সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জুলাই ২০১৫

ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতি আপনার আনুগত্য বজায় রাখুন

ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতি আপনার আনুগত্য বজায় রাখুন

“তাহারা জগতের নয়।”—যোহন ১৭:১৬.

গান সংখ্যা: ১৮, ৫৪

১, ২. (ক) যিহোবার প্রতি অনুগত থাকা এবং এই জগতের বিভিন্ন সংঘর্ষে কোনো পক্ষকে সমর্থন না করা কীভাবে সম্পর্কযুক্ত? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।) (খ) অনেক লোক কীসের প্রতি অনুগত কিন্তু এর ফল কী হয়েছে?

যিহোবার দাসেরা নিরপেক্ষ এবং তারা এমন বিষয়গুলোতে জড়িত হয় না, যেগুলো লোকেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে যেমন, জাতীয়তা, বর্ণ অথবা সংস্কৃতি। কেন? কারণ যিহোবার দাস হিসেবে আমরা তাঁকে ভালোবাসি, আমরা তাঁর প্রতি অনুগত এবং আমরা তাঁর বাধ্য থাকি। (১ যোহন ৫:৩) আমরা যেখানেই বাস করি না কেন অথবা আমাদের পটভূমি যা-ই হোক না কেন, আমরা ঈশ্বরের মান অনুসরণ করি। যিহোবা ও তাঁর রাজ্যের প্রতি আনুগত্য আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। (মথি ৬:৩৩) তাই, আমরা এটা বলতে পারি, আমরা ‘জগতের নই।’—পড়ুন, যোহন ১৭:১১, ১৫, ১৬; যিশা. ২:৪.

বর্তমানে এই জগতের অনেক লোক তাদের দেশ, জাতি অথবা সংস্কৃতির প্রতি আর এমনকী তাদের জাতীয় ক্রীড়া দলের প্রতি অনুগত। তবে দুঃখের বিষয়টা হল, এর ফলে তাদের মধ্যে অনেকে প্রতিযোগিতায় রত হয়েছে, একে অন্যকে ঘৃণা করেছে এবং কখনো কখনো তাদের প্রতিপক্ষের প্রতি অনুগত ব্যক্তিদের হত্যা করেছে। আমরা যদিও এই ধরনের সংঘর্ষে অংশ নিই না, তবে এগুলো আমাদের ও আমাদের পরিবারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে আর আমরা হয়তো  চরম অন্যায়ের শিকার হতে পারি। সরকার যখন অন্যায্য সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আমরা হয়তো সহজেই অন্য কোনো পক্ষকে সমর্থন করে ফেলতে পারি, কারণ ঈশ্বর আমাদের ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। (আদি. ১:২৭; দ্বিতীয়. ৩২:৪) কোনো অন্যায্য ঘটনা ঘটলে আপনার কেমন লাগে? আপনি কি নিরপেক্ষ থাকতে পারেন, না কি কোনো পক্ষকে সমর্থন করে ফেলেন?

৩, ৪. (ক) যখন কোনো সংঘর্ষ দেখা দেয়, তখন কেন আমরা কোনো একটা পক্ষকে সমর্থন করি না? (খ) এই প্রবন্ধে আমরা কী আলোচনা করব?

যখন কোনো সংঘর্ষ দেখা দেয়, তখন অনেকে কোনো একটা পক্ষকে সমর্থন করে কারণ রাজনৈতিক দলগুলো তাদের এটা বুঝিয়ে থাকে, সেটাই হচ্ছে একজন সুনাগরিকের কর্তব্য। কিন্তু আমরা যিশুকে অনুসরণ করি। তাই আমরা রাজনীতিতে জড়িত হই না এবং যুদ্ধে অংশ নিই না। (মথি ২৬:৫২) শয়তানের এই জগতের কোনো একটা অংশ অন্য অংশের চেয়ে ভালো, সত্য খ্রিস্টানরা এমনটা মনে করে না। (২ করি. ২:১১) আমরা এই জগতের সংঘর্ষগুলোতে কোনোভাবেই জড়িত হতে চাই না।—পড়ুন, যোহন ১৫:১৮, ১৯.

