সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জানুয়ারি ২০১৫

এক দৃঢ় ও সুখী বিবাহবন্ধন গড়ে তুলুন

এক দৃঢ় ও সুখী বিবাহবন্ধন গড়ে তুলুন

“যদি সদাপ্রভু গৃহ নির্ম্মাণ না করেন, তবে নির্ম্মাতারা বৃথাই পরিশ্রম করে।”—গীত. ১২৭:১ক.

১-৩. বিবাহিত দম্পতিরা কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর মুখোমুখি হয়? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

“আপনারা যদি আন্তরিক প্রচেষ্টা করার মাধ্যমে দেখান, আপনারা আপনাদের বিয়েকে সফল করতে চান, তাহলে যিহোবার আশীর্বাদ উপভোগ করতে পারবেন,” একজন স্বামী এই কথা বলেন, যিনি ৩৮ বছর ধরে সুখী বিবাহিত জীবন উপভোগ করছেন। হ্যাঁ, এমনকী কঠিন সময়েও স্বামী-স্ত্রীর পক্ষে একসঙ্গে সুখী হওয়া এবং একে অন্যকে সমর্থন করা সম্ভব।—হিতো. ১৮:২২.

বিবাহিত দম্পতিদের জন্য কিছু সমস্যার মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক। বাইবেল এটাকে “দৈহিক ক্লেশ” বলে উল্লেখ করে। (১ করি. ৭:২৮) কেন? রোজকার সমস্যা বিবাহিত জীবনে চাপ নিয়ে আসতে পারে। অসিদ্ধ হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীরা মাঝে মাঝে একে অন্যের অনুভূতিতে আঘাত দেয় এবং পরস্পরের সঙ্গে স্পষ্টভাবে ভাববিনিময় করতে ব্যর্থ হয়। (যাকোব ৩:২, ৫, ৮) অনেক দম্পতি এমন চাকরি করে, যেখানে কাজের চাপ অনেক বেশি আর সেইসঙ্গে তাদের সন্তানও মানুষ করতে হয়। চাপ ও ক্লান্তির কারণে, তাদের বিবাহবন্ধনকে শক্তিশালী করার জন্য যথেষ্ট সময় বের করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। আর্থিক সমস্যা, অসুস্থতা অথবা অন্যান্য সমস্যা হয়তো ধীরে ধীরে একে অন্যের প্রতি তাদের প্রেম ও সম্মানকে দুর্বল করে দিতে পারে। দৃঢ় বলে মনে হয় এমন বিবাহবন্ধনও “মাংসের কার্য্য সকল,” যেমন বেশ্যাগমন, স্বৈরিতা, শত্রুতা, বিবাদ, ঈর্ষা, রাগ ও  প্রতিযোগিতার কারণে ভেঙে যেতে পারে।—গালা. ৫:১৯-২১.

এর চেয়েও খারাপ বিষয় হল, এই “শেষ কালে” লোকেদের মধ্যে সাধারণত স্বার্থপর মনোভাব এবং ঈশ্বরের প্রতি সম্মানের অভাব দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে এমন মনোভাব, যা বিয়েতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। (২ তীম. ৩:১-৪) এ ছাড়া, ভয়ানক এক শত্রু বিয়েকে ধ্বংস করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে। প্রেরিত পিতর আমাদের সাবধান করেন: “তোমাদের বিপক্ষ দিয়াবল, গর্জ্জনকারী সিংহের ন্যায়, কাহাকে গ্রাস করিবে, তাহার অন্বেষণ করিয়া বেড়াইতেছে।”—১ পিতর ৫:৮; প্রকা. ১২:১২.

৪. কীভাবে এক দৃঢ় ও সুখী বিবাহবন্ধন বজায় রাখা সম্ভব?

