সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  জানুয়ারি ২০১৫

 একজন প্রতিবেশীর সঙ্গে আলোচনা কখন

কখন ঈশ্বরের রাজ্য শাসন করতে শুরু করে? (১ম ভাগ)

কখন ঈশ্বরের রাজ্য শাসন করতে শুরু করে? (১ম ভাগ)

উল্লেখিত আলোচনাটা হল এক সাধারণ কথোপকথন, যা একজন যিহোবার সাক্ষি এবং এক প্রতিবেশীর মধ্যে হতে পারে। কল্পনা করুন, মাইকেল নামে একজন সাক্ষি, জন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে এসেছেন।

বোঝার জন্য ‘অনুসন্ধান করিয়া’ চলুন

মাইকেল: জন, বাইবেল সম্বন্ধে আমরা নিয়মিতভাবে যে-আলোচনা করি, তা আমার সত্যিই খুব ভালো লাগে। * গতবার, আপনি ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলেন। আপনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন যিহোবার সাক্ষিরা বিশ্বাস করে যে, সেই রাজ্য ১৯১৪ সালে শাসন করতে শুরু করেছে।

জন: হ্যাঁ, আমি আপনাদের একটা প্রকাশনায় পড়েছি, ঈশ্বরের রাজ্য ১৯১৪ সালে শাসন করতে শুরু করেছে। এতে আমি কিছুটা অবাক হয়েছি কারণ আপনারা বলেন, আপনাদের সমস্ত বিশ্বাসের ভিত্তি হল বাইবেল।

মাইকেল: হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন।

জন: আমি নিজে বাইবেল পড়েছি। কিন্তু, আমার মনে পড়ে না যে, আমি এমন কোনো শাস্ত্রপদ দেখেছি, যেখানে ১৯১৪ সালের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই, আমি অনলাইনেও একটা বাইবেলে ১৯১৪ সাল সম্বন্ধে খুঁজে দেখেছি কিন্তু শাস্ত্রে একবারও এর কোনো উল্লেখ পাইনি।

মাইকেল: জন, আমি দুটো কারণের জন্য আপনার প্রশংসা করতে চাই। প্রথমত, আপনি পুরো বাইবেল পড়েছেন। এর অর্থ হল, আপনি সত্যিই ঈশ্বরের বাক্যকে ভালোবাসেন।

জন: হ্যাঁ, অবশ্যই। বাইবেলের সঙ্গে অন্য কোনো বইয়ের তুলনা হয় না।

মাইকেল: আমিও আপনার সঙ্গে একমত। আপনাকে প্রশংসা করার দ্বিতীয় কারণটা হল, আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য বাইবেল ব্যবহার করেছেন। বাইবেল আমাদের ঠিক এই বিষয়টা করতেই উৎসাহ দেয়: বোঝার জন্য ‘অনুসন্ধান করিয়া’ চলুন। * আপনার এইরকম প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।

জন: ধন্যবাদ। আমি আরও শিখতে চাই। আসলে, আমি আরও খোঁজাখুঁজি করেছি এবং আমরা যে-বই থেকে আলোচনা করছি, সেখানে ১৯১৪ সাল সম্বন্ধে কিছু তথ্য পেয়েছি। এখানে একজন রাজার স্বপ্নের বিষয়ে বলা আছে—স্বপ্নটা হল একটা প্রকাণ্ড বৃক্ষ সম্বন্ধে, যেটা কেটে ফেলা হয়েছিল এবং পরে সেটা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছিল বা এইরকম কিছু।

মাইকেল: হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। এটা হল এক ভবিষ্যদ্‌বাণী, যা দানিয়েল বইয়ের ৪ অধ্যায়ে রয়েছে। সেখানে বাবিলের রাজা নবূখদ্‌নিৎসরের একটা স্বপ্নের বিষয়ে বলা আছে।

জন: হ্যাঁ, আমি এটার কথাই বলছিলাম। আমি সেই ভবিষ্যদ্‌বাণী বার বার পড়েছি। কিন্তু সত্যি বলতে কী, আমি এখনও বুঝতে পারছি না, ঈশ্বরের রাজ্য অথবা ১৯১৪ সালের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী।

মাইকেল: আসলে, যদিও ভাববাদী দানিয়েল ঈশ্বরের অনুপ্রেরণায় এই কথাগুলো লিখেছিলেন, কিন্তু তিনি নিজেও পুরোপুরিভাবে এর অর্থ বুঝতে পারেননি।

জন: তাই নাকি?