আমরা যেহেতু অসিদ্ধ, তাই আমাদের মধ্যে কারো কারো হয়তো এখনও সেই লোকেদের প্রতি নেতিবাচক অনুভূতি রয়েছে, যারা আমাদের চেয়ে আলাদা। (যির. ১৭:৯; ইফি. ৪:২২-২৪) এই প্রবন্ধে আমরা কিছু নীতি শিখব। এগুলো আমাদেরকে এমন অনুভূতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে ও তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে, যা লোকেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া, আমরা এটাও আলোচনা করব, কীভাবে আমরা নিজেদেরকে যিহোবা এবং যিশুর মতো চিন্তা করার জন্য প্রশিক্ষিত করতে পারি আর এভাবে রাজ্যের প্রতি অনুগত থাকতে পারি।

যে-কারণে আমরা জগতের কোনো অংশকে সমর্থন করি না

৫, ৬. পৃথিবীতে থাকাকালীন যিশু বিভিন্ন দলের লোকেদের কীভাবে দেখেছিলেন এবং কেন?

আপনার পক্ষে যদি নিরপেক্ষ থাকা কঠিন বলে মনে হয়, তাহলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘যিশু থাকলে কী করতেন?’ যিশু যখন পৃথিবীতে ছিলেন, তখন যিহূদিয়া, গালীল এবং শমরিয়ার লোকেদের মধ্যে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব ও মতানৈক্য ছিল। কিছু উদাহরণ চিন্তা করে দেখুন। যিহুদিরা ও শমরীয়রা একে অন্যের সঙ্গে কথা বলত না। (যোহন ৪:৯) ফরীশীদের ও সদ্দূকীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল। (প্রেরিত ২৩:৬-৯) যে-যিহুদিরা মোশির ব্যবস্থা নিয়ে অধ্যয়ন করতেন, তারা নিজেদেরকে সাধারণ যিহুদিদের চেয়ে উৎকৃষ্ট বলে মনে করতেন। (যোহন ৭:৪৯) এ ছাড়া, অনেক যিহুদি করগ্রাহীদের এবং রোমীয়দের ঘৃণা করত। (মথি ৯:১১) কিন্তু যিশু এই ধরনের দ্বন্দ্বে জড়িত হননি। তিনি সবসময় যিহোবা সম্বন্ধে সত্যের পক্ষসমর্থন করেছিলেন এবং এটা জানতেন, ইস্রায়েল হচ্ছে ঈশ্বরের বিশেষ জাতি। তা সত্ত্বেও, তিনি কখনো তাঁর শিষ্যদের এটা শিক্ষা দেননি, তারা অন্যদের চেয়ে উৎকৃষ্ট। (যোহন ৪:২২) এর পরিবর্তে, তিনি তাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন, যেন তারা সকল ব্যক্তিকে ভালোবাসে।—লূক ১০:২৭.

কেন যিশু কোনো একটা দলকে অন্য দলের চেয়ে উৎকৃষ্ট হিসেবে দেখেননি? কারণ তিনি অথবা তাঁর পিতা এই জগতের মতবিরোধে কারো পক্ষ নেননি। যিহোবা যখন প্রথম মানব-মানবীকে সৃষ্টি করেছিলেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তারা এই পৃথিবীকে পরিপূর্ণ করবে। (আদি. ১:২৭, ২৮) ঈশ্বর মানুষকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছিলেন, যেন তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বর্ণের মানুষের জন্ম হতে পারে। তাই, যিহোবা এবং যিশু কোনো বর্ণ, জাতি অথবা ভাষাকে, অন্যগুলোর চেয়ে উৎকৃষ্ট বলে মনে করেন না। (প্রেরিত ১০:৩৪, ৩৫; প্রকা. ৭:৯, ১৩, ১৪) আমাদের অবশ্যই তাঁদের নিখুঁত উদাহরণ অনুসরণ করতে হবে।—মথি ৫:৪৩-৪৮.

৭, ৮. (ক) আমরা কার পক্ষসমর্থন করি এবং কেন? (খ) মানবজাতির সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আমাদের কী মনে রাখতে হবে?

