সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জুন ২০১৫

আমরা শুচি থাকতে পারি

আমরা শুচি থাকতে পারি

“হস্ত শুচি কর; . . . হৃদয় বিশুদ্ধ কর।”—যাকোব ৪:৮.

১. অনেক লোক কোন বিষয়টাকে স্বাভাবিক বলে মনে করে?

বর্তমানে আমরা চরম অনৈতিক এক জগতে বাস করছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনেক লোক মনে করে, একজন সমকামী হওয়া অথবা বিবাহসাথি ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা স্বাভাবিক বিষয়। সিনেমা, বইপত্র, গান এবং বিজ্ঞাপনে যৌন অনৈতিকতা ছেয়ে আছে। (গীত. ১২:৮) কিন্তু, যিহোবা আমাদের এমন উপায়ে জীবনযাপন করার জন্য সাহায্য করতে পারেন, যা তাঁকে খুশি করে। আমরা চরম অনৈতিক এই জগতে শুচি বা শুদ্ধ থাকতে পারি।—পড়ুন, ১ থিষলনীকীয় ৪:৩-৫.

২, ৩. (ক) কেন আমাদের মন্দ আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করতে হবে? (খ) এই প্রবন্ধে আমরা কী আলোচনা করব?

যিহোবাকে খুশি করার জন্য আমাদের অবশ্যই সেই বিষয়গুলো পরিত্যাগ করতে হবে, যেগুলো তিনি ঘৃণা করেন। তবে আমরা যেহেতু অসিদ্ধ, তাই আমরা হয়তো অনৈতিক বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারি, ঠিক যেমন একটা মাছ বঁড়শির টোপের দিকে আকৃষ্ট হয়। আমাদের মনে যদি অনৈতিক চিন্তাভাবনা আসতে শুরু করে, তাহলে সঙ্গেসঙ্গে তা পরিত্যাগ করতে হবে। তা না হলে, সেই অনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এতটাই বেড়ে যাবে যে, পাপ করার মতো পরিস্থিতিতে পড়লে আমরা হয়তো তা করে ফেলব। বাইবেল ঠিক এটাই বলে: “কামনা সগর্ভা হইয়া পাপ প্রসব করে।”—পড়ুন, যাকোব ১:১৪, ১৫.

 আমাদের হৃদয়ে মন্দ আকাঙ্ক্ষা একবার গড়ে উঠলে তা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই আমাদের মধ্যে কোন ধরনের আকাঙ্ক্ষা গড়ে উঠছে, সেই ব্যাপারে আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যদি মন্দ আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করি, তাহলে আমরা যৌন অনৈতিকতা এবং এর মন্দ পরিণতি এড়াতে পারব। (গালা. ৫:১৬) এই প্রবন্ধে আমরা তিনটে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলো আমাদের মন্দ আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করবে। আর এগুলো হল: যিহোবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব, তাঁর বাক্য থেকে পরামর্শ এবং পরিপক্ব খ্রিস্টানদের কাছ থেকে সাহায্য।

“ঈশ্বরের নিকটবর্ত্তী হও”

৪. কেন আমাদের জন্য ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ?

যারা “ঈশ্বরের নিকটবর্ত্তী” হতে চায়, তাদের উদ্দেশে বাইবেল বলে: “হস্ত শুচি কর” এবং “হৃদয় বিশুদ্ধ কর।” (যাকোব ৪:৮) যিহোবা যদি আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হন, তাহলে আমরা শুধু আমাদের কাজের মাধ্যমেই নয় কিন্তু সেইসঙ্গে আমাদের চিন্তাভাবনার মাধ্যমেও তাঁকে খুশি করতে চাইব। আমাদের চিন্তাভাবনা যদি শুচি ও শুদ্ধ হয়, তাহলে আমাদের হৃদয়ও শুদ্ধ থাকবে। (গীত. ২৪:৩, ৪; ৫১:৬; ফিলি. ৪:৮) আমরা যে অসিদ্ধ, তা যিহোবা বোঝেন আর তাই তিনি এটাও বোঝেন, আমরা অনৈতিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করা শুরু করতে পারি। তবে আমরা যেহেতু যিহোবাকে দুঃখ দিতে চাই না, তাই আমরা মন্দ চিন্তাভাবনা পরিত্যাগ করার জন্য যথাসাধ্য করি। (আদি. ৬:৫, ৬) আমাদের চিন্তাভাবনা শুদ্ধ রাখার জন্য যা-কিছু করা প্রয়োজন, আমরা সব কিছু করি।

৫, ৬. কীভাবে প্রার্থনা আমাদের অনৈতিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে লড়াই করার জন্য সাহায্য করতে পারে?

