সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  ডিসেম্বর ২০১৪

তুমি যা-কিছু পেয়েছ, সেগুলোর প্রতি কি তোমার উপলব্ধি রয়েছে?

তুমি যা-কিছু পেয়েছ, সেগুলোর প্রতি কি তোমার উপলব্ধি রয়েছে?

“আমরা . . . ঈশ্বর হইতে নির্গত আত্মাকে পাইয়াছি, যেন ঈশ্বর অনুগ্রহপূর্ব্বক আমাদিগকে যাহা যাহা দান করিয়াছেন, তাহা জানিতে পারি।”—১ করি. ২:১২.

১. অনেক লোক তাদের যা আছে, সেই সম্বন্ধে কেমন বোধ করে?

তুমি কি কখনো লোকেদের এই কথা বলতে শুনেছে, “তোমার যা আছে, সেটা না হারালে, এর মূল্য বুঝতে পারবে না”? তোমারও হয়তো একইরকম অনুভূতি হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, যে-ব্যক্তি ধনী পরিবারে বড়ো হয়ে ওঠেন, তিনি হয়তো সমস্তকিছুকেই হালকাভাবে নিয়ে থাকেন। অথবা অভিজ্ঞতা না থাকায় একজন অল্পবয়সি হয়তো জীবনে কোন বিষয়টা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে পারে না।

২, ৩. (ক) অল্পবয়সি খ্রিস্টানদের কোন ধরনের চিন্তাভাবনা এড়িয়ে চলতে হবে? (খ) কী আমাদেরকে আমাদের যা-কিছু রয়েছে, সেগুলোর প্রতি উপলব্ধি দেখানোর জন্য সাহায্য করতে পারে?

তুমি যদি একজন অল্পবয়সি হয়ে থাকো, তাহলে তোমার কাছে কোন বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমান জগতের অল্পবয়সিরা প্রায়ই বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের চেয়ে বরং বস্তুগত বিষয় অর্জন করাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। তারা হয়তো একটা ভালো চাকরি, একটা সুন্দর বাড়ি অথবা অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক সামগ্রী পেতে চায়। তাদের জীবন যদি এই সমস্ত বিষয়গুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকে, তাহলে তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাকে অবহেলা করছে আর তা হল ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। তুমি যদি খ্রিস্টান  বাবা-মায়ের কাছে মানুষ হয়ে থাকো, তাহলে তুমি এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক উপহার পেয়েছ। (মথি ৫:৩) তোমার আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রতি উপলব্ধির অভাব হয়তো তোমার বাকি জীবনের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

তোমার বেলায় যে এইরকমটা ঘটতেই হবে এমন নয়। আমরা বাইবেলের কিছু উদাহরণ পরীক্ষা করে দেখব, যেগুলো তোমাকে তোমার আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রতি উপলব্ধি দেখাতে সাহায্য করবে। এই উদাহরণগুলো কেবল অল্পবয়সিদেরই নয় কিন্তু সেইসঙ্গে আমাদের সকলকে যিহোবা আমাদের যা-কিছু দিয়েছেন, সেগুলোকে সত্যিই মূল্যবান বলে গণ্য করতে সাহায্য করবে।

কিছু ব্যক্তি উপলব্ধির অভাব দেখিয়েছিলেন

৪. প্রথম শমূয়েল ৮:১-৫ পদে শমূয়েলের ছেলেদের সম্বন্ধে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?

বাইবেলে উল্লেখিত কিছু ব্যক্তি এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার পেয়েছিলেন কিন্তু সেটার প্রতি উপলব্ধি দেখাননি। ভাববাদী শমূয়েল একেবারে অল্পবয়স থেকেই যিহোবাকে সেবা করতে শুরু করেছিলেন এবং তিনি সবসময় যিহোবার প্রতি অনুগত ছিলেন। (১ শমূ. ১২:১-৫) শমূয়েল এক উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন কিন্তু তার ছেলে যোয়েল ও অবিয় তাকে অনুকরণ করেননি। এর পরিবর্তে, তারা কলুষিত এবং মন্দ হয়ে গিয়েছিলেন।—পড়ুন, ১ শমূয়েল ৮:১-৫.

