সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  জানুয়ারি ২০১৫

 প্রচ্ছদ বিষয় | আপনি সৃষ্টিকর্তার নিকটবর্তী হতে পারেন

আপনি কি ঈশ্বরের নাম জানেন এবং তা ব্যবহার করেন?

আপনি কি ঈশ্বরের নাম জানেন এবং তা ব্যবহার করেন?

আপনি কি আপনার এমন কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কথা মনে করতে পারেন, যার নাম আপনি জানেন না? সম্ভবত না। ইরিনা নামে বুলগারিয়ার একজন মহিলা সঠিক মন্তব্যই করেছিলেন, “আপনি যদি ঈশ্বরের নাম না জানেন, তাহলে তাঁর নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব নয়।” আনন্দের বিষয় হল, ঈশ্বর চান যেন আপনি তাঁর নিকটবর্তী হন, যেমনটা আগের প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই, বাইবেলের মাধ্যমে তিনি আসলে এই কথাগুলো বলে নিজের পরিচয় দিয়েছেন: “যিহোবা [সদাপ্রভু], তোমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর . . . আমার এই নাম অনন্তকালস্থায়ী, এবং এতদ্দ্বারা আমি পুরুষে পুরুষে স্মরণীয়।”—যাত্রাপুস্তক ৩:১৫.

বাইবেলের মাধ্যমে ঈশ্বর আসলে এই কথাগুলো বলে নিজের পরিচয় দিয়েছেন: “যিহোবা [সদাপ্রভু], তোমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর . . . আমার এই নাম অনন্তকালস্থায়ী, এবং এতদ্দ্বারা আমি পুরুষে পুরুষে স্মরণীয়।”—যাত্রাপুস্তক ৩:১৫

আপনি যিহোবার নাম জানুন বা না-ই জানুন এবং তা ব্যবহার করুন বা না-ই করুন, সেটা কি আসলেই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ? এই বিষয়টা বিবেচনা করুন: মূল ইব্রীয় শাস্ত্র-এ ঈশ্বরের নাম প্রায় ৭,০০০ বার এসেছে। আর এই নাম চারটে ইব্রীয় ব্যঞ্জনবর্ণ দ্বারা লিখিত, যেটা টেট্রাগ্র্যামাটোন হিসেবে পরিচিত। অন্য যেকোনো নামের চেয়ে এই নামটাই বাইবেলে সবচেয়ে বেশি বার উল্লেখ করা হয়েছে। নিশ্চিতভাবেই এটা প্রমাণ দেয়, যিহোবা চান যেন আমরা তাঁর নাম জানি ও তা ব্যবহার করি। *

পরস্পরকে নিজেদের নাম জানানোর মাধ্যমে সাধারণত দু-জন ব্যক্তির মধ্যে বন্ধুত্ব শুরু হয়। আপনি কি ঈশ্বরের নাম জানেন?

কিন্তু কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারে, যেহেতু ঈশ্বর পবিত্র এবং সর্বশক্তিমান, তাই তাঁর নাম ব্যবহার করা অসম্মানজনক হবে। এটা ঠিক যে, অনুপযুক্ত উপায়ে ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করা ভুল হবে, ঠিক যেমনটা আপনি আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নামের অপব্যবহার করেন না। কিন্তু, যিহোবা চান যেন যারা তাঁকে ভালোবাসে, তারা তাঁর নামকে সম্মান করে এবং সেই নাম অন্যদের জানায়। (গীতসংহিতা ৬৯:৩০, ৩১; ৯৬:২, ৮) মনে করে দেখুন, যিশু তাঁর অনুসারীদের এই প্রার্থনা করতে শিখিয়েছিলেন: “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ, তোমার নাম পবিত্র বলিয়া মান্য হউক।” ঈশ্বরের নাম জানানোর মাধ্যমে আমরাও তাঁর নামকে পবিত্রীকৃত করতে পারি। আর তা করা আমাদেরকে তাঁর আরও নিকটবর্তী করে তুলবে।—মথি ৬:৯.

বাইবেল দেখায় যে, সেই ব্যক্তিদের প্রতি ঈশ্বর বিশেষ মনোযোগ দেন, ‘যাহারা তাঁহার নাম ধ্যান করে।’ (মালাখি ৩:১৬) এইরকম একজন ব্যক্তি সম্বন্ধে যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেন: “আমি তাহাকে উচ্চে স্থাপন করিব, কারণ সে আমার নাম জ্ঞাত হইয়াছে। সে আমাকে ডাকিবে, আমি তাহাকে উত্তর দিব; আমি সঙ্কটে তাহার সঙ্গে থাকিব; আমি তাহাকে উদ্ধার করিব।” (গীতসংহিতা ৯১:১৪, ১৫) আমরা যদি যিহোবার সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করতে চাই, তাহলে তাঁর নাম জানা ও তা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। (w১৪-E ১২/০১)

^ অনু. 4 পুরাতন নিয়ম হিসেবে পরিচিত ইব্রীয় শাস্ত্র-এ ঈশ্বরের নাম বহু বার ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, অনেক বাইবেল অনুবাদে এই নাম ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে, সেই অনুবাদগুলোতে ঈশ্বরের নামের জায়গায় “প্রভু,” “সদাপ্রভু” অথবা “ঈশ্বর” উপাধিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিষয়ে আরও তথ্য জানার জন্য যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়? বইয়ের ১৯৫-১৯৭ পৃষ্ঠা দেখুন।