মাইকেল: হ্যাঁ। এখানে দানিয়েল ১২:৮ পদে তিনি কী বলেছেন, দেখুন: “আমি এই কথা শুনিলাম বটে, কিন্তু বুঝিতে পারিলাম না।”

 জন: তার মানে শুধু আমিই যে বুঝতে পারিনি, তা নয়।

মাইকেল: আসলে, দানিয়েল বিষয়টা বুঝতে পারেননি কারণ দানিয়েল বইয়ে যে-সমস্ত ভবিষ্যদ্‌বাণী রয়েছে, সেগুলোর অর্থ মানুষের কাছে প্রকাশ করার জন্য ঈশ্বরের একটা নির্দিষ্ট সময় ছিল, যা তখনও উপস্থিত হয়নি। কিন্তু, আমাদের সময়ে আমরা সেগুলো বুঝতে পারি।

জন: কীভাবে?

মাইকেল: লক্ষ করুন, ঠিক পরের শাস্ত্রপদে কী বলা আছে। দানিয়েল ১২:৯ পদ বলে: “শেষকাল পর্য্যন্ত এই বাক্য সকল রুদ্ধ ও মুদ্রাঙ্কিত থাকিবে।” তাই, এই ভবিষ্যদ্‌বাণী অনেক পরে অর্থাৎ শুধুমাত্র ‘শেষকালেই’ বোঝা যাবে। আর খুব শীঘ্রই আমরা আমাদের বাইবেল অধ্যয়নের মাধ্যমে শিখতে পারব, সমস্ত প্রমাণ দেখায় যে, আমরা এখন সেই সময়েই বাস করছি। *

জন: আপনি কি দানিয়েলের ভবিষ্যদ্‌বাণীটা আমার কাছে ব্যাখ্যা করতে পারবেন?

মাইকেল: আমি চেষ্টা করছি।

নবূখদ্‌নিৎসরের স্বপ্ন

মাইকেল: প্রথমে, আপনাকে সংক্ষেপে বলছি যে, রাজা নবূখদ্‌নিৎসর স্বপ্নে কী দেখেছিলেন। এরপর আমরা দেখব, এর অর্থ কী।

জন: ঠিক আছে।

মাইকেল: নবূখদ্‌নিৎসর তার স্বপ্নে একটা প্রকাণ্ড বৃক্ষ দেখেছিলেন, যা আকাশ পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। পরে তিনি ঈশ্বরের একজন স্বর্গদূতের রব শুনতে পেয়েছিলেন, যিনি আজ্ঞা দিয়েছিলেন যেন বৃক্ষটা কেটে ফেলা হয়। কিন্তু, তিনি বলেছিলেন যেন বৃক্ষের কাণ্ডটা রেখে দেওয়া হয়। “সাত কাল” পরে সেই বৃক্ষ আবার বৃদ্ধি পাবে। * এই ভবিষ্যদ্‌বাণী প্রথমে স্বয়ং রাজা নবূখদ্‌নিৎসরের প্রতি প্রযোজ্য হয়েছিল। যদিও তিনি আকাশ পর্যন্ত দীর্ঘ সেই প্রকাণ্ড বৃক্ষের মতো একজন বিখ্যাত রাজা ছিলেন কিন্তু তাকে ‘সাত কালের’ জন্য ছেদন করা হয়েছিল। আপনার কি মনে পড়ে কী হয়েছিল?

জন: না, আমার ঠিক মনে পড়ছে না।

মাইকেল: কোনো সমস্যা নেই। বাইবেল বলে, নবূখদ্‌নিৎসর “সাত কাল” অর্থাৎ সাত বছরের জন্য মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেই সময়টাতে তিনি রাজা হিসেবে শাসন করতে পারেননি। কিন্তু, সেই সাত কালের শেষে নবূখদ্‌নিৎসর নিজের মানসিক ভারসাম্য ফিরে পেয়েছিলেন এবং আবার শাসন করতে শুরু করেছিলেন। *

জন: আচ্ছা, আমি এই পর্যন্ত বুঝতে পেরেছি। কিন্তু, এর সঙ্গে ঈশ্বরের রাজ্য এবং ১৯১৪ সালের সম্পর্ক কী?