৫, ৬. যোশিয়ের ছেলেদের এবং নাতির অবস্থা কেমন ছিল?

রাজা যোশিয়ের ছেলেদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। যোশিয় একজন বিশ্বস্ত রাজা ছিলেন, যিনি যিহোবাকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর উপাসনা করতেন। যখন ঈশ্বরের ব্যবস্থাপুস্তক পাওয়া গিয়েছিল এবং সেটি যোশিয়ের সামনে পড়া হয়েছিল, তখন তিনি যিহোবার নির্দেশনাগুলো কাজে লাগিয়েছিলেন। তিনি দেশ থেকে প্রতিমাপূজা ও প্রেতচর্চা দূর করেছিলেন এবং লোকেদেরকে যিহোবার বাধ্য হওয়ার জন্য জোরালো পরামর্শ দিয়েছিলেন। (২ রাজা. ২২:৮; ২৩:২, ৩, ১২-১৫, ২৪, ২৫) তার ছেলেরা এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার পেয়েছিলেন! কিন্তু, পরবর্তী সময়ে তার ছেলেদের মধ্যে তিন জন এবং এক জন নাতি যখন রাজা হয়েছিলেন, তখন তাদের মধ্যে একজনও তারা যা পেয়েছিলেন, সেটার প্রতি উপলব্ধি দেখাননি।

যোশিয়ের ছেলে যিহোয়াহস যখন রাজা হয়েছিলেন, তখন তিনি “সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যাহা মন্দ,” তা-ই করেছিলেন। তিনি মাত্র তিন মাসের জন্য রাজা হয়েছিলেন। পরে মিশরের একজন ফরৌণ তাকে কারাগারে বদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরে একজন বন্দি হিসেবে মারা গিয়েছিলেন। (২ রাজা. ২৩:৩১-৩৪) এরপর, তার ভাই যিহোয়াকীম ১১ বছর ধরে রাজত্ব করেছিলেন। তিনিও তার বাবার কাছ থেকে যা পেয়েছিলেন, সেটার প্রতি উপলব্ধি দেখাননি। তিনি এতটাই মন্দ ছিলেন যে, তার সম্বন্ধে যিরমিয় এই কথা বলেছিলেন: “গর্দ্দভের কবরের ন্যায় তাহার কবর হইবে।” (যির. ২২:১৭-১৯) যোশিয়ের ছেলে সিদিকিয় এবং নাতি যিহোয়াখীনও মন্দ ছিলেন এবং যোশিয়ের বিশ্বস্ত উদাহরণ অনুসরণ করেননি।—২ রাজা. ২৪:৮, ৯, ১৮, ১৯.

৭, ৮. (ক) কীভাবে শলোমন তার আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে নষ্ট করেছিলেন? (খ) বাইবেলে উল্লেখিত সেই ব্যক্তিদের উদাহরণ থেকে আমরা কী শিখতে পারি, যারা তাদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে নষ্ট করেছিলেন?

রাজা শলোমন তার বাবা দায়ূদের কাছ থেকে শিখেছিলেন যে, কীভাবে যিহোবাকে সেবা করতে হয় কিন্তু পরে তিনি তার আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রতি উপলব্ধি হারিয়ে ফেলেছিলেন। “শলোমনের বৃদ্ধ বয়সে তাঁহার স্ত্রীরা তাঁহার হৃদয়কে অন্য দেবগণের অনুগমনে বিপথগামী করিল; তাঁহার পিতা দায়ূদের অন্তঃকরণ যেমন ছিল, তাঁহার অন্তঃকরণ তেমনি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর ভক্তিতে একাগ্র ছিল না।” (১ রাজা. ১১:৪) এই কারণে শলোমন যিহোবার অনুগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