কেন আমরা মানুষের কোনো শাসক অথবা সরকারকে সমর্থন করি না? কারণ আমরা যিহোবার পক্ষসমর্থন করি। তিনি হলেন আমাদের শাসক। এদনে শয়তান যিহোবাকে বলেছিল, যিহোবা মানুষের জন্য সর্বোত্তম শাসক নন। শয়তান মানুষকে এটা বিশ্বাস করাতে চেয়েছিল, বিভিন্ন বিষয় করার জন্য ঈশ্বরের চেয়ে বরং তার উপায় আরও ভালো। আমরা কার পক্ষ নিতে চাই, সেই বিষয়ে যিহোবা আমাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিয়েছেন। কিন্তু আপনার বিষয়ে কী বলা যায়? বিভিন্ন বিষয় করার জন্য আপনার চেয়ে যিহোবার  উপায় আরও ভালো, আপনি কি এই বিশ্বাস নিয়ে যিহোবার বাধ্য হন? আপনি কি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তাঁর রাজ্যই আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবে? না কি আপনি মনে করেন, ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়াই লোকেরা নিজেদের আরও সফলভাবে শাসন করতে পারবে?—আদি. ৩:৪, ৫.

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যদি আপনাকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিবাদী দল অথবা এই ধরনের সংগঠনের বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে, তখন আপনি কী উত্তর দেবেন? এগুলোর মধ্যে কোনো কোনো দল হয়তো আন্তরিক এবং লোকেদের সাহায্য করতে চায়। কিন্তু আমরা এটা বুঝতে পারি, একমাত্র যিহোবার রাজ্যই মানবজাতির সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে ও সমস্ত অন্যায় দূর করে দিতে পারে। এ ছাড়া, মণ্ডলীতে নিজ নিজ চিন্তাভাবনা অনুযায়ী কাজ করার পরিবর্তে আমরা যিহোবার নির্দেশনা অনুসরণ করি। এই কারণে আমাদের মণ্ডলী একতাবদ্ধ।

৯. প্রথম শতাব্দীতে খ্রিস্টানদের মধ্যে কোন সমস্যা ছিল আর তাদের কী করতে হয়েছিল?

প্রথম শতাব্দীতে, করিন্থের খ্রিস্টানদের মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরের সঙ্গে এই বলে তর্ক করেছিলেন: “আমি পৌলের, আর আমি আপল্লোর, আর আমি কৈফার, আর আমি খ্রীষ্টের।” পৌল যখন এই বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন, তখন তিনি হতবাক হয়েছিলেন। এটা একটা গুরুতর সমস্যা ছিল কারণ মণ্ডলীর শান্তি ঝুঁকির মুখে ছিল। তাই, তিনি ভাই-বোনদের জিজ্ঞেস করেছিলেন: “খ্রীষ্ট কি বিভক্ত হইয়াছেন?” পৌল তাদের এভাবে পরামর্শ দিয়েছিলেন: “হে ভ্রাতৃগণ, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে আমি তোমাদিগকে বিনয় করিয়া বলি, তোমরা সকলে একই কথা বল, তোমাদের মধ্যে দলাদলি না হউক, কিন্তু এক মনে ও এক বিচারে পরিপক্ব হও।” বর্তমানেও একই বিষয় বলা যায়। মণ্ডলীতে কোনো ধরনের বিভেদ থাকা উচিত নয়।—১ করি. ১:১০-১৩; পড়ুন, রোমীয় ১৬:১৭, ১৮.

১০. পৌল খ্রিস্টানদের কোন বিষয়টা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন আর তা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১০ পৌল অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, তারা হলেন স্বর্গের প্রজা আর তাই তাদের ‘পার্থিব বিষয়ের’ প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত নয়। (ফিলি. ৩:১৭-২০) * অভিষিক্ত ব্যক্তিরা হলেন রাজদূত বা রাষ্ট্রদূত, যারা ঈশ্বর এবং খ্রিস্টকে প্রতিনিধিত্ব করেন। একজন রাষ্ট্রদূত বিদেশে থাকাকালীন সেই দেশের সমস্যা ও রাজনীতিতে জড়িত হন না। একইভাবে, অভিষিক্ত ব্যক্তিদের জন্য এই জগতের সমস্যা ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়া ঠিক হবে না। (২ করি. ৫:২০) এ ছাড়া, যাদের পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকার আশা রয়েছে, তারাও রাজ্যের প্রতি অনুগত এবং তারা এই জগতের বিভিন্ন দ্বন্দ্বে কারো পক্ষসমর্থন করে না।

