সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  মার্চ ২০১৫

খ্রিস্টের ভাইদের অনুগতভাবে সমর্থন করা

খ্রিস্টের ভাইদের অনুগতভাবে সমর্থন করা

“আমার এই ভ্রাতৃগণের—এই ক্ষুদ্রতমদিগের—মধ্যে এক জনের প্রতি যখন ইহা করিয়াছিলে, তখন আমারই প্রতি করিয়াছিলে।”—মথি ২৫:৪০.

১, ২. (ক) যিশু তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কোন দৃষ্টান্তগুলো বলেছিলেন? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।) (খ) মেষ ও ছাগের দৃষ্টান্ত সম্বন্ধে আমাদের কী জানতে হবে?

যিশু তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু পিতর, আন্দ্রিয়, যাকোব ও যোহনের সঙ্গে খুব আগ্রহজনক একটা বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। এই পর্যন্ত, বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস, দশ কুমারী এবং তালন্তের দৃষ্টান্ত বলার পর, যিশু তাঁর বন্ধুদের আরেকটা দৃষ্টান্ত বলেন। এই দৃষ্টান্তে তিনি তাদেরকে এমন এক সময়ের কথা বলেন, যখন ‘মনুষ্যপুত্ত্র সমুদয় জাতির’ বিচার করবেন। তিনি তাদের বলেন, “মনুষ্যপুত্ত্র” লোকেদের দুটো দলে পৃথক করবেন। এই দলগুলোকে তিনি মেষ ও ছাগ হিসেবে বর্ণনা করেন। এ ছাড়া, তিনি তৃতীয় এক গুরুত্বপূর্ণ দল অর্থাৎ রাজার ‘ভ্রাতৃগণ’ সম্বন্ধে বর্ণনা করেন।—পড়ুন, মথি ২৫:৩১-৪৬.

প্রেরিতদের মতো, আমাদের সময়ে যিহোবার দাসেরাও এই দৃষ্টান্তের প্রতি আগ্রহ দেখায় কারণ এটার সঙ্গে লোকেদের জীবন জড়িত। যিশু বলেছিলেন, কেউ কেউ অনন্তজীবন লাভ করবে কিন্তু অন্যেরা ধবংস হবে। সেই কারণে আমাদের জন্য এই দৃষ্টান্তের অর্থ ও সেইসঙ্গে অনন্তজীবন লাভ করার জন্য আমাদের কী করতে হবে, তা জানা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এই প্রবন্ধে আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাব: যিহোবা কীভাবে এই দৃষ্টান্তের অর্থ বুঝতে আমাদের সাহায্য করেছেন? কীভাবে আমরা জানি, এই দৃষ্টান্ত  প্রচার কাজের উপর জোর দেয়? কারা প্রচার করবে? আর এখন কেন “রাজা” ও তাঁর “ভ্রাতৃগণের” প্রতি অনুগত থাকা গুরুত্বপূর্ণ?

যিহোবা কীভাবে এই দৃষ্টান্তের অর্থ বুঝতে আমাদের সাহায্য করেছেন?

৩, ৪. (ক) মেষ ও ছাগের দৃষ্টান্ত বোঝার জন্য আমাদের কী জানতে হবে? (খ) প্রহরীদুর্গ পত্রিকা ১৮৮১ সালে এই দৃষ্টান্ত সম্বন্ধে কী ব্যাখ্যা করেছিল?

মেষ ও ছাগের দৃষ্টান্তের অর্থ বোঝার জন্য আমাদের যে-বিষয়গুলো জানতে হবে, সেগুলো হল (১) “মনুষ্যপুত্ত্র” বা “রাজা” কে, মেষ ও ছাগ কারা এবং রাজার ‘ভ্রাতৃগণ’ কারা? (২) কখন “মনুষ্যপুত্ত্র” মেষ ও ছাগ পৃথক করবেন বা তাদের বিচার করবেন? এবং (৩) কেন কাউকে কাউকে মেষ, আবার অন্যদের ছাগ বলা হয়েছে?