ওপরে উল্লেখিত সমস্ত ব্যক্তিরই যিহোবাকে  জানার এবং যা সঠিক, তা করার সুযোগ ছিল। তবে দুঃখের বিষয় হল, তারা তাদের সুযোগকে নষ্ট করেছিলেন। কিন্তু, সমস্ত অল্পবয়সি তাদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে নষ্ট করেননি। এখন আমরা এমন কিছু অল্পবয়সির উত্তম উদাহরণ দেখব, যাদেরকে তোমরা অনুকরণ করতে পারো।

কিছু ব্যক্তি যা-কিছু পেয়েছিলেন, সেগুলোর প্রতি উপলব্ধি দেখিয়েছিলেন

৯. কীভাবে নোহের ছেলেরা এক চমৎকার উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

নোহের ছেলেরা এক চমৎকার উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন। লোকেদের রক্ষা করার জন্য নোহকে জাহাজ তৈরিতে সাহায্য করার সুযোগ তাদের ছিল। তারা জানতেন যে, তাদের যিহোবার বাধ্য হতে হবে আর জলপ্লাবন শুরু হওয়ার আগেই তারা জাহাজে প্রবেশ করেছিলেন। (আদি. ৭:১, ৭) এর ফল কী হয়েছিল? আদিপুস্তক ৭:৩ পদ বলে, তারা “সমস্ত ভূমণ্ডলে তাহাদের বংশ রক্ষার্থে,” পশুপাখিদের ‘আপনার সঙ্গে রাখিলেন।’ মানুষও রক্ষা পেয়েছিল। নোহের ছেলেরা যেহেতু তাদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রতি উপলব্ধি দেখিয়েছিলেন, তাই তাদের মানবজাতিকে রক্ষা করার এবং পৃথিবীতে সত্য উপাসনা পুনর্স্থাপন করার সুযোগ হয়েছিল।—আদি. ৮:২০; ৯:১৮, ১৯.

১০. বাবিলে চার জন ইব্রীয় যুবক কীভাবে তাদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রতি উপলব্ধি দেখিয়েছিলেন?

১০ শত শত বছর পরে, চার জন ইব্রীয় যুবক বাবিলের জীবনধারা অনুসরণ করাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ৬১৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হনানিয়, মীশায়েল, অসরিয় ও দানিয়েলকে বন্দি করে বাবিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারা দেখতে সুদর্শন ছিলেন এবং বাবিলে অনেক সফল হয়ে উঠতে পারতেন। কিন্তু, তারা কখনো নিজেদের পরিচয় সম্বন্ধে এবং তারা যা শিখেছিলেন, সেই সম্বন্ধে ভুলে যাননি আর এই কারণে যিহোবা তাদেরকে প্রচুররূপে আশীর্বাদ করেছিলেন।—পড়ুন, দানিয়েল ১:৮, ১১-১৫, ২০.

১১. কীভাবে অন্যেরা যিশুর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার থেকে উপকার লাভ করেছিল?

১১ আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রতি উপলব্ধি দেখিয়েছিলেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যিশু ছিলেন সর্বমহৎ উদাহরণ। তাঁর পিতা তাঁকে যা-কিছু শিখিয়েছিলেন, সেগুলোকে তিনি সত্যিই ভালোবাসতেন। এই বিষয়টা স্পষ্ট হয়েছিল, যখন তিনি বলেছিলেন: “পিতা আমাকে যেমন শিক্ষা দিয়াছেন, তদনুসারে এই সকল কথা কহি।” (যোহন ৮:২৮) তিনি যা শিখেছিলেন, তা অন্যদেরকে জানাতে ভালোবাসতেন, যাতে তারাও উপকার লাভ করতে পারে। তিনি বলেছিলেন: “অন্য অন্য নগরেও আমাকে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করিতে হইবে; কেননা সেই জন্যই আমি প্রেরিত হইয়াছি।” (লূক ৪:১৮, ৪৩) জগৎ ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রাপ্ত সত্যকে মূল্যবান বলে মনে করে না আর এই কারণে যিশু তাঁর শিষ্যদেরকে ‘জগতের না’ হওয়ার জন্য সাবধান করে দিয়েছিলেন।—যোহন ১৫:১৯.

