সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  জানুয়ারি ২০১৫

অনন্ত প্রেম বজায় রাখা কি সম্ভব?

অনন্ত প্রেম বজায় রাখা কি সম্ভব?

“[প্রেমের] শিখা অগ্নির শিখা, তাহা সদাপ্রভুরই অগ্নি।”—পরম. ৮:৬.

১, ২. শলোমনের পরমগীত থেকে কারা উপকৃত হতে পারে এবং কেন? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

বর ও কনে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে আছেন আর তাদের মুখে হাসি দেখা যাচ্ছে। তারা যে প্রেমে পড়েছেন, তা সবাই বুঝতে পারে। যে-ভাই সবেমাত্র তাদের বিয়ের বক্তৃতা দিয়েছেন, তিনি লক্ষ করেন, তারা একে অন্যকে কত কোমলভাবে ধরে আছেন। সেই ভাই ভাবতে থাকেন, ‘বছর কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ভালোবাসা কি আরও গভীর হবে? না কি, তা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাবে?’ একজন স্বামী ও একজন স্ত্রী যখন সত্যিই একে অন্যকে ভালোবাসেন, তখন তাদের বন্ধন এমনকী চরম সমস্যার সময়েও টিকে থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, অনেক বিবাহিত দম্পতি সুখী হয় না আর তাদের বিয়ে ভেঙে যায়। তাই, আপনি হয়তো ভাবেন, ‘প্রেম কি সত্যিই স্থায়ী হতে পারে?’

এমনকী রাজা শলোমন যখন বেঁচে ছিলেন, তখনও প্রকৃত প্রেম খুব একটা দেখা যেত না। কেন? শলোমন এভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন: “সহস্রের মধ্যে এক পুরুষকে পাইয়াছি; কিন্তু সেই সকলের মধ্যে একটী স্ত্রীলোককেও পাই নাই। দেখ, কেবল ইহাই জানিতে পাইয়াছি যে, ঈশ্বর মনুষ্যকে সরল [“ন্যায়নিষ্ঠ,” NW] করিয়া নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন, কিন্তু তাহারা অনেক কল্পনার অন্বেষণ করিয়া লইয়াছে।” (উপ. ৭:২৬-২৯) বাল দেবের উপাসনা করে এমন নীতিহীন বিদেশি নারীরা তখন ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে বসবাস করছিল। ফলে, অনেক ইস্রায়েলীয় পুরুষ ও নারীও নীতিহীন হয়ে পড়েছিল। * কিন্তু, আরও প্রায় ২০ বছর আগে, রাজা  শলোমন এমন একজন পুরুষ ও একজন নারী সম্বন্ধে একটা কবিতা লিখেছিলেন, যারা সত্যিই প্রেমে পড়েছিল। আমরা বিবাহিত হই কিংবা না হই, শলোমনের পরমগীত আমাদের এই বিষয়টা বুঝতে সাহায্য করে, প্রকৃত প্রেম কী আর আমরা কীভাবে তা দেখাতে পারি।

প্রকৃত প্রেম বজায় রাখা সম্ভব!

৩. কেন একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে প্রকৃত প্রেম বজায় রাখা সম্ভব?

পরমগীত ৮:৬ পদ পড়ুন। এই পদে প্রেমকে “সদাপ্রভুরই অগ্নি” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কেন? কারণ যিহোবার সর্বমহৎ গুণ হচ্ছে প্রেম আর তিনি আমাদেরকে তাঁর প্রেম অনুকরণ করার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। (আদি. ১:২৬, ২৭) প্রথম মানুষ আদমকে সৃষ্টি করার পর যিহোবা তাকে এক অপূর্ব স্ত্রী দিয়েছিলেন। আদম যখন প্রথম বার হবাকে দেখেছিলেন, তখন তিনি এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে, নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে থাকতে পারেননি। আর হবাও তার স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা অনুভব করেছিলেন। কারণ যিহোবা আদমের দেহের অংশ থেকেই হবাকে সৃষ্টি করেছিলেন। (আদি. ২:২১-২৩) যেহেতু শুরু থেকেই যিহোবা মানুষের মধ্যে প্রেম দেখানোর ক্ষমতা দিয়েছিলেন, তাই একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে পরস্পরের প্রতি প্রকৃত ও স্থায়ী প্রেম বজায় রাখা সম্ভব।

