সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  ফেব্রুয়ারি ২০১৫

জাপানের ভাই-বোনদের জন্য এক অপ্রত্যাশিত উপহার

জাপানের ভাই-বোনদের জন্য এক অপ্রত্যাশিত উপহার

দু-হাজার তেরো সালের ২৮ এপ্রিল জাপানের নাগয়াতে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে পরিচালকগোষ্ঠীর সদস্য ভাই অ্যান্থনি মরিস এক চমকপ্রদ ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেটা হল, জাপানি ভাষায় এক নতুন প্রকাশনা প্রকাশ করা হয়েছে, যেটির শিরোনাম, বাইবেল—মথির লেখা সুসমাচার। সেখানে উপস্থিত এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল এমন ২,১০,০০০-রেরও বেশি ব্যক্তি দীর্ঘসময় ধরে আনন্দে হাততালি দিয়েছিল।

জাপানি ভাষার নতুন জগৎ অনুবাদ থেকে নেওয়া মথির লেখা সুসমাচারের ১২৮ পৃষ্ঠার এই পুনর্মুদ্রিত সংস্করণটি সত্যিই অদ্বিতীয়। ভাই মরিস বলেছিলেন, এই বইটি “জাপানের প্রচারের এলাকার চাহিদা পূরণ করার উদ্দেশ্যে” তৈরি করা হয়েছে। বাইবেলের এই বইটির কোন কোন বৈশিষ্ট্য রয়েছে? কেন এই বইটি তৈরি করা হয়েছে? আর এই বইটির প্রতি লোকেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে?

বইটির কোন কোন বৈশিষ্ট্য রয়েছে?

মথি বইটির লেখার বিন্যাস দেখে শ্রোতারা অবাক হয়ে গিয়েছিল। জাপানি বর্ণ উল্লম্বিক (ওপর থেকে নীচে) অথবা আনুভূমিক (পাশাপাশি) দু-ভাবেই সাজানো যায় আর আমাদের সাম্প্রতিক প্রকাশনাদিসহ বেশ কয়েকটা ছাপানো বিষয়বস্তু আনুভূমিকভাবে সাজানো হয়েছে। কিন্তু, এই নতুন প্রকাশনার লেখাগুলো উল্লম্বিকভাবে সাজানো হয়েছে, যা সাধারণত জাপানি ভাষার সংবাদপত্র এবং সাহিত্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনেক জাপানি পাঠকের কাছে এই স্টাইলে লেখা বিষয়গুলো পাঠ করা আরও সহজ। এ ছাড়া, পৃষ্ঠার ওপরে যে-শিরোনামগুলো ছিল, সেগুলো উল্লম্বিকভাবে উপশিরোনাম হিসেবে সাজানো হয়েছে, যাতে পাঠকরা সহজেই মূল বিষয়গুলো খুঁজে পেতে পারে।

জাপানের ভাই-বোনেরা সঙ্গেসঙ্গে মথি বইটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যেব সদ্‌ব্যবহার করতে শুরু করেছিল। ৮০-র কোঠায় বয়স এমন একজন বোন বলেছিলেন, “এর আগে আমি বহু বার মথি বইটি পড়েছি কিন্তু উল্লম্বিকভাবে লেখার এবং উপশিরোনাম ব্যবহার করার ফলে আমি পর্বতেদত্ত উপদেশ আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।” একজন অল্পবয়সি বোন লিখেছিলেন, “আমি এক বসাতেই মথি বইটি পড়ে শেষ করেছি। আমি আনুভূমিক স্টাইলে লেখা বিষয়বস্তু পড়ে অভ্যস্ত কিন্তু অনেক জাপানি উল্লম্বিকভাবে লেখা বিষয়বস্তু পড়তে পছন্দ করে।”

জাপানের প্রচারের এলাকার জন্য তৈরি

কেন বাইবেলের এই একটি বই বিশেষভাবে জাপানের প্রচারের এলাকার চাহিদা পূরণ করে? যদিও অনেক জাপানি বাইবেল সম্বন্ধে ততটা জানে না কিন্তু তারা এই বইটি পড়তে ইচ্ছুক। মথির লেখা সুসমাচারের এই সংস্করণটি প্রকাশিত হওয়ার ফলে এমন অনেকে পবিত্র বইয়ের এই অংশটি স্বচক্ষে দেখে পড়ার সুযোগ পাবে, যারা কখনো বাইবেল দেখেনি।

