সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  এপ্রিল ২০১৫

সবসময় যিহোবার উপর নির্ভর করুন!

সবসময় যিহোবার উপর নির্ভর করুন!

“হে লোক সকল, সতত তাঁহাতে নির্ভর কর।”গীত. ৬২:৮.

১-৩. কেন পৌল নিশ্চিত ছিলেন, তিনি যিহোবার উপর নির্ভর করতে পারেন? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

মনে করুন, আপনি প্রথম শতাব্দীতে রোমের একজন খ্রিস্টান। খ্রিস্টানদের জন্য চারপাশের পরিস্থিতি খুবই বিপদজনক। রোমীয়রা খ্রিস্টানদের নিষ্ঠুরভাবে তাড়না করছে। তাদের বিরুদ্ধে রোমীয়রা এই অভিযোগ এনেছে, তারা রোমে এক বিরাট অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং তারা লোকেদের ঘৃণা করে। আপনার অনেক খ্রিস্টান ভাই ও বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাউকে কাউকে হিংস্র পশুর মুখে ফেলে দিয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অন্যদের দণ্ডে বিদ্ধ করা হয়েছে আর এরপর রাতের অন্ধকারে জীবন্ত পোড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন আপনাকে আতঙ্কে থাকতে হয়, আপনার প্রতিও এগুলোর যেকোনো একটা ঘটতে পারে।

সেই কঠিন সময়ে, প্রেরিত পৌলকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল। তার খ্রিস্টান ভাইয়েরা তাকে সাহায্য করবে কি না, সেই বিষয়ে তিনি হয়তো নিশ্চিত ছিলেন না কারণ তার মনে পড়ে গিয়েছিল, আগের একটা পরিস্থিতিতে কেউ তাকে সাহায্য করেনি। কিন্তু, পৌল প্রভু যিশুর মাধ্যমে যিহোবার কাছ থেকে সাহায্য লাভ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন: “প্রভু আমার নিকটে দাঁড়াইলেন, এবং আমাকে বলবান্‌ করিলেন।” যিশু পৌলকে প্রয়োজনীয় শক্তি দিয়েছিলেন। এমনকী পৌল এও লিখেছিলেন, তিনি ‘সিংহের মুখ হইতে রক্ষা পাইয়াছেন।’২ তীম. ৪:১৬, ১৭. *

 যিহোবা অতীতে পৌলকে কীভাবে সাহায্য করেছেন, পৌল সেই বিষয়ে স্মরণ করেছিলেন। তাই তিনি নিশ্চিত ছিলেন, যিহোবা তাকে এখনকার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে যেকোনো পরীক্ষা সহ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি দেবেন। তিনি এই বিষয়ে এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে, তিনি এভাবে লিখেছিলেন: “প্রভু আমাকে সমুদয় মন্দ কর্ম্ম হইতে রক্ষা করিবেন।” (২ তীম. ৪:১৮) পৌল এটা বুঝতে পেরেছিলেন, এমনকী যে-সমস্ত পরিস্থিতিতে তার ভাইয়েরা তাকে সাহায্য করতে পারেননি, সেইসমস্ত পরিস্থিতিতেও তিনি সাহায্যের জন্য সবসময় যিহোবা এবং যিশুর উপর নির্ভর করতে পারতেন। এই বিষয়ে তার মনে কোনো সন্দেহই ছিল না।

যিহোবার উপর নির্ভরতা দেখানোর সুযোগ

৪, ৫. (ক) কে সবসময় আপনাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে পারেন? (খ) কীভাবে আপনি যিহোবার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারেন?