আমরা যদি যিহোবার কাছে সাহায্য চেয়ে ক্রমাগত প্রার্থনা করি, তাহলে তিনি আমাদের অনৈতিক চিন্তাভাবনার সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করবেন। আমরা যাতে শুচি থাকার জন্য শক্তি লাভ করি, সেইজন্য তিনি আমাদের তাঁর পবিত্র আত্মা দান করেন। প্রার্থনায় আমরা যিহোবার কাছে বলতে পারি, যেন আমাদের চিন্তাভাবনা তাঁর দৃষ্টিতে গ্রাহ্য হয় অর্থাৎ তাঁকে খুশি করে। (গীত. ১৯:১৪) আমরা নম্র হয়ে তাঁর কাছে যাচ্ঞা করতে পারি, যেন তিনি পরীক্ষা করে দেখেন, আমাদের মধ্যে এমন কোনো ক্ষতিকর আকাঙ্ক্ষা আছে কি না, যা আমাদেরকে পাপ করার জন্য প্ররোচিত করতে পারে। (গীত. ১৩৯:২৩, ২৪) আপনি যাতে অনৈতিক বিষয় পরিত্যাগ করতে পারেন আর এমনকী কঠিন পরিস্থিতিতেও যা সঠিক তা করতে পারেন, সেইজন্য যিহোবার কাছে সাহায্য চেয়ে ক্রমাগত প্রার্থনা করুন।—মথি ৬:১৩.

যিহোবা সম্বন্ধে জানার আগে, আমরা হয়তো এমন বিষয়গুলো করেছি, যেগুলো তিনি অনুমোদন করেন না আর আমরা হয়তো এখনও সেই মন্দ আকাঙ্ক্ষাগুলোর সঙ্গে লড়াই করছি। কিন্তু, যিহোবা আমাদের পরিবর্তিত হতে এবং তাঁকে খুশি করে এমন বিষয়গুলো করার জন্য সাহায্য করতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রাজা দায়ূদ বৎশেবার সঙ্গে ব্যভিচার করার পর অনুতপ্ত হয়েছিলেন এবং যিহোবার কাছে মিনতি করেছিলেন, যেন তিনি তাকে “বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ” দেন এবং তাঁর বাধ্য হতে সাহায্য করেন। (গীত. ৫১:১০, ১২) তাই, অতীতে আমাদের মধ্যে যদি কোনো মন্দ আকাঙ্ক্ষা থাকে আর এখনও যদি আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে লড়াই করতে হয়, তাহলে যিহোবা আমাদেরকে তাঁর বাধ্য হওয়ার জন্য এবং যা সঠিক তা করার জন্য আরও জোরালো আকাঙ্ক্ষা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন। আমরা যাতে অসিদ্ধ চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেইজন্য তিনি আমাদের সাহায্য করতে পারেন।—গীত. ১১৯:১৩৩.

আমাদের হৃদয়ে যদি কোনো মন্দ আকাঙ্ক্ষা গড়ে উঠতে শুরু করে, তাহলে তা সঙ্গেসঙ্গে পরিত্যাগ করতে হবে (৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

“বাক্যের কার্য্যকারী হও”

৭. কীভাবে ঈশ্বরের বাক্য আমাদের অনৈতিক চিন্তাভাবনা পরিত্যাগ করতে সাহায্য করে?

যিহোবা তাঁর বাক্য বাইবেলের মাধ্যমে আমাদের প্রার্থনার উত্তর দিতে পারেন। এই বাক্য থেকে আমরা ঈশ্বরের জ্ঞান বা প্রজ্ঞা লাভ করি, যা শুচি। (যাকোব ৩:১৭) আমরা যখন প্রতিদিন বাইবেল পড়ি, তখন আমাদের মন শুদ্ধ চিন্তাভাবনায় পূর্ণ হয়। (গীত. ১৯:৭, ১১; ১১৯:৯, ১১) এ ছাড়া, বাইবেলের মধ্যে এমন উদাহরণ ও সতর্কবাণী রয়েছে, যেগুলো আমাদের  অনৈতিক চিন্তাভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করতে সাহায্য করে।

৮, ৯. (ক) কেন একজন যুবক এক দুশ্চরিত্রা নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছিল? (খ) হিতোপদেশ ৭ অধ্যায়ের উদাহরণ আমাদের কোন পরিস্থিতিগুলো এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে সাহায্য করে?