জাপানের একজন স্বামী স্বীকার করেন: “আমার প্রচুর আর্থিক চাপ ছিল। আর সত্যি বলতে কী, আমি যেহেতু আমার স্ত্রীর সঙ্গে ভাববিনিময় করতাম না, তাই সেও অনেক চাপের মধ্যে থাকত। তা ছাড়া, সম্প্রতি তার গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব চাপের কারণে কখনো কখনো আমরা ঝগড়াঝাঁটি করে ফেলতাম।” বিয়েতে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, তবে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি। যিহোবার সাহায্যে দম্পতিরা এক দৃঢ় ও সুখী সম্পর্ক উপভোগ করতে পারে। (পড়ুন, গীতসংহিতা ১২৭:১.) আসুন, আমরা এক দৃঢ় ও স্থায়ী বিবাহবন্ধন গড়ে তোলার পাঁচটা উপায় আলোচনা করি। এ ছাড়া, এক দৃঢ় বিবাহবন্ধন বজায় রাখার জন্য কেন প্রেম অপরিহার্য, সেটাও আমরা পরীক্ষা করব।

যিহোবাকে আপনাদের বিবাহবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করুন

৫, ৬. স্বামী-স্ত্রীরা যিহোবাকে তাদের বিবাহবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কী করতে পারে?

কোনো দম্পতি যখন যিহোবার প্রতি অনুগত ও বশীভূত থাকেন, তখন তাদের বিয়ের এক দৃঢ় ভিত্তি থাকে। (পড়ুন, উপদেশক ৪:১২.) ঈশ্বরের প্রেমময় নির্দেশনা অনুসরণ করার মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীরা যিহোবাকে তাদের বিবাহবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করে। বাইবেল বলে: “দক্ষিণে কি বামে ফিরিবার সময়ে তোমার কর্ণ পশ্চাৎ হইতে এই বাণী শুনিতে পাইবে, এই পথ, তোমরা এই পথেই চল।” (যিশা. ৩০:২০, ২১) বর্তমানে, দম্পতিরা যখন একসঙ্গে বাইবেল পড়ে, তখন তারা যিহোবার বাক্য “শুনিতে” পায়। (গীত. ১:১-৩) নিয়মিতভাবে উপভোগ্য ও গঠনমূলক পারিবারিক উপাসনা করার মাধ্যমে তারা তাদের বিয়েকে আরও শক্তিশালী করে। আর দম্পতিরা যখন প্রতিদিন একসঙ্গে প্রার্থনা করে, তখন তারা এমন এক বিবাহবন্ধন গড়ে তোলে, যা শয়তানের জগতের বিভিন্ন আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে।

একজন স্বামী ও একজন স্ত্রী যখন একসঙ্গে যিহোবার উপাসনা করেন, তখন তারা ঈশ্বরের ও পরস্পরের আরও নিকটবর্তী হন এবং এক সুখী বিবাহবন্ধন উপভোগ করেন (৫, ৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)

জার্মানির গেহার্ড বলেন: “যখনই ব্যক্তিগত সমস্যা অথবা ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমাদের আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছে, তখনই ঈশ্বরের বাক্যের পরামর্শ আমাদের ধৈর্য গড়ে তুলতে ও ক্ষমা করতে সাহায্য করেছে।” তিনি আরও বলেন, এক সফল বিয়ের জন্য এই গুণগুলো অপরিহার্য। স্বামী-স্ত্রীরা যখন একসঙ্গে ঈশ্বরের উপাসনা করার মাধ্যমে ঈশ্বরকে তাদের বিবাহবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করে, তখন তারা যিহোবার নিকটবর্তী থাকে এবং নিজেদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।

যে-স্বামীরা পরিবারের প্রেমময় মস্তক

৭. স্ত্রীর সঙ্গে একজন স্বামীর কীভাবে আচরণ করা উচিত?

একজন স্বামী যে-উপায়ে তার পরিবারকে নেতৃত্ব দেন, তা এক দৃঢ় ও সুখী বিবাহবন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। বাইবেল বলে: “প্রত্যেক পুরুষের মস্তকস্বরূপ খ্রীষ্ট, এবং স্ত্রীর মস্তকস্বরূপ পুরুষ।” (১ করি. ১১:৩) এর অর্থ কী? যিশু যেভাবে তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে আচরণ করেছিলেন, ঠিক সেভাবে স্বামীদেরও তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে আচরণ করা উচিত। তিনি কখনোই নিষ্ঠুর অথবা রূঢ় আচরণ করেননি। যিশু সবসময় প্রেমময়, দয়ালু, যুক্তিবাদী, মৃদুশীল ও নম্রচিত্ত ছিলেন।—মথি ১১:২৮-৩০.

