সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ  |  জানুয়ারি ২০১৪

 বাইবেল জীবনকে পরিবর্তন করে

“অনেক লোক আমাকে ঘৃণা করত”

“অনেক লোক আমাকে ঘৃণা করত”
  • জন্ম: ১৯৭৮ সাল

  • দেশ: চিলি

  • আগে আমি অত্যন্ত উগ্র ও হিংস্র স্বভাবের ছিলাম

আমার অতীত:

আমি চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো শহরে বড়ো হয়েছি। সেখানে আমার চারপাশে মাদক ব্যাবসা, গুন্ডামাস্তানের উৎপাত এবং অপরাধ সাধারণ বিষয় ছিল। আমার বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন আমার বাবা খুন হয়েছিলেন। এরপর, আমার মা আরেকজন লোকের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তিনি অত্যন্ত হিংস্র স্বভাবের ছিলেন। তিনি সবসময় আমাদের দু-জনকে মারধর করতেন। সেই সময়কার কথা চিন্তা করলে এখনও আমার অনেক কষ্ট লাগে।

বড়ো হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে, আমি নেতিবাচক বিষয়গুলো দেখলে অত্যন্ত উগ্র ও হিংস্র প্রতিক্রিয়া দেখাতাম। আমি হেভি-মেটাল মিউজিক শুনতাম, প্রচুর পরিমাণে মদ খেতাম এবং মাঝেমধ্যে মাদকও গ্রহণ করতাম। মাদক ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে সবসময় রাস্তায় আমার মারামারি হতো, বেশ কয়েক বার তারা আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। এক বার, আমার বিপক্ষের গুন্ডামাস্তানরা আমাকে মেরে ফেলার জন্য একজন কুখ্যাত খুনিকে ভাড়া করেছিল। সে এক বার আমাকে ছোরা মেরেছিল, তবে আমি কোনো রকমে পালিয়ে প্রাণে বেঁচে যাই। আরেক বার, কয়েক জন মাদক ব্যবসায়ী মিলে আমার মাথায় পিস্তল ধরে ফাঁসিতে ঝোলানোর চেষ্টা করেছিল।

১৯৯৬ সালে আমি এক মেয়ের প্রেমে পড়ে যাই। তার নাম ক্যারোলিনা। ১৯৯৮ সালে আমরা বিয়ে করি। আমাদের প্রথম ছেলের জন্মের পর, আমার ভিতরে একটা ভয় কাজ করতে শুরু করে। আমার মনে হতে থাকে, উগ্র ও হিংস্র স্বভাবের কারণে আমিও হয়তো আমার সৎবাবার মতোই আমার পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে শুরু করব। তাই, আমি স্থানীয় একটা পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করি। সেখান থেকে আমি চিকিৎসা ও থেরাপি নিয়েছিলাম, কিন্তু কোনোই লাভ হয়নি। ছোটোখাটো বিষয় নিয়েও আমার মেজাজ ভীষণ গরম হয়ে যেত; নিজের ওপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণই ছিল না। পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা থামাতে না পেরে আমি একটা ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলি, আমি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করি। তবে ভালো যে, আমার সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

বহু বছর ধরে আমি নাস্তিক ছিলাম, কিন্তু আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম। তাই কিছু সময় ধরে, আমি প্রোটেস্টান্টদের সঙ্গে মেলামেশা করতে শুরু করি। সেই সময়ে, আমার স্ত্রী যিহোবার সাক্ষিদের সঙ্গে বাইবেল আলোচনা শুরু করে। আমি যিহোবার সাক্ষিদের ঘৃণা করতাম। অনেক বার, আমি তাদেরকে চিৎকার করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছি। কিন্তু, তারা সবসময় শান্তভাবে আচরণ করত। আমি বুঝতাম না, কীভাবে তারা এতটা শান্ত থাকতে পারত।

 একদিন, ক্যারোলিনা আমাকে আমার নিজের বাইবেল থেকে গীতসংহিতা ৮৩:১৮ পদ দেখতে বলে। সেই বাইবেলে এই পদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ঈশ্বরের নাম হল যিহোবা। আমি বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ধর্মে এত দিন ধরে আমি শুধু একজন ঈশ্বর সম্বন্ধে শিখেছি, কখনো যিহোবা সম্বন্ধে শিখিনি। এরপর, ২০০০ সালের শুরুর দিকে, আমিও যিহোবার সাক্ষিদের সঙ্গে বাইবেল আলোচনা শুরু করি।