মাইকেল: সংক্ষেপে বললে, এই ভবিষ্যদ্‌বাণীর দুটো পরিপূর্ণতা রয়েছে। প্রথম পরিপূর্ণতা সেই সময়ে হয়েছিল, যখন রাজা নবূখদ্‌নিৎসরের শাসন ব্যাহত হয়েছিল। আর দ্বিতীয় পরিপূর্ণতার সঙ্গে ঈশ্বরের শাসনের ব্যাহত হওয়া জড়িত ছিল। তাই, এই দ্বিতীয় পরিপূর্ণতাটাই ঈশ্বরের রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

জন: কিন্তু, আপনি কীভাবে জানলেন যে, এই ভবিষ্যদ্‌বাণীর দ্বিতীয় পরিপূর্ণতা রয়েছে আর তা ঈশ্বরের রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?

মাইকেল: প্রথমত, এই ভবিষ্যদ্‌বাণীতেই আমরা এর ইঙ্গিত পাই। দানিয়েল ৪:১৭ পদ অনুযায়ী, এই ভবিষ্যদ্‌বাণী করা হয়েছিল, “যেন জীবিত লোকেরা জানিতে পারে যে, মনুষ্যদের রাজ্যে পরাৎপর কর্ত্তৃত্ব করেন, যাহাকে তাহা দিতে ইচ্ছা করেন, তাহাকে তাহা দেন।” আপনি কি ‘মনুষ্যদের রাজ্য,’ এই অভিব্যক্তিটা লক্ষ করেছেন?

জন: হ্যাঁ, এটা বলে, “মনুষ্যদের রাজ্যে পরাৎপর কর্ত্তৃত্ব করেন।”

মাইকেল: একদম ঠিক। আপনার কী মনে হয়, এই “পরাৎপর” কে?

জন: মনে হয় এটা ঈশ্বরের বিষয়ে বলছে।

মাইকেল: ঠিক। তাই, এখান থেকে আমরা জানতে পারি, এই ভবিষ্যদ্‌বাণীটা শুধুমাত্র নবূখদ্‌নিৎসর সম্বন্ধে নয়। এটা ‘মনুষ্যদের রাজ্য’ অর্থাৎ মানবজাতির ওপর ঈশ্বরের শাসনের বিষয়েও বলে। আর আমরা যখন এই ভবিষ্যদ্‌বাণীর প্রসঙ্গ বিবেচনা করি, তখন বিষয়টা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি।

জন: মানে, আপনি কী বলতে চাইছেন?

দানিয়েল বইয়ের মূলভাব

মাইকেল: বাইবেলের দানিয়েল বইটা বার বার একটা মূলভাব সম্বন্ধে উল্লেখ করে। আর তা হল, ঈশ্বরের পুত্র যিশুর শাসনের অধীনে ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতিষ্ঠা। উদাহরণ স্বরূপ, আসুন আমরা কয়েকটা অধ্যায় পিছিয়ে যাই। আপনি কি দানিয়েল ২:৪৪ পদটা পড়বেন?

 জন: অবশ্যই। এটা বলে: “আর সেই রাজগণের সময়ে স্বর্গের ঈশ্বর এক রাজ্য স্থাপন করিবেন, তাহা কখনও বিনষ্ট হইবে না, এবং সেই রাজত্ব অন্য জাতির হস্তে সমর্পিত হইবে না; তাহা ঐ সকল রাজ্য চূর্ণ ও বিনষ্ট করিয়া আপনি চিরস্থায়ী হইবে।”

মাইকেল: ধন্যবাদ। আপনার কী মনে হয়, এই শাস্ত্রপদ কি ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে উল্লেখ করছে?

জন: হুম্‌, আমি ঠিক বলতে পারছি না।

মাইকেল: লক্ষ করুন, এটা বলে, সেই রাজ্য “চিরস্থায়ী হইবে।” এটা ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে সত্য কিন্তু মানুষের রাজ্য সম্বন্ধে কি আমরা এমনটা বলতে পারি?

