সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  আগস্ট ২০১৫

এই শেষকালে আপনার মেলামেশার ব্যাপারে সাবধান থাকুন

এই শেষকালে আপনার মেলামেশার ব্যাপারে সাবধান থাকুন

“কুসংসর্গ শিষ্টাচার নষ্ট করে।”—১ করি. ১৫:৩৩.

গান সংখ্যা: ২৫, ২০

১. আমরা এখন কোন সময়ে বাস করছি?

আমরা এখন ‘বিষম সময়ে’ বাস করছি। ১৯১৪ সাল থেকে অর্থাৎ যখন ‘শেষ কাল’ শুরু হয়েছিল, তখন থেকে জগতের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। (২ তীম. ৩:১-৫) আর আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি এই জগতের পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হবে কারণ বাইবেল ভবিষ্যদ্‌বাণী করে, “দুষ্ট লোকেরা ও বঞ্চকেরা . . . উত্তর উত্তর কুপথে অগ্রসর হইবে।”—২ তীম. ৩:১৩.

২. অনেক লোক কোন ধরনের আমোদপ্রমোদ উপভোগ করে? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

বর্তমানে অনেক লোক আমোদপ্রমোদের জন্য এমন বিষয় দেখে অথবা এমন কাজ করে, যেগুলো দৌরাত্ম্যপূর্ণ বা অনৈতিক কিংবা যেগুলোর সঙ্গে জাদুবিদ্যা ও প্রেতচর্চা জড়িত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইন্টারনেট, টেলিভিশনের অনুষ্ঠান, সিনেমা, বই এবং পত্রপত্রিকায় দৌরাত্ম্য ও অনৈতিকতা প্রায়ই এমনভাবে তুলে ধরা হয়, যেন সেগুলো গ্রহণযোগ্য। আর একটা সময়ে যে-ধরনের আচরণের কথা লোকেরা চিন্তাও করতে পারত না, তা এখন এতটাই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে যে, কোনো কোনো দেশে তা আইনের দ্বারা স্বীকৃত। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, যিহোবা এই ধরনের আচরণ অনুমোদন করেন।—পড়ুন, রোমীয় ১:২৮-৩২.

৩. যারা ঈশ্বরের মান অনুযায়ী জীবনযাপন করে, তাদের সম্বন্ধে লোকেরা কী মনে করে?

 প্রথম শতাব্দীতেও লোকেরা আমোদপ্রমোদের জন্য এমন বিষয়গুলো দেখত, যেগুলো দৌরাত্ম্যপূর্ণ এবং অনৈতিক ছিল। কিন্তু যিশুর অনুসারীরা তা করেনি কারণ তারা ঈশ্বরের মান অনুযায়ী জীবনযাপন করত। এটা দেখে তাদের চারপাশের লোকেরা ‘আশ্চর্য্য জ্ঞান করিয়াছিল।’ এর ফল কী হয়েছিল? লোকেরা খ্রিস্টানদের নিয়ে হাসিঠাট্টা করেছিল এবং তাদের তাড়না করেছিল। (১ পিতর ৪:৪) বর্তমানেও, যারা ঈশ্বরের মান অনুযায়ী জীবনযাপন করে, তাদেরকে অনেকে অদ্ভুত লোক বলে মনে করে। আসলে, বাইবেল আমাদের সাবধান করে, যারা খ্রিস্ট যিশুর উদাহরণ অনুসরণ করে, তাদের প্রতি “তাড়না ঘটিবে।”—২ তীম. ৩:১২.

“কুসংসর্গ শিষ্টাচার নষ্ট করে”

৪. কেন আমরা এই জগৎকে ভালোবাসি না?

আমরা যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চাই, তাহলে আমরা “জগৎকে” অথবা ‘জগতীস্থ বিষয় সকলকে’ ভালোবাসতে পারি না। (পড়ুন, ১ যোহন ২:১৫, ১৬.) “এই যুগের দেব” শয়তান জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সে ধর্ম, সরকার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে লোকেদের ভ্রান্ত করে। (২ করি. ৪:৪; ১ যোহন ৫:১৯) আমরা যেহেতু জগতের দ্বারা প্রভাবিত হতে চাই না, তাই আমাদের কুসংসর্গ এড়িয়ে চলতে হবে। বাইবেল আমাদের স্পষ্টভাবে সাবধান করে: “ভ্রান্ত হইও না, কুসংসর্গ শিষ্টাচার নষ্ট করে।”—১ করি. ১৫:৩৩.

৫, ৬. কাদের সঙ্গে আমাদের মেলামেশা করা উচিত নয় এবং কেন?