আপনি কি কখনো এমন কঠিন সমস্যায় পড়েছেন, যখন আপনার নিজেকে একাকী মনে হয়েছে আর আপনাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না? হতে পারে, আপনার চাকরি চলে গিয়েছিল অথবা অল্পবয়সিরা, তোমরা হয়তো স্কুলে চাপের মুখোমুখি হয়েছিলে। আপনি হয়তো খুবই অসুস্থ ছিলেন কিংবা অন্য কোনো কঠিন পরীক্ষা ভোগ করেছিলেন। তখন আপনি হয়তো অন্যদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু আপনি হতাশ হয়েছিলেন কারণ কেউ আপনাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেনি। অবশ্য, কিছু সমস্যা মানুষের পক্ষে সমাধান করা অসম্ভব। তখন আপনি কী করবেন? বাইবেল আমাদের বলে, “সদাপ্রভুতে বিশ্বাস” বা নির্ভর “কর।” (হিতো. ৩:৫, ৬) কিন্তু, তিনি যে আপনাকে সাহায্য করবেন, সেই ব্যাপারে আপনি কি নিশ্চিত থাকতে পারেন? হ্যাঁ, পারেন! বাইবেল থেকে আমরা এমন অনেক বিবরণ পড়তে পারি, যেগুলো আমাদের এই নিশ্চয়তা দেয়, যিহোবা সত্যিই তাঁর লোকেদের সাহায্য করেন।

তাই, লোকেরা যখন আপনাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে পারে না, তখন তিক্তবিরক্ত হয়ে পড়বেন না। এর পরিবর্তে, পৌলের মতো সেই পরীক্ষাকে যিহোবার উপর পুরোপুরি নির্ভর করার এক সুযোগ হিসেবে মনে করুন। এ ছাড়া, সেই পরীক্ষার সময়ে তিনি যেভাবে আপনার জন্য চিন্তা প্রকাশ করেন, আপনি সেটাও সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন। তখন যিহোবার প্রতি আপনার নির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

যিহোবার উপর আমাদের অবশ্যই নির্ভর করতে হবে

৬. আমরা যখন কঠিন কোনো সমস্যায় পড়ি, তখন যিহোবার উপর নির্ভর করা কেন সহজ না-ও হতে পারে?

আপনি হয়তো কোনো কঠিন সমস্যায় পড়েছেন, যেটার কারণে আপনি মানসিক কষ্ট পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে যা যা করা প্রয়োজন, আপনি সমস্ত কিছুই করেছেন এবং সাহায্যের জন্য যিহোবার কাছে প্রার্থনা করেছেন। এখন যিহোবা আপনাকে সাহায্য করবেন সেই নির্ভরতা রেখে আপনি কি স্বস্তি লাভ করতে পারেন? হ্যাঁ, আপনি স্বস্তি লাভ করতে পারেন! (পড়ুন, গীতসংহিতা ৬২:৮; ১ পিতর ৫:৭.) আপনি যদি যিহোবার সঙ্গে এক উত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, তাহলে তাঁর উপর নির্ভর করতে শেখা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, তা করা সবসময় সহজ নয়। কেন? একটা কারণ হল, যিহোবা হয়তো সবসময় প্রার্থনা করার সঙ্গেসঙ্গেই আপনাকে উত্তর দেন না।গীত. ১৩:১, ২; ৭৪:১০; ৮৯:৪৬; ৯০:১৩; হবক্‌. ১:২.

৭. কেন যিহোবা সবসময় প্রার্থনা করার সঙ্গেসঙ্গেই উত্তর দেন না?