৪, ৫. পরমগীত বইয়ের কাহিনি বর্ণনা করুন।

একজন পুরুষ ও একজন নারী পরস্পরের প্রতি যে-ধরনের প্রেম গড়ে তুলতে পারেন, সেই বিষয়ে পরমগীত বইয়ে সুন্দরভাবে বর্ণনা করা আছে। এই গীতে, শূনেম বা শূলম গ্রামের এক মেয়ে এবং একজন যুবক মেষপালকের প্রেম সম্বন্ধে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের কাহিনিটা এইরকম: মেয়েটি রাজা শলোমন ও তার সেনাবাহিনীর শিবিরের কাছাকাছি তার ভাইদের দ্রাক্ষাক্ষেত্রে কাজ করছিল। রাজা মেয়েটিকে দেখেন আর তার দাসদের আদেশ দেন, যেন তারা সেই মেয়েটিকে শিবিরে নিয়ে আসে। তারপর, তিনি সেই মেয়ের কাছে তার রূপের বর্ণনা করেন এবং তাকে অনেক উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু, সেই মেয়ে একজন মেষপালককে ভালোবাসত আর তাই সে জোর দিয়ে বলে, সে মেষপালকের সঙ্গেই থাকতে চায়। (পরম ১:৪-১৪) মেষপালক সেই মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে শিবিরে চলে আসে। মেষপালক যখন মেয়েটিকে খুঁজে পায়, তখন তারা চমৎকার ভাষায় একে অন্যের প্রতি তাদের প্রেম প্রকাশ করে।—পরম. ১:১৫-১৭.

শলোমন যিরূশালেমে ফিরে যাওয়ার সময়, সেই মেয়েকে তার সঙ্গে নিয়ে যান আর সেই মেষপালকও মেয়েটিকে অনুসরণ করে। (পরম. ৪:১-৫, ৮, ৯) শলোমনের কোনো কথা অথবা কাজই মেষপালকের প্রতি সেই মেয়ের প্রেমকে পরিবর্তন করতে পারে না। (পরম. ৬:৪-৭; ৭:১-১০) তাই, শলোমন মেয়েটিকে তার বাড়ি ফিরে যেতে দেন। সব শেষে, সেই শূলম্মীয়া তার প্রিয়তমকে তার কাছে ‘মৃগের সদৃশ’ দৌড়ে আসার জন্য আহ্বান করে।—পরম. ৮:১৪.

৬. পরমগীত বইয়ে কে কোন কথা বলছে, তা বোঝা কেন কঠিন হতে পারে?

পরমগীত বইটি হল একটা সুন্দর গীত। আসলে, এটিকে “অনন্য সাধারণ গীত” বলা হয়েছে। (পরম. ১:১, ইজি-টু-রিড ভারশন) কিন্তু এই গীতে, শলোমন বিভিন্ন চরিত্রের উক্তি তুলে ধরার সময় তাদের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরার পরিবর্তে, কবিতা ও গানের সৌন্দর্য রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। যদিও এই গীতে বিভিন্ন চরিত্রের নাম উল্লেখ করা নেই, কিন্তু তাদের দু-জনের কথা থেকে তাদের পরিচয় বোঝা সম্ভব।

“তোমার প্রেম দ্রাক্ষারস হইতেও উত্তম”

৭, ৮. মেষপালক ও সেই মেয়ে কীভাবে পরস্পরের প্রতি প্রেমের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিল? উদাহরণ দিন।

