সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জানুয়ারি ২০১৫

যে-কারণে আমরা প্রভুর সান্ধ্যভোজ উদ্‌যাপন করি

যে-কারণে আমরা প্রভুর সান্ধ্যভোজ উদ্‌যাপন করি

“আমার স্মরণার্থে ইহা করিও।”—১ করি. ১১:২৪.

১, ২. তেত্রিশ খ্রিস্টাব্দের ১৪ নিশান সন্ধ্যায় যিশু কী করেছিলেন? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

তেত্রিশ খ্রিস্টাব্দের ১৪ নিশান। যিরূশালেমে আজ পূর্ণিমার রাত। যিশু ও তাঁর প্রেরিতরা সবেমাত্র নিস্তারপর্ব পালন করেছেন, যে-পর্বটা ১,৫০০ বছর আগে যিহোবা যেভাবে মিশরীয়দের হাত থেকে ইস্রায়েলকে উদ্ধার করেছিলেন, তা স্মরণ করিয়ে দেয়। যিশু এখন তাঁর ১১ জন অনুগত প্রেরিতের সঙ্গে এক বিশেষ ভোজ প্রবর্তন করছেন। তাঁর অনুসারীরা তাঁর মৃত্যু স্মরণ করার জন্য বছরে এক বার এই ভোজ উদ্‌যাপন করবে।—মথি ২৬:১, ২.

যিশু প্রার্থনা করেন এবং তাঁর শিষ্যদের হাতে তাড়িশূন্য রুটি দিয়ে বলেন: “লও, ভোজন কর।” এরপর, পানপাত্র হাতে নিয়ে তিনি আবার প্রার্থনা করেন এবং বলেন: “তোমরা সকলে ইহা হইতে পান কর।” (মথি ২৬:২৬, ২৭) এই রুটি ও দ্রাক্ষারসের বিশেষ অর্থ রয়েছে। যিশুর বিশ্বস্ত প্রেরিতরা এই গুরুত্বপূর্ণ রাতে অনেক কিছু শেখেন।

৩. এই প্রবন্ধে আমরা কোন প্রশ্নগুলো আলোচনা করব?

যিশু চেয়েছিলেন যেন তাঁর শিষ্যরা বছরে এক বার তাঁর মৃত্যু স্মরণ করে। এই উদ্‌যাপনকে পরে “প্রভুর ভোজ [“সান্ধ্যভোজ,” NW]” বা স্মরণার্থ সভা হিসেবে অভিহিত করা হয়। (১ করি. ১১:২০) এই বিষয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত  হয়। কেন আমাদের যিশুর মৃত্যু স্মরণ করা উচিত? রুটি ও দ্রাক্ষারসের অর্থ কী? কীভাবে আমরা স্মরণার্থ সভার জন্য প্রস্তুত হতে পারি? প্রতীকগুলো কাদের গ্রহণ করা উচিত? আর কীভাবে খ্রিস্টানরা দেখাতে পারে যে, তারা তাদের আশাকে মূল্যবান বলে গণ্য করে?

যে-কারণে আমরা যিশুর মৃত্যু স্মরণ করি

৪. যিশুর মৃত্যু আমাদের জন্য কী সম্ভবপর করেছে?

আদমের পাপের কারণে আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পাপ ও মৃত্যু পেয়েছি। (রোমীয় ৫:১২) কোনো অসিদ্ধ মানুষই নিজের অথবা অন্যদের জীবনের জন্য ঈশ্বরকে মুক্তির মূল্য দিতে পারেন না। (গীত. ৪৯:৬-৯) কিন্তু, যিশু আমাদের জন্য তাঁর সিদ্ধ জীবন দান করেছেন এবং ঈশ্বরের কাছে মুক্তির মূল্য উপস্থাপন করেছেন। যিশু তা করেছেন বলে আমাদের পক্ষে পাপ ও মৃত্যু থেকে মুক্ত হয়ে অনন্তকাল বেঁচে থাকার আশা সম্ভবপর হয়েছে।—রোমীয় ৬:২৩; ১ করি. ১৫:২১, ২২.

৫. (ক) ঈশ্বর ও যিশু যে আমাদের ভালোবাসেন, তা আমরা কীভাবে জানি? (খ) কেন আমাদের স্মরণার্থ সভায় যোগ দেওয়া উচিত?