কেন যিহোবা সবসময় প্রার্থনা করার সঙ্গেসঙ্গেই উত্তর দেন না? বাইবেল জানায়, যিহোবা হলেন আমাদের পিতা আর আমরা হলাম তাঁর সন্তান। (গীত. ১০৩:১৩) একজন মানব বাবার কাছে তার সন্তান যা চায়, সেই সবই বাবা তাকে দেন না কিংবা চাওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই তা দেন না। বাবা জানেন, সন্তান হঠাৎ করেই কোনো কিছু চাইতে পারে কিন্তু পরে তার হয়তো সেটার প্রতি কোনো আগ্রহই থাকবে না। বাবা এটাও জানেন, তার সন্তানের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো এবং এটা অন্যদের কীভাবে প্রভাবিত করবে। তিনি সন্তানের বিভিন্ন প্রয়োজন আর সেইসঙ্গে কখন তার প্রয়োজনীয় বিষয় পাওয়া উচিত, সেটা জানেন। সন্তান কোনো জিনিস চাওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই যদি বাবা তাকে সব কিছু দিয়ে দেন, তাহলে বাবা সন্তানের দাস হয়ে যাবেন। যিহোবা অর্থাৎ আমাদের স্বর্গীয় পিতা আমাদের ভালোবাসেন। আমাদের বিজ্ঞ সৃষ্টিকর্তা হিসেবে, আমাদের প্রয়োজন সম্বন্ধে তিনি  জানেন এবং আমরা যা চাই, তা আমাদের দেওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কখন, সেটা তিনি নির্ধারণ করেন। তাই, আমাদের জন্য অপেক্ষা করা এবং যিহোবা কীভাবে আমাদের প্রার্থনার উত্তর দেন, তা দেখা ভালো হবে।—তুলনা করুন, যিশাইয় ২৯:১৬; ৪৫:৯.

৮. আমরা কতটা সহ্য করতে পারি, সেই বিষয়ে যিহোবা কী প্রতিজ্ঞা করেন?

এটাও মনে রাখবেন, প্রত্যেক ব্যক্তি কী সহ্য করতে পারেন এবং কী পারেন না, সেটা যিহোবা জানেন। (গীত. ১০৩:১৪) তাই তিনি আমাদের প্রয়োজনীয় শক্তি দেন। এটা ঠিক, কখনো কখনো আমাদের মনে হয়, আমরা আর সহ্য করতে পারব না। কিন্তু, যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেন, আমাদের পক্ষে যদি পরীক্ষা সহ্য করা কঠিন হয়, তাহলে তিনি “রক্ষার পথও করিয়া দিবেন।” (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ১০:১৩.) আমরা এই বিষয়টা জেনে আশ্বাস লাভ করি, আমরা ঠিক কতটা সহ্য করতে পারি, সেটা যিহোবার জানেন।

৯. আমরা সাহায্যের জন্য যিহোবার কাছে প্রার্থনা করার পর তিনি যদি সঙ্গেসঙ্গে উত্তর না দেন, তাহলে আমাদের কী করা উচিত?

আমরা সাহায্যের জন্য যিহোবার কাছে প্রার্থনা করার পর তিনি যদি সঙ্গেসঙ্গে উত্তর না দেন, তাহলে আসুন আমরা ধৈর্য ধরি। মনে রাখবেন, যিহোবা আমাদের সাহায্য করতে উৎসুক, কিন্তু আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয় আমাদের দেওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়ের জন্য তিনি ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করেন। বাইবেল আমাদের বলে: “সদাপ্রভু তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিবার আকাঙ্ক্ষায় অপেক্ষা করিবেন, আর সেই জন্য তোমাদের প্রতি করুণা করিবার আকাঙ্ক্ষায় উদ্ধের্ব থাকিবেন; কেননা সদাপ্রভু ন্যায়বিচারের ঈশ্বর; ধন্য তাহারা সকলে, যাহারা তাঁহার অপেক্ষা করে।”যিশা. ৩০:১৮.