তুমি যা-কিছু পেয়েছ, সেগুলোর প্রতি উপলব্ধি দেখাও

১২. (ক) কীভাবে ২ তীমথিয় ৩:১৪-১৭ পদ বর্তমানে অনেক অল্পবয়সির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? (খ) অল্পবয়সি খ্রিস্টানদের নিজেদেরকে কী জিজ্ঞেস করা উচিত?

১২ তোমার বাবা-মা যদি যিহোবাকে ভালোবাসেন, তাহলে তুমি এক আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার পেয়েছ। তীমথিয় সম্বন্ধে বাইবেল যা বলে, তা তোমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। (পড়ুন, ২ তীমথিয় ৩:১৪-১৭.) তোমার বাবা-মা তোমাকে যিহোবা সম্বন্ধে এবং কীভাবে তাঁকে খুশি করতে হয়, সেই বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। এটা “খ্রীষ্ট যীশু সম্বন্ধীয় বিশ্বাস দ্বারা তোমাকে পরিত্রাণের নিমিত্ত জ্ঞানবান্‌” হতে এবং ঈশ্বরের সেবা করার জন্য “সুসজ্জীভূত” হতে সাহায্য করেছে। কিন্তু তোমার যা রয়েছে, সেটার প্রতি কি তুমি আসলেই উপলব্ধি দেখাও? নিজেকে জিজ্ঞেস করো: ‘অতীতের অনেক বিশ্বস্ত সাক্ষি সম্বন্ধে আমি কেমন বোধ করি? আমি কি একজন যিহোবার সাক্ষি হতে পেরে গর্বিত? সেই অল্প কয়েক জন লোকের মধ্যে একজন হতে পেরে  আমি কেমন বোধ করি, যাদেরকে ঈশ্বর জানেন? আমি কি বুঝতে পারি যে, আমার কী এক অদ্বিতীয় এবং অপূর্ব সুযোগ রয়েছে?’

অতীতে যারা ঈশ্বরের বিশ্বস্ত সাক্ষি ছিলেন, তাদের মতো একজন হতে পেরে তুমি কেমন বোধ করো? (৯, ১০ এবং ১২ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৩, ১৪. সত্যে মানুষ হয়েছেন এমন কিছু ব্যক্তি কী করার জন্য প্রলোভিত হতে পারেন কিন্তু কেন তা বোকামির কাজ হবে? একটা উদাহরণ দিন।

১৩ খ্রিস্টান বাবা-মায়ের কাছে মানুষ হয়েছে এমন কিছু অল্পবয়সি হয়তো বুঝতে পারে না যে, সত্য কত চমৎকার এবং শয়তানের জগৎ কত কুৎসিত। কেউ কেউ এমনকী এই জগতের জীবনযাপন কেমন, তা দেখার জন্য প্রলোভিত হয়েছে। কিন্তু, তুমি কি কেবল এই বিষয়টা পরীক্ষা করার জন্য একটা চলন্ত গাড়ির সামনে দৌড়ে যাবে যে, তুমি ব্যথা পাও কি না কিংবা এমনকী মারা যাও কি না? এটা হবে বোকামির কাজ! তাই, এই জগতের মন্দ বিষয়গুলো আমাদের জন্য কতটা কষ্ট নিয়ে আসতে পারে, তা দেখার জন্য আমাদের সেগুলো পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই।—১ পিতর ৪:৪.