ঈশ্বর মুক্তির মূল্যের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে মানুষের জন্য তাঁর প্রেমের প্রমাণ দিয়েছেন। (যোহন ৩:১৬) যিশুও তাঁর জীবন দান করার মাধ্যমে আমাদের জন্য নিজের প্রেমের প্রমাণ দিয়েছেন। এমনকী পৃথিবীতে আসার আগেই, “মনুষ্য-সন্তানগণে” যিশুর “আনন্দ হইত।” (হিতো. ৮:৩০, ৩১) যিহোবা ও যিশু আমাদের জন্য যা করেছেন, তা আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি! এই কারণে, আমরা স্মরণার্থ সভায় যোগ দিয়ে “আমার স্মরণার্থে ইহা করিও,” যিশুর বলা এই আজ্ঞা পালন করি।—১ করি. ১১:২৩-২৫.

প্রতীকগুলোর অর্থ

৬. স্মরণার্থের রুটি ও দ্রাক্ষারস সম্বন্ধে আমরা কী বুঝতে পারি?

যিশু শিষ্যদের সঙ্গে তাঁর শেষ ভোজের সময় রুটি নিয়ে বলেছিলেন: “ইহা আমার শরীর।” আর তিনি দ্রাক্ষারস নিয়ে বলেছিলেন: “ইহা আমার রক্ত, নূতন নিয়মের রক্ত, যাহা অনেকের জন্য পাতিত হয়।” (মার্ক ১৪:২২-২৪) তাই কেউ কেউ মনে করে, যিশু এক অলৌকিক কাজের মাধ্যমে সেই রুটিকে তাঁর দেহে এবং দ্রাক্ষারসকে রক্তে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু, যিশুর দেহ বিশ্বস্ত প্রেরিতদের সামনেই ছিল আর তারা যে-তাড়িশূন্য রুটি গ্রহণ করবেন, সেগুলোও তাদের সামনে ছিল। তাই, এই রুটি ও দ্রাক্ষারস হচ্ছে প্রতীক।

৭. তাড়িশূন্য রুটি কোন বিষয়টাকে চিত্রিত করে?

সেই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধ্যায়, নিস্তারপর্বের ভোজে যে-তাড়িশূন্য রুটি ব্যবহার করা হয়েছিল, যিশু সেই রুটিই ব্যবহার করেছিলেন। (যাত্রা. ১২:৮) বাইবেলে পাপকে চিত্রিত করার জন্য মাঝে মাঝে তাড়ি শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। (মথি ১৬:৬, ১১, ১২; লূক ১২:১) তাই, যিশুর ব্যবহৃত তাড়িশূন্য রুটি তাঁর নিষ্পাপ দেহকে চিত্রিত করেছিল। (ইব্রীয় ৭:২৬) এই কারণে, স্মরণার্থ সভায় আমরা তাড়িশূন্য রুটি ব্যবহার করি।

৮. দ্রাক্ষারস কোন বিষয়টাকে চিত্রিত করে?

যিশুর ব্যবহৃত দ্রাক্ষারস তাঁর রক্ত অর্থাৎ তাঁর জীবনকে চিত্রিত করেছিল। বর্তমানে, স্মরণার্থ সভায় আমরা যে-দ্রাক্ষারস ব্যবহার করি, সেটাও একই বিষয়কে চিত্রিত করে। যিরূশালেমের বাইরে গ্লগথা নামক স্থানে তিনি আমাদের জন্য মৃত্যুবরণ করেছিলেন আর “পাপমোচনের নিমিত্ত” তাঁর জীবন দান করেছিলেন। (মথি ২৬:২৮; ২৭:৩৩) আমরা যদি এই মূল্যবান উপহার সম্বন্ধে উপলব্ধি করি, তাহলে আমরা ব্যক্তিগতভাবে প্রতি বছর সই বিশেষ উপলক্ষ্যের জন্য প্রস্তুত হব। কীভাবে আমরা প্রস্তুত হতে পারি?

