সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  জানুয়ারি ২০১৫

“মানুষের বুদ্ধি তাহাকে ক্রোধে ধীর করে”

“মানুষের বুদ্ধি তাহাকে ক্রোধে ধীর করে”

একটা কলেজের বাস্কেটবলের কোচকে তার অনিয়ন্ত্রিত রাগের কারণে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

একটা সন্তান তার জেদ পূরণ না হওয়ায় প্রচণ্ড রেগে যায়।

একজন মা এবং তার ছেলে পরস্পরের সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলতে শুরু করেন কারণ তার ছেলে ঘরকে অনেক নোংরা করে রেখেছে।

আমরা সকলে প্রায়ই আমাদের চারপাশের লোকেদের রেগে যেতে দেখি আর এতে কোনো সন্দেহ নেই, কোনো না কোনো সময়ে আমরা নিজেরাও রেগে যাই। যদিও রাগকে আমরা হয়তো এমন এক নেতিবাচক অনুভূতি হিসেবে দেখি, যা দমন করা উচিত, তবুও প্রায়ই আমরা এইরকমটা মনে করে থাকি যে, রাগ করার পিছনে উপযুক্ত কারণ রয়েছে, বিশেষভাবে যখন কেউ আমাদের ন্যায়বিচারের মানকে উপেক্ষা করে বলে আমরা মনে করি। অ্যামেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন সংগঠনের দ্বারা একটা প্রবন্ধ এমনকী এই পরামর্শ দেয়, “রাগ মানুষের খুবই স্বাভাবিক অনুভূতি, যা সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারজনক।”

এই দৃষ্টিভঙ্গিকে হয়তো সেই সময় আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হতে পারে, যখন আমরা ঈশ্বরের অনুপ্রেরণায় লেখা খ্রিস্টান প্রেরিত পৌলের কথাগুলো বিবেচনা করি। যদিও তিনি স্বীকার করেছিলেন, কোনো কোনো সময়ে লোকেরা হয়তো রেগে যেতে পারে কিন্তু তিনি বলেছিলেন: “ক্রুদ্ধ হইলে পাপ করিও না; সূর্য্য অস্ত না যাইতে যাইতে তোমাদের কোপাবেশ শান্ত হউক।” (ইফিষীয় ৪:২৬) এই শাস্ত্রপদের ভিত্তিতে আমাদের কি রাগ প্রকাশ করা উচিত, নাকি রাগ দমন করার জন্য যথাসাধ্য করা উচিত?

আপনার কি রাগ প্রকাশ করা উচিত?

পৌল যখন রাগ সম্বন্ধে সেই পরামর্শ দিয়েছিলেন, তখন তার মনে হয়তো গীতরচকের এই কথাগুলো ছিল, যিনি লিখেছিলেন: “তোমরা উত্তেজিত হয়ে পাপ কোরো না।” (গীতসংহিতা ৪:৪, বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন) কিন্তু, ঈশ্বরের অনুপ্রেরণায় লেখা পৌলের এই উপদেশের উদ্দেশ্য কী ছিল? তিনি আরও বলেছিলেন: “সর্ব্বপ্রকার কটুকাটব্য, রোষ, ক্রোধ, কলহ, নিন্দা এবং সর্ব্বপ্রকার হিংসেচ্ছা তোমাদের হইতে দূরীকৃত হউক।” (ইফিষীয় ৪:৩১) পৌল আসলে খ্রিস্টানদেরকে রাগের কাছে নতিস্বীকার করা এড়িয়ে চলার জন্য উৎসাহিত করছিলেন। আগ্রহের বিষয় হল, অ্যামেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন সংগঠনের সেই প্রবন্ধ আরও বলে: “গবেষণা দেখায় যে, ‘রাগ প্রকাশ করা’ আসলে রাগ এবং আক্রমণাত্মক মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে দেয় আর তা কোনোভাবেই . . . পরিস্থিতিকে শান্ত করে না।”

তাহলে, কীভাবে আমরা রাগকে এবং এর সমস্ত মন্দ প্রভাবকে “দূরীকৃত” করতে পারি? প্রাচীন ইস্রায়েলের বিজ্ঞ রাজা শলোমন লিখেছিলেন: “মানুষের বুদ্ধি তাহাকে ক্রোধে ধীর করে, আর দোষ ছাড়িয়া দেওয়া তাহার শোভা।” (হিতোপদেশ ১৯:১১) মানুষ যখন রেগে যায়, তখন “মানুষের বুদ্ধি” কীভাবে সাহায্য করে?

 যেভাবে বুদ্ধি ক্রোধকে ধীর করে

বুদ্ধি হল এমন ক্ষমতা, যা কোনো পরিস্থিতিকে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে। আমরা যখন অসন্তুষ্ট হই বা রেগে যাই, তখন কীভাবে বুদ্ধি আমাদের সাহায্য করে?

আমরা যখন কোনো অবিচার দেখি, তখন আমরা হয়তো রেগে যাই। কিন্তু, সেইসময় আমরা যদি রাগ প্রকাশ করে হিংস্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাই, তাহলে আমরা হয়তো নিজেদের অথবা অন্যদের আঘাত করতে পারি। নিয়ন্ত্রণ করা না হলে আগুন যেমন একটা বাড়িকে পুড়িয়ে ফেলতে পারে, তেমনই রাগ হয়তো আমাদের সুনামকে এবং অন্যদের সঙ্গে, এমনকী ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই, আমরা যখন রেগে যাই, তখন পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। কী ঘটছে সেটার সম্পূর্ণ চিত্রটা যদি আমরা বোঝার চেষ্টা করি, তাহলে নিশ্চিতভাবে এটা আমাদের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।