১৪ জেনার নামে এশিয়ার একজন অল্পবয়সি সত্যে মানুষ হয়েছিলেন। তিনি ১২ বছর বয়সে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি যখন কিশোর বয়সে পা দিয়েছিলেন, তখন তিনি জগতের জীবনধারা দেখার জন্য প্রলোভিত হয়েছিলেন, ভেবেছিলেন যে তিনি সেখানে আরও স্বাধীনতা খুঁজে পাবেন। জেনার তার পরিবারের কাছে মিথ্যে বলতে শুরু করেন এবং তাদের কাছে বিভিন্ন বিষয় লুকোতে থাকেন। তার বয়স যখন ১৫ বছর, তখন তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মদ খাওয়া এবং গালিগালাজ করার মতো কিছু খারাপ কাজ করেন। জেনার তাদের সঙ্গে বিলিয়ার্ড এবং দৌরাত্ম্যপূর্ণ কম্পিউটার গেমস্ খেলার পর রাত করে বাড়ি ফিরতেন। একসময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি যে-কাজগুলো করছেন, সেগুলো তার জন্য সুখ নিয়ে আসছে না এবং তিনি শূন্যতা অনুভব করেছিলেন। তিনি এখন সত্যে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে এখনও তিনি জগতের দ্বারা প্রলোভিত হন কিন্তু যিহোবার আশীর্বাদ পাওয়া তার কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

১৫. আমরা খ্রিস্টান বাবা-মায়ের কাছে মানুষ হই বা না হই, আমাদের সকলের কোন বিষয়ে চিন্তা করা উচিত?

১৫ এমনকী তোমার বাবা-মা যদি সত্যে না-ও থাকেন, তবুও সৃষ্টিকর্তাকে জানার এবং তাঁকে সেবা করার যে-অপূর্ব সুযোগ তোমার রয়েছে, সেই সম্বন্ধে চিন্তা করো! পৃথিবীর কোটি কোটি লোকের মধ্যে যিহোবা সদয়ভাবে তোমার কাছে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। কী এক আশীর্বাদ! (যোহন ৬:৪৪, ৪৫) আমরা আমাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে সত্য শিখি বা না-ই শিখি, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমরা সত্য জানি। (পড়ুন, ১ করিন্থীয় ২:১২.) জেনার বলেন, “আমি এমন কে যে, নিখিলবিশ্বের মালিক  যিহোবা আমাকে লক্ষ করেন?” (গীত. ৮:৪) একজন খ্রিস্টান বোন বলেন: “সাধারণত শিক্ষকরা যখন ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ করেন, তখন তারা অনেক গর্বিত হয়ে থাকেন। তাহলে মহান শিক্ষক যিহোবা যদি আমাদের লক্ষ করেন, তা আমাদের জন্য আরও কতই-না বিশেষ সুযোগ!”

তুমি কী করবে?

১৬. অল্পবয়সি খ্রিস্টানদের জন্য বিজ্ঞ বাছাই কী?

১৬ তোমার অপূর্ব আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার সম্বন্ধে চিন্তা করো এবং যিহোবাকে সেবা করা তোমার লক্ষ্য করে তোলো। অতীতের বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের উত্তম উদাহরণ অনুসরণ করো। জগতের অধিকাংশ অল্পবয়সির মতো হোয়ো না, যারা তাদের জীবনকে নষ্ট করছে এবং যাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।—২ করি. ৪:৩, ৪.

১৭-১৯. কেন জগৎ থেকে আলাদা থাকা বিজ্ঞতার কাজ?