আমরা যিহোবার সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই আর তাই মন্দ কাজ করে এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আমরা মেলামেশা করি না। এদের মধ্যে সেই ব্যক্তিরাও রয়েছে, যারা মুখে বলে, তারা যিহোবার উপাসনা করে কিন্তু কাজে তাঁর অবাধ্য হয়। এই ধরনের ব্যক্তিরা যদি গুরুতর পাপ করে এবং অনুতপ্ত না হয়, তাহলে আমরা তাদের সঙ্গে মেলামেশা করা বন্ধ করে দিই।—রোমীয় ১৬:১৭, ১৮.

লোকেরা সাধারণত তাদের বন্ধুবান্ধবকে খুশি করতে চায় এবং তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে চায়। তাই আমরা যদি এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করি যারা ঈশ্বরের বাধ্য হয় না, তাহলে আমরা হয়তো তাদের মতো কাজ করার জন্য প্রলোভিত হতে পারি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা যদি এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করি যারা যৌন অনৈতিকতায় রত হয়, তাহলে আমরা হয়তো তাদের মতো হয়ে যেতে পারি। আমাদের ভাই-বোনদের মধ্যে কারো কারো ক্ষেত্রে তা ঘটেছে। আর যারা অনুতপ্ত হয়নি, তাদের সমাজচ্যুত করা হয়েছে। (১ করি. ৫:১১-১৩) তারা যদি অনুতপ্ত না হয়, তাহলে তাদের পরিস্থিতি ঠিক সেইরকম হবে, যেমনটা পিতর বর্ণনা করেছিলেন।—পড়ুন, ২ পিতর ২:২০-২২.

৭. কাদের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব করা উচিত?

যদিও আমরা সকলের প্রতি সদয় হতে চাই, কিন্তু ঈশ্বরের অবাধ্য হয় এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব করা উচিত নয়। একজন যিহোবার সাক্ষির জন্য এমন কারো সঙ্গে ডেটিং করা ভুল হবে, যিনি যিহোবার একজন বাপ্তাইজিত ও বিশ্বস্ত দাস নন। ঈশ্বরকে ভালোবাসে না এমন লোকেদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেয়ে ঈশ্বরের অনুমোদন লাভ করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কেবল সেই ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করা উচিত, যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে। যিশু বলেছিলেন: “কেননা যে কেহ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে, সেই আমার ভ্রাতা ও ভগিনী ও মাতা।”—মার্ক ৩:৩৫.

৮. কুসংসর্গের কারণে প্রাচীন ইস্রায়েলের লোকেরা কোন পরিণতি ভোগ করেছিল?

কুসংসর্গ ধ্বংসাত্মক পরিণতি নিয়ে আসে। উদাহরণ হিসেবে, ইস্রায়েলীয়দের ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল, তা বিবেচনা করুন। প্রতিজ্ঞাত দেশে পৌঁছানোর আগে যিহোবা তাদেরকে সেখানে বসবাসকারী লোকেদের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “তুমি তাহাদের দেবগণের কাছে প্রণিপাত করিও না,  এবং তাহাদের সেবা করিও না, ও তাহাদের ক্রিয়ার ন্যায় ক্রিয়া করিও না; কিন্তু তাহাদিগকে সমূলে উৎপাটন করিও, এবং তাহাদের স্তম্ভ সকল ভাঙ্গিয়া ফেলিও। তোমরা আপনাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেবা করিও।” (যাত্রা. ২৩:২৪, ২৫) কিন্তু, অধিকাংশ ইস্রায়েলীয় ঈশ্বরের নির্দেশনার অবাধ্য হয়েছিল এবং তাঁর প্রতি অবিশ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। (গীত. ১০৬:৩৫-৩৯) এর পরিণতি কী হয়েছিল? যিহোবা পরবর্তী সময়ে ইস্রায়েল জাতিকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং তাদের পরিবর্তে তাঁর প্রজা হিসেবে খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর সদস্যদের বেছে নিয়েছিলেন।—মথি ২৩:৩৮; প্রেরিত ২:১-৪.

আপনি যা পড়েন ও দেখেন, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকুন

৯. কেন এই জগতের প্রচারমাধ্যম বিপদজনক হতে পারে?

এই জগতের বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম যেমন, টেলিভিশনের অনুষ্ঠান, ওয়েবসাইট ও বইপত্র, যিহোবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। এই ধরনের বিষয়বস্তু, যিহোবা ও তাঁর প্রতিজ্ঞার উপর খ্রিস্টানদের বিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করার জন্য তৈরি করা হয় না। এর পরিবর্তে, এগুলো লোকেদেরকে শয়তানের মন্দ জগতের উপর নির্ভর করতে উৎসাহিত করে। তাই, আমাদের অনেক সতর্ক থাকতে হবে, যেন আমরা এমন কোনো কিছু দেখা, পড়া অথবা শোনা বেছে না নিই, যেটা আমাদের মধ্যে “সাংসারিক অভিলাষ” বা জাগতিক আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলতে পারে।—তীত ২:১২.