প্রহরীদুর্গ (ইংরেজি) পত্রিকা ১৮৮১ সালে বলেছিল, “মনুষ্যপুত্ত্র” বা “রাজা” হলেন যিশু। আর এই পত্রিকা ব্যাখ্যা করেছিল, “ভ্রাতৃগণ” বলতে শুধু যারা যিশুর সঙ্গে স্বর্গে শাসন করবেন, তাদেরকেই বোঝায় না কিন্তু একইসঙ্গে সেইসমস্ত ব্যক্তিকেও বোঝায়, যারা সিদ্ধতায় পৌঁছানোর পর পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে। প্রহরীদুর্গ আরও বলেছিল, খ্রিস্টের হাজার বছরের রাজত্বের সময়ে, লোকেদের পৃথক করা হবে এবং যারা সমস্ত ক্ষেত্রে ঈশ্বরের প্রেম অনুকরণ করবে, তাদেরকে মেষ বলা হবে।

৫. ঈশ্বরের লোকেরা ১৯২৩ সালে এই দৃষ্টান্তটা কীভাবে বুঝেছিল?

পরবর্তী সময়ে, যিহোবা তাঁর লোকেদের এই দৃষ্টান্তের অর্থ আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করেছেন। ১৯২৩ সালের ১৫ অক্টোবর প্রহরীদুর্গ (ইংরেজি) পত্রিকা বলেছিল, “মনুষ্যপুত্ত্র” হলেন যিশু। আর এরপর, এই পত্রিকা বাইবেলের পদ ব্যবহার করে ব্যাখ্যা করেছিল, দৃষ্টান্তের ‘ভ্রাতৃগণ’ শুধুমাত্র সেই ব্যক্তিদের নির্দেশ করে, যারা যিশুর সঙ্গে শাসন করবেন এবং হাজার বছরের রাজত্বের সময়ে তারা সকলে স্বর্গে থাকবেন। এই পত্রিকা এটাও বলেছিল, মেষ সেই ব্যক্তিদের নির্দেশ করে, যারা যিশু ও তাঁর ভাইদের শাসনের অধীনে পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে। আর দৃষ্টান্তে যেহেতু এটা বলা হয়েছে, এই ব্যক্তিরা রাজার ভাইদের সাহায্য করবেন, তাই পৃথক বা বিচার করার কাজ হাজার বছরের রাজত্ব শুরু হওয়ার আগেই ঘটবে, যখন যিশুর অভিষিক্ত ভাইয়েরা পৃথিবীতে থাকবেন। প্রবন্ধে এটাও বলা হয়েছিল, সেই ব্যক্তিদের মেষ বলা হবে, যারা যিশুকে বিশ্বাস করবে ও সেইসঙ্গে রাজ্যই যে আরও উত্তম এক জীবন নিয়ে আসবে, তা স্বীকার করবে।

৬. এই দৃষ্টান্ত সম্বন্ধে আমাদের বোধগম্যতা ১৯৯৫ সালে কীভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল?

বহুবছর ধরে আমরা মনে করে এসেছি, এই শেষকালে প্রচার কাজের মাধ্যমে লোকেদের বিচার করা হবে। তারা যদি আমাদের বার্তা গ্রহণ করে, তাহলে তারা মেষ। আর তারা যদি আমাদের বার্তা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তারা ছাগ। কিন্তু, ১৯৯৫ সালে এই দৃষ্টান্ত সম্বন্ধে আমাদের বোধগম্যতা পরিবর্তন হয়েছিল। প্রহরীদুর্গ পত্রিকা মথি ২৪:২৯-৩১ পদ (পড়ুন) এবং মথি ২৫:৩১, ৩২ পদের (পড়ুন) তুলনা করেছিল এবং ব্যাখ্যা করেছিল, মনুষ্যপুত্র অর্থাৎ যিশু মহাক্লেশের সময়ে লোকেদের বিচার করবেন, যখন তিনি “আপন প্রতাপে আসিবেন।” *

৭. এই দৃষ্টান্তের অর্থ কী?