১৭ অবশ্য, জগৎ থেকে আলাদা হওয়া সবসময় সহজ নয়। কিন্তু, তা করা বিজ্ঞতার কাজ। একজন ক্রীড়াবিদের কথা চিন্তা করো, যিনি অলিম্পিকের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন। সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য তাকে তার সঙ্গীসাথিদের থেকে আলাদা হতে হয়। তিনি এমন অনেক কিছু এড়িয়ে চলেন, যেগুলো তার সময় এবং মনোযোগ কেড়ে নেয়। তিনি আলাদা থাকতে ইচ্ছুক, যাতে তিনি আরও প্রশিক্ষণ লাভ করতে এবং তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন।

১৮ জগতের অধিকাংশ লোক তাদের কাজের মন্দ পরিণতি নিয়ে বেশি চিন্তা করে না কিন্তু যিহোবার দাসেরা করে থাকে। আমরা যদি জগৎ থেকে আলাদা থাকি এবং অনৈতিকতার মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে চলি, যেগুলো যিহোবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে নষ্ট করে দিতে পারে, তাহলে আমরা ‘যাহা প্রকৃতরূপে জীবন, তাহাই ধরিয়া রাখিতে পারিব।’ (১ তীম. ৬:১৯) আগে উল্লেখিত বোন বলেন: “যদি আপনি যা বিশ্বাস করেন, সেটার পক্ষসমর্থন করেন, তাহলে দিনের শেষে আপনার সত্যিই ভালো লাগবে। এটা প্রমাণ দেবে যে, শয়তানের জগতের প্রবাহে ভেসে যাওয়ার বিরুদ্ধে আপনি শক্তি লাভ করেছেন। সবচেয়ে বড়ো কথা হল, এতে আপনি এমনটা অনুভব করতে পারবেন যেন যিহোবা আপনাকে নিয়ে গর্বিত এবং আপনার প্রতি প্রসন্ন! সেই সময়ই আপনি আলাদা হতে পেরে ভালো বোধ করবেন!”

১৯ তুমি এখনই কী পেতে পারো, কেবল তা নিয়ে চিন্তা করে তোমার জীবনকে নষ্ট কোরো না। (উপ. ৯:২, ১০) তুমি জানো যে, কেন তুমি এখানে আছ আর তোমার চিরকাল বেঁচে থাকার সুযোগ রয়েছে। এটা তোমাকে উত্তম সিদ্ধান্ত নিতে ও ‘পরজাতীয়দের ন্যায় চলা’ এড়াতে সাহায্য করবে। আর তোমার জীবনের প্রকৃত অর্থ থাকবে।—ইফি. ৪:১৭; মালাখি ৩:১৮.

২০, ২১. আমরা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে? কিন্তু, যিহোবা আমাদের কাছ থেকে কী চান?

২০ আমরা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে আমরা এখনই সুখী জীবন লাভ করতে এবং ঈশ্বরের নতুন জগতে এমনকী চিরকাল বেঁচে থাকতে পারব। যিহোবা আমাদের এতটা আশীর্বাদ করবেন, যা আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারব না। (মথি ৫:৫; ১৯:২৯; ২৫:৩৪) তবে, তিনি প্রত্যেককে এই আশীর্বাদ দেবেন না। তিনি চান যেন আমরা বাধ্য হই। (পড়ুন, ১ যোহন ৫:৩, ৪.) কিন্তু, এখন বিশ্বস্তভাবে যিহোবাকে সেবা করার বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক হয়ে উঠবে!

২১ ইতিমধ্যেই যিহোবা আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন। আমাদের তাঁর বাক্যের বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও সেইসঙ্গে তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধীয় সত্যের বিষয়ে এক স্পষ্ট বোধগম্যতা রয়েছে। যিহোবার সাক্ষি হিসেবে তাঁর নাম বহন করার বিশেষ সুযোগ আমাদের রয়েছে। ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেন, সাহায্য করার জন্য তিনি আমাদের পক্ষে রয়েছেন। (গীত. ১১৮:৭) আমরা অল্পবয়সি অথবা বৃদ্ধ, যে-ই হই না কেন, আসুন আমরা সকলে দেখাই যে, আমাদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রতি উপলব্ধি রয়েছে এবং যিহোবাকে আমরা ‘যুগে যুগে গৌরব’ দিতে চাই।—রোমীয় ১১:৩৩-৩৬; গীত. ৩৩:১২.