সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  অক্টোবর ২০১৫

“আমাদের বিশ্বাসের বৃদ্ধি করুন”

“আমাদের বিশ্বাসের বৃদ্ধি করুন”

“আমার অবিশ্বাসের প্রতীকার করুন।”—মার্ক ৯:২৪

গান সংখ্যা: ৫৪, ২৪

১. বিশ্বাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

আপনার মনে কি কখনো এই প্রশ্ন এসেছে, ‘যিহোবা কি মহাক্লেশের সময়ে আমাকে রক্ষা করবেন?’ প্রেরিত পৌল বলেছিলেন, রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ গুণ প্রয়োজন আর সেটা হচ্ছে বিশ্বাস। তিনি বলেছিলেন, “বিনা বিশ্বাসে” ঈশ্বরের “প্রীতির পাত্র হওয়া কাহারও সাধ্য নয়।” (ইব্রীয় ১১:৬) এটা একটা সাধারণ ধারণা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত বিষয়টা হচ্ছে “সকলের বিশ্বাস নাই।” (২ থিষল. ৩:২) এই দুটো শাস্ত্রপদ আমাদের বুঝতে সাহায্য করে, আমাদের বিশ্বাস শক্তিশালী করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

২, ৩. (ক) আমাদের বিশ্বাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ? (খ) এখন আমরা কী আলোচনা করব?

প্রেরিত পিতর ‘পরীক্ষাসিদ্ধ’ বিশ্বাস সম্বন্ধে উল্লেখ করেছিলেন। (পড়ুন, ১ পিতর ১:৭.) মহাক্লেশ খুবই নিকটে আর তাই আমরা “প্রাণের রক্ষার জন্য বিশ্বাসের লোক” হতে চাই। (ইব্রীয় ১০:৩৯) তাই আমাদের বিশ্বাস শক্তিশালী করার জন্য প্রচেষ্টা করতে হবে। আমরা সেই লোকেদের মধ্যে থাকতে চাই, যাদেরকে আমাদের রাজা যিশু খ্রিস্ট তাঁর প্রকাশকালে পুরস্কৃত করবেন। এই কারণে, একজন ব্যক্তি যিনি যিশুর কাছে বিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, তার মতো আমরাও বলতে পারি: “আমার অবিশ্বাসের প্রতীকার করুন।” (মার্ক ৯:২৪) কিংবা প্রেরিতদের মতো আমরা এটাও বলতে পারি: “আমাদের বিশ্বাসের বৃদ্ধি করুন।”—লূক ১৭:৫.

এই প্রবন্ধে আমরা যে-বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব, সেগুলো হল: কীভাবে আমরা বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারি? কীভাবে আমরা দেখাতে পারি আমাদের বিশ্বাস দৃঢ়? আর কেন আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, আমরা যখন বিশ্বাস বৃদ্ধি করার জন্য প্রার্থনা করি, তখন ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনার উত্তর দেবেন?

 আমরা বিশ্বাস গড়ে তুললে ঈশ্বর খুশি হন

৪. কোন উদাহরণগুলো আমাদের বিশ্বাস শক্তিশালী করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারে?

যেহেতু বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই যিহোবা বাইবেলে আমাদের জন্য বিশ্বাসের অনেক উদাহরণ তুলে ধরেছেন। এগুলো “আমাদের শিক্ষার নিমিত্তে লিখিত হইয়াছিল।” (রোমীয় ১৫:৪) অব্রাহাম, সারা, ইস্‌হাক, যাকোব, মোশি, রাহব, গিদিয়োন, বারূক এবং আরও অনেকের উদাহরণ আমাদেরকে নিজেদের বিশ্বাস শক্তিশালী করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারে। (ইব্রীয় ১১:৩২-৩৫) অতীতের বিভিন্ন উদাহরণ ছাড়াও, বর্তমানে আমাদের ভাই ও বোনদের বিশ্বাসের চমৎকার উদাহরণ আমাদের কাছে রয়েছে। *

৫. কীভাবে এলিয় দেখিয়েছিলেন, যিহোবার প্রতি তার দৃঢ়বিশ্বাস রয়েছে আর আমরা নিজেদের কী জিজ্ঞেস করতে পারি?