৮. একজন স্বামী কীভাবে স্ত্রীর কাছ থেকে প্রেম ও সম্মান অর্জন করতে পারেন?

খ্রিস্টান স্বামীদের, তাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে সম্মান দাবি করার প্রয়োজন হয় না। এর পরিবর্তে,  তারা “জ্ঞানপূর্ব্বক” বা বিবেচনা দেখিয়ে ‘বাস করে’ এবং ‘স্ত্রীলোক অপেক্ষাকৃত দুর্ব্বল পাত্র বলিয়া তাহাদের সমাদর করে।’ (১ পিতর ৩:৭) জনসমক্ষে ও একান্তে, উভয় ক্ষেত্রেই স্বামীদের সম্মানপূর্ণ কথাবার্তা বলা এবং সমবেদনা দেখানো উচিত। স্বামীরা যেভাবে তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে আচরণ করে এবং কথা বলে, সেটার মাধ্যমে তারা দেখায়, স্ত্রীরা তাদের কাছে মূল্যবান। (হিতো. ৩১:২৮) একজন স্বামী যখন তার স্ত্রীর প্রতি প্রেমের সঙ্গে আচরণ করেন, তখন সেই স্ত্রী তাকে ভালোবাসেন ও সম্মান করেন এবং যিহোবা তাদের বিয়েকে আশীর্বাদ করেন।

যে-স্ত্রীরা নম্র এবং বশীভূত

৯. কীভাবে একজন স্ত্রী দেখাতে পারেন যে, তিনি বশীভূত?

যিহোবার নীতির ওপর ভিত্তি করে তাঁর প্রতি নিঃস্বার্থ প্রেম দেখানো, আমাদেরকে “ঈশ্বরের পরাক্রান্ত হস্তের নীচে” নত বা নম্র হতে সাহায্য করবে। (১ পিতর ৫:৬) একটা যে-গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে একজন স্ত্রী যিহোবার কর্তৃত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেন, তা হল তার স্বামীর সঙ্গে সহযোগিতা করার মাধ্যমে। বাইবেল বলে: “নারীগণ, তোমরা আপন আপন স্বামীর বশীভূতা হও, যেমন প্রভুতে উপযুক্ত।” (কল. ৩:১৮) এটা ঠিক, স্বামীর সমস্ত সিদ্ধান্ত স্ত্রীর ভালো না-ও লাগতে পারে। কিন্তু, স্বামীর সিদ্ধান্ত যতক্ষণ পর্যন্ত ঈশ্বরের আইনের বিরুদ্ধে না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত একজন বশীভূত স্ত্রী তার স্বামীর সঙ্গে সহযোগিতা করতে চাইবেন।—১ পিতর ৩:১.

১০. কেন প্রেম সহকারে বশীভূত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ?

১০ যিহোবা পরিবারের মধ্যে স্ত্রীদের এক সম্মানজনক ভূমিকা প্রদান করেছেন। একজন স্ত্রী হচ্ছেন তার স্বামীর “সখী” বা সঙ্গী। (মালাখি ২:১৪) কোনো দম্পতি যখন পারিবারিক সিদ্ধান্ত নেন, তখন একজন স্ত্রী যদিও সম্মানের সঙ্গে তার চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি জানান, তবে তিনি বশীভূত থাকেন। একজন বিজ্ঞ স্বামী মনোযোগ দিয়ে তার স্ত্রীর কথা শোনেন। (হিতো. ৩১:১০-৩১) প্রেম সহকারে বশীভূত হওয়া পরিবারে আনন্দ, শান্তি ও একতা নিয়ে আসে। ফলে, স্বামী-স্ত্রীরা পরিতৃপ্তি লাভ করে কারণ তারা জানে, তারা ঈশ্বরকে খুশি করছে।—ইফি. ৫:২২.

সবসময় পরস্পরকে ক্ষমা করুন

১১. কেন ক্ষমাশীল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ?