“সিংহের মুখ”

১০-১২. (ক) পরিবারের কোনো অসুস্থ সদস্যের যত্ন নেওয়া কেন কঠিন হয়ে উঠতে পারে? (খ) আপনি যখন কঠিন সময়ে যিহোবার উপর নির্ভর করেন, তখন সেটা তাঁর সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করে? একটা উদাহরণ দিন।

১০ আপনার পরিস্থিতি হয়তো অনেক কঠিন হয়ে পড়তে পারে আর পৌলের মতো আপনারও মনে হতে পারে, “সিংহের মুখ” হতে আপনার উদ্ধার লাভ করা প্রয়োজন। (২ তীম. ৪:১৭) এইরকম সময়ে, যিহোবার উপর নির্ভর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি হয়তো পরিবারের কোনো অসুস্থ সদস্যের যত্ন নিচ্ছেন। আপনি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করেছেন, যেন তিনি আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্তগুলো নিতে এবং দৃঢ় থাকতে সাহায্য করেন। * এখন আপনি যদি এটা মনে রাখেন, যিহোবা আপনাকে দেখতে পান এবং তিনি আপনার পরিস্থিতি বোঝেন, তাহলে আপনি কিছুটা শান্তি লাভ করতে পারেন। আর তিনি আপনাকে সেই পরিস্থিতি সহ্য করতে এবং তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে সাহায্য করবেন।গীত. ৩২:৮.

১১ তবে মাঝে মাঝে এমনটা মনে হতে পারে, যিহোবা আপনাকে সাহায্য করছেন না। হতে পারে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে ডাক্তাররা আপনার সঙ্গে একমত হচ্ছেন না। কিংবা আপনি হয়তো আশা করেছেন, আপনার আত্মীয়স্বজন আপনাকে সান্ত্বনা দেবে। কিন্তু উলটো তারা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলছে। শক্তির জন্য সবসময় যিহোবার উপর নির্ভর করুন। সবসময় তাঁর নিকটবর্তী হোন। (পড়ুন, ১ শমূয়েল ৩০:৩, .) পরবর্তী সময়ে, আপনি যখন বুঝতে পারবেন যিহোবা কীভাবে আপনাকে সাহায্য করেছেন, তখন তাঁর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

১২ লিন্ডা * এইরকমই অনুভব করেছিলেন। তার বাবা-মা মারা যাওয়ার আগে, তিনি দীর্ঘসময় ধরে তাদের যত্ন নিয়েছিলেন। তিনি বলেন: “সেই পরিস্থিতিতে, আমার স্বামী, আমার ভাই আর আমি প্রায়ই বুঝতে পারতাম না, আমরা কী করব। কখনো কখনো নিজেদের অসহায় মনে হতো। কিন্তু এখন অতীতের দিকে ফিরে তাকালে, আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি, যিহোবা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন। তিনি আমাদের শক্তি দিয়েছিলেন এবং একেবারে প্রয়োজনীয় বিষয়টাই জুগিয়ে দিয়েছিলেন, এমনকী সেই সময়েও, যখন মনে হয়েছিল আমাদের আর কিছুই করার নেই।”

১৩. যিহোবার উপর নির্ভরতা কীভাবে রোন্ডাকে একের পর এক দুঃখজনক ঘটনা সহ্য করতে সাহায্য করেছে?

১৩ যিহোবার উপর পুরোপুরি নির্ভরতা বজায় রাখা  এমনকী আমাদের দুঃখজনক ঘটনা সহ্য করতেও সাহায্য করবে। রোন্ডার এইরকম অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তার স্বামী যিহোবার সাক্ষি ছিলেন না আর তিনি রোন্ডাকে ডিভোর্স দিতে যাচ্ছিলেন। একইসময়ে, রোন্ডার ভাইয়ের লুপাস নামে এক গুরুতর রোগ ধরা পরে। এর কয়েক মাস পর তার ভাইয়ের স্ত্রী মারা যান। এসব ঘটনার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করার সময়, রোন্ডা একজন নিয়মিত অগ্রগামী হিসেবে সেবা করতে শুরু করেন। কিন্তু, সেইসময়ে তার মা মারা যান। রোন্ডা কীভাবে এসব দুঃখজনক ঘটনা সহ্য করেছিলেন? তিনি বলেন: “আমি প্রতিদিন এমনকী ছোটোখাটো সিদ্ধান্তের ব্যাপারেও যিহোবার সঙ্গে কথা বলতাম। তা করার ফলে যিহোবা আমার কাছে বাস্তব ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন। আমি নিজের অথবা অন্য ব্যক্তিদের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে যিহোবার উপর নির্ভর করতে শিখেছিলাম। আর তিনি যে-সাহায্য জুগিয়েছিলেন, সেটাও বাস্তব ছিল অর্থাৎ আমার সমস্ত চাহিদার যত্ন নেওয়া হয়েছিল। ফল স্বরূপ, আমি যিহোবার হাত ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলাম।”