প্রস্তুত হওয়ার কিছু উপায়

৯. (ক) কেন আমাদের স্মরণার্থের বাইবেল পাঠের তালিকা ব্যবহার করা উচিত? (খ) মুক্তির মূল্য সম্বন্ধে আপনি কেমন অনুভব করেন?

একটা যে-উপায়ে আমরা স্মরণার্থ সভার জন্য প্রস্তুত হতে পারি তা হল, প্রতিদিন শাস্ত্র পরীক্ষা করা পুস্তিকায় দেওয়া স্মরণার্থের বাইবেল  পাঠের তালিকা ব্যবহার করা। বাইবেলের বিবরণ পড়া আমাদেরকে সেই বিষয়গুলো নিয়ে ধ্যান করতে সাহায্য করবে, যেগুলো যিশু মৃত্যুর ঠিক আগে করেছিলেন। * একজন বোন লিখেছিলেন, “আমরা স্মরণার্থ সভার জন্য অপেক্ষা করে থাকি। প্রতি বছর এই সভার প্রতি আমার উপলব্ধি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমার মনে আছে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় . . . , আমি আমার প্রিয় বাবার দিকে তাকিয়ে ছিলাম আর আমার হৃদয় থেকে মুক্তির মূল্যের প্রতি আন্তরিক উপলব্ধিবোধ জেগে উঠেছিল। . . . হ্যাঁ, আমি সমস্ত শাস্ত্রপদ জানতাম আর সেগুলো কীভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়, তা-ও জানতাম! কিন্তু, যখন আমি মৃত্যুর মতো নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলাম, একমাত্র তখনই এই বহুমূল্য মুক্তির মূল্যের মাধ্যমে আমাদের জন্য যা সম্পাদন করা হবে, সেই বিষয়টার জন্য আমার হৃদয় আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠেছিল।” যিশুর বলিদান আমাদের ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সাহায্য করে, সেই বিষয় নিয়ে ধ্যান করা হচ্ছে স্মরণার্থ সভার জন্য প্রস্তুত হওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

স্মরণার্থের বাইবেল পাঠের তালিকা অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরা স্মরণার্থ সভার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করি (৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১০. স্মরণার্থ সভার প্রস্তুতির জন্য আমরা আর কী করতে পারি?

১০ আরেকটা যে-উপায়ে আমরা প্রস্তুত হতে পারি তা হল, পরিচর্যায় আমাদের সময় বৃদ্ধি করা ও স্মরণার্থ সভায় আসার জন্য যত বেশি সম্ভব লোককে আমন্ত্রণ জানানো। হতে পারে, আমরা সহায়ক অগ্রগামীর কাজ করতে পারি। আমরা যখন অন্যদের সঙ্গে ঈশ্বর, তাঁর পুত্র এবং অনন্তজীবনের আশা সম্বন্ধে কথা বলি, তখন আমরা এই বিষয়টা চিন্তা করে পরিতৃপ্তিবোধ করি, আমরা ঠিক সেটাই করেছি, যা ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে চান।—গীত. ১৪৮:১২, ১৩.

১১. কেন পৌল বলেছিলেন, কোনো কোনো করিন্থীয় ব্যক্তি অযোগ্যরূপে স্মরণার্থ সভায় প্রতীকগুলো গ্রহণ করেছে?

১১ স্মরণার্থ সভার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময়, করিন্থের খ্রিস্টানদের উদ্দেশে লেখা পৌলের কথাগুলো নিয়ে ধ্যান করুন। (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ১১:২৭-৩৪.) তিনি বলেছিলেন, একজন ব্যক্তি যদি অযোগ্যরূপে বা অসম্মানপূর্বক রুটি ভোজন করেন ও দ্রাক্ষারস পান করেন, তাহলে তিনি “প্রভুর শরীরের ও রক্তের দায়ী” হবেন। তাই, একজন অভিষিক্ত ব্যক্তি যদি মন্দ আচরণে রত হন, আবার একইসময়ে স্মরণার্থের প্রতীক গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি ‘আপনার বিচারাজ্ঞা ভোজন পান করেন।’ পৌলের সময়ে করিন্থের অনেক ব্যক্তি মন্দ আচরণে জড়িত ছিল। সম্ভবত, কেউ কেউ স্মরণার্থ সভার আগে অথবা সভার সময়ে অতিরিক্ত ভোজন-পান করেছিল আর তারা হয়তো তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। তারা সেই  উপলক্ষ্যের প্রতি চরম অসম্মান দেখিয়েছিল আর তাই তারা যখন সেই প্রতীকগুলো গ্রহণ করেছিল, তখন ঈশ্বর অনুমোদন করেননি।

