সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  সেপ্টেম্বর ২০১৫

আপনার বিবেক কি এক নির্ভরযোগ্য নির্দেশক?

আপনার বিবেক কি এক নির্ভরযোগ্য নির্দেশক?

“সেই আদেশের পরিণাম প্রেম, যাহা শুচি হৃদয়, সৎসংবেদ . . . হইতে উৎপন্ন।”—১ তীম. ১:৫.

গান সংখ্যা: ২২, ৪৮

১, ২. কে আমাদের বিবেক দিয়েছেন আর এই বিবেক আছে বলে কেন আমরা কৃতজ্ঞ হতে পারি?

যিহোবা ঈশ্বর মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছা অর্থাৎ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আমরা যাতে সঠিক বাছাই করতে পারি, সেইজন্য যিহোবা আমাদের এক নির্দেশক দিয়েছেন। এই নির্দেশক হচ্ছে বিবেক। আমাদের মধ্যে ন্যায়-অন্যায় বিচার করার যে-ক্ষমতা রয়েছে, সেই ক্ষমতাই হচ্ছে বিবেক। আমরা যখন আমাদের বিবেক সঠিক উপায়ে ব্যবহার করি, তখন এটা আমাদেরকে যা ভালো তা করার জন্য এবং যা মন্দ তা এড়িয়ে চলার জন্য সাহায্য করে। আমাদের বিবেক প্রমাণ দেয়, যিহোবা আমাদের ভালোবাসেন এবং তিনি চান যেন আমরা সফল হই।

বর্তমানে কিছু লোক, বাইবেলের মান না জানা সত্ত্বেও ভালো কাজ করে এবং মন্দ কাজ এড়িয়ে চলে। (পড়ুন, রোমীয় ২:১৪, ১৫.) কেন তারা সেটা করে? কারণ তাদের বিবেক রয়েছে। বিবেক অনেক ব্যক্তিকে খারাপ কাজ করা থেকে বিরত রাখে। জগতে কোনো ব্যক্তিরই যদি বিবেক না থাকত, তাহলে এই জগতের পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতো, তা একটু কল্পনা করে দেখুন! আমরা এখন যতটা খারাপ খবর শুনে থাকি, সম্ভবত তার চেয়ে বেশি খারাপ খবর শুনতাম। যিহোবা মানুষকে বিবেক দিয়েছেন বলে আমরা কৃতজ্ঞ হতে পারি!

৩. কীভাবে আমাদের বিবেক মণ্ডলীতে আমাদের সাহায্য করতে পারে?

অধিকাংশ লোক তাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করার বিষয়ে চিন্তা করে না। কিন্তু  যিহোবার লোকেরা চায়, যেন তাদের বিবেক সঠিকভাবে কাজ করে কারণ মণ্ডলীর একতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে এটা এক জোরালো সহায়ক হতে পারে। আমরা চাই যেন আমাদের বিবেক ন্যায়-অন্যায় এবং ভালো-মন্দের বিষয়ে বাইবেলের নীতিগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে, আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করার ও তা ব্যবহার করার জন্য, বাইবেল যা বলে তা জানার চেয়ে আমাদের আরও বেশি কিছু করতে হবে। আমাদেরকে ঈশ্বরের মান ভালোবাসতে হবে এবং সেই মান যে আমাদের জন্য মঙ্গলজনক, তা বিশ্বাস করতে হবে। পৌল লিখেছিলেন: “সেই আদেশের পরিণাম প্রেম, যাহা শুচি হৃদয়, সৎসংবেদ ও অকল্পিত বিশ্বাস হইতে উৎপন্ন।” (১ তীম. ১:৫) আমরা যখন আমাদের সংবেদ বা বিবেককে প্রশিক্ষিত করব এবং সেই অনুযায়ী কাজ করব, তখন যিহোবার প্রতি আমাদের ভালোবাসা এবং বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। আমরা যেভাবে আমাদের বিবেক ব্যবহার করি, সেটা প্রমাণ দেয়, যিহোবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ আর সেইসঙ্গে এটাও প্রকাশ করে, আমরা তাঁকে কতটা খুশি করতে চাই। এ ছাড়া, আমাদের বিবেক প্রকাশ করে, আমরা আসলে কী ধরনের ব্যক্তি।

৪. কীভাবে আমরা বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে পারি?