এই মেয়ে ও মেষপালক একে অন্যের প্রতি তাদের প্রেম প্রকাশ করার জন্য সুন্দর সুন্দর কথা বলেছিল। তাদের “প্রেম” বা প্রেমের কিছু অভিব্যক্তি হয়তো আমাদের কাছে অদ্ভুত শোনাতে পারে কারণ তা ৩,০০০ বছরেরও বেশি সময় আগে  লেখা হয়েছিল। (পরম. ১:২) যদিও বর্তমানে আমাদের সংস্কৃতি তাদের সংস্কৃতি থেকে আলাদা, তবে সেই যুগল একে অন্যের বিষয়ে কেমন অনুভব করেছিল, তা আমরা বুঝতে পারি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সেই মেষপালক বলেছিল, মেয়েটির চোখ “কপোতের” মতো, যার অর্থ মেয়েটির চোখের কোমল দৃষ্টি তার ভালো লাগে। (পরম. ১:১৫) আর মেয়েটি বলেছিল, মেষপালকের চোখ কপোতের মতো সুন্দর। (পড়ুন, পরমগীত ৫:১২.) তার কাছে, মেষপালকের চোখের সাদা অংশের মধ্যে চোখের মনির যে-রং, তা এমন যেন নীলচে-ধূসর বর্ণের কপোতেরা দুগ্ধে স্নান করছে।

মেষপালক ও সেই মেয়ে পরস্পরের সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছিল, তবে এখানেই শেষ নয়। উদাহরণ স্বরূপ, মেয়েটি যেভাবে লোকেদের সঙ্গে কথা বলত, তা মেষপালকের ভালো লাগত। (পড়ুন, পরমগীত ৪:৭, ১১.) তাই, সে তাকে বলেছিল: “কান্তে! তোমার ওষ্ঠাধর হইতে ফোঁটা ফোঁটা মধু ক্ষরে, তোমার জিহ্বার তলে মধু ও দুগ্ধ আছে।” মেষপালকের কাছে মেয়েটির কথা দুগ্ধ ও সবচেয়ে সুস্বাদু মধুর মতো উত্তম এবং মিষ্ট ছিল। মেষপালক যখন মেয়েটিকে বলেছিল, “তুমি সর্ব্বাঙ্গসুন্দরী” এবং “তোমাতে কোন দোষ নাই,” তখন সে কেবল তার সৌন্দর্য নয় কিন্তু সেইসঙ্গে তার মনোরম গুণাবলি সম্বন্ধেও বলেছিল।

৯. (ক) স্বামী-স্ত্রীর প্রেমের মধ্যে কোন কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত? (খ) কেন স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি তাদের প্রেমের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে, যিহোবার সেবা করেন এমন একজন স্বামী ও একজন স্ত্রীর কাছে বিয়ে কেবল আনুষ্ঠানিক চুক্তির চেয়েও আরও বেশি কিছু। তারা পরস্পরকে সত্যিই ভালোবাসেন এবং পরস্পরের প্রতি তাদের প্রেম প্রকাশ করেন। কিন্তু, এই প্রেম কোন ধরনের প্রেম? এটা কি সেই নিঃস্বার্থ প্রেম, যা বাইবেল আমাদেরকে সকলের প্রতি দেখানোর জন্য শিক্ষা দেয়? (১ যোহন ৪:৮) এটা কি সেই সহজাত প্রেম, যা আমরা আমাদের পরিবারের প্রতি অনুভব করে থাকি? এটা কি এমন ঘনিষ্ঠতা, যা দু-জন উত্তম বন্ধুর মধ্যে থাকে? (যোহন ১১:৩) না কি, এটা রোমান্টিক প্রেম? (হিতো. ৫:১৫-২০) সত্যি বলতে কী, বিবাহিত দম্পতি হিসেবে আপনাদের এই সমস্ত উপায়ে পরস্পরের প্রতি প্রেম প্রকাশ করতে হবে। আপনাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে আপনারা একে অন্যকে নিজেদের প্রেম সম্বন্ধে আশ্বাস দিতে পারেন এবং বিবাহিত জীবনে সুখী হতে পারেন। হ্যাঁ, আপনারা যত ব্যস্তই থাকুন না কেন, তা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সংস্কৃতিতে, বাবা-মা অথবা অভিভাবকরা বিয়ে ঠিক করে থাকেন আর তাই স্বামী ও স্ত্রীর হয়তো বিয়ের আগে একে অন্যের সম্বন্ধে জানার সুযোগ থাকে না। এই কারণে, বিয়ের পর তারা যখন পরস্পরকে জানতে থাকেন এবং পরস্পরের প্রতি তাদের প্রেম বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন তারা একে অন্যের প্রতি যে-প্রেম অনুভব করেন, তা তাদের কথায় প্রকাশ করতে হবে। তা করার মাধ্যমে তারা একে অন্যের আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারেন আর তাদের বৈবাহিক বন্ধনকে শক্তিশালী করতে পারেন।