১২. (ক) পৌল স্মরণার্থ সভাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন আর প্রতীক গ্রহণকারীদের তিনি কোন সাবধানবাণী দিয়েছিলেন? (খ) একজন প্রতীক গ্রহণকারী যদি গুরুতর পাপ করে ফেলেন, তাহলে তার কী করা উচিত?

১২ স্মরণার্থ সভাকে একটা ভোজের সঙ্গে তুলনা করে, পৌল প্রতীক গ্রহণকারীদের এভাবে সাবধান করেছিলেন: “প্রভুর [ঈশ্বরের] পানপাত্র ও ভূতদের পানপাত্র, তোমরা এই উভয় পাত্রে পান করিতে পার না; প্রভুর [ঈশ্বরের] মেজ ও ভূতদের মেজ, তোমরা এই উভয় মেজের অংশী হইতে পার না।” (১ করি. ১০:১৬-২১) একজন ব্যক্তি, যিনি প্রতীকগুলো গ্রহণ করেন, তিনি যদি কোনো গুরুতর পাপ করে ফেলেন, তাহলে তাকে সাহায্যের জন্য অবশ্যই প্রাচীনদের কাছে যেতে হবে। (পড়ুন, যাকোব ৫:১৪-১৬.) তার কাজ যদি প্রমাণ দেয়, তিনি আন্তরিকভাবেই অনুতপ্ত হয়েছেন, তাহলে স্মরণার্থ সভার প্রতীকগুলো গ্রহণ করে তিনি যিশুর বলিদানের প্রতি অসম্মান দেখাচ্ছেন না।—লূক ৩:৮.

১৩. ঈশ্বর আমাদের যে-আশা প্রদান করেছেন, তা নিয়ে কেন আমাদের প্রার্থনা করা উচিত?

১৩ এ ছাড়া, ঈশ্বর ব্যক্তিগতভাবে আমাদের যে-আশা প্রদান করেছেন, তা নিয়ে প্রার্থনা ও ধ্যান করার মাধ্যমে আমরা স্মরণার্থ সভার জন্য প্রস্তুত হতে পারি। আমরা কখনো যিশুর বলিদানের প্রতি অসম্মান দেখাতে চাইব না। তাই, আমরা অভিষিক্ত কি না, সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ না পেলে আমরা স্মরণার্থের প্রতীকগুলো গ্রহণ করি না। তাহলে, প্রতীকগুলো কাদের গ্রহণ করা উচিত?

প্রতীকগুলো কাদের গ্রহণ করা উচিত?

১৪. অভিষিক্ত ব্যক্তিরা যেহেতু নতুন চুক্তির অংশ, তাই স্মরণার্থ সভার সময় তারা কী করেন?

১৪ যারা স্মরণার্থের প্রতীকগুলো গ্রহণ করেন, তারা এই ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত থাকেন যে, তারা নতুন চুক্তির অংশ। যিশু দ্রাক্ষারস সম্বন্ধে বলেছিলেন: “এই পানপাত্র আমার রক্তে নূতন নিয়ম” বা চুক্তি। (১ করি. ১১:২৫) যিহোবা ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে ব্যবস্থা চুক্তি করেছিলেন, কিন্তু পরে তিনি বলেছিলেন, এই চুক্তির স্থলে তিনি এক নতুন চুক্তি করবেন। (পড়ুন, যিরমিয় ৩১:৩১-৩৪.) ঈশ্বর অভিষিক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এই নতুন চুক্তি করেছিলেন। (গালা. ৬:১৫, ১৬) যিশুর মৃত্যুর ফলে এই চুক্তি কার্যকর হয়েছিল। (লূক ২২:২০) যিশু হলেন নতুন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী। অনুগত অভিষিক্ত ব্যক্তিরা, যারা নতুন চুক্তির অংশ, তারা যিশুর সঙ্গে স্বর্গে থাকবেন।—ইব্রীয় ৮:৬; ৯:১৫.

