সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  আগস্ট ২০১৫

যোহানার কাছ থেকে আমরা যা শিখতে পারি

যোহানার কাছ থেকে আমরা যা শিখতে পারি

অনেক লোক এটা জানে, যিশুর ১২ জন প্রেরিত ছিলেন। কিন্তু তারা হয়তো এই বিষয়টা জানে না, তাঁর শিষ্যদের মধ্যে কয়েক জন নারীও ছিলেন। এই নারীরা তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ছিলেন। যোহানা ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।—মথি ২৭:৫৫; লূক ৮:৩.

যিশু পৃথিবীতে পরিচর্যা করার সময় যোহানা কোন ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তার উদাহরণ থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

যোহানা কে ছিলেন?

যোহানা ছিলেন “হেরোদের বিষয়াধ্যক্ষ কূষের স্ত্রী।” কূষ হয়তো হেরোদ আন্তিপার ঘরের বিভিন্ন কাজ দেখাশোনা করতেন। যিশু বিভিন্ন নারীকে রোগ থেকে সুস্থ করেছিলেন আর যোহানা ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। অন্যান্য নারীর সঙ্গে, যোহানাও যিশু এবং তাঁর প্রেরিতদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন।—লূক ৮:১-৩.

যিহুদি রব্বিরা শিক্ষা দিতেন, নারীরা তাদের আত্মীয় ছাড়া অন্য পুরুষদের সঙ্গে সামাজিক মেলামেশা করবে না; তাদের সঙ্গে ভ্রমণ করা তো দূরের কথা! আসলে, যিহুদি পুরুষরা নারীদের সঙ্গে বলতে গেলে কথাই বলত না। এই ধরনের প্রথার প্রতি মনোযোগ না দিয়ে, যিশু যোহানা ও অন্যান্য বিশ্বাসী নারীকে তাঁর দলে সঙ্গী হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন।

যিশু এবং তাঁর প্রেরিতদের সঙ্গে মেলামেশা করার মাধ্যমে যোহানা সমাজের চোখে নিন্দার পাত্রী হওয়ার ঝুঁকি নিয়েছিলেন এবং রোজকার জীবনে বিভিন্ন রদবদল করেছিলেন। আসলে, যারা যিশুর সঙ্গী হয়েছিলেন, তাদের সকলকেই এসব রদবদল করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়েছিল। এই ধরনের অনুসারীদের সম্বন্ধে যিশু বলেছিলেন: “এই যে ব্যক্তিরা ঈশ্বরের বাক্য শুনে ও পালন করে, ইহারাই আমার মাতা ও ভ্রাতৃগণ।” (লূক ৮:১৯-২১; ১৮:২৮-৩০) যারা যিশুকে অনুসরণ করার জন্য বিভিন্ন ত্যাগস্বীকার করে, তাদের সঙ্গে যিশু অনেক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অনুভব করেন। এই বিষয়টা জেনে আপনি কি উৎসাহিত হন না?

তিনি নিজের সম্পদ ব্যবহার করে পরিচর্যা করতেন

যোহানা ও অন্যান্য নারী “আপন আপন সম্পত্তি হইতে” যিশু এবং তাঁর বারো জন প্রেরিতের পরিচর্যা করতেন। (লূক ৮:৩) একজন লেখক মন্তব্য করেছিলেন, “লূক তার পাঠকদের এটা বলছিলেন না যে, এই নারীরা রান্নাবান্না করতেন, থালাবাসন ধুয়ে দিতেন এবং কাপড় সেলাই করে দিতেন। সম্ভবত তারা . . . করতেন, কিন্তু লূক সেটা বলতে চাননি।” আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, সঙ্গীদের জীবনধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করার জন্য এই নারীরা নিজেদের টাকাপয়সা, জিনিসপত্র বা সম্পদ ব্যবহার করতেন।

প্রচারের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করার সময় যিশু এবং তাঁর প্রেরিতদের মধ্যে কেউই জীবিকানির্বাহের জন্য কোনো কাজ করেননি। তাই, প্রায় ২০ জনের মতো একটা দলের খাবার এবং অন্যান্য  বিষয়ের চাহিদা মেটানোর জন্য তাদের কোনো আয়ের উৎস ছিল না। যদিও তাদেরকে আতিথেয়তা দেখানো হয়েছিল, তবে খ্রিস্ট এবং তাঁর প্রেরিতরা যে একটা “টাকার থলী” বহন করতেন, এই বিষয়টা ইঙ্গিত দেয়, তারা সবসময় অন্যদের আতিথেয়তার উপর নির্ভর করতেন না। (যোহন ১২:৬; ১৩:২৮, ২৯) যোহানা ও সেইসঙ্গে অন্য নারীরা হয়তো প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য দান করতেন।

এক্ষেত্রে কেউ কেউ আপত্তি করে বলেন, একজন যিহুদি নারীর কোনো আর্থিক সহায়সম্পদ থাকত না। তবে, সমসাময়িক বিভিন্ন রচনা থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়, একজন যিহুদি নারী হয়তো বিভিন্ন উপায়ে সম্পদ লাভ করতেন: (১) যদি তার বাবা কোনো পুত্র সন্তান না রেখে মারা যেতেন, তাহলে বাবার উত্তরাধিকারী হিসেবে, (২) তাকে কোনো সম্পত্তি দেওয়া হলে, (৩) কোনো কারণে বিবাহবিচ্ছেদ হলে, বিয়ের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যে-অর্থ পেতেন, (৪) মৃত স্বামীর সম্পদ থেকে ভরণ-পোষণের খরচ হিসেবে অথবা (৫) ব্যক্তিগত আয় থেকে।