যিহোবার রাজ্যের প্রতি অনুগত থাকার জন্য নিজেকে প্রশিক্ষিত করুন

১১, ১২. (ক) আমরা যদি ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতি অনুগত থাকতে চাই, তাহলে আমাদের কোন মনোভাব এড়িয়ে চলতে হবে? (খ) কোনো কোনো লোকের প্রতি একজন বোনের কেমন মনোভাব ছিল আর কী তাকে সেই মনোভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল?

১১ বিশ্বের অধিকাংশ জায়গায়, লোকেরা সাধারণত তাদের মতো একই ইতিহাস ও সংস্কৃতির অধিকারী এবং একই ভাষাভাষী ব্যক্তিদের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠতা অনুভব করে। আর তারা সাধারণত তাদের দেশ নিয়ে অনেক গর্বিত থাকে। কিন্তু এই ধরনের মনোভাব আমাদের এড়িয়ে চলতে হবে। এর পরিবর্তে, আমাদের সমস্ত পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ থাকার জন্য নিজেদের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে হবে এবং নিজেদের বিবেককে প্রশিক্ষিত করতে হবে। কীভাবে আমরা তা করতে পারি?

১২ উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মিরজেটা * প্রাক্তন ইউগোস্লাভিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি যে-এলাকায় বড়ো হয়েছিলেন, সেখানকার লোকেরা সার্বিয়ানদের ঘৃণা করত। কিন্তু যিহোবা সম্বন্ধে জানার পর তিনি বুঝতে পারেন, যিহোবা কোনো একটা সাম্প্রদায়িক দলকে অন্য দলের চেয়ে বেশি অনুগ্রহ দেখান না আর শয়তান চায়, যেন লোকেরা একে অন্যকে ঘৃণা করে। তাই, মিরজেটা তার চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করার জন্য অনেক প্রচেষ্টা করেছিলেন। তবে, তার এলাকায় যখন গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তখন সার্বিয়ানদের সম্বন্ধে  মিরজেটার মনে আবারও নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি হতে শুরু করে। তিনি এমনকী সার্বিয়ানদের কাছে প্রচারও করতে চাননি। এই চিন্তাভাবনা যে ভুল, তা তিনি জানতেন আর তাই তিনি যিহোবার কাছে মিনতি করেছিলেন, যেন তিনি তাকে এমন চিন্তাভাবনা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেন। এ ছাড়া, তিনি প্রার্থনায় এটাও বলেছিলেন, যেন যিহোবা তাকে অগ্রগামী সেবা শুরু করতে সাহায্য করেন। মিরজেটা বলেন: “আমি দেখেছি, পরিচর্যার প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখা সবচেয়ে সাহায্যকারী। প্রচারের সময় আমি যিহোবার প্রেমপূর্ণ ব্যক্তিত্ব অনুকরণ করার চেষ্টা করি আর আমি দেখেছি, এর ফলে আমার নেতিবাচক অনুভূতি দূর হয়ে গিয়েছে।”

১৩. (ক) জোয়লার প্রতি কী ঘটেছিল আর তিনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন? (খ) জোয়লার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১৩ জোয়লা নামে একজন বোন মেক্সিকো থেকে ইউরোপে চলে গিয়েছিলেন। তার মণ্ডলীতে এমন ভাই-বোনেরা ছিলেন, যারা ল্যাটিন আমেরিকার অন্য এলাকা থেকে এসেছিলেন। জোয়লা বলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার দেশ, সংস্কৃতি ও সংগীত নিয়ে মজা করতেন। এই কারণে জোয়লা বিরক্ত হয়ে যেতেন। তাই তিনি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, যেন তিনি তাকে অসন্তুষ্ট হওয়ার মনোভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেন। আমরা যদি তার পরিস্থিতিতে থাকতাম, তাহলে আমরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম? আমাদের ভাই-বোনদের মধ্যে কাউকে কাউকে হয়তো এখনও সেই সময়ে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য লড়াই করতে হয়, যখন তারা তাদের জন্মস্থান সম্বন্ধে নেতিবাচক মন্তব্য শোনে। তাই, আমরা কখনো এমন কিছু বলব না অথবা করব না, যা কোনো একটা দলের লোকেদেরকে অন্যদের চেয়ে উৎকৃষ্ট বলে তুলে ধরে। আমরা মণ্ডলীতে অথবা অন্য কোনো স্থানে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইব না।—রোমীয় ১৪:১৯; ২ করি. ৬:৩.