১০. একে অন্যের প্রতি প্রেমের অভিব্যক্তি প্রকাশ করার মাধ্যমে আর কোন উপায়ে বৈবাহিক বন্ধন শক্তিশালী হতে পারে?

১০ কোনো দম্পতি যখন একে অন্যের প্রতি তাদের প্রেমের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন, তখন আরেকটা উপায়ে তাদের বৈবাহিক বন্ধন শক্তিশালী হয়। এই গীতে, রাজা শলোমন সেই মেয়েকে ‘রৌপ্যের গ্রন্থিবিশিষ্ট সুবর্ণ-বেণী [“রৌপ্য খচিত সোনার গহনা,” ইজি-টু-রিড ভারশন]’ দিতে চেয়েছিলেন। তিনি এই বলে তার প্রশংসা করেছিলেন, সে “চন্দ্রের ন্যায় সুন্দরী, সূর্য্যের ন্যায় তেজস্বিনী।” (পরম. ১:৯-১১; ৬:১০) কিন্তু, মেয়েটি ইতিমধ্যেই সেই ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়েছে, যাকে সে সত্যিই ভালোবাসে। কোন বিষয়টা তাকে মেষপালকের প্রতি অনুগত থাকতে সাহায্য করেছে? তারা যখন একসঙ্গে থাকতে পারেনি, তখন কোন বিষয়টা তাকে সান্ত্বনা দিয়েছে? (পড়ুন, পরমগীত ১:২, ৩.) মেষপালকের প্রেমপূর্ণ কথা তাকে কতটা আনন্দিত করত, সেই বিষয়টা সে স্মরণ করেছিল। তার প্রেমের অভিব্যক্তি মেয়েটির কাছে “দ্রাক্ষারস হইতেও উত্তম” ছিল আর সেটাই রাজপ্রাসাদের মধ্যে তাকে মস্তকের “সুগন্ধি তৈলস্বরূপ” সান্ত্বনা  দিয়েছিল। (গীত. ২৩:৫; ১০৪:১৫) স্বামী-স্ত্রীর জন্য, প্রায় সময়ই একে অন্যের প্রতি প্রেমের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা তাদের প্রেমকে বৃদ্ধি করে। আর এই স্মৃতিগুলোই তাদের প্রেমকে দৃঢ় রাখতে সাহায্য করবে।

প্রেমকে জাগিয়ে তুলবেন না, “যে পর্য্যন্ত তাহার বাসনা না হয়”

১১. শলোমনের রাজপ্রাসাদের নারীদের প্রতি শূলম্মীয়ার কথা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১১ আপনি যদি বিয়ে করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে শূলম্মীয়ার কাছ থেকে আপনি কী শিখতে পারেন? রাজা শলোমনের প্রতি সে কোনো ধরনের প্রেমই অনুভব করেনি আর রাজপ্রাসাদের নারীদের সে দৃঢ়তার সঙ্গে এই কথা বলেছিল: “তোমরা প্রেমকে জাগাইও না, উত্তেজনা করিও না, যে পর্য্যন্ত তাহার বাসনা না হয়।” (পরম. ২:৭; ৩:৫) তাহলে, যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক শুরু করা কি সঠিক কাজ হবে? না, এর পরিবর্তে ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করা এবং যাকে আপনি সত্যিই ভালোবাসতে পারবেন এমন কোনো ব্যক্তিকে বিয়ে করাই বিজ্ঞতার কাজ হবে।

১২. কেন শূলম্মীয়া মেয়ে মেষপালককে ভালোবেসেছিল?

