সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  নভেম্বর ২০১৪

আমাদের সমস্ত আচার-ব্যবহারে পবিত্র হতে হবে

আমাদের সমস্ত আচার-ব্যবহারে পবিত্র হতে হবে

“সমস্ত আচার ব্যবহারে পবিত্র হও।”—১ পিতর ১:১৫.

১, ২. (ক) যিহোবা তাঁর লোকেদের কাছ থেকে কী চান? (খ) এই প্রবন্ধে কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে?

প্রেরিত পিতর অনুপ্রাণিত হয়ে লেবীয় পুস্তক থেকে উদ্ধৃতি করে ব্যাখ্যা করেছিলেন, খ্রিস্টানদের পবিত্র হতে হবে, ঠিক যেমনটা ইস্রায়েলীয়দেরও পবিত্র হতে হয়েছিল। (পড়ুন, ১ পিতর ১:১৪-১৬.) ‘পবিত্রতম’ যিহোবা চান যেন অভিষিক্ত ব্যক্তিরা এবং “আরও মেষ” তাদের সমস্ত আচার-ব্যবহারে পবিত্র হওয়ার জন্য যথাসাধ্য করে।—যোহন ১০:১৬.

এই প্রবন্ধে আমরা লেবীয় পুস্তক থেকে এমন নীতিগুলো খুঁজে বের করব, যেগুলো আমাদের ঈশ্বরের পবিত্রতার মান জানতে ও আমাদের জীবনে তা কাজে লাগাতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া, আমরা এই প্রশ্নগুলোও বিবেচনা করব: আপোশ করার বিষয়টাকে আমাদের কীভাবে দেখা উচিত? যিহোবার সার্বভৌমত্বকে বা নিখিলবিশ্বের শাসক হিসেবে যিহোবার কর্তৃত্বকে সমর্থন করার ব্যাপারে লেবীয় পুস্তক আমাদের কী শিক্ষা দেয়? ইস্রায়েলীয়রা যে-বলি উৎসর্গ করত, তা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

আপোশ করার বিষয়ে সাবধান থাকুন

৩, ৪. (ক) কেন খ্রিস্টানদের বাইবেলের আইন ও নীতির বিরুদ্ধে আপোশ করা এড়িয়ে চলতে হবে? (খ) কেন আমাদের প্রতিশোধ নেওয়া অথবা অসন্তোষ পুষে রাখা উচিত নয়?

যিহোবাকে খুশি করার জন্য, আমাদের তাঁর বিভিন্ন আইন ও নীতির প্রতি বাধ্য হতে হবে এবং এগুলোর মধ্যে কোনোটার ব্যাপারে অপবিত্র মনোভাব ও  কোনোটার বিরুদ্ধে আপোশ করার মনোভাব গড়ে তোলা যাবে না। বর্তমানে আমরা মোশির ব্যবস্থার অধীন নই, কিন্তু সেই ব্যবস্থা আমাদেরকে যিহোবার কাছে কোনটা গ্রহণযোগ্য অথবা কোনটা গ্রহণযোগ্য নয়, তা বুঝতে সাহায্য করে। উদাহরণ স্বরূপ, ইস্রায়েলীয়দের বলা হয়েছিল: “তুমি আপন জাতির সন্তানদের উপরে প্রতিহিংসা কি দ্বেষ করিও না, বরং আপন প্রতিবাসীকে আপনার মত প্রেম করিবে; আমি সদাপ্রভু।”—লেবীয়. ১৯:১৮.