কেন মথি বইটি বেছে নেওয়া হয়েছে? “বাইবেল” শব্দটা শুনলেই বেশিরভাগ জাপানির মনে যিশু খ্রিস্টের কথা চলে আসে। তাই, মথি বইটি বেছে নেওয়ার কারণ হল, এতে যিশুর বংশ ও জন্মের বিবরণ, তাঁর বিখ্যাত পর্বতেদত্ত উপদেশ এবং শেষকাল সম্বন্ধে তাঁর নাটকীয় ভবিষ্যদ্‌বাণী রয়েছে। আর এগুলো হচ্ছে এমন বিষয়, যেগুলো অনেক জাপানির আগ্রহ জাগিয়ে তুলবে।

জাপানের প্রকাশকরা ঘরে ঘরে প্রচারের এবং পুনর্সাক্ষাতের সময় উদ্যোগের সঙ্গে এই নতুন প্রকাশনা ব্যবহার করতে শুরু  করেছে। একজন বোন বলেন, “এখন আমি আমাদের এলাকার লোকেদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য অর্পণ করার আরও বেশি সুযোগ পাচ্ছি। সত্যি বলতে কী, বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, সেই দিন বিকেলেই আমি মথি বইয়ের একটি কপি অর্পণ করার সুযোগ পাই!”

এই বইয়ের প্রতি লোকেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে?

প্রকাশকরা কীভাবে মথি বইটি উপস্থাপন করে? জাপানের অনেক গৃহকর্তা এই ধরনের অভিব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত যেমন, “সঙ্কীর্ণ দ্বার” ‘শূকরদিগের সম্মুখে মুক্তা’ “কল্যকার নিমিত্ত ভাবিত হইও না।” (মথি ৬:৩৪; ৭:৬, ১৩) তারা এটা জেনে খুবই অবাক হয়ে যায় যে, এগুলো যিশু খ্রিস্টের কথা। মথির লেখা সুসমাচারে এই শব্দগুলো দেখে অনেকে বলে: “আমি অন্তত এক বার হলেও বাইবেল পড়তে চেয়েছিলাম।”

যারা মথি বইটি নিয়ে থাকে, তাদের কাছে যখন প্রকাশকরা ফিরে যায়, তখন গৃহকর্তারা প্রায়ই বলে, তারা তৎক্ষণাৎ পুরোটা না হলেও এর কিছু অংশ পড়েছে। ৬০-এর কোঠায় বয়স এমন একজন ব্যক্তি এক প্রকাশককে বলেছিলেন, “আমি বেশ কয়েক বার বইটি পড়েছি এবং সান্ত্বনা লাভ করেছি। দয়া করে আমাকে বাইবেল সম্বন্ধে আরও শেখান।”

ঘরে ঘরে ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রচার করার সময় মথি বইটি অর্পণ করা হয়। এইরকম একটা ক্ষেত্রে প্রচার করার সময় একজন সাক্ষি বোন এক কমবয়সি মহিলাকে তার ই-মেল অ্যাড্রেস দিয়েছিলেন, যিনি মথি বইটি নিয়েছিলেন। এক ঘণ্টা পর, সেই মহিলা বোনকে ই-মেল করেন ও বলেন, তিনি বাইবেলের সেই বইটির কিছু অংশ পড়েছেন এবং আরও জানতে চান। এক সপ্তাহ পর, ওই মহিলা প্রথম বাইবেল অধ্যয়ন করেন এবং শীঘ্র সভাগুলোতে যোগ দিতে শুরু করেন।

জাপানের বিভিন্ন মণ্ডলীতে ষোলো লক্ষেরও বেশি বাইবেল—মথির লেখা সুসমাচার বইটি পাঠানো হয়েছে আর প্রতি মাসে সাক্ষিরা হাজার হাজার বই অর্পণ করছে। এই সংস্করণের ভূমিকাতে এই কথাগুলো বলার মাধ্যমে এর প্রকাশকদের অনুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে: “আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, এই সংস্করণটি পড়ার মাধ্যমে বাইবেলের প্রতি আপনাদের আগ্রহ আরও গভীর হবে।”