বাইবেলের একটা উদাহরণ হল, ভাববাদী এলিয়। তার উদাহরণ নিয়ে ধ্যান করার সময় এমন পাঁচটা পরিস্থিতি লক্ষ করুন, যে-পরিস্থিতিতে তিনি যিহোবার প্রতি দৃঢ় আস্থা দেখিয়েছিলেন। (১) যিহোবা একটা খরা নিয়ে আসবেন এই বিষয়টা রাজা আহাবকে বলার সময়, এলিয় আস্থার সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন: “আমি যাঁহার সাক্ষাতে দণ্ডায়মান, ইস্রায়েলের ঈশ্বর সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্য, এই কয়েক বৎসর শিশির কি বৃষ্টি পড়িবে না; কেবল আমার কথানুসারে পড়িবে।” (১ রাজা. ১৭:১) (২) এলিয় এই বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন, খরার সময়ে যিহোবা তাকে এবং অন্যদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জুগিয়ে দেবেন। (১ রাজা. ১৭:৪, ৫, ১৩, ১৪) (৩) এলিয় এই ব্যাপারেও নিশ্চিত ছিলেন, যিহোবা একজন বিধবার ছেলেকে পুনরুত্থিত করতে পারেন। (১ রাজা. ১৭:২১) (৪) তার এই বিষয়ে কোনো সন্দেহই ছিল না যে, কর্মিল পর্বতে সদাপ্রভুর অগ্নি তার হোমবলি গ্রাস করবে। (১ রাজা. ১৮:২৪, ৩৭) (৫) এমনকী বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার আগেই এলিয় আস্থা সহকারে আহাবকে বলেছিলেন: “আপনি উঠিয়া গিয়া ভোজন পান করুন, কেননা ভারী বৃষ্টির শব্দ হইতেছে।” (১ রাজা. ১৮:৪১) এই বিবরণগুলো বিবেচনা করার পর, আমরা নিজেদের জিজ্ঞেস করতে পারি, ‘আমার কি এলিয়র মতো দৃঢ়বিশ্বাস রয়েছে?’

বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য আমরা কী করতে পারি?

৬. আমাদের বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য যিহোবার কাছ থেকে কী প্রয়োজন?

যেহেতু আমরা নিজেদের শক্তিতে বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারি না, তাই আমাদের ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা চাইতে হবে। কেন? কারণ বিশ্বাস হচ্ছে পবিত্র আত্মার ফলের একটা দিক। (গালা. ৫:২২) আমরা যখন যিশুর পরামর্শ অনুসরণ করে আরও বেশি পবিত্র আত্মা চেয়ে প্রার্থনা করি, তখন আমরা বিজ্ঞতার কাজ করি। যিশু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, “যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে,” যিহোবা “তাহাদিগকে পবিত্র আত্মা দান করিবেন।”—লূক ১১:১৩.

৭. কীভাবে আমরা নিজেদের বিশ্বাস শক্তিশালী করতে পারি, তা উদাহরণের সাহায্যে বর্ণনা করুন।

ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস গড়ে তোলার পর, আমাদের সেই বিশ্বাস বজায় রাখতে হবে। আমরা বিশ্বাসকে আগুনের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। আমরা যখন আগুন জ্বালাই, তখন সেটার শিখা অনেক তীব্র হতে পারে। কিন্তু, আমরা যদি সেই আগুনে কাঠ না দিই, তা হলে ধীরে ধীরে তা পুড়ে ঠাণ্ডা ছাইয়ে পরিণত হবে। অন্যদিকে, আমরা যদি নিয়মিতভাবে সেই আগুনে কাঠ দিই, তা হলে সেটা জ্বালিয়ে রাখতে পারব। আমাদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে একই বিষয় বলা যায়। আমরা যদি প্রতিদিন ঈশ্বরের বাক্য পড়ি ও তা নিয়ে অধ্যয়ন করি, তা হলে বাইবেল এবং যিহোবার প্রতি আমাদের ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। ফল স্বরূপ, আমরা বিশ্বাস বজায় রাখতে ও তা শক্তিশালী করতে পারব।

৮. আপনার বিশ্বাস গড়ে তোলার ও তা বজায় রাখার জন্য কোন বিষয়টা আপনাকে সাহায্য করতে পারে?

বাপ্তিস্মের আগে আপনি যা শিখেছেন, আপনাকে শুধুমাত্র সেই বিষয়গুলো নিয়েই পরিতৃপ্ত থাকলে চলবে না। (ইব্রীয় ৬:১, ২) উদাহরণ স্বরূপ, বাইবেলের যে-ভবিষ্যদ্‌বাণীগুলো ইতিমধ্যেই পরিপূর্ণ হয়েছে, সেগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করা আপনাকে বিশ্বাস গড়ে  তুলতে ও তা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া, আপনার বিশ্বাস সত্যিই দৃঢ় কি না, তা দেখার জন্যও আপনি ঈশ্বরের বাক্য ব্যবহার করতে পারেন।—পড়ুন, যাকোব ১:২৫; ২:১৭, ২৪.

৯, ১০. কীভাবে আমাদের বিশ্বাস শক্তিশালী হয়, (ক) ভালো বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে? (খ) মণ্ডলীর সভাগুলোর মাধ্যমে? (গ) প্রচার কাজের মাধ্যমে?

প্রেরিত পৌল খ্রিস্টানদের বলেছিলেন, তারা “উভয় পক্ষের, আন্তরিক বিশ্বাস দ্বারা . . . আশ্বাস” বা উৎসাহ পেতে পারে। (রোমীয় ১:১২) এর অর্থ কী? আমরা যখন আমাদের ভাই-বোনদের সঙ্গে সময় কাটাই, তখন আমরা পরস্পরের বিশ্বাস শক্তিশালী করতে পারি। এটা বিশেষভাবে সেই সময়ে সত্য হয়, যখন আমরা এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সময় কাটাই, যাদের বিশ্বাস ‘পরীক্ষাসিদ্ধ।’ (যাকোব ১:৩) খারাপ বন্ধুবান্ধব আমাদের বিশ্বাস নষ্ট করতে পারে, কিন্তু ভালো বন্ধুবান্ধব তা গড়ে তুলতে পারে। (১ করি. ১৫:৩৩) আর এই কারণেই আমাদের পরামর্শ দেওয়া হয়, যেন আমরা নিয়মিতভাবে সভাতে যোগ দিই। সেখানে আমরা “পরস্পরকে চেতনা [“উৎসাহ,” বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন]” দিতে পারি। (পড়ুন, ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫.) এ ছাড়া, সভাতে আমরা যে-সমস্ত নির্দেশনা পাই, সেগুলো আমাদের বিশ্বাস দৃঢ় করে। বাইবেল বলে “বিশ্বাস শ্রবণ হইতে” হয়। (রোমীয় ১০:১৭) তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘খ্রিস্টীয় সভাগুলো কি আমার জীবনের নিয়মিত এক অংশ?’

১০ এ ছাড়া, আমরা যখন অন্যদের কাছে বাইবেলের সুসমাচার প্রচার করি ও শিক্ষা দিই, তখন আমাদের বিশ্বাস শক্তিশালী হয়। প্রাথমিক খ্রিস্টানদের মতো, আমরা যিহোবার উপর নির্ভর করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সাহসের সঙ্গে কথা বলতে শিখি।—প্রেরিত ৪:১৭-২০; ১৩:৪৬.