১২ কেন শূলম্মীয়া মেয়ে মেষপালককে ভালোবেসেছিল? তার কাছে, সে “মৃগের” মতো সুদর্শন ছিল। তার হাত “সুবর্ণের অঙ্গুরীয়স্বরূপ [“সোনার দণ্ডের মতো,” ইজি-টু-রিড ভারশন]” শক্তিশালী ছিল আর তার পা “শ্বেতপ্রস্তরময় স্তম্ভদ্বয়ের” মতো দৃঢ় ছিল। কিন্তু, সে শুধু সুদর্শন ও শক্তিশালীই ছিল না। সেই মেয়ে জানত, মেষপালক যিহোবাকে ভালোবাসে এবং তার চমৎকার গুণাবলি রয়েছে। এই কারণে, “যেমন বনতরুগণের মধ্যে নাগরঙ্গবৃক্ষ, তেমনি” সেই মেষপালক তার কাছে বিশেষ ব্যক্তি ছিল।—পরম. ২:৩, ৯; ৫:১৪, ১৫.

১৩. কেন মেষপালক শূলম্মীয়া মেয়েকে ভালোবেসেছিল?

১৩ শূলম্মীয়া মেয়ে অপূর্ব সুন্দরী ছিল। এমনকী রাজা শলোমন তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন, যার ইতিমধ্যে “ষষ্টি” বা ষাট জন “রাণী ও অশীতি” বা আশি জন “উপপত্নী” ছিল। শুধুমাত্র এই মেয়ের রূপের কারণেই কি মেষপালক তাকে ভালোবেসেছিল? না, তা নয়। সেই মেয়ে যিহোবাকেও ভালোবাসত আর তার চমৎকার গুণাবলি ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সে নম্র ছিল আর তাই সে নিজেকে একটা সাধারণ ফুল, ‘শারোণের গোলাপের’ সঙ্গে তুলনা করেছিল। কিন্তু, মেষপালকের চোখে সে ছিল আসাধারণ, “যেমন কণ্টকবনের মধ্যে শোশন পুষ্প।”—পরম. ২:১, ২; ৬:৮.

১৪. আমরা যদি বিয়ে করার কথা চিন্তা করে থাকি, তাহলে মেষপালক ও শূলম্মীয়ার কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১৪ যিহোবা তাঁর দাসদের “কেবল প্রভুতেই” বিয়ে করার আদেশ দিয়েছেন। (১ করি. ৭:৩৯) এর অর্থ  হচ্ছে, আমরা শুধুমাত্র যিহোবার একজন বাপ্তাইজিত দাসের সঙ্গেই ডেটিং করতে পারি অথবা বাপ্তাইজিত দাসকেই বিয়ে করতে পারি। এটা বিয়েতে কীভাবে সাহায্য করবে? একজন স্বামী ও একজন স্ত্রীকে দৈনন্দিন জীবনের চাপের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু, যখন তারা দু-জনেই যিহোবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করেন, তখন তাদের বিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুখী হতে পারে। তাই, আপনি যদি বিয়ে করার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে মেষপালক ও শূলম্মীয়ার উদাহরণ অনুসরণ করুন। এমন কাউকে খুঁজুন যার চমৎকার গুণাবলি রয়েছে এবং যিনি যিহোবাকে সত্যিই ভালোবাসেন।

একজন খ্রিস্টান এমন কারো সঙ্গে ডেটিং করতে অথবা এমন কাউকে বিয়ে করতে চাইবেন না, যিনি যিহোবার একজন বাপ্তাইজিত দাস নন (১৪ অনুচ্ছেদ দেখুন)

আমার কনে “অর্গলরুদ্ধ উপবন”

১৫. শূলম্মীয়া মেয়ের আনুগত্য কীভাবে অবিবাহিত খ্রিস্টান যুগলদের জন্য এক উত্তম উদাহরণ?

