সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  মে ২০১৫

পাঠক-পাঠিকাদের থেকে প্রশ্নসকল

পাঠক-পাঠিকাদের থেকে প্রশ্নসকল

যিহিষ্কেল বইয়ে উল্লেখিত মাগোগ দেশীয় গোগ কে?

বহুবছর ধরে আমাদের বিভিন্ন প্রকাশনায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, মাগোগ দেশীয় গোগ নামটা শয়তান দিয়াবলকে স্বর্গ থেকে বহিষ্কার করার পর দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাখ্যা প্রকাশিত বাক্য বইয়ের সেই ঘটনার উপর ভিত্তি করে ছিল, যেখানে শয়তান দিয়াবলকে বিশ্বব্যাপী ঈশ্বরের লোকেদের উপর যে-আক্রমণ আসবে, সেই আক্রমণের নেতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। (প্রকা. ১২:১-১৭) তাই, এমনটা মনে করা হয়েছিল, গোগ নিশ্চয়ই শয়তানের আরেকটা নাম, যে-নাম সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্‌বাণী করা হয়েছে।

কিন্তু, এই ব্যাখ্যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল। কেন? চিন্তা করে দেখুন: গোগকে পরাজিত করার বিবরণ উল্লেখ করতে গিয়ে যিহোবা গোগের বিষয়ে এই কথা বলেন: “আমি তোমাকে কবলিত [“খাদ্য,” ইজি-টু-রিড ভারশন] হইবার জন্য সর্ব্বজাতীয় হিংস্র পক্ষী ও বনপশুদের কাছে দিব।” (যিহি. ৩৯:৪) তারপর যিহোবা আরও বলেন: “সেই দিন আমি ইস্রায়েলের মধ্যে গোগকে কবরস্থান দিব . . . সেই স্থানে লোকে গোগকে ও তাহার সমস্ত লোকারণ্যকে কবর দিবে।” (যিহি. ৩৯:১১) কিন্তু কীভাবে একজন আত্মিক প্রাণী “হিংস্র পক্ষী ও বনপশুদের” খাদ্য হতে পারে? কীভাবে শয়তানকে পৃথিবীতে “কবরস্থান” দেওয়া যেতে পারে? বাইবেল স্পষ্টভাবে দেখায় যে, শয়তানকে ১,০০০ বছরের জন্য অগাধলোকে বদ্ধ রাখা হবে, সে কোনো কিছুর খাদ্য হবে না অথবা তাকে কবর দেওয়া হবে না।—প্রকা. ২০:১, ২.

আমাদের বলা হয়েছিল, ১,০০০ বছর শেষে শয়তানকে অগাধলোক থেকে মুক্ত করা হবে এবং “সে ‘পৃথিবীর চারি কোণে স্থিত জাতিগণকে, গোগ ও মাগোগকে’, ভ্রান্ত করিয়া যুদ্ধে একত্র করিবার জন্য বাহির হইবে।” (প্রকা. ২০:৮) কিন্তু শয়তান নিজেই যদি গোগ হয়, তাহলে সে কীভাবে গোগকে ভ্রান্ত করে? তাই, যিহিষ্কেলের ভবিষ্যদ্‌বাণী অথবা প্রকাশিত বাক্য বইয়ের “গোগ” শয়তানকে চিত্রিত করে না।

তাহলে মাগোগ দেশীয় গোগ কে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য আমাদের শাস্ত্র থেকে এই বিষয়টা খুঁজে বের করতে হবে, কে ঈশ্বরের লোকেদের আক্রমণ করে। বাইবেল শুধু “মাগোগ দেশীয় গোগের” আক্রমণ সম্বন্ধেই নয় কিন্তু সেইসঙ্গে “উত্তর দেশের রাজা” এবং ‘পৃথিবীর রাজগণের’ আক্রমণ সম্বন্ধে উল্লেখ করে। (যিহি. ৩৮:২, ১০-১৩; দানি. ১১:৪০, ৪৪, ৪৫; প্রকা. ১৭:১৪; ১৯:১৯) এগুলো কি আলাদা আলাদা আক্রমণকে চিত্রিত করে? না। নিঃসন্দেহে বাইবেলে একই আক্রমণকে ভিন্ন ভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন আমরা এই উপসংহারে আসতে পারি? কারণ শাস্ত্র আমাদের বলে, পৃথিবীর সমস্ত জাতি এই চূড়ান্ত আক্রমণে  অংশ নেবে, যার ফলে আরমাগিদোন যুদ্ধ ত্বরান্বিত হবে।—প্রকা. ১৬:১৪, ১৬.