১১. কেন কালেব ও যিহোশূয়ের দৃঢ়বিশ্বাস ছিল আর আমরা কীভাবে তাদের মতো হতে পারি?

১১ যিহোবার প্রতি আমাদের বিশ্বাস সেই সময়ে বৃদ্ধি পায়, যখন আমরা দেখি তিনি কীভাবে আমাদের সাহায্য করেন এবং আমাদের প্রার্থনার উত্তর দেন। কালেব ও যিহোশূয়ের ক্ষেত্রে ঠিক এটাই ঘটেছিল। তারা যখন প্রতিজ্ঞাত দেশ নিরীক্ষণ করার জন্য গিয়েছিলেন, তখন তারা যিহোবার প্রতি বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন। সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, যিহোবা তাদের সাহায্য করেছেন এমন প্রতিটা ঘটনা দেখে তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছিল। যিহোশূয় আস্থার সঙ্গে ইস্রায়েলীয়দের এই কথা বলেছিলেন: “সদাপ্রভু তোমাদের বিষয়ে যত মঙ্গলবাক্য বলিয়াছিলেন, তাহার মধ্যে একটীও বিফল হয় নাই।” পরে তিনি বলেছিলেন: “তোমরা সদাপ্রভুকে ভয় কর, সরলতায় ও সত্যে তাঁহার সেবা কর।” এরপর তিনি আরও বলেছিলেন: “আমি ও আমার পরিজন আমরা সদাপ্রভুর সেবা করিব।” (যিহো. ২৩:১৪; ২৪:১৪, ১৫) আমরা যখন যিহোবার উপর নির্ভর করি এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কীভাবে সাহায্য করেন তা লক্ষ করি, তখন আমাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।—গীত. ৩৪:৮.

যেভাবে আমরা বিশ্বাস দেখাতে পারি

১২. কীভাবে আমরা দেখাতে পারি, আমাদের দৃঢ়বিশ্বাস রয়েছে?

১২ কীভাবে আমরা দেখাতে পারি, আমাদের দৃঢ়বিশ্বাস রয়েছে? শিষ্য যাকোব বলেছিলেন: “আমি তোমাকে আমার কর্ম্ম হইতে বিশ্বাস দেখাইব।” (যাকোব ২:১৮) আমাদের যে দৃঢ়বিশ্বাস রয়েছে, তা আমাদের কাজে প্রকাশ পায়। কীভাবে তা প্রকাশ পায়, আসুন এখন তা দেখি।

যারা পরিচর্যায় যথাসাধ্য করে, তারা দৃঢ়বিশ্বাস দেখায় (১৩ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৩. আমরা যখন প্রচার করি, তখন আমরা কীভাবে নিজেদের বিশ্বাস প্রকাশ করি?

১৩ প্রচার কাজ হচ্ছে আমাদের বিশ্বাস প্রকাশ করার এক চমৎকার উপায়। কেন তা বলা যায়? কারণ আমরা যখন প্রচার করি, তখন আমরা এই বিশ্বাস প্রকাশ করি, শেষ নিকটে আর তা “যথাকালে বিলম্ব করিবে না।” (হবক্‌. ২:৩) আমাদের বিশ্বাস দৃঢ় কি না, তা জানার জন্য আমরা নিজেদের এই প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করতে পারি: ‘প্রচার কাজ আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? অন্যদের কাছে ঈশ্বর সম্বন্ধে কথা বলার জন্য আমি কি যথাসাধ্য করি? আমি কি যিহোবার প্রতি আমার সেবা বৃদ্ধি করার উপায় খুঁজি?’ (২ করি. ১৩:৫) আসুন, “পরিত্রাণের জন্য” আমরা “মুখে স্বীকার করে” অর্থাৎ প্রচার করার মাধ্যমে আমাদের বিশ্বাসের দৃঢ়তা প্রকাশ করি।—পড়ুন, রোমীয় ১০:১০.

