সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  জানুয়ারি ২০১৫

 প্রচ্ছদ বিষয় | আপনি সৃষ্টিকর্তার নিকটবর্তী হতে পারেন

আপনি কি ঈশ্বরের সঙ্গে ভাববিনিময় করেন?

আপনি কি ঈশ্বরের সঙ্গে ভাববিনিময় করেন?

সরাসরি অথবা টেলিফোন, ই-মেল, ভিডিও বা চিঠি, যেটার মাধ্যমেই হোক না কেন, ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা যতটুকু সম্ভব প্রায়ই পরস্পরের সঙ্গে ভাববিনিময় করে থাকে। তাই, ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য আমাদের নিয়মিতভাবে তাঁর সঙ্গে ভাববিনিময় করতে হবে। কিন্তু, কীভাবে তা করা যেতে পারে?

প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা যিহোবার সঙ্গে কথা বলে থাকি। তবে, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা এমন সাধারণ কথাবার্তা নয়, যা হয়তো আমরা কোনো সঙ্গীর সঙ্গে বলে থাকি। আমাদের বুঝতে হবে, আমরা যখন প্রার্থনা করি, তখন আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তা অর্থাৎ নিখিলবিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছি। আর এই কারণে আমাদের গভীর সম্মান ও সশ্রদ্ধ ভয় সহকারে তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত। আমরা যদি চাই যে, ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনা শুনুক, তাহলে আমাদের কিছু নির্দিষ্ট চাহিদাও পূরণ করা উচিত। এখানে তিনটে চাহিদা সম্বন্ধে উল্লেখ করা হল।

প্রথমত, সরাসরি যিহোবা ঈশ্বরের কাছেই প্রার্থনা করতে হবে—যিশুর কাছে, কোনো ‘সাধুর’ কাছে অথবা কোনো প্রতিমার কাছে নয়। (যাত্রাপুস্তক ২০:৪, ৫) বাইবেল স্পষ্টভাবে বলে: “সর্ব্ববিষয়ে প্রার্থনা ও বিনতি দ্বারা ধন্যবাদ সহকারে তোমাদের যাচ্ঞা সকল ঈশ্বরকে জ্ঞাত কর।” (ফিলিপীয় ৪:৬) দ্বিতীয়ত, ঈশ্বরের পুত্র যিশু খ্রিস্টের নামে প্রার্থনা শেষ করতে হবে। যিশু নিজে বলেছিলেন: “আমা দিয়া না আসিলে কেহ পিতার নিকটে আইসে না।” (যোহন ১৪:৬) তৃতীয়ত, আমাদের প্রার্থনা ঈশ্বরের ইচ্ছানুযায়ী হতে হবে। বাইবেল বলে: “যদি তাঁহার ইচ্ছানুসারে কিছু যাচ্ঞা করি, তবে তিনি আমাদের যাচ্ঞা শুনেন।” *১ যোহন ৫:১৪.

দু-জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু যতটা সম্ভব পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেন

অবশ্য, একজন ব্যক্তিই যদি সমস্ত কথা চালিয়ে যান, তাহলে সেই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব বেশি দিন টিকে থাকে না। ঠিক যেমন দু-জন বন্ধু পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেন, তেমনই আমাদেরও ঈশ্বরকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিত এবং তিনি যখন কথা বলেন, তখন তা শোনা উচিত। আপনি কি জানেন, ঈশ্বর কীভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন?

বর্তমানে, যিহোবা ঈশ্বর তাঁর লিখিত বাক্য বাইবেলের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে ‘কথা বলেন।’ (২ তীমথিয় ৩:১৬, ১৭) কেন আমরা তা বলতে পারি? উদাহরণ স্বরূপ: ধরুন আপনি আপনার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছ থেকে একটা চিঠি পেয়েছেন। সেই চিঠি পড়ার সময় আপনি এমন বোধ করেন যেন আপনার বন্ধু আপনার সঙ্গে কথা বলছেন, যদিও তিনি সেখানে উপস্থিত নেই। একইভাবে, বাইবেল পড়ার মাধ্যমে আপনি যিহোবাকে আপনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন। তাই, প্রথম প্রবন্ধে উল্লেখিত জিনা বলেন, “আমি যদি চাই যে, ঈশ্বর আমাকে একজন বন্ধু হিসেবে দেখেন, তাহলে আমাকে অবশ্যই তাঁর কাছ থেকে পাওয়া ‘চিঠিটা’ অর্থাৎ বাইবেল পরীক্ষা করে দেখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “রোজ বাইবেল পড়ার মাধ্যমে আমি ঈশ্বরের আরও নিকটবর্তী হতে পারছি।” প্রতিদিন অর্থাৎ রোজ তাঁর বাক্য বাইবেল পড়ার মাধ্যমে আপনি কি যিহোবাকে আপনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেন? তা করা আপনাকে ঈশ্বরের আরও নিকটবর্তী বোধ করতে সাহায্য করবে। (w১৪-E ১২/০১)

^ অনু. 5 কীভাবে প্রার্থনায় ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়া যায়, সেই সম্বন্ধে আরও তথ্য জানার জন্য যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়? বইয়ের ১৭ অধ্যায় দেখুন।