১১ এক স্থায়ী বিবাহবন্ধন গড়ে তোলার জন্য  স্বামী-স্ত্রীর অবশ্যই পরস্পরকে ক্ষমা করা শিখতে হবে। দম্পতিরা যখন ‘পরস্পর সহনশীল হয়’ এবং ‘পরস্পর ক্ষমা করে,’ তখন তারা তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। (কল. ৩:১৩) কিন্তু, একটা বিবাহবন্ধন সেই সময়ে দুর্বল হয়ে পড়ে, যখন কোনো দম্পতি অতীতের ভুলগুলো মনের মধ্যে পুষে রাখেন এবং পরস্পরকে আক্রমণ করার জন্য সেগুলো ব্যবহার করেন। ঠিক যেমন কোনো ফাটলের কারণে একটা দালান দুর্বল হয়ে যেতে পারে, তেমনই কষ্টের অনুভূতি ও রাগের কারণে কোনো দম্পতির জন্য ক্ষমাশীল হওয়া এবং একসঙ্গে কাজ করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, একটা বিবাহবন্ধন সেই সময়ে আরও দৃঢ় হয়, যখন একজন স্বামী ও একজন স্ত্রী পরস্পরকে ক্ষমা করেন, ঠিক যেমনটা যিহোবা তাদের ক্ষমা করেন।—মীখা ৭:১৮, ১৯.

১২. কীভাবে প্রেম “পাপরাশি” আচ্ছাদন করে?

১২ প্রকৃত প্রেম “অপকার গণনা করে না।” এর পরিবর্তে, “প্রেম পাপরাশি আচ্ছাদন করে।” (১ করি. ১৩:৪, ৫; পড়ুন, ১ পিতর ৪:৮.) তাই, আমরা যদি অন্যদের ভালোবাসি, তাহলে আমরা তাদের কত বার ক্ষমা করতে পারি, সেটার কোনো সীমারেখা নেই। প্রেরিত পিতর যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন, কোনো ব্যক্তিকে তার কত বার ক্ষমা করা উচিত, তখন যিশু উত্তর দিয়েছিলেন: “সত্তর গুণ সাত বার পর্য্যন্ত।” (মথি ১৮:২১, ২২) যিশু কী বুঝিয়েছিলেন? তিনি এটা বুঝিয়েছিলেন, একজন খ্রিস্টানের কত বার ক্ষমা করা উচিত, সেই বিষয়ে কোনো সীমারেখা নেই।—হিতো. ১০:১২. *

১৩. কীভাবে আমরা ক্ষমাহীন হওয়ার প্রবণতার সঙ্গে লড়াই করতে পারি?

১৩ জার্মানির অ্যানেট বলেন: “কোনো দম্পতি যদি ক্ষমাশীল হতে না চান, তাহলে বিরক্তি ও অনাস্থা গড়ে ওঠে আর তা বিয়ের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ক্ষমাশীল হওয়া বিবাহবন্ধনকে শক্তিশালী করে এবং আপনাদেরকে পরস্পরের নিকটবর্তী করে।” তাই, ধন্যবাদ দিন এবং উপলব্ধি প্রকাশ করুন। আপনার স্বামী অথবা স্ত্রীর মধ্যে প্রশংসা করার মতো যে-বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করুন। তা করার মাধ্যমে, আপনারা ক্ষমাহীন হওয়ার প্রবণতার সঙ্গে লড়াই করতে পারবেন। (কল. ৩:১৫) ফল স্বরূপ, আপনারা মনের শান্তি, একতা ও ঈশ্বরের অনুমোদন লাভ করতে পারবেন।—রোমীয় ১৪:১৯.

সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলুন

১৪, ১৫. সুবর্ণ নিয়ম কী আর তা কাজে লাগানো কীভাবে একটা বিয়েকে শক্তিশালী করতে পারে?