জন: আমার তা মনে হয় না।

মাইকেল: দানিয়েল বইয়ে আরেকটা ভবিষ্যদ্‌বাণী রয়েছে, যেটা ঈশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে বলে। দানিয়েল ৭:১৩, ১৪ পদে সেই ভবিষ্যদ্‌বাণী রয়েছে। সেই ভবিষ্যদ্‌বাণী একজন ভাবী শাসক সম্বন্ধে বলে: “তাঁহাকে কর্ত্তৃত্ব, মহিমা ও রাজত্ব দত্ত হইল; লোকবৃন্দ, জাতি ও ভাষাবাদীকে তাঁহার সেবা করিতে হইবে; তাঁহার কর্ত্তৃত্ব অনন্তকালীন কর্ত্তৃত্ব, তাহা লোপ পাইবে না, এবং তাঁহার রাজ্য বিনষ্ট হইবে না।” আপনি কি এই ভবিষ্যদ্‌বাণীতে এমন কিছু লক্ষ করেছেন, যা পরিচিত বলে মনে হয়?

জন: এটা একটা রাজ্য সম্বন্ধে বলে।

মাইকেল: একদম ঠিক। আর এটা কিন্তু কোনো সাধারণ রাজ্য নয়। লক্ষ করুন, এই রাজ্য ‘লোকবৃন্দ, জাতি ও ভাষাবাদীর’ ওপর কর্তৃত্ব করবে। অন্য কথায় বললে, এই রাজ্য পৃথিবীব্যাপী শাসন করবে।

জন: আমি বুঝতেই পারিনি যে, এই শাস্ত্রপদের অর্থ এইরকম হতে পারে, তবে আপনি যা বললেন, তা একেবারে ঠিক। এই শাস্ত্রপদ এটাই বলে।

মাইকেল: এ ছাড়া, লক্ষ করুন এই শাস্ত্রপদ আর কী বলে: “তাঁহার কর্ত্তৃত্ব অনন্তকালীন কর্ত্তৃত্ব, তাহা লোপ পাইবে না, এবং তাঁহার রাজ্য বিনষ্ট হইবে না।” এটা অনেকটা দানিয়েল ২:৪৪ পদের ভবিষ্যদ্‌বাণীর মতো, তাই না?

জন: হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলছেন।

মাইকেল: আসুন আমরা সংক্ষেপে দেখি, এতক্ষণ আমরা কী আলোচনা করেছি। দানিয়েল বইয়ের ৪ অধ্যায়ে এই ভবিষ্যদ্‌বাণী করা হয়েছিল, যেন লোকেরা জানতে পারে যে, “মনুষ্যদের রাজ্যে পরাৎপর কর্ত্তৃত্ব করেন।” এই কথাগুলো স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয়, শুধুমাত্র নবূখদ্‌নিৎসরের ঘটনা ছাড়াও এই ভবিষ্যদ্‌বাণীর আরও বড়ো এক পরিপূর্ণতা রয়েছে। আর সমগ্র দানিয়েল বইয়ে আমরা ঈশ্বরের পুত্র যিশুর শাসনের অধীনে ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ভবিষ্যদ্‌বাণীর উল্লেখ পাই। তাহলে, আমরা কী এই উপসংহারে আসতে পারি, দানিয়েল বইয়ের ৪ অধ্যায়ে পাওয়া ভবিষ্যদ্‌বাণী ঈশ্বরের রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?

জন: হ্যাঁ, আমরা তা বলতে পারি। কিন্তু, আমি এখনও ১৯১৪ সালের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছি না।

“সাত কাল ঘুরুক”

মাইকেল: আসুন আমরা নবূখদ্‌নিৎসরের ঘটনায় ফিরে যাই। ভবিষ্যদ্‌বাণীর প্রথম পরিপূর্ণতায় তাকে এক প্রকাণ্ড বৃক্ষ দ্বারা চিত্রিত করা হয়েছিল। তার শাসন ব্যাহত হয়েছিল, যখন সেই বৃক্ষকে কেটে ফেলা হয়েছিল এবং সাত কালের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল অর্থাৎ যখন তিনি কিছু সময়ের জন্য তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেই সাত কাল শেষ হয়েছিল যখন নবূখদ্‌নিৎসর তার মানসিক ভারসাম্য ফিরে পেয়েছিলেন এবং আবারও শাসন করতে শুরু করেছিলেন। ভবিষ্যদ্‌বাণীর দ্বিতীয় পরিপূর্ণতায়, ঈশ্বরের শাসন কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হবে কিন্তু ঈশ্বরের কোনো অক্ষমতার কারণে নয়।

জন: মানে?

