সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  এপ্রিল ২০১৪

 প্রচ্ছদ বিষয় | মৃত্যুতে কি সমস্ত কিছুই শেষ হয়ে যায়?

মৃত্যুর বিরুদ্ধে মানবজাতির লড়াই

মৃত্যুর বিরুদ্ধে মানবজাতির লড়াই

সম্রাট চিন শি ওয়াং

অভিযাত্রী পনসে ডে লেয়ন

মৃত্যু হল এক ভয়ংকর শত্রু। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে এর সঙ্গে লড়াই করি। মৃত্যু যখন আমাদের কোনো প্রিয়জনকে কেড়ে নেয়, তখন আমরা হয়তো সেটাকে মেনে নিতে পারি না। অথবা যৌবনের উচ্ছ্বাসে আমরা হয়তো এমনটা মনে করতে পারি যে, সেই শত্রু কখনোই আমাদের জীবন কেড়ে নিতে পারবে না আর এটা হচ্ছে এমন এক ভ্রান্ত ধারণা, যা আমরা যত দিন পারি ধরে রাখি।

প্রাচীন ফরৌণরাই অমরত্বের বিষয়টা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা করত। তারা নিজেদের ও সেইসঙ্গে হাজার হাজার কর্মীর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই মৃত্যুকে জয় করার প্রচেষ্টায় ব্যয় করেছিল। তারা যে-পিরামিডগুলো তৈরি করেছিল, সেগুলো তাদের এই প্রচেষ্টার ও একইসঙ্গে ব্যর্থতার প্রমাণ দেয়।

চিনের সম্রাটরা অমরত্বের বিষয়ে একই রকমের স্বপ্ন দেখেছিল, তবে তা অন্যভাবে আর সেটা হল, অনন্ত পরমায়ুর পৌরাণিক ঔষধের দ্বারা। সম্রাট চিন শি ওয়াং তার গবেষকদের এমন এক অলৌকিক তরল পদার্থ খুঁজে বের করার আদেশ দিয়েছিলেন, যা মৃত্যুকে রোধ করতে পারে। কিন্তু, তাদের বেশিরভাগ মিশ্রণের মধ্যেই বিষাক্ত পারদ ছিল আর খুব সম্ভবত এই মিশ্রণগুলোর কোনো একটাই তার মৃত্যু ঘটিয়েছিল।

ষোড়শ শতাব্দীতে স্প্যানিশ অভিযাত্রী খোয়ান পনসে ডে লেয়ন চিরযৌবনের এক ঝরনার সন্ধানে ক্যারিবিয়ানে যাত্রা করেছিলেন বলে মনে করা হয়। সেই সন্ধান চলাকালীন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আবিষ্কার করেন কিন্তু কয়েক বছর পর আমেরিকার আদিবাসীদের সঙ্গে এক খণ্ডযুদ্ধে তিনি মারা যান। আর চিরযৌবনের সেই ঝরনা কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফরৌণ, সম্রাট এবং অভিযাত্রীরা, সকলেই মৃত্যুকে জয় করার চেষ্টা করেছিল। আর তাদের সেই পদ্ধতিগুলো পছন্দ না হলেও, আমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছেন, যিনি তাদের লক্ষ্যকে তুচ্ছ করে দেখবেন? বিশেষভাবে আমরা সকলেই বেঁচে থাকার জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষী।

মৃত্যুকে কি জয় করা যেতে পারে?

কেন আমরা মৃত্যুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি? বাইবেল এর কারণ জানায়। আমাদের সৃষ্টিকর্তা যিহোবা ঈশ্বর * সম্বন্ধে এটি বলে: “তিনি সকলই যথাকালে মনোহর করিয়াছেন, আবার তাহাদের [মানবজাতির] হৃদয়মধ্যে চিরকাল রাখিয়াছেন।” (উপদেশক ৩:১১)  পৃথিবীর সৌন্দর্যকে আমরা কেবল ৮০ কিংবা তার চেয়ে একটু বেশি বছর ধরে নয় বরং চিরকাল উপভোগ করতে চাই। (গীতসংহিতা ৯০:১০) সেটাই হল আমাদের হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা।

কেন ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ে “চিরকাল” রেখেছেন? শুধুই কি হতাশ করার জন্য? এটা কল্পনাই করা যায় না। এর বিপরীতে, ঈশ্বর আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, মৃত্যুকে জয় করা হবে। বাইবেল বার বার মৃত্যুকে দূর করার ও অনন্তজীবন সম্বন্ধে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার বিষয়ে বলে।—প্রবন্ধের সঙ্গে দেওয়া  “মৃত্যুর ওপর বিজয়লাভ” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।

যিশু খ্রিস্ট নিজেই স্পষ্টভাবে বলেছিলেন: “আর ইহাই অনন্ত জীবন যে, তাহারা তোমাকে, একমাত্র সত্যময় ঈশ্বরকে, এবং তুমি যাঁহাকে পাঠাইয়াছ, তাঁহাকে, যীশু খ্রীষ্টকে, জানিতে পায়।” (যোহন ১৭:৩) তাই মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াই করা হতাশ হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। কিন্তু যিশু নিশ্চিত করেন যে, কেবলমাত্র ঈশ্বরই আমাদের হয়ে সেই লড়াইয়ে জয়ী হতে পারেন। (w14-E 01/01)

^ অনু. 9 যিহোবা হল ঈশ্বরের নাম, যা বাইবেলে প্রকাশ করা হয়েছে।