ঈশ্বরের বাক্য হিতোপদেশ ৫:৮ পদে আমাদেরকে অনৈতিকতা থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করে। হিতোপদেশ ৭ অধ্যায়ে আমরা এমন এক যুবকের কাহিনি পড়ি, যে-যুবক রাতের বেলা এক দুশ্চরিত্রা নারীর ঘরের কাছ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। সেই নারী পথের কোণে দাঁড়িয়ে ছিল আর সে “বেশ্যা-বেশধারিণী।” সে সেই যুবকের কাছে হেঁটে এসেছিল, তাকে ধরে চুম্বন করেছিল এবং এমন কথাবার্তা বলেছিল, যা সেই যুবকের মধ্যে মন্দ আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল। সেই যুবক তার মন্দ আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করেনি আর তাই সে ওই নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছিল। যদিও সেই যুবকের মাথায় পাপ করার কোনো চিন্তা ছিল না, কিন্তু সে পাপ করে ফেলেছিল। আর এর জন্য পরে তাকে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিল। সে যদি আগে থেকে বিপদ বুঝতে পারত, তাহলে সে নিশ্চয়ই ওই নারীর কাছ থাকে দূরে থাকত!—হিতো. ৭:৬-২৭.

সেই যুবকের মতো আমরাও হয়তো বিপদ বুঝতে না পেরে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রাতের বেলা কোনো কোনো টিভি চ্যানেলে অশ্লীল বিষয়বস্তু দেখানো হয়। তাই, শুধুমাত্র টিভিতে কী হচ্ছে তা দেখার জন্য অনবরত চ্যানেল বদলাতে থাকা বিপদজনক হতে পারে। এ ছাড়া,  ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় কোন লিংক কোন ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে তা না জেনে ক্লিক করা বিপদজনক হতে পারে। আর এমন চ্যাট রুম অথবা ওয়েবসাইটে ঢোকাও বিপদজনক হতে পারে, যেগুলোতে অশ্লীল বিজ্ঞাপন থাকে আর সেই বিজ্ঞাপনের সঙ্গে পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটের লিংক রয়েছে। এইরকম পরিস্থিতিতে আমরা যা দেখি, সেগুলো আমাদের মধ্যে অনৈতিক আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলতে পারে আর তা আমাদেরকে যিহোবার অবাধ্য হওয়ার জন্য পরিচালিত করতে পারে।

১০. কেন প্রেমের ভান করা বিপদজনক? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

১০ এ ছাড়া, বাইবেল আমাদের জানায়, পুরুষ ও নারীদের কীভাবে একে অন্যের সঙ্গে আচরণ করা উচিত। (পড়ুন, ১ তীমথিয় ৫:২.) খ্রিস্টানরা শুধুমাত্র তাদের নিজের বিবাহসাথির প্রতি অথবা তারা যাকে বিয়ে করতে চায়, সেই ব্যক্তির প্রতি রোমান্টিক আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। তারা প্রেমের ভান করে না। কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারে, অঙ্গভঙ্গি, ইশারা অথবা চাহনির মাধ্যমে কারো সঙ্গে রোমান্টিক আচরণ করা ক্ষতিকর নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা একে অন্যকে স্পর্শ করে। কিন্তু, দু-জন ব্যক্তি যখন একে অন্যের সঙ্গে প্রেমের ভান করেন, তখন তাদের মধ্যে অনৈতিক আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠতে পারে আর এটা তাদেরকে যৌন অনৈতিকতায় রত হওয়ার জন্য পরিচালিত করতে পারে। অতীতে এইরকম ঘটনা ঘটেছে আর আবারও তা ঘটতে পারে।

১১. যোষেফের কাছ থেকে আমরা কোন শিক্ষা লাভ করতে পারি?