১৫. কারা রাজ্য চুক্তির অংশ আর তারা যদি বিশ্বস্ত থাকেন, তাহলে তারা কোন বিশেষ সুযোগ লাভ করবেন?

১৫ এ ছাড়া, অভিষিক্ত ব্যক্তিরা জানেন, তারা রাজ্য চুক্তির অংশ। (পড়ুন, লূক ১২:৩২.) এই চুক্তি যিশু ও তাঁর সেই অনুগত অভিষিক্ত অনুসারীদের মধ্যে করা হয়েছিল, যারা “তাঁহার দুঃখভোগের” সহভাগী হয়েছিলেন। (ফিলি. ৩:১০) বর্তমানে, বিশ্বস্ত অভিষিক্ত ব্যক্তিরাও এই চুক্তির অংশ। তারা খ্রিস্টের সঙ্গে চিরকাল স্বর্গে রাজা হিসেবে শাসন করবেন। (প্রকা. ২২:৫) তারা প্রভুর সান্ধ্যভোজের সময় স্মরণার্থের প্রতীকগুলো গ্রহণ করার যোগ্য।

১৬. রোমীয় ৮:১৫-১৭ পদের অর্থ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করুন।

১৬ অভিষিক্ত ব্যক্তিরা এই বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত, তারা ঈশ্বরের সন্তান এবং তারা স্মরণার্থের প্রতীকগুলো গ্রহণ করতে পারেন। (পড়ুন, রোমীয় ৮:১৫-১৭.) পৌল বলেছিলেন, তারা “আব্বা, পিতা” বলে ডেকে ওঠেন! অরামীয় ভাষায় “আব্বা” শব্দটা দিয়ে আদরের ডাক, যেমন “পাপা” ও সেইসঙ্গে সম্মানপূর্ণ ডাক, যেমন “বাবা,” দুটোকেই বোঝায়। এই শব্দ দিয়ে সেই বিশেষ সম্পর্ককে প্রকাশ করা হয়, যা অভিষিক্ত ব্যক্তিরা “দত্তকপুত্ত্রতার আত্মা” লাভ করার পর যিহোবার সঙ্গে উপভোগ করেন। তাদের সঙ্গে ঈশ্বরের আত্মা ‘সাক্ষ্য দেয়’ আর এই কারণে তারা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারেন, তারা ঈশ্বরের অভিষিক্ত ব্যক্তি। এর মানে এই নয়,  তারা পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান না। তারা জানেন, তারা যদি মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত থাকেন, তাহলে তারা স্বর্গে যিশুর সঙ্গে রাজা হবেন। আর তারা এটাও জানেন, তারা “পবিত্রতম” যিহোবা ‘হইতে অভিষেক পাইয়াছেন।’ বর্তমানে, ঈশ্বরের ১,৪৪,০০০ জন সন্তানের মধ্যে কেবল অল্প কিছু জন পৃথিবীতে আছেন। (১ যোহন ২:২০; প্রকা. ১৪:১) তারা যিহোবার সঙ্গে এতটাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করেন যে, তারা তাঁকে “আব্বা, পিতা” বলে ডেকে ওঠেন!

আপনার বাইবেলভিত্তিক আশাকে মূল্যবান বলে গণ্য করুন

১৭. অভিষিক্ত খ্রিস্টানদের কোন আশা রয়েছে আর তারা যে অভিষিক্ত, সেটা তারা কীভাবে জানতে পারেন?

১৭ আপনি যদি একজন অভিষিক্ত খ্রিস্টান হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই ব্যক্তিগত প্রার্থনায় প্রায়ই আপনার স্বর্গীয় আশা সম্বন্ধে উল্লেখ করেন। আর শাস্ত্র আপনার কাছে বিশেষ অর্থ রাখে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাইবেল যখন যিশু ও তাঁর ‘কন্যা’ বা কনের বিবাহ সম্বন্ধে জানায়, তখন আপনি বুঝতে পারেন, এই বিষয়টা আপনার প্রতি প্রযোজ্য আর আপনি এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। (যোহন ৩:২৭-২৯; ২ করি. ১১:২; প্রকা. ২১:২, ৯-১৪) এ ছাড়া, বাইবেল যখন অভিষিক্ত ব্যক্তিদের জন্য ঈশ্বরের প্রেম সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করে, তখন আপনি বুঝতে পারেন, তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলছেন। আর আপনি যখন ঈশ্বরের বাক্যে অভিষিক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে দেওয়া সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পড়েন, তখন পবিত্র আত্মা আপনাকে সেই নির্দেশনার বাধ্য হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে। আপনার সঙ্গে ঈশ্বরের পবিত্র আত্মাও এই ‘সাক্ষ্য দেয়,’ আপনার স্বর্গে যাওয়ার আশা রয়েছে।