মাইকেল: বাইবেলের সময়ে ইস্রায়েলের যে-রাজারা যিরূশালেমে শাসন করতেন, তাদের সম্বন্ধে বলা হতো যে, তারা “সদাপ্রভুর সিংহাসনে” বসেছেন। * তারা যখন লোকেদের ওপর শাসন করতেন, তখন তারা ঈশ্বরকে প্রতিনিধিত্ব করতেন। তাই, এই রাজাদের শাসন  আসলে ঈশ্বরের শাসনকে চিত্রিত করত। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ রাজা ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছিলেন এবং তাদের প্রজারাও তাদের খারাপ উদাহরণ অনুসরণ করেছিল। ইস্রায়েলীয়দের অবাধ্যতার কারণে, ঈশ্বর তাদেরকে খ্রিস্টপূর্ব ৬০৭ সালে বাবিলীয়দের দ্বারা পরাজিত হতে দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকে যিরূশালেমে কোনো রাজা যিহোবাকে প্রতিনিধিত্ব করতেন না। তাই এই অর্থে, ঈশ্বরের শাসন ব্যাহত হয়েছিল। আপনি কি এই পর্যন্ত বুঝেছেন?

জন: কিছুটা বুঝেছি।

মাইকেল: খ্রিস্টপূর্ব ৬০৭ সাল, সেই সাত কাল অর্থাৎ ঈশ্বরের রাজ্য যে-সময় কালের জন্য ব্যাহত হবে, সেই সময়ের শুরুকে চিহ্নিত করেছিল। সেই সাত কালের শেষে, ঈশ্বর তাঁকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এক নতুন শাসককে নিযুক্ত করবেন—তবে এইবার স্বর্গে। তখনই দানিয়েল বইয়ে আমরা অন্যান্য যে-ভবিষ্যদ্‌বাণী পড়েছি, সেগুলো পরিপূর্ণ হবে। তাই, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল: সেই সাত কাল কখন শেষ হয়েছিল? আমরা যদি সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে পারি, তাহলে আমরা জানতে পারব, ঈশ্বরের রাজ্য কখন শাসন করতে শুরু করেছিল।

জন: আচ্ছা, বুঝতে পেরেছি। তাহলে এর মানে কি এই, সেই সাত কাল ১৯১৪ সালে শেষ হয়েছিল?

মাইকেল: আপনি ঠিক ধরেছেন!

জন: কিন্তু, কীভাবে আমরা এই উপসংহারে আসতে পারি?

মাইকেল: যিশু তাঁর পার্থিব জীবনকালে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেই সাত কাল তখনও শেষ হয়নি। * তাহলে, এটা নিশ্চয়ই এক দীর্ঘ সময় ছিল। যিশু পৃথিবীতে আসার শত শত বছর আগে, এই সাত কাল শুরু হয়েছিল এবং তিনি স্বর্গে ফিরে যাওয়ার কিছু সময় পরও তা চলেছিল। এও মনে রাখবেন যে, বলা হয়েছিল, দানিয়েল বইয়ের ভবিষ্যদ্‌বাণীগুলো “শেষকাল” শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না। * আগ্রহের বিষয় হল, ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বাইবেলের আন্তরিক ছাত্ররা এই ভবিষ্যদ্‌বাণীগুলো সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করেছিলেন। ধীরে ধীরে তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, সেই সাত কাল ১৯১৪ সালে শেষ হবে। আর সেই সময় থেকে ঘটে চলা জগতের বড়ো বড়ো ঘটনাগুলো প্রমাণ দেয়, ঈশ্বরের রাজ্য সত্যিই ১৯১৪ সালে স্বর্গে শাসন করতে শুরু করেছে। সেই বছরেই জগতের শেষকাল শুরু হয়েছিল। আমি বুঝতে পারছি, এই সমস্ত নতুন বিষয় বোঝা আপনার পক্ষে কিছুটা কঠিন . . .