১৪ খুব সম্ভবত আপনি চান, যেন অন্যেরা আপনার সঙ্গে মর্যাদা ও সম্মান দেখিয়ে আচরণ করে। অন্যেরা যখন আপনার কথা শোনে এবং আপনি কেমন অনুভব করেন, সেটার প্রতি চিন্তা দেখায়, তখন আপনি তা উপলব্ধি করেন। তবে আপনি কি কখনো কোনো ব্যক্তিকে এই কথা বলতে শুনেছেন, “সে আমার প্রতি যা করেছে, আমিও তার প্রতি ঠিক সেটাই করব”? মাঝে মাঝে এইরকম প্রতিক্রিয়ার কারণ আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু, বাইবেল আমাদের বলে: “বলিও না, ‘সে আমার প্রতি যেমন করিয়াছে, আমিও তাহার প্রতি তেমনি করিব।’” (হিতো. ২৪:২৯) যিশু লোকেদেরকে কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করার সর্বোত্তম উপায়টা শিখিয়েছিলেন। যিশু যা বলেছিলেন, সেটাকে সুবর্ণ নিয়ম বলা হয়: “তোমরা যেরূপ ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও।” (লূক ৬:৩১) যিশু এটা বোঝাতে চেয়েছিলেন, অন্যেরা আমাদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করে সেভাবে নয়, বরং অন্যদের কাছ থেকে আমরা যেরকম আচরণ পেতে পছন্দ করি, আমাদের ঠিক সেইরকম আচরণ করা উচিত। এর মানে হচ্ছে, আমাদের বিবাহবন্ধন থেকে আমরা যা আশা করি, আমাদের ঠিক সেটাই দিতে হবে।

 ১৫ দম্পতিরা যখন একে অন্যের প্রতি সত্যিই চিন্তা দেখায়, তখন তারা তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। দক্ষিণ আফ্রিকার একজন স্বামী বলেন, “আমরা সুবর্ণ নিয়ম কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। এটা ঠিক, এমন সময়ও এসেছে যখন আমরা বিরক্ত হয়েছি, কিন্তু আমরা অন্যের কাছ থেকে যেরকম আচরণ অর্থাৎ সম্মানপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ আশা করি, আমরা নিজেরা পরস্পরের প্রতি সেইরকম আচরণ করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করেছি।”

১৬. স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি কখনোই কী করা উচিত নয়?

১৬ অন্যদের সামনে আপনার সাথির দুর্বলতা অথবা তার যে-বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে আপনি বিরক্ত হন, তা প্রকাশ করবেন না, এমনকী ঠাট্টার ছলেও নয়। মনে রাখবেন, বিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা নয়, যেখানে কে বেশি শক্তিশালী, কে আরও জোরে চিৎকার করতে পারে অথবা কে কত বেশি আঘাত দিয়ে কথা বলতে পারে, তা প্রমাণ করতে হবে। এটা ঠিক যে, আমরা সবাই অসিদ্ধ আর মাঝে মাঝে আমাদের কারণে অন্যেরা বিরক্ত হয়। কিন্তু, কোনো দম্পতির জন্য পরস্পরকে লজ্জায় ফেলার, পরস্পরের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় আঘাতদায়ক শব্দ ব্যবহার করার অথবা এর চেয়েও খারাপ আচরণ যেমন, একে অন্যকে ধাক্কা দেওয়ার কিংবা মারধর করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।—পড়ুন, হিতোপদেশ ১৭:২৭; ৩১:২৬.

১৭. কীভাবে স্বামীরা সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলতে পারে?

১৭ কিছু সংস্কৃতিতে পুরুষেরা নিজেদের শক্তি প্রমাণ করার জন্য স্ত্রীদের নির্যাতন করে অথবা তাদের মারধর করে। কিন্তু বাইবেল বলে: “যে ক্রোধে ধীর, সে বীর হইতেও উত্তম, নিজ আত্মার শাসনকারী নগর-জয়কারী হইতেও শ্রেষ্ঠ।” (হিতো. ১৬:৩২) আত্মসংযম দেখানোর জন্য একজন ব্যক্তির মনোবল প্রয়োজন, ঠিক যেমনটা সর্বকালের সর্বমহান পুরুষ যিশু দেখিয়েছিলেন। যে-পুরুষ তার স্ত্রীকে নির্যাতন অথবা মারধর করেন, তিনি হলেন এমন একজন দুর্বল পুরুষ, যিনি যিহোবার সঙ্গে তার সম্পর্ক নষ্ট করেন। গীতরচক দায়ূদ একজন শক্তিশালী ও সাহসী পুরুষ ছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “তোমরা ভয় কর [“রেগে যেতে পারো, কিন্তু,” ইজি-টু-রিড ভারশন], পাপ করিও না, তোমাদের শয্যার উপরে মনে মনে কথা কহ, ও নীরব হও।”—গীত. ৪:৪.