১৮. ‘আরও মেষের’ কোন আশা রয়েছে আর এই আশা সম্বন্ধে আপনি কেমন অনুভব করেন?

১৮ আপনি যদি ‘আরও মেষের’ অর্থাৎ ‘বিস্তর লোকের’ একজন সদস্য হয়ে থাকেন, তাহলে ঈশ্বর আপনাকে পরমদেশ পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকার সুযোগ দিয়েছেন। (প্রকা. ৭:৯; যোহন ১০:১৬) ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে আপনি কেমন অনুভব করেন? আপনি যখন ভবিষ্যৎ পরমদেশ সম্বন্ধে বাইবেলে উল্লেখিত বিষয় নিয়ে ধ্যান করেন, তখন আপনি নিশ্চয়ই রোমাঞ্চিত হন। আপনি আপনার পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে এক শান্তিপূর্ণ জগতে বেঁচে থাকার জন্য অপেক্ষা করেন। আপনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুঃখকষ্ট, অসুস্থতা ও মৃত্যুর শেষ দেখতে চান। (গীত. ৩৭:১০, ১১, ২৯; ৬৭:৬; ৭২:৭, ১৬; যিশা. ৩৩:২৪) আপনি আপনার প্রিয়জনদের পুনরুত্থিত হতে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। (যোহন ৫:২৮, ২৯) এই অপূর্ব আশার জন্য আপনি নিশ্চয়ই যিহোবার কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ! যদিও আপনি স্মরণার্থের প্রতীকগুলো গ্রহণ করেন না, কিন্তু আপনি স্মরণার্থ সভায় যোগ দেন কারণ আপনি যিশুর মুক্তির মূল্যরূপ বলিদানকে উপলব্ধি করেন।

আপনি কি সেখানে থাকবেন?

১৯, ২০. (ক) কীভাবে আপনার পক্ষে চিরকাল বেঁচে থাকা সম্ভব? (খ) কেন আপনি স্মরণার্থ সভায় যোগ দেবেন?

১৯ আপনি যদি যিহোবা ঈশ্বর, যিশু খ্রিস্ট এবং মুক্তির মূল্যের প্রতি বিশ্বাস দেখিয়ে চলেন, একমাত্র তখনই আপনি স্বর্গে অথবা পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারেন। আপনি যখন স্মরণার্থ সভায় যান, তখন আপনার আশা নিয়ে এবং যিশুর মৃত্যুর গুরুত্ব নিয়ে ধ্যান করুন। ২০১৫ সালের ৩ এপ্রিল, শুক্রবার সূর্যাস্তের পর পৃথিবীব্যাপী লক্ষ লক্ষ ব্যক্তি বিভিন্ন কিংডম হলে এবং অন্যান্য জায়গায় স্মরণার্থ সভায় যোগ দেবে।

২০ আমরা যখন সঠিক মনোভাব নিয়ে স্মরণার্থ সভায় যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হই, তখন আমরা যিশুর মুক্তির মূল্যরূপ বলিদানের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ হই। মনোযোগ দিয়ে স্মরণার্থ সভার বক্তৃতা শোনার মাধ্যমে আপনি অন্যদের প্রতি প্রেম দেখাতে আর সেইসঙ্গে তাদেরকে যিহোবার প্রেম ও আমাদের সকলের জন্য তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জানাতে অনুপ্রাণিত হবেন। (মথি ২২:৩৪-৪০) তাই, সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হোন।

^ অনু. 9 নতুন জগৎ অনুবাদ (ইংরেজি) বাইবেলের পরিশিষ্ট বি১২ দেখুন।