কিন্তু, কীভাবে আমরা বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে পারি? আমাদের নিয়মিতভাবে বাইবেল পড়তে হবে, যা পড়ি তা নিয়ে ধ্যান করতে হবে এবং যা শিখি তা কাজে লাগানোর জন্য যিহোবার কাছে সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করতে হবে। এর অর্থ হচ্ছে, আমাদের কেবল বিভিন্ন ঘটনা ও নিয়মকানুন জানার চেয়ে আরও বেশি কিছু করতে হবে। আমরা যখন বাইবেল পড়ি, তখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যিহোবাকে আরও ভালোভাবে জানা। আমরা জানতে পারি, তিনি কী ধরনের ব্যক্তি। এ ছাড়া, তাঁর পছন্দ-অপছন্দ সম্বন্ধেও আমরা জানতে পারি। যিহোবা সম্বন্ধে আমরা যত বেশি জানব, আমাদের বিবেক তত দ্রুত শনাক্ত করতে পারবে, যিহোবা কোনটাকে সঠিক এবং কোনটাকে ভুল হিসেবে দেখেন। আমরা বিবেককে যত বেশি প্রশিক্ষিত করব, তত বেশি আমরা যিহোবার মতো চিন্তা করতে পারব।

৫. এই প্রবন্ধে আমরা কী আলোচনা করব?

তবে, আমরা হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারি: বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তমভাবে প্রশিক্ষিত এক বিবেক কীভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে? কীভাবে আমরা একজন সহবিশ্বাসীর বিবেকের প্রতি সম্মান দেখাতে পারি? আর কীভাবে বিবেক আমাদেরকে ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারে? আসুন আমরা তিনটে ক্ষেত্র বিবেচনা করি, যে-ক্ষেত্রগুলোতে উত্তমভাবে প্রশিক্ষিত বিবেক প্রয়োজন: (১) চিকিৎসার ক্ষেত্রে, (২) বিনোদনের ক্ষেত্রে এবং (৩) আমাদের প্রচার কাজের ক্ষেত্রে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুক্তিবাদী হোন

৬. চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কোন সিদ্ধান্ত নিতে হয়?

বাইবেল আমাদের এমন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে বলে, যেগুলো আমাদের ক্ষতি করবে। এ ছাড়া, বাইবেল আমাদের বিভিন্ন অভ্যাস যেমন, ভোজন ও পানের অভ্যাসের ক্ষেত্রেও যুক্তিবাদী হতে বলে। (হিতো. ২৩:২০; ২ করি. ৭:১) আমরা যখন বাইবেলের পরামর্শের বাধ্য হই, তখন তা আমাদেরকে স্বাস্থ্যের সুরক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু তারপরও আমরা অসুস্থ ও বৃদ্ধ হই। আমাদের হয়তো কোন সিদ্ধান্ত নিতে হয়? কিছু দেশে, প্রচলিত ওষুধপত্র রয়েছে এবং এর বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের থেরাপিও রয়েছে। শাখা অফিসগুলো প্রায়ই এমন চিঠি পেয়ে থাকে, যেখানে ভাই-বোনেরা বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সম্বন্ধে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। অনেকে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে, “যিহোবার একজন দাস কি এই চিকিৎসা বা ওই চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন?”

৭. কীভাবে আমরা রক্ত সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নিই?

চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে একজন খ্রিস্টান কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই বিষয়ে শাখা অফিস অথবা স্থানীয় মণ্ডলীর প্রাচীনদের বলার অধিকার নেই। এমনকী সেই খ্রিস্টান যদি এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, তবুও তারা সেটা বলতে পারেন না। (গালা. ৬:৫) কিন্তু, একজন খ্রিস্টানকে বিজ্ঞতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার জন্য, সেই বিষয়ে যিহোবা কী বলেন, তা প্রাচীনরা তাকে জানাতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঈশ্বর আমাদের রক্ত থেকে পৃথক থাকার আজ্ঞা দিয়েছেন। (প্রেরিত ১৫:২৯) এই আজ্ঞা একজন খ্রিস্টানকে এটা স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করে, তিনি এমন কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন না, যেটার সঙ্গে রক্ত অথবা রক্তের মূল চারটে উপাদানের মধ্যে কোনো  একটা গ্রহণ করা জড়িত। এই তথ্য এমনকী সেই সময়েও একজন খ্রিস্টানের বিবেককে প্রভাবিত করতে পারে, যখন তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তিনি সেই মূল চারটে উপাদানের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ গ্রহণ করবেন কি না। * চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাইবেলের অন্য আর কোন উপদেশ আমাদের সাহায্য করতে পারে?

৮. ফিলিপীয় ৪:৫ পদ কীভাবে আমাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞতাপূর্ণ বাছাই করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে?

হিতোপদেশ ১৪:১৫ পদ বলে: “যে অবোধ, সে সকল কথায় বিশ্বাস করে, কিন্তু সতর্ক লোক নিজ পাদক্ষেপের প্রতি লক্ষ্য রাখে।” বর্তমানে, কোনো কোনো রোগের প্রতিকার হয়তো জানা নেই। তাই, আমাদের এমন চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে, যে-পদ্ধতি রোগের প্রতিকার করবে বলে দাবি করে, তবে সেটার কোনো প্রমাণ নেই। পৌল লিখেছিলেন: “তোমাদের শান্ত ভাব [“যুক্তিবাদিতা,” NW] মনুষ্যমাত্রের বিদিত হউক।” (ফিলি. ৪:৫) যুক্তিবাদিতা আমাদের মনোযোগকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ের উপর কেন্দ্রীভূত রাখার পরিবর্তে বরং যিহোবার উপাসনার উপর কেন্দ্রীভূত রাখতে সাহায্য করবে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় যদি আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে, তাহলে আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠতে পারি। (ফিলি. ২:৪) আমরা এটা জানি, এই বিধিব্যবস্থায় আমরা নিখুঁত স্বাস্থ্য লাভ করতে পারব না। তাই এই বিষয়টা খেয়াল রাখুন, যিহোবার সেবা করা যেন আপনার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা শ্রেয় বিষয় হয়।—পড়ুন, ফিলিপীয় ১:১০; পাদটীকা।

আপনি কি আপনার মতামত অন্যদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন? (৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)

৯. আমাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রোমীয় ১৪:১৩, ১৯ পদ কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে আর কীভাবে আমরা হয়তো আমাদের একতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারি?

একজন যুক্তিবাদী খ্রিস্টান, নিজে যে-বিষয়টাকে সর্বোত্তম বলে মনে করেন, সেটা অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। একটা দেশে, এক দম্পতি অন্যদেরকে নির্দিষ্ট ধরনের খাদ্যের বিকল্প গ্রহণ এবং একটা নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুসরণ করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তারা কোনো কোনো ভাই-বোনকে তা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে কেউ কেউ তা গ্রহণ করেনি। সেই খাদ্যের বিকল্প গ্রহণ ও খাদ্যতালিকা অনুসরণ করে যখন উত্তম ফলাফল লাভ করা যায়নি, তখন অনেক ভাই-বোন বিরক্ত হয়েছিলেন। এই দম্পতি, নিজেদের জন্য সেই খাদ্যের বিকল্প গ্রহণ ও খাদ্যতালিকা বাছাই করবেন কি না, সেই অধিকার তাদের ছিল। কিন্তু, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ের কারণে মণ্ডলীর একতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কি যুক্তিসংগত ছিল? প্রাচীন রোমে, নির্দিষ্ট ধরনের খাদ্য ও উৎসবের বিষয়ে কোনো কোনো খ্রিস্টানের ভিন্ন মতামত ছিল। পৌল তাদের কোন উপদেশ দিয়েছিলেন? তিনি বলেছিলেন: “এক জন এক দিন হইতে অন্য দিন অধিক মান্য করে; আর এক জন সকল দিনকেই সমানরূপে মান্য করে; প্রত্যেক ব্যক্তি আপন আপন মনে স্থিরনিশ্চয় হউক।” তাই আসুন, আমরা অন্যদের বিঘ্ন স্বরূপ হওয়া এড়িয়ে চলি।—পড়ুন, রোমীয় ১৪:৫, ১৩, ১৫, ১৯, ২০.