নিঃসন্দেহে, যিশুর অনুসারীরা তাদের সাধ্য অনুযায়ী দান করেছিলেন। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে হয়তো ধনবান নারীরা ছিলেন। যেহেতু যোহানা আগে অথবা সেই সময়ে হেরোদের বিষয়াধ্যক্ষের স্ত্রী ছিলেন, তাই কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তে আসে, তিনি ধনী ছিলেন। তার মতো কেউ হয়তো যিশুকে সেলাইবিহীন সেই দামি আংরাখা প্রদান করেছিলেন, যেটা যিশু পরতেন। একজন লেখক বলেন, এটা এমন একটা বস্ত্র, যেটা “জেলেদের স্ত্রীদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিল না।”—যোহন ১৯:২৩, ২৪.

যোহানা আর্থিক দান দিয়েছিলেন কি না, সেই বিষয়ে শাস্ত্র সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানায় না। কিন্তু, তিনি যথাসাধ্য করেছিলেন আর এখান থেকে আমরা একটা শিক্ষা লাভ করতে পারি। রাজ্যের বিষয়গুলোকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা দান করব কী করব না, তা আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে যিহোবার কাছে যে-বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ তা হল, আমরা যা করি, সেটা আনন্দের সঙ্গে করছি কি না।—মথি ৬:৩৩; মার্ক ১৪:৮; ২ করি. ৯:৭.

যিশুর মৃত্যুর সময় এবং তারপর

যিশুর মৃত্যুর সময়, যোহানা সম্ভবত সেই নারীদের সঙ্গে ছিলেন, যারা যিশু ‘যখন গালীলে ছিলেন, তখন তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ গমন করিয়া তাঁহার পরিচর্য্যা করিতেন।’ এ ছাড়া, “আরও অনেক স্ত্রীলোক সেখানে ছিলেন, যাঁহারা তাঁহার সঙ্গে যিরূশালেমে আসিয়াছিলেন।” (মার্ক ১৫:৪১) যিশুর দেহ যখন কবর দেওয়ার জন্য কাষ্ঠদণ্ড থেকে নামানো হয়েছিল, তখন “যে স্ত্রীলোকেরা তাঁহার সহিত গালীল হইতে আসিয়াছিলেন, তাঁহারা পশ্চাৎ পশ্চাৎ গিয়া সেই কবর, এবং কি প্রকারে তাঁহার দেহ রাখা যায়, তাহা দেখিলেন; পরে ফিরিয়া গিয়া সুগন্ধি দ্রব্য ও তৈল প্রস্তুত করিলেন।” এই নারীরা—যাদেরকে লূক “মগ্দলীনী মরিয়ম, যোহানা ও যাকোবের মাতা মরিয়ম” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন—বিশ্রামবারের পর যিশুর কবরের কাছে ফিরে এসেছিলেন এবং স্বর্গদূতদের দেখতে পেয়েছিলেন। সেই স্বর্গদূতেরা তাদেরকে যিশুর পুনরুত্থানের সংবাদ দিয়েছিলেন।—লূক ২৩:৫৫–২৪:১০.

যোহানা এবং অন্যান্য বিশ্বাসী নারী তাদের প্রভুর জন্য যথাসাধ্য করেছিলেন

সম্ভবত যোহানা ৩৩ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চাশত্তমীর দিনে যিরূশালেমে একত্রিত হওয়া শিষ্যদের সঙ্গে ছিলেন, যাদের মধ্যে যিশুর মা ও ভাইয়েরা ছিলেন। (প্রেরিত ১:১২-১৪) যেহেতু যোহানার স্বামী রাজপ্রাসাদে কাজ করতেন, তাই লূক হয়তো যোহানার কাছ থেকেই হেরোদ আন্তিপা সম্বন্ধে ভিতরের খবর জানতে পেরেছিলেন। এটা বলা যায়, কারণ লূকই হলেন একমাত্র সুসমাচার লেখক, যিনি যোহানার নাম উল্লেখ করেছেন।—লূক ৮:৩; ৯:৭-৯; ২৩:৮-১২; ২৪:১০.

যোহানার বিবরণ আমাদেরকে গভীরভাবে চিন্তা করার মতো বিভিন্ন শিক্ষা প্রদান করে। তিনি যিশুর সেবায় যথাসাধ্য করেছিলেন। যিশু, তাঁর বারো জন প্রেরিত এবং অন্য শিষ্যদের সঙ্গে একত্রে প্রচার করার সময় যোহানা যদি তার সম্পদ ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই আনন্দের সঙ্গে তা করেছিলেন। যোহানা যিশুর পরিচর্যা করেছিলেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সময়ও তাঁর প্রতি অনুগত ছিলেন। যোহানার এই ঈশ্বর ভয়শীল মনোভাব খ্রিস্টান নারীদের অনুকরণ করা উচিত।