‘প্রেম পরিধান করুন’

১৮. কেন প্রেম প্রকাশ করে চলা গুরুত্বপূর্ণ?

১৮ প্রথম করিন্থীয় ১৩:৪-৭ পদ পড়ুন। একটা বিয়ের মধ্যে প্রেম হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ। বাইবেল বলে: “তোমরা . . . করুণার চিত্ত, মধুর ভাব, নম্রতা, মৃদুতা, সহিষ্ণুতা পরিধান কর। আর এই সকলের উপরে প্রেম পরিধান কর; তাহাই সিদ্ধির যোগবন্ধন।” (কল. ৩:১২, ১৪) স্বামী-স্ত্রীদের নিঃস্বার্থ প্রেম দেখাতে হবে এবং যিশু খ্রিস্টকে অনুসরণ করতে হবে, যিনি অন্যদের জন্য নিজের জীবন বলি দিতে ইচ্ছুক ছিলেন। এইরকম প্রেমের ওপর ভিত্তি করে যদি কোনো বিবাহবন্ধন গড়ে ওঠে, তাহলে যেকোনো বিরক্তিকর অভ্যাস, গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা, চরম আর্থিক সমস্যা ও শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে সমস্যা সত্ত্বেও, সেই বিবাহবন্ধন দৃঢ় হবে।

১৯, ২০. (ক) কীভাবে দম্পতিরা এক দৃঢ় ও সুখী বিবাহবন্ধন গড়ে তুলতে পারে? (খ) পরের প্রবন্ধে আমরা কী আলোচনা করব?

১৯ একটা সফল বিয়ের জন্য প্রেম, আনুগত্য এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সমস্যা দেখা দিলে, বিবাহিত সাথিদের তাদের বিয়ের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তাদেরকে পরস্পরের আরও নিকটবর্তী হওয়ার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। যে-দম্পতিরা যিহোবাকে এবং একে অন্যকে ভালোবাসে, তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হতে হবে, কারণ “প্রেম কখনও শেষ হয় না।”—১ করি. ১৩:৮; মথি ১৯:৫, ৬; ইব্রীয় ১৩:৪.

২০ বিশেষভাবে এই “শেষ কালে” এক দৃঢ় ও সুখী বিবাহবন্ধন গড়ে তোলা কঠিন। (২ তীম. ৩:১) কিন্তু, যিহোবার সাহায্যে তা গড়ে তোলা সম্ভব। তা সত্ত্বেও, যৌন অনৈতিকতায় মগ্ন এই জগতের বিরুদ্ধে দম্পতিদের লড়াই করতে হয়। পরের প্রবন্ধে আমরা দেখব, কীভাবে স্বামী-স্ত্রীরা তাদের বিয়েকে দৃঢ় রাখতে পারে।

^ অনু. 12 যদিও দম্পতিদের পরস্পরকে ক্ষমা করার এবং তাদের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে, তবে বাইবেল এটা জানায়, কোনো সাথি ব্যভিচার করলে নির্দোষ সাথি তাকে ক্ষমা করবেন, না কি বিবাহবিচ্ছেদ করবেন, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নির্দোষ সাথির রয়েছে। (মথি ১৯:৯) ১৯৯৭ সালের এপ্রিল থেকে জুন সচেতন থাক! পত্রিকায় “বাইবেলের দৃষ্টিভঙ্গি—বিশ্বাসঘাতকতার পরে একটি বিবাহ কি রক্ষা করা যেতে পারে?” এবং ১৯৯৫ সালের ৮ আগস্ট সচেতন থাক! (ইংরেজি) পত্রিকায় “বাইবেলের দৃষ্টিভঙ্গি: ব্যভিচার—ক্ষমা করবেন, না কি করবেন না?” শিরোনামের প্রবন্ধগুলো দেখুন।