১০. কেন অন্যদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে আমাদের সম্মান করা উচিত? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

১০ কখনো কখনো, আমরা হয়তো বুঝতে পারি না, কেন মণ্ডলীর কেউ কেউ ব্যক্তিগত বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেন। তখন আমাদের কী করা উচিত? আমরা দ্রুত  তার বিচার করে ফেলব না অথবা তার মন পরিবর্তন করার জন্য জোরাজুরি করব না। হয়তো তার বিবেককে আরও প্রশিক্ষিত করা প্রয়োজন অথবা বিষয়টা হয়তো বেশ স্পর্শকাতর। (১ করি. ৮:১১, ১২) আবার এটাও হতে পারে, আমাদের বিবেক হয়তো পুরোপুরি প্রশিক্ষিত হয়নি। যখন চিকিৎসা সংক্রান্ত ও অন্যান্য বিষয় দেখা দেয়, তখন প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ নিজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেটার দায়ভার বহন করতে হবে।

বিনোদন উপভোগ করুন

১১, ১২. কীভাবে বাইবেল আমাদের বিনোদন বাছাই করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে?

১১ যিহোবা আমাদের এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন, যেন আমরা বিনোদন উপভোগ করি ও তা থেকে উপকার লাভ করি। শলোমন লিখেছিলেন, “হাস্য করিবার কাল” ও “নৃত্য করিবার কাল” রয়েছে। (উপ. ৩:৪) কিন্তু, সকল বিনোদনই উপকারজনক, আনন্দদায়ক অথবা সতেজতাদায়ক নয়। এ ছাড়া, বিনোদনের পিছনে অতিরিক্ত সময় দেওয়া আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে। যিহোবা অনুমোদন করেন এমন বিনোদন উপভোগ করার ক্ষেত্রে ও তা থেকে উপকার লাভ করার ক্ষেত্রে আমাদের বিবেক কীভাবে সাহায্য করতে পারে?

১২ বাইবেল আমাদের ‘মাংসের কার্য্য সকলের’ বিরুদ্ধে সাবধান করে। এর অন্তর্ভুক্ত “বেশ্যাগমন, অশুচিতা, স্বৈরিতা, প্রতিমাপূজা, কুহক, নানা প্রকার শত্রুতা, বিবাদ, ঈর্ষা, রাগ, প্রতিযোগিতা, বিচ্ছিন্নতা, দলভেদ, মাৎসর্য্য, মত্ততা, রঙ্গরস ও তৎসদৃশ অন্য অন্য দোষ।” পৌল লিখেছিলেন, “যাহারা এই প্রকার আচরণ করে, তাহারা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না।” (গালা. ৫:১৯-২১) তাই আমরা নিজেদের জিজ্ঞেস করতে পারি: ‘আমার বিবেক কি আমাকে এমন খেলাধুলা এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে, যেগুলো দৌরাত্ম্যপূর্ণ কিংবা যেগুলো আমার মধ্যে আক্রমণাত্মক, প্রতিযোগিতাপরায়ণ অথবা জাতীয়তাবাদী মনোভাব জাগিয়ে তোলে? আমার বিবেক কি আমাকে সেই সময়ে বাধা দেয়, যখন আমি এমন একটা সিনেমা দেখার জন্য প্রলোভিত হই, যেখানে অশ্লীল দৃশ্য রয়েছে অথবা যেখানে অনৈতিকতা, মত্ততা কিংবা প্রেতচর্চা তুলে ধরা হয়েছে?’