১০. এই জগতের প্রচারমাধ্যমগুলোর কী হবে?

১০ শয়তানের জগৎ ও এর ক্ষতিকর প্রচারমাধ্যমগুলো শীঘ্রই ধ্বংস হবে। বাইবেল জানায়: “জগৎ ও তাহার অভিলাষ বহিয়া যাইতেছে; কিন্তু যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে, সে অনন্তকালস্থায়ী।” (১ যোহন ২:১৭) একইভাবে, গীতরচক গেয়েছিলেন: “দুরাচারগণ উচ্ছিন্ন হইবে।” এরপর তিনি আরও বলেন: “কিন্তু মৃদুশীলেরা দেশের অধিকারী হইবে, এবং শান্তির বাহুল্যে আমোদ করিবে।” কত সময়ের জন্য? “ধার্ম্মিকেরা দেশের অধিকারী হইবে, তাহারা নিয়ত তথায় বাস করিবে।”—গীত. ৩৭:৯, ১১, ২৯.

১১. আমরা যাতে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে পারি, সেইজন্য তিনি কীভাবে আমাদের সাহায্য করেন?

১১ শয়তানের জগতের বিপরীতে, যিহোবার সংগঠন আমাদের এমন উপায়ে জীবনযাপন করতে সাহায্য করে, যা অনন্তজীবনের দিকে পরিচালিত করে। যিশু যিহোবার কাছে এই প্রার্থনা করেছিলেন: “ইহাই অনন্ত জীবন যে, তাহারা তোমাকে, একমাত্র সত্যময় ঈশ্বরকে, এবং তুমি যাঁহাকে পাঠাইয়াছ, তাঁহাকে, যীশু খ্রীষ্টকে, জানিতে পায়।” (যোহন ১৭:৩) যিহোবাকে জানার জন্য আমাদের যা-কিছু প্রয়োজন, তিনি তাঁর সংগঠন ব্যবহার করে সেইসমস্ত কিছু জুগিয়ে থাকেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের অনেক পত্রিকা, ব্রোশার, বই, ভিডিও এবং ওয়েব পেইজ রয়েছে, যেগুলো আমাদেরকে ঈশ্বরের সেবা করে চলার জন্য সাহায্য করে। এ ছাড়া, তাঁর সংগঠন বিশ্বব্যাপী ১,১০,০০০-রেরও বেশি মণ্ডলীতে নিয়মিতভাবে সভার ব্যবস্থা করে থাকে। এই সভাগুলো ও সেইসঙ্গে বড়ো বড়ো সম্মেলনে আমরা বাইবেল থেকে যা শিখি, সেগুলো যিহোবা এবং তাঁর প্রতিজ্ঞার প্রতি আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে।—ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫.

“কেবল প্রভুতেই” বিয়ে করুন

১২. “কেবল প্রভুতেই” বিয়ে করার বিষয়ে বাইবেল যে-আজ্ঞা দেয়, তা ব্যাখ্যা করুন।

১২ যে-খ্রিস্টানরা বিয়ে করার ব্যাপারে আগ্রহী, তারা কাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে, সেই ব্যাপারে তাদের অনেক সতর্ক হতে হবে। ঈশ্বরের বাক্য আমাদের সাবধান করে: “তোমরা অবিশ্বাসীদের সহিত অসমভাবে যোঁয়ালিতে বদ্ধ হইও না; কেননা ধর্ম্মে ও অধর্ম্মে পরস্পর কি সহযোগিতা? অন্ধকারের সহিত দীপ্তিরই বা কি সহভাগিতা?” (২ করি. ৬:১৪) বাইবেল ঈশ্বরের দাসদের “কেবল প্রভুতেই” বিয়ে করতে বলে। এর অর্থ হচ্ছে, তারা শুধুমাত্র এমন ব্যক্তিকেই বিয়ে করবে, যারা উৎসর্গীকৃত ও বাপ্তাইজিত এবং যিহোবার মান অনুযায়ী জীবনযাপন করে। (১ করি. ৭:৩৯) আপনি যদি এমন কাউকে বিয়ে করেন যিনি যিহোবাকে ভালোবাসেন, তাহলে আপনি  এমন একজন সাথি পাবেন, যিনি আপনাকে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে সাহায্য করবেন।

১৩. ঈশ্বর বিয়ে সম্বন্ধে ইস্রায়েলীয়দের কী আজ্ঞা দিয়েছিলেন?