এমনকী আপনার পরিবারের পরিস্থিতিও যিহোবার সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে পরীক্ষায় ফেলতে পারে (১৪-১৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৪. আপনার পরিবারের কোনো সদস্য যদি সমাজচ্যুত হয়, তাহলে যিহোবা আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারেন?

১৪ আরেকটা কঠিন পরিস্থিতির কথা চিন্তা করুন। হতে পারে, আপনার পরিবারের কাউকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। সমাজচ্যুত ব্যক্তিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, সেই বিষয়ে বাইবেল কী বলে, তা আপনি জানেন। (১ করি. ৫:১১; ২ যোহন ১০) কিন্তু, আপনি যেহেতু সেই ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তাই আপনার মনে হতে পারে, আপনার পক্ষে বাইবেলের আজ্ঞা মেনে চলা অনেক কঠিন, এমনকী অসম্ভব। * এইরকম সময়ে আপনি কি আপনার স্বর্গীয় পিতার উপর এই নির্ভরতা রাখবেন যে, তিনি আপনাকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে তাঁর বাধ্য থাকার জন্য শক্তি দেবেন? আপনি কি এই পরিস্থিতিকে যিহোবার আরও নিকটবর্তী হওয়ার এক সুযোগ হিসেবে দেখবেন?

১৫. কেন আদম যিহোবার অবাধ্য হয়েছিলেন?

১৫ এই পরিস্থিতিকে কীভাবে প্রথম মানুষ আদমের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা যায়? আদম কি  এমনটা মনে করেছিলেন, তিনি যিহোবার অবাধ্য হয়েও বেঁচে থাকতে পারবেন? না কারণ বাইবেল জানায়, আদম “প্রবঞ্চিত” হননি। (১ তীম. ২:১৪) তাহলে, কেন তিনি যিহোবার অবাধ্য হয়েছিলেন? আদম তার স্ত্রীর দেওয়া ফল খেয়েছিলেন কারণ তিনি যিহোবার চেয়ে তার স্ত্রীকে বেশি ভালোবাসতেন। তাই, তিনি যিহোবার আজ্ঞা শোনার পরিবর্তে তার স্ত্রীর কথা শুনেছিলেন।আদি. ৩:৬, ১৭.

১৬. কার প্রতি আমাদের প্রেম সবচেয়ে দৃঢ় থাকা উচিত এবং কেন?

১৬ আদমের সিদ্ধান্ত আমাদের এই শিক্ষা দেয়, অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে আমাদের যিহোবাকে বেশি ভালোবাসতে হবে। (পড়ুন, মথি ২২:৩৭, ৩৮.) আর যিহোবার প্রতি আমাদের প্রেম যখন এইরকম দৃঢ় থাকে, তখন আমরা আমাদের আত্মীয়স্বজনকে সর্বোত্তম উপায়ে সাহায্য করতে পারি, তা তারা যিহোবাকে সেবা করুক কিংবা না-ই করুক। তাই, সবসময় যিহোবার প্রতি আপনার প্রেম দৃঢ় করুন এবং তাঁর উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করুন। পরিবারের কোনো সমাজচ্যুত সদস্যের বিষয়ে আপনি যদি উদ্‌বিগ্ন হয়ে থাকেন, তাহলে যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন এবং তাঁকে আপনার অনুভূতি সম্বন্ধে সব কিছু জানান। * (রোমীয় ১২:১২; ফিলি. ৪:৬, ৭) যদিও আপনি অনেক কষ্ট পাচ্ছেন, কিন্তু এই পরিস্থিতিকে যিহোবার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় করার এক সুযোগ হিসেবে মনে করুন। তাহলে আপনি তাঁর উপর নির্ভর করতে পারবেন এবং তাঁর বাধ্য থাকার ফলে যে সম্ভাব্য সর্বোত্তম ফল লাভ করা যায়, তা জানতে পারবেন।