বাইবেল যেভাবে আমার জীবনকে পরিবর্তন করেছে:

বাইবেল সম্বন্ধে জ্ঞান বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি এটা জেনেও সান্ত্বনা পাই যে, যিহোবা হলেন একজন করুণাময় এবং ক্ষমাশীল ঈশ্বর। উদাহরণ স্বরূপ, যাত্রাপুস্তক ৩৪:৬, ৭ পদে বাইবেল যিহোবাকে “স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান্‌; সহস্র সহস্র [পুরুষ] পর্য্যন্ত দয়ারক্ষক, অপরাধের, অধর্ম্মের ও পাপের ক্ষমাকারী” হিসেবে বর্ণনা করে।

তা সত্ত্বেও, আমি যা শিখছিলাম, তা কাজে লাগানো আমার পক্ষে সহজ ছিল না। আমি ধরেই নিয়েছিলাম, আমি আর কখনো আমার উগ্র মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। প্রতি বার আমি যখন ব্যর্থ হতাম, তখন ক্যারোলিনা আমাকে প্রচেষ্টা করার জন্য প্রেমের সঙ্গে উৎসাহ দিত। সে আমাকে মনে করিয়ে দিত, যিহোবা আমার প্রচেষ্টা লক্ষ করছেন। প্রায়ই আমার মনে হতো চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু ক্যারোলিনা যেভাবে আমাকে সমর্থন করেছিল, তার ফলে আমি যিহোবাকে খুশি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য শক্তি পেয়েছিলাম।

আমি যার সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করতাম, তার নাম আলেহান্দ্রো। একদিন তিনি আমাকে গালাতীয় ৫:২২, ২৩ পদ পড়ে দেখার জন্য উৎসাহিত করেন। সেই পদগুলোতে বলা আছে আত্মার ফল হল, “প্রেম, আনন্দ, শান্তি, দীর্ঘসহিষ্ণুতা, মাধুর্য্য, মঙ্গলভাব, বিশ্বস্ততা, মৃদুতা, ইন্দ্রিয়দমন।” আলেহান্দ্রো বলেছিলেন, আমি যদি সেই গুণগুলো গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমার নিজের শক্তির ওপর নয়, বরং ঈশ্বরের পবিত্র আত্মার ওপর নির্ভর করতে হবে। সেই সত্য বিষয়টা আমার মনোভাবকে পুরোপুরি পালটে দিয়েছিল!

পরবর্তী সময়ে, আমি যিহোবার সাক্ষিদের একটা বড়ো সম্মেলনে যোগ দিই। সেখানে সুসংগঠিত ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখে আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম, আমি সত্য ধর্ম খুঁজে পেয়েছি। (যোহন ১৩:৩৪, ৩৫) আমি ২০০১ সালে বাপ্তিস্ম নিই।

আমি যেভাবে উপকৃত হয়েছি:

যিহোবা আমাকে এক উগ্র ও হিংস্র ব্যক্তি থেকে শান্তিপ্রবণ ব্যক্তিতে পরিণত করেছেন। আমি মনে করি, যিহোবা আমাকে এক চোরাবালি থেকে উদ্ধার করেছেন। আগে অনেক লোক আমাকে ঘৃণা করত আর এর জন্য আমি তাদের দোষ দিই না। কিন্তু এখন, আমি আমার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে শান্তিতে যিহোবাকে সেবা করতে পারছি।

আমার পরিবারের সদস্যরা এবং পুরোনো বন্ধুরা বিশ্বাসই করতে পারে না যে, আমার কতখানি পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে, তাদের মধ্যে অনেকে বাইবেলের সত্য শেখার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ছাড়া, আমারও অন্যদের কাছে যিহোবা সম্বন্ধে জানানোর সুযোগ রয়েছে। বাইবেলের সত্য যে তাদের জীবনকেও পরিবর্তন করেছে, তা দেখা কতই-না আনন্দের বিষয়! ▪ (w13-E 10/01)