আমরা যখন ঈশ্বরের লোকেদের উপর চূড়ান্ত আক্রমণ সম্বন্ধে এই শাস্ত্রীয় বিবরণগুলো তুলনা করি, তখন এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, মাগোগ দেশীয় গোগ শয়তানকে নয় বরং সমস্ত জাতির জোটকে চিত্রিত করে। রূপক “উত্তর দেশের রাজা” কি এই জোটকে নেতৃত্ব দেবে? আমরা তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। কিন্তু মনে হয় এই ধারণা, যিহোবা গোগ সম্বন্ধে যা বলেছিলেন, সেটার সঙ্গে মিলে যায়: “তুমি আপন স্থান হইতে, উত্তরদিকের প্রান্ত হইতে, আসিবে, এবং অনেক জাতি তোমার সঙ্গে আসিবে; তাহারা সকলে ঘোড়ায় চড়িয়া আসিবে, মহাসমাজ ও বিক্রমী সৈন্যসামন্ত হইবে।”—যিহি. ৩৮:৬, ১৫.

একইভাবে যিহিষ্কেলের সমসাময়িক ব্যক্তি ভাববাদী দানিয়েল উত্তর দেশের রাজা সম্বন্ধে বলেছিলেন: “পূর্ব্ব ও উত্তর দেশ হইতে আগত সংবাদ তাহাকে বিহ্বল করিবে, এবং সে অনেককে উচ্ছিন্ন ও নিঃশেষে বিনষ্ট করণার্থে মহাক্রোধে যাত্রা করিবে। আর সে সমুদ্রের ও পবিত্র গিরিরত্নের মধ্যে রাজকীয় তাম্বু স্থাপন করিবে; তথাপি তাহার শেষকাল উপস্থিত হইবে, কেহ তাহার সাহায্য করিবে না।” (দানি. ১১:৪৪, ৪৫) এটা স্পষ্টতই গোগের কাজ সম্বন্ধে যিহিষ্কেলের বই যা বলে, সেটার সঙ্গে মিলে যায়।—যিহি. ৩৮:৮-১২, ১৬.

এই চূড়ান্ত আক্রমণের ফল স্বরূপ কোন বিষয়টা ঘটবে? দানিয়েল আমাদের বলেন: “তৎকালে যে মহান্‌ অধ্যক্ষ তোমার জাতির সন্তানদের পক্ষে [১৯১৪ সাল থেকে] দাঁড়াইয়া থাকেন, সেই মীখায়েল [যিশু খ্রিস্ট আরমাগিদোনের সময়] উঠিয়া দাঁড়াইবেন, আর এমন সঙ্কটের কাল উপস্থিত হইবে, যাহা মনুষ্যজাতির স্থিতিকাল অবধি সেই সময় পর্য্যন্ত কখনও হয় নাই; কিন্তু তৎকালে তোমার স্বজাতীয় যে কাহারও নাম পুস্তকে লিখিত পাওয়া যাইবে, সে উদ্ধার পাইবে।” (দানি ১২:১) ঈশ্বরের প্রতিনিধি যিশু খ্রিস্টের এই পদক্ষেপ সম্বন্ধে প্রকাশিত বাক্য ১৯:১১-২১ পদেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু, প্রকাশিত বাক্য ২০:৮ পদে উল্লেখিত ‘গোগ ও মাগোগ’ কে? ১,০০০ বছরের রাজত্বের শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় যারা যিহোবার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে, তারা “মাগোগ দেশীয় গোগের” মতো অর্থাৎ মহাক্লেশের শেষ পর্যায়ে যে-জাতিগুলো ঈশ্বরের লোকেদের উপর আক্রমণ করবে, সেই জাতিগুলোর মতো একইরকম হিংস্র মনোভাব প্রকাশ করবে। এই দুই দলের একই পরিণতি হবে আর তা হল অনন্তমৃত্যু! (প্রকা. ১৯:২০, ২১; ২০:৯) তাই, এটা উপযুক্ত বলে মনে হয়, হাজার বছরের রাজত্বের শেষে যারা বিদ্রোহ করবে, তাদের সবাইকে ‘গোগ ও মাগোগ’ বলা হবে।

ঈশ্বরের বাক্যের মনোযোগী ছাত্র হিসেবে আমরা নিকট ভবিষ্যতে কে “উত্তর দেশের রাজা” হিসেবে ভূমিকা পালন করবে, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছি। কিন্তু, সমস্ত জাতির এই জোটের নেতৃত্ব যে-ই দিক না কেন, আমরা দুটো বিষয়ে নিশ্চিত: (১) মাগোগ দেশীয় গোগ ও তার সেনাবাহিনী পরাজিত এবং ধ্বংস হবে; আর (২) আমাদের শাসনরত রাজা যিশু খ্রিস্ট ঈশ্বরের লোকেদের রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে শান্তিপূর্ণ ও সত্যিকারের নিরাপদ এক নতুন জগতে নিয়ে যাবেন।—প্রকা. ৭:১৪-১৭.