শলোমনের বাবা রাজা দায়ূদ, নাবল নামে একজন ব্যক্তিকে হত্যা না করার মাধ্যমে অল্পের জন্য রক্তপাতের দোষ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। কেন? কারণ তাকে পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য সাহায্য করা হয়েছিল। দায়ূদ ও তার লোকেরা যিহূদিয়া প্রান্তরে নাবলের মেষপালকে রক্ষা করেছিলেন। যখন মেষের লোমকাটার সময় এসেছিল, তখন দায়ূদ নাবলের কাছে কিছু খাবার চেয়েছিলেন। সেইসময় নাবল উত্তর দিয়েছিলেন: “আমি কি আপনার রুটী, জল ও আপন মেষ-লোমচ্ছেদকদের জন্য সে সকল পশু মারিয়াছি, তাহাদের মাংস লইয়া অজ্ঞাত কোথাকার লোকদিগকে দিব?” কতই-না চরম অপমান! এই কথাগুলো শোনার পর দায়ূদ প্রায় ৪০০ জন লোক নিয়ে নাবল ও তার পরিবারকে হত্যা করার জন্য রওনা দিয়েছিলেন।—১ শমূয়েল ২৫:৪-১৩.

নাবলের স্ত্রী অবীগল এই ঘটনা সম্বন্ধে জানতে পেরে দায়ূদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। দায়ূদ ও তার লোকেদের সঙ্গে যখন দেখা হয়েছিল, তখন তিনি দায়ূদের পায়ে পড়ে বলেছিলেন: “বিনয় করি, আপনার দাসীকে আপনার কর্ণগোচরে কথা কহিবার অনুমতি দিউন; আর আপনি আপনার দাসীর কথা শ্রবণ করুন।” এরপর, তিনি দায়ূদের কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন, নাবল কতটা মূর্খ ছিলেন ও সেইসঙ্গে তিনি এও উল্লেখ করেছিলেন, দায়ূদ যদি প্রতিশোধ নেন এবং হত্যা করেন, তাহলে তাকে পরে অনুশোচনা করতে হবে।—১ শমূয়েল ২৫:২৪-৩১.

অবীগলের কথা থেকে দায়ূদ কোন বুদ্ধি লাভ করেছিলেন, যেটা তাকে সেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে শান্ত করতে সাহায্য করেছিল? প্রথমে, তিনি দেখেছিলেন যে, নাবল একজন মূর্খস্বভাবের ব্যক্তি ছিলেন আর দ্বিতীয়ত, দায়ূদ দেখেছিলেন, তিনি নিজে যদি প্রতিশোধ নেন, তাহলে তিনি রক্তপাতের দোষে দোষী হয়ে পড়তেন। দায়ূদের মতো আপনিও হয়তো কোনো কারণে রেগে আগুন হয়ে যেতে পারেন। তখন আপনার কী করা উচিত? রাগ দমন করা সম্বন্ধে মেয়ো ক্লিনিক-এর একটা প্রবন্ধ বলে, “কিছু সময়ের জন্য গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনুন।” হ্যাঁ, একটু থামুন এবং চিন্তা করুন, সমস্যাটার কারণ কী ও সেইসঙ্গে আপনি যে-পদক্ষেপ নেওয়ার কথা চিন্তা করছেন, সেটার পরিণতি কী হতে পারে। আপনার বুদ্ধির সাহায্যে আপনার ক্রোধকে ধীর করুন, এমনকী সেটাকে দূর করে দিন।—১ শমূয়েল ২৫:৩২-৩৫.

একইভাবে, বর্তমানেও অনেক ব্যক্তিকে তাদের রাগ দমন করতে সাহায্য করা হয়েছে। সেবাস্টিয়ান ব্যাখ্যা করেন, তিনি যখন ২৩ বছর বয়সে পোল্যান্ডের একটা জেলে ছিলেন, তখন কীভাবে বাইবেল অধ্যয়নের মাধ্যমে তার মেজাজ এবং রাগ দমন করতে শিখেছিলেন। “প্রথমে, আমি সমস্যাটা নিয়ে চিন্তা করি,” তিনি বলেন। “এরপর আমি বাইবেলের পরামর্শ কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। আমি দেখেছি, বাইবেল হল সর্বোত্তম নির্দেশিকা।”

বাইবেলের পরামর্শ আপনাকে রাগ দমন করার জন্য সাহায্য করতে পারে

সেটসুও মূলত একই পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তিনি বলেন: “কাজের জায়গায় আমি যখন অন্যদের ওপর বিরক্ত হতাম, তখন আমি তাদের সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলতাম। এখন বাইবেল অধ্যয়ন করার ফলে, চিৎকার করে কথা বলার পরিবর্তে, আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করি: ‘দোষটা আসলে কার? আমিই কি এই সমস্যার কারণ নই?’” এই প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করার মাধ্যমে তিনি তার ক্রোধকে ধীর করতে এবং তার রাগকে দমন করতে সক্ষম হন।

রাগের অনুভূতি হয়তো চরম হতে পারে কিন্তু ঈশ্বরের বাক্যে প্রাপ্ত পরামর্শ এর চেয়ে বেশি শক্তিশালী। বাইবেলের বিজ্ঞ পরামর্শ কাজে লাগানোর এবং ঈশ্বরের সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করার মাধ্যমে আপনিও আপনার বুদ্ধির সাহায্যে ক্রোধকে ধীর করতে বা রাগ দমন করতে পারবেন। ▪ (w১৪-E ১২/০১)

আরও জানুন

ঈশ্বরের কাছ থেকে সুসমাচার!

বাইবেলের নীতিগুলো কীভাবে আমাদের উপকৃত করে?

কেন আমাদের নির্দেশনা প্রয়োজন এবং কোন দুটো নীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা যিশু ব্যাখ্যা করেছিলেন।