সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  মে ২০১৫

 আমাদের আর্কাইভ থেকে

তিনি দেখতে পান, ক্যান্টিনটা প্রেমের দ্বারা চলছে

তিনি দেখতে পান, ক্যান্টিনটা প্রেমের দ্বারা চলছে

যিহোবার মেজে একসঙ্গে ভোজন করা সবসময়ই অনেক আনন্দদায়ক। ঈশ্বরের লোকেরা যখন আধ্যাত্মিক খাদ্যের জন্য একত্রিত হয়, তখন দৈহিক খাদ্য ভাগ করে নেওয়া প্রায়ই তাদের সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

বাইবেল ছাত্ররা ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর সিডার পয়েন্টে আট দিনব্যাপী এক সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। অভ্যাগতদের থাকার ও খাওয়া-দাওয়ার জন্য হোটেলে ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু, আয়োজকদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি লোক সেখানে এসেছিল। এত লোকসমাগম দেখে হোটেলের ওয়েটার ও ওয়েট্রেসরা সাময়িক সময়ের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মরিয়া হয়ে অনুরোধ করেছিলেন, অভ্যাগতদের মধ্যে যুবক-যুবতীরা তাদের সাহায্য করতে পারবে কি না আর তখন অনেকে ইচ্ছুকভাবে সাড়া দিয়েছিল। সেডি গ্রিন ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। তিনি বলেছিলেন, “ওয়েট্রেস হিসেবে সেটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা, তবে আমরা সেই কাজ উপভোগ করেছিলাম।”

সিয়েরা লিওন, ১৯৮২

এর পরের বছরগুলোতে, সম্মেলনে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা থাকায় অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক আনন্দের সঙ্গে তাদের ভাই-বোনদের সেবা করতে পেরেছিল। এ ছাড়া, সহবিশ্বাসীদের সঙ্গে কাজ করার ফলে অনেক অল্পবয়সি তাদের আধ্যাত্মিক লক্ষ্যস্থাপন করতে পেরেছিল। গ্ল্যাডিস বল্টন, ১৯৩৭ সালের সম্মেলনে ক্যান্টিনে কাজ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “অন্য জায়গা থেকে আসা লোকেদের সঙ্গে আমি পরিচিত হয়েছিলাম এবং তারা কীভাবে তাদের সমস্যা কাটিয়ে উঠেছিল, তা শুনতে পেরেছিলাম। আর তখনই প্রথম বারের মতো আমি অগ্রগামী হওয়ার বিষয়ে চিন্তা করতে শুরু করেছিলাম।”

সম্মেলনে যোগদানকারী বুলাহ্‌ কোভে বলেছিলেন: “কর্মীদের নিষ্ঠার কারণে সব কিছু নির্বিঘ্নে চলছিল।” তবে এই কাজের কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। অ্যাঞ্জেলু মানেরা ১৯৬৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ডজার স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর জানতে পারেন, তাকে ক্যান্টিনের দাস বা অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, “আমি একটা বড়ো ধাক্কা খেয়েছিলাম!” সেই সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে, রান্নাঘর পর্যন্ত গ্যাস লাইন নিয়ে যাওয়ার জন্য ৪০০ মিটার লম্বা পরিখা খনন করতে হয়েছিল!

ফ্রাঙ্কফুর্ট, জার্মানি, ১৯৫১

১৯৮২ সালে সিয়েরা লিওনে, পরিশ্রমী স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথমে মাঠ পরিষ্কার করেছিল আর এরপর তাদের হাতের কাছে যা ছিল, সেগুলো দিয়েই ক্যান্টিন তৈরি করেছিল। ১৯৫১ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে দক্ষ ভাইয়েরা রেলের একটা ইঞ্জিন ভাড়া করেছিল এবং সেটার সাহায্যে  একসঙ্গে ৪০টা বড়ো বড়ো কেতলি গরম করেছিল। পরিবেশনকারীরা এক ঘন্টায় ৩০,০০০ ব্যক্তির জন্য খাবার পরিবেশন করেছিল। থালাবাসন ধোয়ার কাজে রত ৫৭৬ জন ভাই-বোনের কাজের চাপ কমানোর জন্য, সম্মেলনে যোগদানকারীরা নিজেদের ছুরি ও কাঁটা-চামচ নিয়ে এসেছিল। মিয়ানমারের ইয়ানগনে, রাঁধুনিরা বিভিন্ন দেশের অভ্যাগতদের প্রতি বিবেচনা দেখিয়ে সাধারণ মাত্রার চেয়ে কম পরিমাণ ঝালমশলা ব্যবহার করেছিল।

“তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাবার খায়”

১৯৫০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটা সম্মেলনে, প্রখর রোদে ক্যান্টিনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, অ্যানি পগেনসির জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ ছিল। তিনি বলেছিলেন: “যে-দুই বোন ইউরোপ থেকে ছোটো জাহাজে করে এসেছিলেন, আমি নিবিষ্ট হয়ে তাদের আন্তরিক কথাবার্তা শুনেছিলাম।” যিহোবা কীভাবে সম্মেলনে যোগ দিতে তাদের সাহায্য করেছেন, তা তারা বর্ণনা করেছিলেন। অ্যানি বলেছিলেন, “সেখানে এই দুই বোনের চেয়ে খুশি আর কেউ ছিল না। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা এবং গরম সহ্য করা তাদের কাছে কোনো ব্যাপারই ছিল না।”

সিওল, কোরিয়া, ১৯৬৩

বড়ো বড়ো অনেক সম্মেলনে, বিরাট তাঁবু খাটিয়ে ক্যান্টিন তৈরি করে সেগুলোর ভিতরে দাঁড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী টেবিল রাখা হতো, যাতে যারা খাবার খাবে, তারা দ্রুত খাবার খেয়ে অন্যদের জায়গা দিতে পারে। তা না হলে, দুপুরের খাবারের বিরতির মধ্যে কীভাবেই-বা হাজার হাজার ব্যক্তিকে খাবার দেওয়া সম্ভব হতো? একজন ন-সাক্ষি এভাবে মন্তব্য করেছিলেন: “এটা একটা অদ্ভুত ধর্ম। তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাবার খায়।”

সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষ সাক্ষিদের কাজের দক্ষতা ও সুশৃঙ্খলা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। নিউ ইয়র্ক সিটির ইয়াংকি স্টেডিয়ামে আমাদের ক্যান্টিন পরিদর্শন করার পর, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, ব্রিটিশ সামরিক বিভাগের মেজর ফোকনারকে কোনো সম্মেলন পরিদর্শন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাই, তিনি এবং তার স্ত্রী ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের টুইকেন্যামে “বিজয়ী রাজ্য” সম্মেলনে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি দেখতে পাচ্ছেন, ক্যান্টিনটা প্রেমের দ্বারা চলছে।

দশকের পর দশক ধরে, ইচ্ছুক কর্মীরা প্রেমের সঙ্গে সম্মেলনে যোগদানকারীদের জন্য কম খরচে পুষ্টিকর খাবার জুগিয়েছিল। কিন্তু, এই বিশাল কাজ সম্পন্ন করার জন্য অনেক স্বেচ্ছাসেবককে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করতে হতো আর এই কারণে তারা এমনকী কার্যক্রমের কিছু অংশ কিংবা পুরো অংশ শুনতে পারত না। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে বিভিন্ন জায়গায় সম্মেলনের খাবারের ব্যবস্থা আরও সহজ করা হয়েছিল। তারপর, ১৯৯৫ সালের শুরুর দিকে, অভ্যাগতদের অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তারা সম্মেলনে নিজেদের খাবার নিয়ে আসেন। এই ব্যবস্থার ফলে, যারা খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করত, তাদের পক্ষে আধ্যাত্মিক কার্যক্রম ও খ্রিস্টীয় সাহচর্য উপভোগ করা সম্ভবপর হয়েছিল। *

যিহোবা নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তিদের কতই-না মূল্যবান বলে মনে করেন, যারা তাদের সহবিশ্বাসীদের সেবা করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিল! ক্যান্টিনে কাজ করার সেই আনন্দময় দিনগুলো এখন আর নেই বলে কেউ কেউ হয়তো কিছুটা দুঃখিত হতে পারে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত: প্রেম এখনও আমাদের সম্মেলনগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য।—যোহন ১৩:৩৪, ৩৫.

^ অনু. 12 অবশ্য, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য সম্মেলনের অন্যান্য বিভাগে সাহায্য করার অনেক সুযোগ খোলা রয়েছে।