১৫ পরমগীত ৪:১২ পদ পড়ুন। কেন মেষপালক এই কথা বলেছিল, শূলম্মীয়া মেয়ে ‘অর্গলরদ্ধ উপবনের’ মতো? অর্গলরুদ্ধ বা দেওয়াল ঘেরা একটা বাগান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। এই মেয়ে সেই বাগানের মতো ছিল কারণ সে শুধু মেষপালককে ভালোবাসত। সে মেষপালককেই বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিল আর তাই তার প্রতি রাজার যেকোনো মনোযোগকে সে উপেক্ষা করেছিল। সে তার মন পরিবর্তন করেনি। সে ছিল “ভিত্তিস্বরূপা” বা দেওয়ালের মতো। সে এমন “দ্বারস্বরূপা” নয়, যা সহজেই খোলা যেতে পারে। (পরম. ৮:৮-১০) একইভাবে, বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন এমন এক খ্রিস্টান যুগল একে অন্যের প্রতি অনুগত থাকবেন। তারা অন্য কারো প্রতি রোমান্টিক আগ্রহ দেখাবেন না।

১৬. আপনারা যদি ডেটিং করে থাকেন, তাহলে পরমগীত থেকে আপনারা কী শিখতে পারেন?

১৬ মেষপালক যখন সেই মেয়েকে তার সঙ্গে বেড়াতে যেতে বলেছিল, তখন মেয়ের ভাইয়েরা তাকে যেতে দেননি। এর পরিবর্তে, তারা তাকে তাদের দ্রাক্ষাক্ষেত্র পাহারা দিতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সেই মেয়ের প্রতি কি তাদের আস্থা ছিল না? তারা কি এমনটা মনে করেছিলেন, তাদের বোন ও মেষপালক অনৈতিক কোনো কাজ করতে চাইছে? না, তা নয়। সেই ভাইয়েরা তাদের বোনকে এমন এক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, যা তাকে খারাপ কিছু করার জন্য প্রলোভিত করতে পারে। (পরম. ১:৬; ২:১০-১৫) আপনারা যদি ডেটিং করে থাকেন, তাহলে কীভাবে আপনারা এমন যেকোনো কিছু এড়াতে পারেন, যা আপনাদের যৌন অনৈতিকতার দিকে পরিচালিত করতে পারে? আপনাদের সম্পর্ককে শুদ্ধ রাখার জন্য আপনারা কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন, তা আগে থেকে নির্ধারণ করুন। দু-জনে কখনো এমন জায়গায় যাবেন না, যেখানে কেউ আপনাদের দেখতে পারবে না। একে অন্যের প্রতি কেবল শুদ্ধ উপায়ে ভালোবাসা প্রকাশ করুন।

১৭, ১৮. পরমগীত বই নিয়ে এই অধ্যয়ন আপনাকে কীভাবে সাহায্য করেছে?

১৭ যিহোবা চান যেন বিয়ে স্থায়ী হয়। তিনি চান, স্বামী ও স্ত্রী যেন একে অন্যকে ভালোবাসে। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, তাদের বিয়েকে স্থায়ী করার জন্য সেই ভালোবাসা বজায় রাখতে হবে, তাদের ভালোবাসা এমন অগ্নিশিখার মতো হবে, যা কখনো নিভে যাবে না।—মার্ক ১০:৬-৯.

১৮ আপনি যদি বিয়ে করার কথা চিন্তা করে থাকেন, তাহলে এমন কাউকে খুঁজুন, যাকে আপনি সত্যিই ভালোবাসতে পারবেন। সেই ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়ার পর, তার সঙ্গে এমন উপায়ে কাজ করুন, যাতে একে অন্যের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা দৃঢ় হয়। আমরা পরমগীত বই থেকে যেমন শিখেছি, প্রকৃত ও স্থায়ী প্রেম বজায় রাখা সম্ভব কারণ তা “সদাপ্রভুরই অগ্নি।”—পরম. ৮:৬.

^ অনু. 2 ২০০৭ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ৩১ পৃষ্ঠা দেখুন।