১৪, ১৫. (ক) কীভাবে আমরা রোজকার জীবনযাপনে বিশ্বাস দেখাতে পারি? (খ) কাজের মাধ্যমে দৃঢ়বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে এমন একটা অভিজ্ঞতা বলুন।

 ১৪ এ ছাড়া, এই জগতে জীবনের বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহ্য করার সময়েও আমরা যিহোবার প্রতি বিশ্বাস দেখাই। অসুস্থতা, নিরুৎসাহিতা, বিষণ্ণতা, দারিদ্র্য অথবা অন্য যে-সমস্ত সমস্যাই থাকুক না কেন, আমাদের এই বিশ্বাস বজায় রাখতে হবে, যিহোবা এবং যিশু আমাদের ‘সময়ের উপযোগী উপকার’ করবেন। (ইব্রীয় ৪:১৬) আমরা যখন যিহোবার কাছে সাহায্য চাই, তখন আমরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস দেখাই। যিশু বলেছিলেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রতিদিন” আমাদের দেওয়ার জন্য যিহোবার কাছে আমরা প্রার্থনা করতে পারি। (লূক ১১:৩) বাইবেলের বিবরণগুলো প্রমাণ দেয়, যিহোবা আমাদের প্রয়োজনীয় যেকোনো কিছু প্রদান করতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইস্রায়েলে প্রচণ্ড খরার সময়ে যিহোবা এলিয়কে খাবার ও জল দিয়েছিলেন। বাইবেল বলে, “কাকেরা তাঁহার জন্য প্রাতঃকালে রুটী ও মাংস, এবং সন্ধ্যাকালেও রুটী ও মাংস আনিয়া দিত; আর তিনি স্রোতের জল পান করিতেন।” (১ রাজা. ১৭:৩-৬) আমাদেরও এই বিশ্বাস রয়েছে, আমাদের যা প্রয়োজন, তা যিহোবা দেবেন।

এই জগতে জীবনের বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহ্য করার সময়ে আমরা যিহোবার প্রতি বিশ্বাস দেখাই (১৪ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৫ আমাদের এই আস্থা রয়েছে, আমরা যখন বাইবেলের নীতিগুলো কাজে লাগাব, তখন আমরা আমাদের পরিবারের বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে সক্ষম হব। এশিয়ার একজন বিবাহিত বোন রেবেকা ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে তিনি ও তার পরিবার মথি ৬:৩৩ পদ এবং হিতোপদেশ ১০:৪ পদ কাজে লাগিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার স্বামী এইরকম মনে করেছিল, চাকরির কারণে যিহোবার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছে। তাই তার স্বামী চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের চারটে ছেলে-মেয়ের ভরণ-পোষণ করতে হতো। তাই, তারা মিষ্টি-জাতীয় খাবার তৈরি করে বিক্রি করতে শুরু করেছিলেন। তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে, পরিবারের বিভিন্ন চাহিদা মেটানোর জন্য তাদের কাছে সবসময় যথেষ্ট টাকা থাকত। তিনি বলেন: “আমাদের মনে হয়েছে, যিহোবা কখনো আমাদের পরিত্যাগ করেননি। আমাদের এক বেলারও খাবারের অভাব হয়নি।” আপনার কি কখনো একইরকম কোনো অভিজ্ঞতা হয়েছে, যেটা আপনার বিশ্বাস শক্তিশালী করেছে?

১৬. আমরা যদি ঈশ্বরের উপর নির্ভর করি, তা হলে এর ফল কী হবে?