১৪. কী আপনাকে লোকেদের সম্বন্ধে যিহোবার মতো করে চিন্তা করতে সাহায্য করতে পারে?

১৪ আমরা সবাই জানি, যিহোবার দাসেরা এক জাতি হিসেবে একতাবদ্ধ আর তাই আমরা কখনো এমন চিন্তা করি না কোনো একটা দেশ অথবা এলাকা, অন্য দেশ অথবা এলাকার চেয়ে উৎকৃষ্ট। কিন্তু, আপনার পরিবার এবং আপনি যেখানে বড়ো হয়েছেন, সেখানে আশেপাশের লোকেরা হয়তো আপনাকে নিজের দেশ অথবা এলাকাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে। তাই, এখনও আপনি হয়তো কখনো কখনো অন্যান্য জাতি, সংস্কৃতি, ভাষা অথবা বর্ণের লোকেদের সম্বন্ধে নেতিবাচক চিন্তা করতে পারেন। কোন বিষয়টা আপনাকে এই মনোভাব পরিবর্তন করার জন্য সাহায্য করতে পারে? যে-লোকেরা নিজেদের দেশ নিয়ে গর্বিত অথবা যারা নিজেদেরকে অন্যদের চেয়ে উৎকৃষ্ট বলে মনে করে, তাদের সম্বন্ধে যিহোবা কেমন অনুভব করেন, তা নিয়ে ধ্যান করুন। ব্যক্তিগত অধ্যয়নের সময় অথবা পারিবারিক উপাসনার সময় এই বিষয়ে আরও গবেষণা করুন। তারপর যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন, যেন তিনি আপনাকে লোকেদের সম্বন্ধে তাঁর মতো করে চিন্তা করতে সাহায্য করেন।—পড়ুন, রোমীয় ১২:২.

আমরা যদি যিহোবার প্রতি অনুগত থাকতে চাই, তাহলে লোকেরা যা-ই বলুক অথবা করুক না কেন, আমাদের তাঁর প্রতি বাধ্য থাকতে হবে (১৫, ১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৫, ১৬. (ক) আমরা অন্যদের চেয়ে আলাদা বলে কেউ কেউ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকে? (খ) সন্তানরা যাতে যিহোবার প্রতি অনুগত থাকতে পারে, সেইজন্য বাবা-মায়েরা কীভাবে সাহায্য করতে পারে?

১৫ আমরা শুদ্ধ সংবেদ বা বিবেক নিয়ে যিহোবার সেবা করতে চাই আর কখনো কখনো আমাদের হয়তো সহকর্মী, সহপাঠী, প্রতিবেশী অথবা আত্মীয়স্বজনের চেয়ে একেবারে আলাদা থাকতে হবে। (১ পিতর ২:১৯) যিশু সাবধান করেছিলেন, আমরা অন্যদের চেয়ে আলাদা বলে তারা এমনকী আমাদের ঘৃণা করবে। মনে রাখবেন, যারা আমাদের বিরোধিতা করে, তাদের অধিকাংশই ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে জানে না। তাই মানুষের সরকারের পরিবর্তে ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতি অনুগত থাকা কেন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তা তারা বোঝে না।