১৩. কীভাবে ১ তীমথিয় ৪:৮ পদ এবং হিতোপদেশ ১৩:২০ পদের উপদেশ আমাদের বিনোদনের ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে?

১৩ বিনোদনের বিষয়ে আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করার জন্য বাইবেলের বিভিন্ন নীতি আমাদের সাহায্য করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, বাইবেল বলে, “শারীরিক দক্ষতার অভ্যাস অল্প বিষয়ে সুফলদায়ক হয়।” (১ তীম. ৪:৮) অনেকে মনে করে, নিয়মিত ব্যায়াম করা সতেজতাদায়ক এবং এটা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু, আমরা যদি একটা দলের সঙ্গে ব্যায়াম করতে চাই, তাহলে? আমরা কাদের সঙ্গে ব্যায়াম করি, সেটা কি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? হিতোপদেশ ১৩:২০ পদ আমাদের বলে: “জ্ঞানীদের সহচর হও, জ্ঞানী হইবে; কিন্তু যে হীনবুদ্ধিদের বন্ধু, সে ভগ্ন হইবে।” এটা স্পষ্ট যে, বিনোদন বাছাই করার ক্ষেত্রে আমাদের বাইবেল প্রশিক্ষিত বিবেক ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

১৪. কীভাবে একটা পরিবার রোমীয় ১৪:২-৪ পদ কাজে লাগিয়েছিল?

১৪ ক্রিস্টিয়ান ও ড্যানিয়েলার দু-জন কিশোরবয়সি মেয়ে রয়েছে। ক্রিস্টিয়ান বলেন: “পারিবারিক উপাসনার সন্ধ্যায় আমরা বিনোদনের বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা এই ব্যাপারে একমত হয়েছি, কিছু আমোদপ্রমোদ গ্রহণযোগ্য, আবার কিছু গ্রহণযোগ্য নয়। কাদেরকে সুসংসর্গ হিসেবে বিবেচনা করা যায়? আমাদের এক মেয়ে অভিযোগ করেছিল, স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে অল্পবয়সি কয়েক জন সাক্ষি এমন আচরণ করে, যা তার কাছে সঠিক বলে মনে হয় না। আর তখন সে-ও একইরকম আচরণ করার জন্য চাপ অনুভব করে। আমরা যুক্তি করেছিলাম, আমাদের প্রত্যেকের বিবেক রয়েছে আর আমরা কী করব অথবা কাদের সঙ্গে মেলামেশা করব, তা বাছাই করার ক্ষেত্রে এই বিবেকের দ্বারা আমাদের পরিচালিত হওয়া উচিত।”—পড়ুন, রোমীয় ১৪:২-৪.

আপনার বাইবেল শিক্ষিত বিবেক আপনাকে বিভিন্ন বিপদ এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে (১৪ অনুচ্ছেদ দেখুন))

১৫. বিনোদনের বিষয়ে পরিকল্পনা করার সময় মথি ৬:৩৩ পদ কীভাবে আমাদের সাহায্য করে?

১৫ বিনোদনের পিছনে আপনি কতটা সময় ব্যয় করেন? আপনি কি সভা, ক্ষেত্রের পরিচর্যা এবং বাইবেল অধ্যয়নের মতো বিষয়গুলোকে আপনার জীবনে প্রথমে রাখেন, না কি বিনোদন আপনার জীবনে  প্রথম স্থানে রয়েছে? আপনার কাছে কোনটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? যিশু বলেছিলেন: “তোমরা প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও তাঁহার ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া হইবে।” (মথি ৬:৩৩) আপনার সময়কে আপনি কীভাবে ব্যয় করবেন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনার বিবেক কি আপনাকে যিশুর উপদেশ স্মরণ করিয়ে দেয়?