অপেক্ষা করার সময়ে

প্রচার কাজে ব্যস্ত থাকার মাধ্যমে যিহোবাকে দেখান, আপনি তাঁর উপর নির্ভর করেন (১৭ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৭. আমরা যদি প্রচার কাজে ব্যস্ত থাকি, তাহলে যিহোবার উপর কোন নির্ভরতা বজায় রাখতে পারব?

১৭ কেন যিহোবা পৌলকে “সিংহের মুখ” হতে উদ্ধার করেছিলেন? পৌল বলেন: “যেন আমা দ্বারা প্রচার-কার্য্য সম্পন্ন হয়।” (২ তীম. ৪:১৭) যিহোবা আমাদেরও ‘সুসমাচার’ প্রচার করার কাজ দিয়েছেন এবং তিনি আমাদেরকে তাঁর “সহকার্য্যকারী” হিসেবে উল্লেখ করেন। (১ থিষল. ২:৪; ১ করি. ৩:৯) আমরা যদি এই কাজে যথাসম্ভব ব্যস্ত থাকি, তাহলে আমরা যিহোবার উপর এই নির্ভরতা বজায় রাখতে পারব, তিনি আমাদের সমস্ত কিছু জুগিয়ে দেবেন। (মথি ৬:৩৩) আর তখন যিহোবার কাছ থেকে প্রার্থনার উত্তর পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা আরও সহজ হবে।

১৮. কীভাবে আপনি যিহোবার উপর নির্ভরতা গড়ে তুলতে পারেন এবং তাঁর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারেন?

১৮ তাই, প্রতিটা দিনকে এমনভাবে ব্যবহার করুন, যেন যিহোবার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় হয়। যখন পরীক্ষা আসে আর আপনি উদ্‌বিগ্ন হয়ে পড়েন, তখন সেই পরিস্থিতিকে যিহোবার আরও নিকটবর্তী হওয়ার এক সুযোগ হিসেবে দেখুন। ঈশ্বরের বাক্য পড়ুন, অধ্যয়ন করুন ও তা নিয়ে ধ্যান করুন। সবসময় যিহোবার কাছে প্রার্থনা করুন এবং সবসময় তাঁর সেবা করুন। আপনি যদি এই কাজগুলো করেন, তাহলে আপনি এই নির্ভরতা রাখতে পারবেন, যিহোবা আপনাকে এখনকার এবং ভবিষ্যতে আসতে পারে এমন যেকোনো পরীক্ষা সহ্য করার জন্য সাহায্য করবেন।

^ অনু. 2 পৌল হয়তো সত্যিকারের সিংহের মুখ থেকে অথবা অন্য কোনো বিপদজনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

^ অনু. 10 অসুস্থতা সহ্য করছেন এমন খ্রিস্টানদের এবং তাদের যত্ন নেন এমন ব্যক্তিদের সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রহরীদুর্গ পত্রিকার এই সংখ্যাগুলো দেখুন: মে ১৫, ২০১০ (পৃষ্ঠা ১৭-১৯); ডিসেম্বর ১৫, ২০১১ (পৃষ্ঠা ২৭-৩০).

^ অনু. 12 নামগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে।

^ অনু. 16 আমাদের পরিবারের কোনো সদস্য যখন যিহোবাকে পরিত্যাগ করে, তখন আমাদের সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ১৭-২১ পৃষ্ঠা এবং ২০০৭ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ১৭-২০ পৃষ্ঠা দেখুন