বর্তমানে, আমরা মেষ ও ছাগের দৃষ্টান্ত স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি। আমরা জানি, “মনুষ্যপুত্ত্র” বা “রাজা” হলেন যিশু। রাজার “ভ্রাতৃগণ” হলেন পবিত্র আত্মার দ্বারা অভিষিক্ত ব্যক্তিরা, যারা  যিশুর সঙ্গে স্বর্গে শাসন করবেন। (রোমীয় ৮:১৬, ১৭) “মেষ” ও “ছাগ” হল সমস্ত জাতির লোক। তাদের বিচার করা হবে মহাক্লেশের শেষের দিকে, যা শীঘ্র শুরু হবে। আর আমরা এও জানি, লোকেরা পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অভিষিক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করবে, সেটার ভিত্তিতে যিশু তাদের বিচার করবেন। যিহোবা যে বছরের পর বছর ধরে মথি ২৪ ও ২৫ অধ্যায়ের এই দৃষ্টান্ত এবং অন্যান্য দৃষ্টান্ত বুঝতে সাহায্য করে এসেছেন, সেইজন্য আমরা খুবই কৃতজ্ঞ!

এই দৃষ্টান্ত আমাদের শিক্ষা দেয়, প্রচার কাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ

৮, ৯. কেন যিশু মেষদের ‘ধার্ম্মিক’ বলেছিলেন?

যিশু মেষ ও ছাগের দৃষ্টান্তে “প্রচার” অথবা “প্রচার কাজ” শব্দগুলো ব্যবহার করেননি। তাহলে, কীভাবে আমরা জানি, এই দৃষ্টান্ত প্রচার কাজের গুরুত্ব সম্বন্ধে শিক্ষা দেয়?

উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য আমাদের প্রথমে মনে রাখতে হবে, যিশু একটা দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি আক্ষরিক মেষ ও ছাগের কথা বলেননি। একইভাবে, তিনি এটা বোঝাতে চাননি, মেষ হিসেবে বিচার করা হবে এমন প্রত্যেক ব্যক্তি, অভিষিক্ত ব্যক্তিদের খাদ্য ও বস্ত্র দেবেন, অসুস্থতার সময়ে তাদের যত্ন নেবেন অথবা কারাগারে তাদের সঙ্গে দেখা করবেন। এর পরিবর্তে, যিশু মেষতুল্য ব্যক্তিদেরকে ‘ধার্ম্মিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন কারণ তারা যিশুর ভাইদের অভিষিক্ত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে এবং এই শেষকালে তাদের প্রতি অনুগত থাকে।—মথি ১০:৪০-৪২; ২৫:৪০, ৪৬; ২ তীম. ৩:১-৫.

১০. কীভাবে মেষেরা খ্রিস্টের ভাইদের সাহায্য করতে পারে?