আমাদের প্রচার করার জন্য অনুপ্রাণিত করা হয়েছে

১৬. কীভাবে আমাদের বিবেক আমাদেরকে প্রচার করতে উৎসাহিত করে?

১৬ এক প্রশিক্ষিত বিবেক, আমাদেরকে ভুল বিষয়গুলো করার বিরুদ্ধে সতর্ক করার পাশাপাশি ভালো বিষয়গুলো করার জন্যও অনুপ্রাণিত করে। এই ভালো কাজগুলোর মধ্যে একটা হল, ঘরে ঘরে এবং রীতিবহির্ভূতভাবে প্রচার করা। পৌল ঠিক এটাই করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন: “অবশ্য বহনীয় ভার আমার উপরে অর্পিত; ধিক্‌ আমাকে, যদি আমি সুসমাচার প্রচার না করি।” (১ করি. ৯:১৬) আমরা যখন পৌলকে অনুকরণ করব, তখন আমাদের এক উত্তম বিবেক থাকবে আর আমরা বুঝতে পারব, আমরা সঠিক বিষয়টাই করছি। আর অন্যদের কাছে সুসমাচার প্রচার করার মাধ্যমে, আমরা তাদের বিবেককেও নাড়া দিতে পারি। পৌল বলেছিলেন: “সত্য প্রকাশ দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে মনুষ্যমাত্রের সংবেদের কাছে আপনাদিগকে যোগ্যপাত্র দেখাইতেছি।”—২ করি. ৪:২.

১৭. কীভাবে একজন বোন অল্পবয়সে তার বাইবেল শিক্ষিত বিবেককে কাজে লাগিয়েছিলেন?

১৭ জ্যাকলিনের বয়স যখন ১৬ বছর, তখন স্কুলে তিনি জীববিদ্যা পড়েছিলেন। সেইসময়ে, ছাত্র-ছাত্রীদের বিবর্তনবাদের বিষয়টা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। “আমি সাধারণত ক্লাসের আলোচনায় পুরোপুরি যোগ দেওয়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আমার বিবেকের কারণে, সেই দিন আমি পুরোপুরিভাবে যোগ দিতে পারিনি। আমি বিবর্তনবাদের বিষয়টা সমর্থন করতে পারিনি। আমি তখন আমার শিক্ষকের কাছে যাই এবং এই বিষয়ে আমার অবস্থান সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করি। তার প্রতিক্রিয়া দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। তিনি অনেক বন্ধুত্বপরায়ণ ছিলেন এবং পুরো ক্লাসের সামনে আমাকে সৃষ্টি সম্বন্ধে কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন।” জ্যাকলিন নিজের বাইবেল শিক্ষিত বিবেকের কথা শুনে সেই অনুযায়ী কাজ করেছিলেন আর তাই তিনি অনেক পরিতৃপ্তি লাভ করেছিলেন। যা সঠিক তা করার জন্য, আপনার বিবেক কি আপনাকে অনুপ্রাণিত করে?

১৮. কেন আমরা এক উত্তম ও নির্ভরযোগ্য বিবেক লাভ করতে চাই?

১৮ আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, যিহোবার নীতি ও মান অনুযায়ী জীবনযাপন করা। আর আমাদের বিবেক আমাদেরকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সাহায্য করতে পারে। আমরা যখন নিয়মিতভাবে ঈশ্বরের বাক্য পড়ব, তা নিয়ে ধ্যান করব ও সেইসঙ্গে যা শিখি তা কাজে লাগাব, তখন আমরা আমাদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে পারব। সেই সময়ে, এই চমৎকার উপহার আমাদের খ্রিস্টীয় জীবনে এক নির্ভরযোগ্য নির্দেশক হয়ে উঠবে!

^ অনু. 7 ২০০৪ সালের ১৫ জুন প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ২৯-৩১ পৃষ্ঠায় দেওয়া “পাঠক-পাঠিকাদের থেকে প্রশ্নসকল” শিরোনামের প্রবন্ধ দেখুন।