১৬ যিহোবার নির্দেশনা পালন করলে তিনি যে আমাদের সাহায্য করবেন, এই ব্যাপারে আমাদের  কখনো সন্দেহ করা উচিত নয়। হবক্‌কূকের কথা উদ্ধৃতি করে পৌল বলেছিলেন: “ধার্ম্মিক ব্যক্তি বিশ্বাস হেতু বাঁচিবে।” (গালা. ৩:১১; হবক্‌. ২:৪) তাই, আমাদের সেই ব্যক্তির প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস থাকতে হবে, যিনি সত্যিই আমাদের সাহায্য করতে পারেন। পৌল আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, “যে শক্তি আমাদিগেতে কার্য্য সাধন করে, সেই শক্তি অনুসারে যিনি আমাদের সমস্ত যাচ্ঞার ও চিন্তার নিতান্ত অতিরিক্ত কর্ম্ম করিতে পারেন,” সেই ব্যক্তি হলেন ঈশ্বর। (ইফি. ৩:২০) যিহোবার দাসেরা ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার জন্য যথাসাধ্য করে, কিন্তু তারা এটাও জানে, তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই তাদের এই নির্ভরতা রয়েছে, যিহোবা তাদের প্রচেষ্টায় আশীর্বাদ করবেন। ঈশ্বর যে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছেন, সেই কারণে আমরা কি আনন্দিত নই?

বিশ্বাসের জন্য করা প্রার্থনার উত্তর দেওয়া হয়েছিল

১৭. (ক) কীভাবে যিশু প্রেরিতদের প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন? (খ) আমরা কেন আশা করতে পারি, বিশ্বাস বৃদ্ধি করার জন্য আমরা যে-প্রার্থনা করি, সেটার উত্তর দেওয়া হবে?

১৭ আমরা এই পর্যন্ত যা আলোচনা করেছি, তা থেকে আমরা হয়তো প্রেরিতদের মতো অনুভব করতে পারি। তারা যিশুকে বলেছিলেন: “আমাদের বিশ্বাসের বৃদ্ধি করুন।” (লূক ১৭:৫) যিশু ৩৩ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চাশত্তমীর দিনে এক বিশেষ উপায়ে তাঁর প্রেরিতদের প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন। সেই সময়ে তারা পবিত্র আত্মা লাভ করেছিলেন এবং ঈশ্বরের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আরও গভীরভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। এটা তাদের বিশ্বাস শক্তিশালী করেছিল। এর ফল কী হয়েছিল? তারা সেই সময়ের সবচেয়ে বড়ো প্রচার অভিযান শুরু করেছিলেন। (কল. ১:২৩) আমরা কি এমনটা আশা করতে পারি, বিশ্বাস বৃদ্ধি করার জন্য আমরা যে-প্রার্থনা করি, সেটার উত্তর দেওয়া হবে? যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেছেন, আমরা যখন “তাঁহার ইচ্ছানুসারে কিছু যাচ্ঞা করি,” তখন আমরা তা আশা করতে পারি।—১ যোহন ৫:১৪.

১৮. যারা বিশ্বাস গড়ে তোলে, তাদের যিহোবা কীভাবে আশীর্বাদ করবেন?

১৮ ঈশ্বরের প্রতি আমরা যদি পূর্ণ নির্ভরতা রাখি, তা হলে তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। তিনি বিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য আমাদের করা প্রার্থনার উত্তর দেবেন, আমাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে এবং আমরা “ঈশ্বরের . . . রাজ্যের যোগ্য বলিয়া গণ্য” হব।—২ থিষল. ১:৩, ৫.

^ অনু. 4 কিছু উদাহরণের জন্য লিলিয়ান গোবাইটস্‌ ক্লোজ (জুলাই ২২, ১৯৯৩, সচেতন থাক!, ইংরেজি), ফেলিক্স বোরিস (ফেব্রুয়ারি ২২, ১৯৯৪, সচেতন থাক!, ইংরেজি) এবং জোসেফিন ইলিয়াসের (সেপ্টেম্বর ২০০৯, সচেতন থাক!, ইংরেজি) জীবনকাহিনি দেখুন।