১৩ আমাদের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো তা যিহোবা জানেন আর “কেবল প্রভুতেই” বিয়ে করার বিষয়ে তাঁর আজ্ঞাটা নতুন কোনো বিষয় নয়। উদাহরণ স্বরূপ, যারা যিহোবার সেবা করত না, তাদের বিষয়ে তিনি ইস্রায়েলীয়দের কী বলেছিলেন, তা বিবেচনা করুন। মোশির মাধ্যমে তিনি এই আজ্ঞা দিয়েছিলেন: “তাহাদের সহিত বিবাহ-সম্বন্ধ করিবে না; তুমি তাহার পুত্ত্রকে আপনার কন্যা দিবে না, ও আপন পুত্ত্রের জন্য তাহার কন্যা গ্রহণ করিবে না। কেননা সে তোমার সন্তানকে আমার অনুগমন হইতে ফিরাইবে, আর তাহারা অন্য দেবগণের সেবা করিবে; তাই তোমাদের প্রতি সদাপ্রভুর ক্রোধ প্রজ্বলিত হইবে, এবং তিনি তোমাকে শীঘ্র বিনষ্ট করিবেন।”—দ্বিতীয়. ৭:৩, ৪.

১৪, ১৫. যিহোবার আজ্ঞা অমান্য করার কারণে শলোমনের কী হয়েছিল?

১৪ শলোমন ইস্রায়েলের রাজা হওয়ার অল্পসময় পর, যিহোবার কাছে প্রজ্ঞা চেয়ে প্রার্থনা করেছিলেন এবং যিহোবা তার প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন। তাই, শলোমন এক সমৃদ্ধশালী দেশের বিজ্ঞ শাসক হিসেবে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন। সত্যি বলতে কী, শিবার রানি শলোমনের প্রজ্ঞা দেখে এতটাই অভিভূত হয়েছিলেন যে, তিনি তাকে এই কথা বলেছিলেন: “আমি যে খ্যাতি শুনিয়াছিলাম, তাহা হইতেও আপনার জ্ঞান ও মঙ্গল অধিক।” (১ রাজা. ১০:৭) কিন্তু, শলোমনের উদাহরণ আমাদের এটাও শিক্ষা দেয়, একজন ব্যক্তি যখন ঈশ্বরের আজ্ঞা অমান্য করেন এবং যিহোবার সেবা করে না এমন কোনো ব্যক্তিকে বিয়ে করেন, তখন কী ঘটে।—উপ. ৪:১৩.

১৫ যদিও যিহোবা শলোমনকে আশীর্বাদ করেছিলেন, কিন্তু শলোমন ঈশ্বরের একটা স্পষ্ট আজ্ঞার অবাধ্য হয়েছিলেন। শলোমন এমন “অনেক বিদেশীয়া রমণীকে . . . প্রেম করিতেন,” যারা যিহোবার সেবা করতেন না। তার ৭০০ স্ত্রী এবং ৩০০ উপপত্নী ছিল। এর পরিণতি কী হয়েছিল? শলোমন যখন বৃদ্ধ হয়েছিলেন, তখন তার স্ত্রীরা “তাঁহার হৃদয়কে অন্য দেবগণের অনুগমনে বিপথগামী করিল; . . . এইরূপে শলোমন সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যাহা মন্দ তাহাই করিলেন।” (১ রাজা. ১১:১-৬) কুসংসর্গ তার উপর প্রভাব ফেলেছিল এবং তিনি যিহোবার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। শলোমনের ক্ষেত্রে যদি এমনটা ঘটে, তাহলে যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রেই তা ঘটতে পারে। তাই, যিহোবাকে ভালোবাসে না এমন কাউকে বিয়ে করার চিন্তাও যেন আমাদের মাথায় না আসে!

১৬. ঈশ্বরের একজন উপাসকের ক্ষেত্রে শাস্ত্রীয় কোন পরামর্শ প্রযোজ্য, যিনি ইতিমধ্যেই যিহোবার উপাসক নন এমন একজন ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন?