১০ মেষ ও ছাগের দৃষ্টান্ত বলার আগে, যিশু শেষকালে কী ঘটবে, সেই বিষয়ে কথা বলছিলেন। (মথি ২৪:৩) উদাহরণ স্বরূপ, তিনি বলেছিলেন, “রাজ্যের এই সুসমাচার সমুদয় জগতে প্রচার করা যাইবে।” (মথি ২৪:১৪) আর মেষ ও ছাগ সম্বন্ধে কথা বলার ঠিক আগে, তিনি তালন্তের দৃষ্টান্ত বলেছিলেন। যিশু অভিষিক্ত ব্যক্তিদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তালন্তের দৃষ্টান্ত বলেছিলেন, যেন তারা তাদের প্রচার কাজে কঠোর পরিশ্রম করেন। কিন্তু, পৃথিবীতে কেবল অল্পসংখ্যক অভিষিক্ত ব্যক্তি রয়েছেন আর কাজ অনেক বাকি রয়েছে! অভিষিক্ত ব্যক্তিদেরকে শেষ আসার আগে “সর্ব্ব জাতির” কাছে প্রচার করতে বলা হয়েছে। মেষ ও ছাগের দৃষ্টান্তে আমরা যেমন জেনেছি, “মেষ” হিসেবে গণ্য ব্যক্তিরা যিশুর ভাইদের সাহায্য করে। তারা যে-সর্বোত্তম উপায়ে যিশুর ভাইদের সাহায্য করতে পারে, তা হল প্রচার কাজে সাহায্য করার মাধ্যমে। কিন্তু, যিশুর ভাইদেরকে প্রচার কাজের জন্য দান দেওয়া অথবা তাদের উৎসাহিত করাই কি যথেষ্ট?

কারা প্রচার করবে?

১১. কেউ কেউ হয়তো কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারে আর কেন?

১১ বর্তমানে, যিশুর আশি লক্ষ শিষ্য রয়েছে আর তাদের মধ্যে অধিকাংশই অভিষিক্ত নয়। যিশু তাদের তালন্ত দেননি। তিনি তাঁর অভিষিক্ত ভাইদের তালন্ত দিয়েছিলেন। (মথি ২৫:১৪-১৮) তাই, কেউ কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারে, ‘যিশু যেহেতু তাদের তালন্ত দেননি, তাহলে তাদের কি সত্যিই প্রচার করতে হবে?’ হ্যাঁ, করতে হবে। কেন? আসুন আমরা তা দেখি।

১২. মথি ২৮:১৯, ২০ পদে উল্লেখিত যিশুর কথা থেকে আমরা কী জানতে পারি?

১২ যিশু তাঁর সকল শিষ্যকে প্রচার করার আদেশ দিয়েছিলেন। পুনরুত্থানের পর, যিশু তাঁর অনুসারীদের ‘শিষ্য করিতে’ এবং তিনি যা যা আদেশ দিয়েছিলেন, “সে সমস্ত” সেই শিষ্যদের শিক্ষা দিতে বলেছিলেন। তাই, এই শিষ্যদেরও  প্রচার করার বিষয়ে যিশুর আজ্ঞার বাধ্য হতে হতো। (পড়ুন, মথি ২৮:১৯, ২০.) তাই এটা স্পষ্ট যে, আমাদের স্বর্গে অথবা পৃথিবীতে যেখানেই বেঁচে থাকার আশা থাকুক না কেন, আমাদের সবাইকে প্রচার করতে হবে।—প্রেরিত ১০:৪২.

১৩. যোহন যে-দর্শন দেখেন, সেটা থেকে আমরা কী জানতে পারি?

১৩ প্রকাশিত বাক্য বই থেকে আমরা জানতে পারি, অভিষিক্ত ব্যক্তিরা এবং অন্যেরা প্রচার কাজ সম্পন্ন করবেন। যিশু প্রেরিত যোহনকে একটা দর্শন দিয়েছিলেন, যেখানে এক “কন্যা” বা কনে লোকেদের আমন্ত্রণ জানায়, যেন তারা আসে এবং জীবনজল গ্রহণ করে। এই কনে ১,৪৪,০০০ অভিষিক্ত ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, যারা যিশুর সঙ্গে স্বর্গে রাজত্ব করবেন। (প্রকা. ১৪:১, ৩; ২২:১৭) জল যিশুর মুক্তির মূল্যরূপ বলিদানকে নির্দেশ করে, যা লোকেদের পাপ ও মৃত্যুবিহীন এক জীবন পেতে সাহায্য করবে। (মথি ২০:২৮; যোহন ৩:১৬; ১ যোহন ৪:৯, ১০) অভিষিক্ত ব্যক্তিরা উদ্যোগের সঙ্গে লোকেদেরকে মুক্তির মূল্য সম্বন্ধে এবং তারা কীভাবে এই ব্যবস্থা থেকে উপকৃত হতে পারে, সেই বিষয়ে শিক্ষা দেন। (১ করি. ১:২৩) তবে, সেই দর্শনে আরেকটা দলের বিষয়ে উল্লেখ করা আছে, যারা অভিষিক্ত নয়, কিন্তু তাদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আশা রয়েছে। তাদেরকেও আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা লোকেদের আমন্ত্রণ জানায় এবং বলে, “আইস।” আর তারা অন্যদের কাছে সুসমাচার জানানোর মাধ্যমে সেই আজ্ঞার বাধ্য হয়। তাই এই দর্শন দেখায় যে, যারা সুসমাচারের বার্তা গ্রহণ করেন, তাদের সবাইকে অন্যদের কাছে প্রচার করতে হবে।