১৬ আমরা যদি যিহোবার প্রতি অনুগত থাকতে চাই, তাহলে লোকেরা যা-ই বলুক অথবা করুক না কেন, আমাদের তাঁর প্রতি বাধ্য থাকতে হবে। (দানি. ৩:১৬-১৮) বিশেষভাবে অল্পবয়সিদের পক্ষে অন্যদের চেয়ে আলাদা থাকা কঠিন হতে পারে। তাই বাবা-মায়েরা, আপনাদের সন্তানরা স্কুলে থাকার সময় তাদের সাহসী হতে সাহায্য করুন। আপনাদের সন্তানরা হয়তো পতাকা অভিবাদন করা অথবা অন্যান্য জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা প্রত্যাখ্যান করতে ভয় পেতে পারে। এই ধরনের বিষয়ে যিহোবা কেমন অনুভব  করেন, তা আপনারা পারিবারিক উপাসনার সময় আলোচনা করতে পারেন। সন্তানরা যা বিশ্বাস করে, তা কীভাবে অন্যদের কাছে স্পষ্টভাবে ও সম্মানের সঙ্গে ব্যাখ্যা করতে হয়, সেই বিষয়ে তাদের শিক্ষা দিন। (রোমীয় ১:১৬) এ ছাড়া, প্রয়োজন হলে তাদের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার এবং আমরা যা বিশ্বাস করি, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে সন্তানদের সাহায্য করুন।

যিহোবার সমস্ত সৃষ্টির প্রতি উপলব্ধি দেখান

১৭. আমাদের কোন চিন্তাভাবনা এড়িয়ে চলতে হবে এবং কেন?

১৭ আমরা যেখানে বড়ো হয়েছি, আমরা সাধারণত সেখানকার খাবার, ভাষা, প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং রীতিনীতি উপভোগ করি। কিন্তু আমরা কি এমনটা মনে করি, আমরা যেটা পছন্দ করি, সেটা সবসময় অন্যদের পছন্দের চেয়ে ভালো? যিহোবা চান যেন আমরা তাঁর সৃষ্টির বৈচিত্র্য উপভোগ করি। (গীত. ১০৪:২৪; প্রকা. ৪:১১) তা হলে, কোনো কিছু করার জন্য নির্দিষ্ট একটা উপায়কে কেন জোর করে অন্যটার চেয়ে উৎকৃষ্ট বলবেন?

১৮. কেন অন্যদের সম্বন্ধে যিহোবার মতো করে চিন্তা করা আমাদের জন্য উপকারজনক?

১৮ যিহোবা চান যেন সকল ধরনের লোক তাঁর সম্বন্ধে জানে, তাঁকে উপাসনা করে এবং চিরকাল বেঁচে থাকে। (যোহন ৩:১৬; ১ তীম. ২:৩, ৪) তাই, আমাদের ভাইয়েরা যদি আমাদের চেয়ে ভিন্ন ধারণা প্রকাশ করেন আর সেগুলো যদি যিহোবার দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে আমরা তা শোনার ব্যাপারে ইচ্ছুক থাকি। আমরা যদি তা করি, তাহলে আমাদের জীবন আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য হয়ে উঠবে এবং আমরা আমাদের ভাই-বোনের সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকতে পারব। আমরা যেমন আলোচনা করেছি, আমরা জগতের বিভিন্ন দ্বন্দ্বে কারো পক্ষসমর্থন করি না কারণ আমরা যিহোবা ও তাঁর রাজ্যের প্রতি অনুগত। শয়তানের জগতে গর্বিত মনোভাব দেখানো ও প্রতিযোগিতায় রত হওয়া আমরা ঘৃণা করি। যিহোবা আমাদেরকে শান্তি ভালোবাসতে ও নম্র হতে শিখিয়েছেন বলে আমরা কতই-না কৃতজ্ঞ! আমরাও গীতরচকের মতো অনুভব করি, যিনি লিখেছিলেন: “দেখ, ইহা কেমন উত্তম ও কেমন মনোহর যে, ভ্রাতারা একসঙ্গে ঐক্যে বাস করে!”—গীত. ১৩৩:১.

^ অনু. 10 ফিলিপী মণ্ডলীর কারো কারো হয়তো কোনো না কোনোভাবে রোমীয় নাগরিকত্ব ছিল আর এই কারণে তারা রোমীয় নাগরিক নয় এমন ভাই-বোনদের চেয়ে বেশি সুযোগসুবিধা লাভ করেছিল।

^ অনু. 12 কিছু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।