১৬ যদি একজন ব্যক্তি যিহোবার উপাসক হন আর তিনি ইতিমধ্যেই এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহিত থাকেন, যিনি যিহোবার উপাসক নন, তাহলে? বাইবেল বলে: “হে ভার্য্যা সকল, তোমরা আপন আপন স্বামীর বশীভূতা হও; যেন কেহ কেহ যদিও বাক্যের অবাধ্য হয়, তথাপি . . . আপন আপন ভার্য্যার আচার ব্যবহার দ্বারা তাহাদিগকে লাভ করা হয়।” (১ পিতর ৩:১, ২) এই নীতি অবশ্য এমন একজন স্বামীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যার স্ত্রী যিহোবার উপাসক নন। ঈশ্বরের বাক্য স্পষ্ট পরামর্শ দেয়: একজন উত্তম স্বামী অথবা স্ত্রী হোন এবং বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঈশ্বরের মান অনুযায়ী জীবনযাপন করুন। তা করা হলে, আপনার সাথি যখন দেখবে, আপনি ঈশ্বরের মান অনুযায়ী জীবনযাপন করার ফলে আরও উত্তম ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন, তখন তিনিও হয়তো যিহোবার উপাসনা করতে চাইবেন। অনেক দম্পতির এইরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে।

যিহোবাকে ভালোবাসে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করুন

১৭, ১৮. কোন বিষয়টা নোহকে জলপ্লাবন থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করেছিল আর কোন বিষয়টা প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানদের যিরূশালেমের ধ্বংস থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করেছিল?

১৭ কুসংসর্গ আপনাকে যিহোবার অবাধ্য হওয়ার জন্য পরিচালিত করতে পারে। কিন্তু সুসংসর্গ  আপনাকে তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার জন্য সাহায্য করতে পারে। নোহ হলেন আমাদের জন্য এক উত্তম উদাহরণ। তিনি এমন এক সময়ে বাস করেছিলেন, যখন “পৃথিবীতে মনুষ্যের দুষ্টতা বড়” ও “তাহার অন্তঃকরণের চিন্তার সমস্ত কল্পনা নিরন্তর কেবল মন্দ” ছিল। (আদি. ৬:৫) লোকেরা অনেক মন্দ ছিল আর তাই যিহোবা সেই দুষ্ট জগৎকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু, নোহ তাদের থেকে আলাদা ছিলেন। বাইবেল তাকে একজন ‘ধার্ম্মিক লোক’ হিসেবে উল্লেখ করে, যিনি “ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিতেন।”—আদি. ৬:৭-৯.

১৮ নোহ এমন লোকেদের সঙ্গে মেলামেশা করেননি, যারা যিহোবাকে ভালোবাসত না। তিনি এবং তার পরিবার জাহাজ নির্মাণকাজে ব্যস্ত ছিলেন আর সেইসঙ্গে তিনি “ধার্ম্মিকতার প্রচারক” ছিলেন। (২ পিতর ২:৫) নোহ, নোহের স্ত্রী, তার তিন ছেলে এবং তাদের স্ত্রীরা একে অন্যের জন্য সুসংসর্গ ছিলেন। তারা ঈশ্বরকে খুশি করে এমন কাজে ব্যস্ত ছিলেন আর এর ফলে তারা জলপ্লাবন থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। বর্তমানে আমরা সবাই তাদের বংশধর। নোহ ও তার পরিবারের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত কারণ তারা যিহোবার প্রতি বাধ্য ছিলেন এবং কুসংসর্গ এড়িয়ে চলেছিলেন। একইভাবে, প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানরা এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করেননি, যারা যিহোবাকে ভালোবাসত না। তারা যিহোবার প্রতি বাধ্য ছিলেন আর তাই ৭০ খ্রিস্টাব্দে যিরূশালেমের ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।—লূক ২১:২০-২২.

যিহোবাকে ভালোবাসে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করা আমাদেরকে নতুন জগতে জীবন কেমন হবে তা কল্পনা করতে সাহায্য করে (১৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৯. কোন বিষয়টা আমাদেরকে যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে সাহায্য করবে?

১৯ নোহ ও তার পরিবার এবং প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টানদের মতো, আমরাও সেই লোকেদের সঙ্গে মেলামেশা করি না, যারা যিহোবাকে ভালোবাসে না। আমাদের লক্ষ লক্ষ বিশ্বস্ত ভাই-বোন রয়েছে, যাদের আমরা বন্ধু হিসেবে বেছে নিতে পারি। তারা আমাদেরকে এই কঠিন সময়ে ‘বিশ্বাসে দাঁড়াইয়া থাকিতে’ সাহায্য করবে। (১ করি. ১৬:১৩; হিতো. ১৩:২০) এই দুষ্ট জগতের ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়ে যিহোবার নতুন জগতে জীবনযাপন করতে কত ভালো লাগবে, তা একটু চিন্তা করে দেখুন! তাই, বর্তমানে কুসংসর্গ এড়িয়ে চলা কতই-না গুরুত্বপূর্ণ!