১১ যোষেফ হলেন আমাদের জন্য উত্তম উদাহরণ। পোটীফরের স্ত্রী যোষেফকে তার সঙ্গে ব্যভিচার করার জন্য প্রলোভিত করেছিলেন। যোষেফ তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কিন্তু তারপরও তিনি যোষেফকে প্রলোভিত করার চেষ্টা করেই যান। প্রতিদিন তিনি যোষেফকে “তাহার . . . সঙ্গে থাকিতে” বলেন। (আদি. ৩৯:৭, ৮, ১০) একজন বাইবেল পণ্ডিত ব্যাখ্যা করেন, পোটীফরের স্ত্রী আশা করেছিলেন, তারা যদি একাকী থাকেন, তাহলে যোষেফের মধ্যে হয়তো তাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠবে। কিন্তু, যোষেফ পোটীফরের স্ত্রীর প্রেমের ভানের প্রতি সাড়া না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ছিলেন এবং যোষেফ নিজে তার সঙ্গে প্রেমের ভান করেননি। এভাবে, তিনি নিজের হৃদয়ে মন্দ আকাঙ্ক্ষা গড়ে উঠতে দেননি। আর পোটীফরের স্ত্রী যখন যোষেফের বস্ত্র টেনে ধরেছিলেন এবং তার সঙ্গে ব্যভিচার করার জন্য জোরাজুরি করেছিলেন, তখন যোষেফ সঙ্গেসঙ্গে “তাহার হস্তে আপন বস্ত্র ফেলিয়া বাহিরে পলাইয়া গেলেন।”—আদি. ৩৯:১২.

১২. কীভাবে আমরা জানি যে, আমরা যা দেখি, সেটা আমাদের হৃদয়ের উপর প্রভাববিস্তার করতে পারে?

১২ যিশু সাবধান করেছিলেন, আমরা যা দেখি, সেটা আমাদের হৃদয়ের উপর প্রভাববিস্তার করতে পারে এবং আমাদের মধ্যে অনুপযুক্ত যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলতে পারে। তিনি বলেছিলেন: “যে কেহ কোন স্ত্রীলোকের প্রতি কামভাবে দৃষ্টিপাত করে, সে তখনই মনে মনে তাহার সহিত ব্যভিচার করিল।” (মথি ৫:২৮) রাজা দায়ূদের ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছিল। একবার তিনি “ছাদ হইতে দেখিতে পাইলেন যে, একটী স্ত্রীলোক স্নান করিতেছে।” দায়ূদ তার কাছ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেননি এবং তার সম্বন্ধে চিন্তা করা বন্ধ করেননি। (২ শমূ. ১১:২) যদিও সেই নারী অন্য পুরুষের স্ত্রী ছিলেন, কিন্তু দায়ূদ তাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতে শুরু করেছিলেন আর পরে তিনি তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছিলেন।

১৩. কেন আমাদের নিজেদের চোখের সঙ্গে “নিয়ম” করতে হবে আর কীভাবে আমরা তা করতে পারি?

১৩ আমরা যদি অনৈতিক চিন্তাভাবনা পরিত্যাগ করতে চাই, তাহলে আমাদের ইয়োবের উদাহরণ অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেছিলেন: “আমি নিজ চক্ষুর সহিত নিয়ম করিয়াছি।” (ইয়োব ৩১:১, ৭, ৯) ইয়োবের মতো, আমরাও সিদ্ধান্ত নিতে পারি, আমরা কখনো কারো দিকে অনৈতিক চিন্তা নিয়ে তাকাব না। আর কম্পিউটারের স্ক্রিনে, কোনো বিজ্ঞাপনে, পত্রপত্রিকায় অথবা অন্য কোথাও আমরা যদি কোনো কামোদ্দীপক ছবি দেখে ফেলি, তাহলে আমরা সঙ্গেসঙ্গে চোখ সরিয়ে নেব।

১৪. শুচি থাকার জন্য আমাদের কী করতে হবে?

১৪ আমরা যা আলোচনা করেছি, সেই বিষয়গুলো  নিয়ে আপনি যখন চিন্তা করেন, তখন আপনি হয়তো বুঝতে পারেন, আপনাকে অনৈতিক আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরও বেশি কিছু করতে হবে। আপনার মধ্যে যদি এমন কিছু থাকে, যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন, তাহলে অবিলম্বে তা করুন! যিহোবার কথার বাধ্য হওয়ার মাধ্যমে আপনি যৌন অনৈতিকতায় রত হওয়া এড়াতে পারেন এবং শুচি থাকতে পারেন।—পড়ুন, যাকোব ১:২১-২৫.

