সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  এপ্রিল ২০১৪

 আমাদের পাঠক-পাঠিকাদের জিজ্ঞাস্য . . .

কেন ঈশ্বর দুর্বলদের ওপর সবলদের অত্যাচার করার বিষয়টা ঘটতে দেন?

কেন ঈশ্বর দুর্বলদের ওপর সবলদের অত্যাচার করার বিষয়টা ঘটতে দেন?

দুর্বলদের ওপর সবলদের অত্যাচারের কিছু দুঃখজনক ঘটনা বাইবেলে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে নাবোতের ঘটনার কথা মনে আসে। খ্রিস্টপূর্ব দশম শতাব্দীতে, নাবোতের দ্রাক্ষাক্ষেত্র দখল করার জন্য ইস্রায়েলের একজন রাজা আহাব তার স্ত্রী ঈষেবলকে অনুমতি দেন, যেন তিনি নাবোৎ ও তার সন্তানদের হত্যা করেন। (১ রাজাবলি ২১:১-১৬; ২ রাজাবলি ৯:২৬) কেন ঈশ্বর ক্ষমতার এইরকম চরম অপব্যবহার করার বিষয়টা ঘটতে দিয়েছিলেন?

‘ঈশ্বর মিথ্যাকথনে অসমর্থ।’—তীত ১:২

আসুন আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি বিবেচণা করি: ঈশ্বর মিথ্যাকথনে অসমর্থ। (তীত ১:২) অত্যাচারের মতো মন্দ কাজের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক রয়েছে? একেবারে শুরুতেই, ঈশ্বর মানবজাতিকে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা এক ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসবে আর তা হল মৃত্যু। ঈশ্বরের বাক্যের সত্যতা স্বরূপ, এদন উদ্যানে করা বিদ্রোহের সময় থেকে মৃত্যু মানবজীবনের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে অত্যাচারের ফলেই প্রথম মৃত্যু ঘটেছিল, যখন কয়িন তার ভাই হেবলকে হত্যা করেছিল।—আদিপুস্তক ২:১৬, ১৭; ৪:৮.

সেই সময় থেকেই মানবইতিহাস সম্বন্ধে, ঈশ্বরের বাক্য এভাবে সারাংশ করে: “এক জন অন্যের উপরে তাহার অমঙ্গলার্থে কর্ত্তৃত্ব করে।” (উপদেশক ৮:৯) এই কথাগুলো কি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে? যিহোবা তাঁর লোক ইস্রায়েল জাতিকে সাবধান করেছিলেন যে, তাদের রাজারা অত্যাচারী হবে আর এর ফলে তারা ঈশ্বরের কাছে ক্রন্দন করবে। (১ শমূয়েল ৮:১১-১৮) এমনকী বিজ্ঞ রাজা শলোমনও তার লোকেদের ওপর অত্যধিক কর ধার্য করেছিলেন। (১ রাজাবলি ১১:৪৩; ১২:৩, ৪) আহাবের মতো মন্দ রাজারা আরও বেশি অত্যাচারী ছিল। এই বিষয়টা বিবেচনা করুন: ঈশ্বর যদি এই ধরনের কর্তৃত্বমূলক সমস্ত কাজকে প্রতিরোধ করতেন, তাহলে তাঁর নিজের কথাগুলোই কি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হতো না?

“এক জন অন্যের উপরে তাহার অমঙ্গলার্থে কর্ত্তৃত্ব করে।”—উপদেশক ৮:৯

এ ছাড়া এও মনে রাখুন, শয়তান দাবি করে যে, কেবলমাত্র স্বার্থপর কারণগুলোর জন্যই লোকেরা ঈশ্বরের সেবা করে। (ইয়োব ১:৯, ১০; ২:৪) ঈশ্বর যদি তাঁর সমস্ত দাসকে সব ধরনের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করতেন, তাহলে সেটা কি শয়তানের দাবিকে সত্য বলে প্রমাণিত করত না? আর ঈশ্বর যদি প্রত্যেকের ওপর করা সমস্ত ধরনের অত্যাচার প্রতিরোধ করতেন, তাহলে তিনি কি আরও বড়ো এক মিথ্যার জন্য দায়ী হতেন না? এই ধরনের সুরক্ষার অধীনে, অনেকে হয়তো ধরে নিতে পারে যে, ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়া মানুষ নিজেই সফলভাবে শাসন করতে পারে। কিন্তু, ঈশ্বরের বাক্য একেবারে বিপরীত কথা বলে—মানুষ নিজেকে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে পুরোপুরিভাবে অক্ষম। (যিরমিয় ১০:২৩) আমাদের জন্য ঈশ্বরের রাজ্য আসা প্রয়োজন; একমাত্র তখনই অবিচার শেষ হবে।

তাহলে এর অর্থ কি এই যে, ঈশ্বর অত্যাচারের বিষয়ে কিছুই করছেন না? তা নয়। যে-দুটো বিষয় তিনি করেন, তা বিবেচনা করুন: প্রথমত, অত্যাচার আসলে কী, তা তিনি প্রকাশ করেন। উদাহরণ স্বরূপ, তাঁর বাক্য নাবোতের বিরুদ্ধে করা ঈষেবলের সমস্ত ফন্দিকে প্রকাশ করে দেয়। বাইবেল এও প্রকাশ করে যে, এই ধরনের মন্দ কাজগুলো এমন একজন শক্তিশালী শাসকের দ্বারা সম্পাদিত হয়, যে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চায়। (যোহন ১৪:৩০; ২ করিন্থীয় ১১:১৪) বাইবেল তাকে শয়তান দিয়াবল হিসেবে প্রকাশ করে। মন্দতা ও অত্যাচার আর সেইসঙ্গে এগুলোর প্রকৃত উৎসকে প্রকাশ করার দ্বারা ঈশ্বর আমাদেরকে মন্দতা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করেন। এভাবে তিনি আমাদের অনন্ত ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করেন।

দ্বিতীয়ত, অত্যাচার যে শেষ হবে, সেই বিষয়ে ঈশ্বর এক দৃঢ় আশা প্রদান করেন। যেভাবে তিনি আহাব এবং ঈষেবল আর সেইসঙ্গে তাদের মতো অনেকের কাজ প্রকাশ করে দিয়েছিলেন, তাদের বিচার করেছিলেন এবং শাস্তি দিয়েছিলেন, তা আমাদের এই আস্থা দেয় যে, দুষ্টদের শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রতিজ্ঞা একদিন পূর্ণ হবে। (গীতসংহিতা ৫২:১-৫) এ ছাড়া, যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে, তাদেরকে তিনি এই নির্ভরযোগ্য আশা প্রদান করেন যে, তিনি শীঘ্র মন্দতার খারাপ প্রভাবগুলো দূর করবেন। * ফলে, বিশ্বস্ত নাবোৎ এমন একটা সময় দেখতে পাবেন, যখন তিনি এবং তার ছেলেরা অবিচারমুক্ত এক পরমদেশ পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।—গীতসংহিতা ৩৭:৩৪. ▪ (w14-E 02/01)

^ অনু. 8 যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়? বইয়ের ১১ অধ্যায় দেখুন।