সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  এপ্রিল ২০১৫

 প্রচ্ছদ বিষয় | দুর্নীতিবিহীন এক সরকার

সরকারি কাজে দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব

সরকারি কাজে দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব

সরকারি কাজে দুর্নীতি বলতে বোঝায়, নিজের স্বার্থে জনগণের ক্ষমতার অপব্যবহার করা। ক্ষমতার এইরকম অপব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। উদাহরণ স্বরূপ বাইবেলে এক আইন রয়েছে, যা বিচার সংক্রান্ত কাজে উৎকোচ বা ঘুস নিতে বারণ করে আর এটা দেখায়, এই কাজ ৩,৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচিত। (যাত্রাপুস্তক ২৩:৮) তবে এটা ঠিক, দুর্নীতির সঙ্গে ঘুস নেওয়া ছাড়া আরও বেশি কিছু জড়িত। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তারা কখনো কখনো জিনিসপত্র হরণ করে, অনৈতিক উপায়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করে অথবা এমনকী তহবিল থেকে সরাসরি চুরি করে। এ ছাড়া, তারা তাদের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য অন্যায়ভাবে তাদের পদমর্যাদাকে ব্যবহার করে।

যদিও যেকোনো সংগঠনের মধ্যেই দুর্নীতি থাকতে পারে, তবে সরকারি কাজে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি রয়েছে বলেই মনে করা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক ২০১৩ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল কোরাপশন ব্যারোমিটার-এর রিপোর্ট অনুসারে, সারা বিশ্বে লোকেরা মনে করে, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত পাঁচটা বিভাগ হল রাজনৈতিক দল, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, বিধানমন্ডল এবং বিচার বিভাগ। কয়েকটা রিপোর্ট বিবেচনা করুন, যেগুলো তুলে ধরে যে, এই সমস্যা কতটা গুরুতর।

  • আফ্রিকা: ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ২২,০০০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

  • দক্ষিণ আমেরিকা: ২০১২ সালে ব্রাজিলে ২৫ জন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করার জন্য সরকারি তহবিলের অর্থ ব্যবহার করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির সেনাপ্রধান, সেই দেশের দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি।

  • এশিয়া: ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে একটা ডিপার্টমেন্ট স্টোর ধসে পড়ায় ৫০২ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিল, সেই শহরের কর্মকর্তাদের ঘুস দেওয়া হয়েছিল যাতে তারা নির্মাণকর্মীদের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার এবং সুরক্ষা বিধি ভঙ্গ করার অনুমতি দেয়।

  • ইউরোপ: ইউরোপীয়ান কমিশন হোম অ্যাফেয়ার্স কমিশনার সিসিলিয়া মাল্মস্ট্রোমের মতে, “এই সমস্যার [ইউরোপে দুর্নীতির] বিস্তৃতি অবাক করার মতো।” তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতি উচ্ছেদ করার মতো রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নেই বললেই চলে।”

সরকারি কাজে দুর্নীতির শিকড় বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। দুর্নীতিদমন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সুজান রোজ-একারম্যান লেখেন, “সরকার যেভাবে ব্যাবসা করে থাকে, তাতে বিপ্লব” আনতে হবে। এই পরিস্থিতিকে যদিও আশাহীন বলে মনে হতে পারে, তবে বাইবেল দেখায়, আমূল পরিবর্তন যে শুধু সম্ভব তা-ই নয়, এটা অবশ্যই ঘটবে। (w১৫-E ০১/০১)