সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  ফেব্রুয়ারি ২০১৫

পাঠক-পাঠিকাদের থেকে প্রশ্নসকল

পাঠক-পাঠিকাদের থেকে প্রশ্নসকল

সুগন্ধিদ্রব্যের কারণে যে-সমস্ত ভাই-বোনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা হয়, তাদের সাহায্য করার জন্য কী করা যেতে পারে?

সুগন্ধিদ্রব্যের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়। খুব সম্ভবত, দৈনন্দিন জীবনে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হলে, তাদের পক্ষে সুগন্ধিদ্রব্যের সংস্পর্শ এড়ানোর কোনো উপায়ই থাকে না। তা সত্ত্বেও, কেউ কেউ এই বিষয়ে জানতে চেয়েছেন, খ্রিস্টীয় সভা ও সম্মেলনে ভাই-বোনদের পারফিউম ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা সম্ভব কি না।

কোনো খ্রিস্টান নিশ্চয়ই জেনে-শুনে এমন কিছু করবেন না, যে-কারণে অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে খ্রিস্টীয় সমাবেশে যোগ দেওয়া কঠিন হয়। আমাদের সভাগুলোতে যে-উৎসাহ প্রদান করা হয়, তা আমাদের সকলেরই প্রয়োজন। (ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫) তাই এমন যেকোনো ব্যক্তি, যিনি সুগন্ধিদ্রব্যের প্রতি এতটাই সংবেদনশীল যে, এই কারণে সভাতে যোগ দিতে পারেন না, তিনি হয়তো বিষয়টা নিয়ে প্রাচীনদের সঙ্গে কথা বলতে চাইবেন। যারা সভাতে যোগ দেন, তাদের সুগন্ধিদ্রব্য ব্যবহারের বিষয়ে নিয়ম তৈরি করে দেওয়া শাস্ত্রীয় নয় কিংবা তা উপযুক্তও নয়। কিন্তু, অন্যেরা যে সমস্যা ভোগ করছেন, তা মণ্ডলীর সদস্যদের বুঝতে সাহায্য করার জন্য প্রাচীনরা হয়তো তথ্য দিতে পারেন। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রাচীনরা হয়তো পরিচর্যা সভার সময় স্থানীয় প্রয়োজন অংশে আগের প্রকাশনা থেকে তথ্য আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন অথবা তারা হয়তো এই বিষয়ে কৌশলে ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু, প্রাচীনদের বার বার এই ধরনের ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই। আমাদের সভাতে সবসময়ই এমন নতুন আগ্রহী ব্যক্তিরা ও দর্শনার্থীরা থাকবেন, যারা এই সমস্যা সম্বন্ধে জানেন না আর আমরা এই ব্যক্তিদের বুঝতে দিতে চাই, তারা এখানে সাদরে আমন্ত্রিত। তবে পরিমিত মাত্রায় সুগন্ধিদ্রব্য ব্যবহার করার কারণে কেউ যেন অস্বস্তিবোধ না করেন।

যেখানে এইরকম সমস্যা রয়েছে আর স্থানীয় পরিস্থিতিতে যদি সম্ভব হয়, তাহলে প্রাচীনগোষ্ঠী হয়তো সুগন্ধিদ্রব্যের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের কিংডম হল সংলগ্ন একটা আলাদা জায়গায় বসানোর জন্য ব্যবস্থা করতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাউন্ড সিস্টেম-সহ কোনো কনফারেন্স রুম থাকতে পারে, যেখানে তারা সভা থেকে উপকার লাভ করার জন্য বসতে পারেন। বিষয়টা যদি যথাযথভাবে সমাধান করা না যায় এবং কেউ কেউ যদি গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা ভোগ করেই চলেন, তাহলে মণ্ডলী হয়তো তাদের জন্য সেই একই ব্যবস্থা করতে পারে, যা সাধারণত ঘর থেকে বের হতে পারেন না এমন ব্যক্তিদের জন্য করা হয়। সেই ব্যক্তিদের জন্য মণ্ডলী সভার বিষয়বস্তু রেকর্ড করতে পারে অথবা তাদের ঘরে টেলিফোনের মাধ্যমে তা শোনানোর ব্যবস্থা করতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা-য় ভাই-বোনদেরকে উৎসাহিত করা হয়েছে, যেন তারা আঞ্চলিক সম্মেলনগুলোতে যোগ দেওয়ার সময় এই বিষয়ে বিশেষ বিবেচনা দেখায়। অধিকাংশ সম্মেলন এমন অবরুদ্ধ হলগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যেখানে যন্ত্ররে সাহায্যে বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা থাকে। তাই, এই অনুষ্ঠানগুলোতে যোগদানকারীদের কড়া সুগন্ধিদ্রব্যের ব্যবহার সীমিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দিষ্টভাবে আঞ্চলিক সম্মেলনগুলোতে বিশেষ বিবেচনা দেখানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ যে-মিলনায়তনগুলো ব্যবহার করা হয়, সেখানে সাধারণত সুগন্ধিদ্রব্যমুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। কিন্তু, এক্ষেত্রে কখনোই এইরকম উদ্দেশ্য ছিল না, মণ্ডলীর সভাগুলোর জন্যও এটা একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়াবে আর বিষয়টাকে এভাবে ব্যাখ্যা করাও উচিত নয়।

এই বিধিব্যবস্থায় বাস করার সময়ে, আমরা সকলেই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অসিদ্ধতার কারণে কষ্টকর পরিণতি ভোগ করে থাকি। আমাদের কষ্ট দূর করার জন্য অন্যেরা প্রচেষ্টা করলে, আমরা তা কতই-না উপলব্ধি করি! একজন ভাই অথবা বোনের পক্ষে খ্রিস্টীয় সভাতে যোগ দেওয়া যেন সহজ হয়, সেইজন্য সুগন্ধিদ্রব্য বা পারফিউম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা হয়তো কারো কারো জন্য এক ত্যাগস্বীকার করার মতো। কিন্তু, তা করা বেছে নেওয়ার জন্য প্রেম আমাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

 পন্তীয় পীলাত বলে যে কেউ ছিলেন, এই বিষয়টা কি জগতের অন্যান্য উৎস সমর্থন করে?