আমরা প্রতিশোধ নিই কিংবা অসন্তোষ পুষে রাখি, তা যিহোবা চান না। (রোমীয় ১২:১৯) আমরা যদি ঈশ্বরের আইন ও নীতি উপেক্ষা করি, তাহলে শয়তান খুশি হয় এবং আমরা ঈশ্বরের নামকে অসম্মান করি। এমনকী কেউ যদি আমাদের কষ্ট দেয়, তবুও আমরা এতটাই রেগে যাব না যে, সেই রাগ আমাদের অন্ধ করে ফেলবে। বাইবেলে আমাদের এমন ‘মৃন্ময় পাত্র’ বা মাটির পাত্র হিসেবে বর্ণনা করে, যেটার মধ্যে ধন রয়েছে। এই ধন হচ্ছে পরিচর্যাপদ। (২ করি. ৪:১, ৭) মূল্যবান ধনের সেই একই পাত্রের মধ্যে আমরা বিরক্তি পুষে রাখতে চাইব না, যা অ্যাসিডের মতো।

৫. হারোণের কাছ থেকে এবং তার ছেলেদের মৃত্যুর ঘটনা থেকে আমরা কী শিখতে পারি? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

লেবীয় পুস্তক ১০:১-১১ পদে আমরা এমন একটা পরিস্থিতি সম্বন্ধে পড়ি, যা হারোণের পরিবারকে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছিল। যিহোবা হারোণের ছেলে নাদব ও অবীহূকে ধবংস করার জন্য স্বর্গ থেকে অগ্নি পাঠিয়েছিলেন। ঈশ্বর এরপর হারোণ ও তার পরিবারকে বলেছিলেন, যেন তারা কোনো ধরনের শোক প্রকাশ না করে। বিশ্বাসের কী এক পরীক্ষা! আপনি কি আপনার পরিবারের সেই সদস্যদের অথবা অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা না করে আপনার পবিত্রতার প্রমাণ দিচ্ছেন, যারা সমাজচ্যুত হয়েছে?—পড়ুন, ১ করিন্থীয় ৫:১১.

৬, ৭. (ক) গির্জার মধ্যে যে-বিয়ের অনুষ্ঠান হয় তাতে অংশ নেব কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমাদের কী চিন্তা করা উচিত? (পাদটীকা দেখুন।) (খ) এই অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার কারণ সম্বন্ধে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি?

আমাদের হয়তো হারোণ ও তার ছেলেদের মতো পরীক্ষা করা হয় না। কিন্তু, আমাদের কোনো ন-সাক্ষি আত্মীয় যদি গির্জায় বিয়ে করেন আর আমাদের সেখানে যেতে এবং অংশগ্রহণ করতে বলেন, তাহলে? বাইবেলে এমন কোনো আইন নেই যা বলে, আমরা সেখানে যোগ দিতে পারব না, তবে এমন কিছু নীতি রয়েছে, যেগুলো আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। *

যিহোবাকে খুশি করার এবং পবিত্র থাকার ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়তো আমাদের আত্মীয়স্বজনকে বিভ্রান্ত করতে পারে। (১ পিতর ৪:৩, ৪) আমরা তাদের অসন্তুষ্ট করতে চাই না আর তাই তাদের সঙ্গে আমাদের সদয়ভাবে এবং অকপটভাবে কথা বলা উচিত। যদি সম্ভব হয়, তাহলে বিয়ের অনেক আগেই তাদের সঙ্গে আমাদের কথা বলা উচিত। গির্জার মধ্যে যে-বিয়ের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে, তাতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাতে পারি। তারপর আমরা বলতে পারি, আমরা চাই সেই বিশেষ দিনটা তাদের জন্য আনন্দময় হয়ে উঠুক। তবে আমরা যেহেতু এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিই না, তাই আমরা তাদের এবং তাদের অতিথিদের বিব্রত করতে চাই না। এটা হল একটা উপায়, যে-উপায়ে আমরা আমাদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আপোশ করা এড়িয়ে চলতে পারি।

যিহোবার সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করুন

৮. কীভাবে লেবীয় পুস্তক যিহোবার সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দেয়?