“প্রাচীনবর্গকে আহ্বান করুক”

১৫. আপনার পক্ষে যদি মন্দ আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন বলে মনে হয়, তাহলে সাহায্য চাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১৫ আপনার পক্ষে যদি মন্দ আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন বলে মনে হয়, তাহলে মণ্ডলীতে এমন কারো সঙ্গে কথা বলুন, যিনি দীর্ঘসময় ধরে যিহোবার সেবা করছেন এবং আপনাকে ঈশ্বরের বাক্য থেকে উত্তম পরামর্শ দিতে পারবেন। অন্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়তো আপনার পক্ষে সহজ না-ও হতে পারে, কিন্তু সাহায্য চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। (হিতো. ১৮:১; ইব্রীয় ৩:১২, ১৩) পরিপক্ব খ্রিস্টানরা আপনাকে কোন কোন পরিবর্তন করতে হবে, তা বোঝার জন্য সাহায্য করতে পারেন। আপনাকে যে-পরিবর্তন করতে বলা হয়, তা করুন। তাহলে আপনি যিহোবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে পারবেন।

১৬, ১৭. (ক) যাদের পক্ষে অনৈতিক আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন, তাদেরকে প্রাচীনরা কীভাবে সাহায্য করতে পারেন? একটা উদাহরণ দিন। (খ) যাদের পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যাস রয়েছে, তাদের কেন অবিলম্বে সাহায্য চাইতে হবে?

১৬ আমাদের মণ্ডলীর প্রাচীনরা আমাদের সাহায্য করার জন্য বিশেষভাবে যোগ্য। (পড়ুন, যাকোব ৫:১৩-১৫.) ব্রাজিলের একজন যুবক অনেক বছর ধরে মন্দ আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। সে বলে: “আমি জানতাম আমার চিন্তাভাবনা যিহোবাকে অসন্তুষ্ট করে, কিন্তু অন্যদের কাছে আমার অনুভূতি জানাতে আমার খুবই লজ্জা লাগত।” একজন প্রাচীন বুঝতে পেরেছিলেন এই যুবকের সাহায্য প্রয়োজন আর তাই তিনি তাকে প্রাচীনদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছিলেন। সেই যুবক বলে: “আমি এটা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, আমার প্রতি যতটা দয়া ও বিবেচনা দেখানো উচিত ছিল, তারা তার চেয়ে অনেক বেশি দেখিয়েছিলেন। তারা মনোযোগ দিয়ে আমার সমস্যাগুলো শুনেছিলেন। যিহোবা যে আমাকে ভালোবাসেন, সেই বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য তারা বাইবেল ব্যবহার করেছিলেন এবং আমার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। এর ফলে তারা বাইবেল থেকে আমাকে যে-পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেগুলো মেনে নেওয়া আমার পক্ষে আরও সহজ হয়েছিল।” যিহোবার সঙ্গে তার বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করার পর, সে বলে: “নিজের বোঝা একা বহন করার পরিবর্তে অন্যদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ, আমি তা বুঝতে পেরেছি।”

১৭ আপনার যদি পর্নোগ্রাফি দেখার অভ্যাস থাকে, তাহলে আপনাকে অবিলম্বে সাহায্য চাইতে হবে। সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে আপনি যত দেরি করবেন, আপনার জন্য যৌন অনৈতিকতায় রত হয়ে পড়ার বিপদও তত বেড়ে যাবে। আর সেই পাপ করে ফেললে, আপনি অন্যদের দুঃখ দেবেন আর আপনার কারণে হয়তো লোকেরা যিহোবা সম্বন্ধে খারাপ কথা বলার সুযোগ পাবে। অনেকে প্রাচীনদের কাছে সাহায্য চেয়েছে এবং তাদের পরামর্শ মেনে নিয়েছে। কারণ, তারা যিহোবাকে খুশি করতে চায় এবং খ্রিস্টীয় মণ্ডলীতে থাকতে চায়।—গীত. ১৪১:৫; ইব্রীয় ১২:৫, ৬; যাকোব ১:১৫.

শুচি থাকার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হোন!

১৮. আমরা কী করার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ?

১৮ শয়তানের জগৎ দিন দিন আরও বেশি অনৈতিকতায় ছেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, যিহোবার দাসেরা তাদের চিন্তাভাবনা শুদ্ধ রাখার জন্য এবং শুচি থাকার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। যিহোবা এই খ্রিস্টানদের নিয়ে অনেক গর্বিত। আসুন, আমরা যিহোবার নিকটবর্তী থাকি এবং তাঁর বাক্য এবং খ্রিস্টীয় মণ্ডলী থেকে যে-পরামর্শ পাই, তা অনুসরণ করি। আমরা যখন তা করব, তখন আমরা সুখী হব এবং এক শুদ্ধ বিবেক লাভ করব। (গীত. ১১৯:৫, ৬) আর ভবিষ্যতে শয়তানকে সরিয়ে দেওয়ার পর, আমরা এক পরিচ্ছন্ন নতুন জগতে চিরকাল বেঁচে থাকব।