত্মপ্রিয়, অর্থপ্রিয়, আত্মশ্লাঘী, অভিমানী, ধর্ম্মনিন্দক, পিতামাতার অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ, অসাধু, স্নেহরহিত, ক্ষমাহীন, অপবাদক, অজিতেন্দ্রিয়, প্রচণ্ড, সদ্‌বিদ্বেষী, বিশ্বাসঘাতক, দুঃসাহসী, গর্ব্বান্ধ, ঈশ্বরপ্রিয় নয়, বরং বিলাসপ্রিয় হইবে।” (২ তীমথিয় ৩:১-৪) এটা ঠিক, সহমানবদের প্রতি অসম্মান দেখানো নতুন কিছু নয়, কিন্তু কেবল ‘শেষ কালেই’ এই মনোভাব এতটা খারাপ পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, সেই যুগকে উপযুক্তভাবে “বিষম সময়” হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। আপনি কি লোকেদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এইরকম অধঃপতন লক্ষ করেছেন?

৩. পৃথিবীকে নাশ করা হচ্ছে বাইবেল বলে, ঈশ্বর “পৃথিবীনাশকদিগকে নাশ” করবেন। (প্রকাশিত বাক্য ১১:১৮) কোন কোন উপায়ে লোকেরা পৃথিবীকে নাশ করছে? নোহের সময়কাল সম্বন্ধেও একইভাবে বর্ণনা করা হয়েছিল: “তৎকালে পৃথিবী ঈশ্বরের সাক্ষাতে ভ্রষ্ট” বা নষ্ট ছিল, “পৃথিবী দৌরাত্ম্যে পরিপূর্ণ ছিল। আর ঈশ্বর পৃথিবীতে দৃষ্টিপাত করিলেন, আর দেখ, সে ভ্রষ্ট হইয়াছে” বা নষ্ট হয়েছে। তাই, ঈশ্বর সেই কলুষিত সমাজ সম্বন্ধে বলেছিলেন: “আমি . . . তাহাদিগকে বিনষ্ট করিব।” (আদিপুস্তক ৬:১১-১৩) পৃথিবী যে দৌরাত্ম্যে পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, সেটার অসংখ্য প্রমাণ কি আপনি লক্ষ করেছেন? এ ছাড়া, মানুষ ইতিহাসের এক চরম পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে: সমগ্র মানবজীবন শেষ করে দেওয়ার মাধ্যমে আক্ষরিকভাবেই পৃথিবীকে নাশ বা নষ্ট করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তাদের হাতে ভয়ানক অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। আর পৃথিবী আরেকটা উপায়েও নষ্ট হচ্ছে। পৃথিবীতে জীবনকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে-বিষয়গুলো অপরিহার্য, যেমন বাতাস, প্রাণী ও উদ্ভিদের বাস্তুসংস্থান, সেগুলো মানুষের অব্যবস্থাপনার কারণে ক্রমান্বয়ে নষ্ট হচ্ছে।

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘মাত্র এক-শো বছর আগেও মানুষের কি নিজেদের পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করার মতো কোনো ক্ষমতা  ছিল?’ না। কিন্তু, এখন মানুষ সেই ক্ষমতা ব্যবহার করছে। কীভাবে? উন্নত অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার এবং পরিবেশকে নষ্ট করার মাধ্যমে। প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতি এতটা এগিয়ে গিয়েছে যে, এর ফলে যে-মারাত্মক পরিণতিগুলো আসতে পারে, সেগুলো মানুষ বুঝতে পারে না বা সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণও করতে পারে না। কিন্তু পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ধারণ অথবা নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার মানুষের নেই। ঈশ্বর এই পৃথিবী থেকে সমস্ত প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হতে দেবেন না, বরং এর আগেই তিনি তাদের ধ্বংস করবেন, যারা পৃথিবীকে ধ্বংস করছে। এটাই হচ্ছে তাঁর প্রতিজ্ঞা!