১৪. কীভাবে আমরা ‘খ্রীষ্টের ব্যবস্থার’ প্রতি বাধ্য থাকতে পারি?

১৪ ‘খ্রীষ্টের ব্যবস্থার’ প্রতি বাধ্য থাকে এমন সকলকে প্রচার করতে হবে। (গালা. ৬:২) যিহোবা চান তাঁর সকল উপাসক যেন একই ব্যবস্থা বা আইনের বাধ্য হয়। অতীতে, তিনি ইস্রায়েলীয় ও তাদের সঙ্গে বসবাসরত বিদেশি, উভয়ের  কাছ থেকেই চেয়েছিলেন যেন তারা তাঁর আইনের বাধ্য হয়। (যাত্রা. ১২:৪৯; লেবীয়. ২৪:২২) অবশ্য, বর্তমানে আমাদেরকে ইস্রায়েলীয়দের দেওয়া সমস্ত আইনের প্রতি বাধ্য থাকতে হয় না। এর পরিবর্তে, আমরা অভিষিক্ত হই কিংবা না হই, আমাদের ‘খ্রীষ্টের ব্যবস্থার’ প্রতি বাধ্য থাকতে হবে। যিশু আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে-বিষয়টা শিক্ষা দিয়েছেন, তা হল প্রেম প্রকাশ করার শিক্ষা। (যোহন ১৩:৩৫; যাকোব ২:৮) আমাদের যিহোবা, যিশু এবং লোকেদের প্রতি প্রেম প্রকাশ করতে হবে। আর আমরা লোকেদেরকে সুসমাচার সম্বন্ধে জানানোর মাধ্যমে সর্বোত্তম উপায়ে সেই প্রেম প্রকাশ করতে পারি।—যোহন ১৫:১০; প্রেরিত ১:৮.

১৫. কেন আমরা বলতে পারি, যিশু তাঁর সকল শিষ্যকে প্রচার করার আজ্ঞা দিয়েছিলেন?

১৫ যিশু তাঁর অল্প কয়েক জন শিষ্যের কাছে যা বলেছিলেন, সেটা মাঝে মাঝে অনেক শিষ্যের প্রতি প্রযোজ্য হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যিশু মাত্র ১১ জন শিষ্যের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিলেন এবং তারা রাজ্যে শাসন করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। কিন্তু, তাঁর সঙ্গে ১,৪৪,০০০ জন ব্যক্তি শাসন করবেন। (লূক ২২:২৯, ৩০; প্রকা. ৫:১০; ৭:৪-৮) এ ছাড়া, যিশুর পুনরুত্থানের পর, কেবল অল্প কয়েক জন শিষ্য তাঁর প্রচার করার আজ্ঞা সরাসরি শুনতে পেয়েছিলেন। (প্রেরিত ১০:৪০-৪২; ১ করি. ১৫:৬) কিন্তু, প্রথম শতাব্দীতে যিশুর সকল শিষ্য সেই আজ্ঞার প্রতি বাধ্যতা দেখিয়েছিলেন। (প্রেরিত ৮:৪; ১ পিতর ১:৮) একইভাবে বর্তমানে, আমরা যদিও প্রচার করার বিষয়ে যিশুর আজ্ঞা সরাসরি শুনতে পাই না, কিন্তু আমরা জানি আমাদের প্রচার করতে হবে। আসলে, আমরা আশি লক্ষ ব্যক্তি প্রচার কাজ করছি। আমরা এটা জানি, প্রচার করার মাধ্যমে আমরা খ্রিস্টের প্রতি প্রকৃত বিশ্বাস দেখাই।—যাকোব ২:১৮.