এই পাথরের ফলকে ল্যাটিন ভাষায় পীলাতের নাম খোদাই করা হয়েছিল

পন্তীয় পীলাত নামটা বাইবেল পাঠকদের কাছে সুপরিচিত কারণ যিশুর বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় তার ভূমিকা রয়েছে। (মথি ২৭:১, ২, ২৪-২৬) কিন্তু, সমসাময়িক অন্যান্য ঐতিহাসিক নথিতেও তার নাম বেশ কয়েক বার পাওয়া যায়। দি অ্যাংকার বাইবেল ডিকশনারি অনুসারে, জাগতিক ইতিহাসের ফাইলপত্রে তার বিষয়ে “যিহূদিয়ার অন্যান্য যেকোনো রোমীয় দেশাধ্যক্ষের চেয়ে আরও বেশি এবং বিস্তারিত” তথ্য রয়েছে।

পন্তীয় পীলাতের নাম যিহুদি ইতিহাসবেত্তা জোসিফাসের রচনায় অনেক বার এসেছে। পীলাত যিহূদিয়ায় শাসন করার সময় যে-সমস্ত সমস্যা ভোগ করেছিলেন, সেগুলোর মধ্যে তিনটে সুনির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ জোসিফাস তুলে ধরেছিলেন। চতুর্থ ঘটনাটা যোগ করেছিলেন যিহুদি ইতিহাসবেত্তা ফাইলো। রোমীয় লেখক ট্যাসিটাস রোমীয় সম্রাটদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি এই বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন, তিবিরিয়ের শাসনকালে পন্তীয় পীলাত যিশুর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন।

১৯৬১ সালে, প্রত্নতত্ত্ববিদরা ইস্রায়েলের কৈসরিয়ায় প্রাচীন রোমীয় থিয়েটারে কাজ করার সময় একটা পুনর্ব্যবহৃত পাথরের ফলক খুঁজে পেয়েছিলেন, যেখানে ল্যাটিন ভাষায় পীলাতের নাম স্পষ্টভাবে খোদাই করা ছিল। (এখানে দেখানো) খোদাই করা লেখাটা যদিও অসম্পূর্ণ, কিন্তু এইরকম মনে করা হয়, লেখাটা আগে এভাবে পড়া হতো: “যিহূদিয়ার দেশাধ্যক্ষ পন্তীয় পীলাত (এই) তিবিরিয়াম, সম্মাননীয় দেবতাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন।” এখানে তিবিরিয়াম বলে যে-দালানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটা সম্ভবত রোমীয় সম্রাট তিবিরিয়ের সম্মানার্থে নির্মিত একটা মন্দির।

কোনো বোন যদি একজন পুরুষ প্রকাশকের উপস্থিতিতে বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করেন, তাহলে তার কি মাথায় কাপড় দেওয়া উচিত?

২০০২ সালের ১৫ জুলাই প্রহরীদুর্গ পত্রিকায় প্রকাশিত “পাঠক-পাঠিকাদের থেকে প্রশ্নসকল” শিরোনামের প্রবন্ধে এটা বলা হয়েছিল, একজন বোন যদি কোনো বাপ্তাইজিত অথবা অবাপ্তাইজিত পুরুষ প্রকাশকের উপস্থিতিতে বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করেন, তাহলে তাকে মাথায় কাপড় দিতে হবে। বিষয়টা নিয়ে আরও বিবেচনা করার ফলে এটা বোঝা গিয়েছে, এই নির্দেশনায় রদবদল করা উপযুক্ত।

কোনো বোন যদি একজন বাপ্তাইজিত পুরুষ প্রকাশকের উপস্থিতিতে নিজের নিয়মিত বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করেন, তাহলে সেই বোন নিশ্চিতভাবেই মাথায় কাপড় দিতে চাইবেন। এভাবে সেই বোন খ্রিস্টীয় মণ্ডলীতে যিহোবার মস্তকপদের ব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে থাকেন কারণ এক্ষেত্রে তিনি এমন এক ভূমিকা পালন করছেন, যা সাধারণত একজন ভাইয়ের দায়িত্ব। (১ করি. ১১:৫, ৬, ১০) আর সেই ভাই যদি অধ্যয়ন করাতে সক্ষম হন, তাহলে বোন হয়তো সেই ভাইকে অধ্যয়ন পরিচালনা করার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।

অন্যদিকে, কোনো বোন যদি একজন অবাপ্তাইজিত পুরুষ প্রকাশকের উপস্থিতিতে নিজের নিয়মিত বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করেন আর সেই প্রকাশক যদি তার স্বামী না হন, তাহলে শাস্ত্র অনুযায়ী তার মাথায় কাপড় দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তা সত্ত্বেও, কোনো কোনো বোন হয়তো নিজের বিবেকের কারণে এইরকম পরিস্থিতিতেও মাথায় কাপড় দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হতে পারেন।