৪. বিশ্বব্যাপী প্রচার কাজ শেষ সম্বন্ধীয় চিহ্নের আরেকটা অংশে ভবিষ্যদ্‌বাণী করা হয়েছিল যে, সেইসময় এক উল্লেখযোগ্য কাজ করা হবে: “সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে; আর তখন শেষ উপস্থিত হইবে।” (মথি ২৪:১৪) এই প্রচার অভিযান, শত শত বছর ধরে অধিকাংশ ধর্ম যে-প্রচার কাজ করে এসেছে, সেটা থেকে পুরোপুরি আলাদা। শেষকালে একটা নির্দিষ্ট বার্তার উপর জোর দেওয়া হবে আর সেটা হল ‘রাজ্যের সুসমাচার।’ আপনি কি এমন কোনো ধর্মীয় দল সম্বন্ধে জানেন, যারা এই নির্দিষ্ট বার্তা তুলে ধরে? আর কেউ যদি এই বার্তা সম্বন্ধে প্রচার করেও থাকে, তারা কি “সর্ব্ব জাতির কাছে সাক্ষ্য দিবার নিমিত্ত . . . সমুদয় জগতে” এই সুসমাচার ছড়িয়ে দিচ্ছে, নাকি শুধু নিজেদের এলাকায় প্রচার করছে?

পৃথিবীব্যাপী শত শত ভাষায় ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে প্রচার করা হচ্ছে

www.jw.org ওয়েবসাইট ‘রাজ্যের এই সুসমাচারের’ উপর জোর দেয়। এই ওয়েবসাইটে যে-সাহিত্যগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো ৭০০-রও বেশি ভাষায় এই বার্তা তুলে ধরে। আপনি কি অন্য কোনো প্রচার অভিযান সম্বন্ধে জানেন, যেখানে এতটা ব্যাপকভাবে রাজ্যের সুসমাচারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে? এমনকী ইন্টারনেট আসারও অনেক আগে যিহোবার সাক্ষিরা ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। ১৯৩৯ সাল থেকে প্রকাশিত প্রহরীদুর্গ পত্রিকার প্রতিটা সংখ্যার প্রচ্ছদে এই কথাগুলো রয়েছে, “যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে।” বিভিন্ন ধর্মের উপর লেখা একটা বইয়ে বলা হয়েছে, যিহোবার সাক্ষিদের প্রচার কাজ “যতটা জোরকদমে এবং যতটা ব্যাপক মাত্রায় করা হচ্ছে, সেটার সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা হয় না।” সাক্ষ্য দেওয়ার কাজ এই সুসমাচারের উপর জোর দেয় যে, ঈশ্বরের রাজ্যের মাধ্যমে খুব শীঘ্র “শেষ উপস্থিত হইবে।”

জগতের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুতর সময়

আপনি কি লক্ষ করেছেন, এই প্রবন্ধে উল্লেখিত বাইবেলের চারটে সাবধানবাণীমূলক সংকেতই আপনার জীবনকালে দেখা যাচ্ছে? এক-শো বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পত্রিকা এর পাঠকদের এই জগতের বিভিন্ন ঘটনা সম্বন্ধে জানিয়ে আসছে, যাতে তারা নিজেরা পরীক্ষা করে দেখতে পারে যে, শেষ কত কাছে। অবশ্য, কিছু সন্দেহবাদী এই ধারণার সঙ্গে একমত নয়। তারা মনে করে, ঘটনা ও পরিসংখ্যানগুলো নিজস্ব মতামতের উপর ভিত্তি করে হয়ে  থাকে আর এগুলো নিজেদের স্বার্থেও কাজে লাগানো যেতে পারে। এ ছাড়া তারা দাবি করে, যেহেতু বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে, তাই এর মাধ্যমে এখন লোকেরা আরও সহজে জানতে পারছে যে, জগতের অবস্থা খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে, দিন দিন এই প্রমাণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, আমরা মানুষের ইতিহাসের এক উল্লেখযোগ্য সময়ের শেষে বাস করছি।

কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই পৃথিবীতে বড়ো বড়ো পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। ২০১৪ সালে কিছু বিজ্ঞানী, মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে এমন বিভিন্ন গুরুতর বিপদ সম্বন্ধে এই রিপোর্ট দিয়েছিল: “এই বিপদগুলো নিয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা করে আমরা এই উপসংহারে পৌঁছেছি যে, মানবসভ্যতার জন্য হুমকি স্বরূপ এমন প্রযুক্তির কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি।” দিন দিন আরও অনেক লোক এই বিষয়ে নিশ্চিত হচ্ছে যে, আমরা জগতের ইতিহাসের এক গুরুতর সময়ে পৌঁছেছি। এই পত্রিকার প্রকাশক এবং অনেক পাঠকের কোনো সন্দেহ নেই, এই অদ্বিতীয় সময়কালই হচ্ছে শেষকাল আর শেষ খুব কাছেই। কিন্তু, ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে বরং এর ফলাফল সম্বন্ধে জেনে আপনি আনন্দিত হতে পারেন। কেন? কারণ আপনি শেষ থেকে রক্ষা পেতে পারেন! (w১৫-E ০৫/০১)