এখন অনুগত থাকার সময়

১৬-১৮. কীভাবে আমরা খ্রিস্টের ভাইদের অনুগতভাবে সাহায্য করতে পারি আর কেন আমাদের এখন তা করা উচিত?

১৬ খ্রিস্টের অভিষিক্ত ভাইদের মধ্যে যারা এখনও পৃথিবীতে আছেন, তাদের সঙ্গে শয়তান যুদ্ধ করছে আর দিন দিন তার আক্রমণ আরও বৃদ্ধি করছে কারণ সে জানে, তার “কাল সংক্ষিপ্ত।” (প্রকা. ১২:৯, ১২, ১৭) কিন্তু শয়তানের আক্রমণ সত্ত্বেও, অভিষিক্ত ব্যক্তিরা প্রচার কাজে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন এবং আগের চেয়ে বেশি লোক সুসমাচার শুনছে। স্পষ্টতই, যিশু অভিষিক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সঙ্গে আছেন এবং তাদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছেন।—মথি ২৮:২০.

১৭ আমরা মনে করি, প্রচার করার মাধ্যমে খ্রিস্টের ভাইদের সাহায্য করতে পারা আমাদের জন্য এক সম্মানের বিষয়। এ ছাড়া, টাকাপয়সা দান করার মাধ্যমে এবং কিংডম হল, সম্মেলন হল ও শাখা অফিস নির্মাণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমরা তাদের সাহায্য করি। আর আমরা যখন ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্‌ দাসের’ মাধ্যমে নিযুক্ত প্রাচীনদের ও অন্যান্য ভাইয়ের প্রতি অনুগতভাবে বাধ্য থাকি, তখন আমরা দেখাই, আমরা খ্রিস্টের ভাইদের সাহায্য করতে চাই।—মথি ২৪:৪৫-৪৭; ইব্রীয় ১৩:১৭.

আমরা বিভিন্ন উপায়ে খ্রিস্টের ভাইদের সাহায্য করি (১৭ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৮ পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অভিষিক্ত ব্যক্তিরা শীঘ্রই চূড়ান্ত মুদ্রাঙ্কন লাভ করবেন। এরপর, স্বর্গদূতেরা “পৃথিবীর চারি বায়ু” ছেড়ে দেবে এবং মহাক্লেশ শুরু হবে। (প্রকা. ৭:১-৩) হর্মাগিদোন শুরু হওয়ার আগে যিশু অভিষিক্ত ব্যক্তিদের স্বর্গে নিয়ে যাবেন। (মথি ১৩:৪১-৪৩) তাই, যিশু যখন আসবেন, তখন আমরা যদি মেষ হিসেবে বিচারিত হতে চাই, তাহলে আমাদের এখন খ্রিস্টের ভাইদের প্রতি অনুগত থাকতে হবে।

^ অনু. 6 এই দৃষ্টান্ত সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ১৯৯৫ সালের ১৫ অক্টোবর প্রহরীদুর্গ পত্রিকায় “বিচারাসনের সামনে আপনি কিভাবে দাঁড়াবেন?” এবং “মেষ ও ছাগেদের জন্য কিধরনের ভবিষ্যৎ?” শিরোনামের প্রবন্ধগুলো দেখুন।