লেবীয় পুস্তক যিহোবার সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দেয়। লেবীয় পুস্তক-এর আইনগুলো যে ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, সেই বিষয়টা এই পুস্তকে ৩০ বারেরও বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। মোশি তা জানতেন আর যিহোবা তাকে যা করার আদেশ দিয়েছিলেন, তিনি ঠিক সেভাবেই কাজ করেছিলেন। (লেবীয় ৮:৪, ৫) যিহোবা আমাদের যা করতে বলেন, মোশির মতো আমাদেরও সবসময় সেটাই করা উচিত। ঈশ্বরের সংগঠন যদিও আমাদের সাহায্য করবে, তবে কখনো কখনো আমাদের বিশ্বাস সেই সময়ে পরীক্ষিত হয়, যখন আমরা একা থাকি, যেমনটা  যিশু প্রান্তরে থাকার সময় ঘটেছিল। (লূক ৪:১-১৩) আমরা যদি ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করি এবং তাঁর সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করি, তাহলে কেউই জোর করে আমাদের আপোশ করাতে পারবে না। আমরা ভয়ের কাছে নতিস্বীকার করব না।—হিতো. ২৯:২৫.

৯. কেন সকল দেশে ঈশ্বরের লোকেরা ঘৃণিত হয়?

আমরা জানি, সারাবিশ্বে ঈশ্বরের লোকেরা তাড়িত হবে কারণ যিশু তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন: “লোকেরা ক্লেশ দিবার জন্য তোমাদিগকে সমর্পণ করিবে, ও তোমাদিগকে বধ করিবে, আর আমার নাম প্রযুক্ত সমুদয় জাতি তোমাদিগকে দ্বেষ করিবে।” (মথি ২৪:৯) আমাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা হলেও, আমরা সবসময় প্রচার করি এবং আমাদের সমস্ত আচরণে পবিত্র থাকি। আমরা সৎ এবং আমরা শারীরিকভাবে ও নৈতিকভাবে শুচি থাকি। এ ছাড়া, আমরা সুনাগরিক। তাহলে, কেন কিছু লোক আমাদের ঘৃণা করে? (রোমীয় ১৩:১-৭) কারণ আমরা অন্য কারো নয় বরং আমাদের সার্বভৌম প্রভু হিসেবে যিহোবার বাধ্য হই। আমরা “কেবল তাঁহারই” উপাসনা করি এবং আমরা কখনোই তাঁর ধার্মিক আইন ও নীতির বিরুদ্ধে আপোশ করব না।—মথি ৪:১০.

১০. একজন ভাইয়ের প্রতি কী ঘটেছিল, যিনি নিজের নিরপেক্ষ অবস্থানের বিরুদ্ধে আসা চাপের সঙ্গে আপোশ করেছেন?

১০ আমরা ‘জগতের নহি’ আর তাই আমরা নিরপেক্ষ থাকি এবং জগতের যুদ্ধ ও রাজনীতিতে জড়িত হই না। (পড়ুন, যোহন ১৫:১৮-২১; যিশাইয় ২:৪.) কোনো কোনো উৎসর্গীকৃত খ্রিস্টান তাদের নিরপেক্ষ অবস্থানের বিরুদ্ধে আসা চাপের সঙ্গে আপোশ করেছিল। তাদের মধ্যে অনেকে অনুতপ্ত হয়েছিল এবং যিহোবার কাছে ফিরে এসেছিল। (গীত. ৫১:১৭) কিন্তু, কিছু ব্যক্তি অনুতপ্ত হয়নি। উদাহরণ স্বরূপ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাঙ্গারির সমস্ত জায়গায় অনেক ভাইকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা ১৬০ জন ভাইকে একটা শহরে একত্রিত করেছিল, যাদের বয়স ৪৫-এর নীচে এবং তাদেরকে আদেশ দিয়েছিল, যেন তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। ভাইদের মধ্যে অধিকাংশই তা প্রত্যাখ্যান করেছিল, কিন্তু নয় জন সেনাবাহিনীর শপথ নিয়েছিল এবং পোশাক গ্রহণ করেছিল। দু-বছর পর, আপোশকারীদের মধ্যে একজনকে বিশ্বস্ত সাক্ষিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। আর তাদের মধ্যে তার আপন ভাইও ছিলেন! যাইহোক, সেই বিশ্বস্ত সাক্ষিদের মৃত্যুদণ্ড পরে আর কার্যকর হয়নি।