জন: হ্যাঁ। ভালোভাবে বুঝতে হলে এই সম্বন্ধে আমাকে আবারও পড়তে হবে।

মাইকেল: চিন্তার কিছু নেই। এগুলো বোঝার জন্য আমারও কিছুটা সময় লেগেছিল। তবে, অন্ততপক্ষে এটুকু আশা করছি, আমাদের আলোচনা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে, রাজ্য সম্বন্ধে যিহোবার সাক্ষিরা যা বিশ্বাস করে, সেটার ভিত্তি হল বাইবেল।

জন: নিশ্চয়ই। আপনাদের বিশ্বাসের জন্য আপনারা যেভাবে বাইবেলের ওপর নির্ভর করেন, সেটা দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি।

মাইকেল: আসলে, আপনার মধ্যেও আমি একই মনোভাব লক্ষ করলাম। আমি আগেও যেমন বলেছি, একসঙ্গে এই সমস্ত নতুন বিষয় বোঝা আপনার পক্ষে কিছুটা কঠিন। আপনার হয়তো এখনও কিছু প্রশ্ন রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, আমরা দেখেছি যে, সেই সাত কাল ঈশ্বরের রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং এটা খ্রিস্টপূর্ব ৬০৭ সালে শুরু হয়েছিল। কিন্তু, কীভাবে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, সেই সাত কাল ১৯১৪ সালেই শেষ হয়েছিল? *

জন: হ্যাঁ, আমি ঠিক এটাই ভাবছিলাম।

মাইকেল: বাইবেলই আমাদের বুঝতে সাহায্য করে, সেই সাত কাল কতটা দীর্ঘ। পরের বার আমি যখন আপনার কাছে আসব, তখন আপনি কি এই বিষটা নিয়ে আলোচনা করতে চান?

জন: অবশ্যই। ▪ (w১৪-E ১০/০১)

বাইবেলের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে আপনারও কি নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্ন আছে? আপনি কি যিহোবার সাক্ষিদের কোনো বিশ্বাস অথবা ধর্মীয় রীতিনীতি সম্বন্ধে জানতে চান? যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় একজন যিহোবার সাক্ষিকে সেই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন। তিনি এই ধরনের বিষয় নিয়ে আপনার সঙ্গে আলোচনা করতে পেরে আনন্দিত হবেন।

^ অনু. 5 বিনা মূল্যে গৃহ বাইবেল অধ্যয়নের ব্যবস্থার মাধ্যমে, যিহোবার সাক্ষিরা প্রায়ই তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাইবেলের বিষয়বস্তু নিয়ে সুসংগঠিতভাবে আলোচনা করে থাকে।

^ অনু. 11 হিতোপদেশ ২:৩-৫.

^ অনু. 21 যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়? বইয়ের ৯ অধ্যায় দেখুন।

^ অনু. 27 দানিয়েল ৪:১৩-১৭.

^ অনু. 29 দানিয়েল ৪:২০-৩৬.

^ অনু. 57 ১ বংশাবলি ২৯:২৩.

^ অনু. 63 শেষকাল সম্বন্ধে তাঁর ভবিষ্যদ্‌বাণীতে, যিশু বলেছিলেন: “জাতিগণের সময় সম্পূর্ণ না হওয়া পর্য্যন্ত যিরূশালেম [যা ঈশ্বরের শাসনকে চিত্রিত করে] জাতিগণের পদ-দলিত হইবে।” (লূক ২১:২৪) তাই, যিশুর সময়েও ঈশ্বরের শাসন ব্যাহত ছিল এবং সেটা শেষকাল পর্যন্ত চলেছিল।

^ অনু. 63 দানিয়েল ১২:৯.

^ অনু. 67 বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়? বইয়ের ২১৫-২১৮ পৃষ্ঠা দেখুন।

এই ধারাবাহিক বিষয়বস্তুর পরবর্তী প্রবন্ধে বাইবেলের কিছু শাস্ত্রপদ বিবেচনা করা হবে, যেগুলো সাত কালের দীর্ঘতা সম্বন্ধে ধারণা দেবে।