যিহোবাকে আপনার সর্বোত্তমটা উৎসর্গ করুন

১১, ১২. প্রাচীন ইস্রায়েলে যে-বলি উৎসর্গ করা হতো, তা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১১ ইস্রায়েলীয়রা কী উৎসর্গ করবে, সেই বিষয়ে ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। (লেবীয় ৯:১-৪, ১৫-২১) বলিগুলো নির্দোষ হতে হতো কারণ সেগুলো যিশুর সিদ্ধ বলিকে নির্দেশ করত। এ ছাড়া, ইস্রায়েলীয়দের প্রতিটা বলির বিষয়ে একটা সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। একজন নবজাত সন্তানের মাকে যা করতে হতো, সেই বিষয়ে লেবীয় পুস্তক ১২:৬ পদ বর্ণনা করে: “পরে পুত্ত্র কিম্বা কন্যা প্রসবের শৌচার্থক দিন সম্পূর্ণ হইলে সে হোমবলির জন্য একবর্ষীয় একটী মেষবৎস, এবং পাপার্থক বলির জন্য একটী কপোতশাবক কিম্বা একটী ঘুঘু সমাগম-তাম্বুর দ্বারে যাজকের নিকটে আনিবে।” যদিও যিহোবার চাহিদাগুলো সুনির্দিষ্ট ছিল, তবে ব্যবস্থা এটাও স্পষ্ট করে, তিনি হলেন প্রেমময় এবং যুক্তিবাদী। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সেই মায়ের যদি একটা মেষ উৎসর্গ করার সামর্থ্য না থাকত, তাহলে তিনি দুটো ঘুঘু কিংবা দুটো কপোতশাবক উৎসর্গ করতে পারতেন। (লেবীয়. ১২:৮) সেই মা দরিদ্র হলেও, যিহোবা তাকে ঠিক সেই ব্যক্তিদের মতোই ভালোবাসতেন এবং প্রশংসা করতেন, যারা তাঁর উদ্দেশে দামি উপহার উৎসর্গ করতে পারত। এখান থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১২ প্রেরিত পৌল খ্রিস্টানদের জোরালো পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেন তারা ঈশ্বরের উদ্দেশে “স্তব-বলি” উৎসর্গ করে। (ইব্রীয় ১৩:১৫) আমরা যখন অন্যদের কাছে যিহোবার নাম সম্বন্ধে কথা বলি, তখন আমরা স্তববলি উৎসর্গ করি। বধির ভাই-বোনেরা সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে ঈশ্বরের প্রশংসা করে থাকে। যে-খ্রিস্টানরা ঘর থেকে বের হতে পারে না, তারা চিঠি লিখে, টেলিফোনে সাক্ষ্যদান করে এবং  তাদের দেখতে আসে এমন ব্যক্তিদের কাছে প্রচার করে যিহোবার প্রশংসা করে। যিহোবার প্রশংসায় আমরা কতটা করতে পারি, সেটা যদিও আমাদের স্বাস্থ্য ও সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে, তবে আমাদের সবসময় নিজেদের সর্বোত্তমটা উৎসর্গ করা উচিত।—রোমীয় ১২:১; ২ তীম. ২:১৫.

১৩. কেন আমরা পরিচর্যায় যে-সময় ব্যয় করি, সেটার রিপোর্ট দিই?

১৩ আমরা যিহোবাকে ভালোবাসি বলে তাঁর উদ্দেশে স্বেচ্ছায় স্তববলি উৎসর্গ করি। (মথি ২২:৩৭, ৩৮) কিন্তু, আমাদের যখন প্রতি মাসে পরিচর্যায় কতটা সময় দিয়েছি, সেই বিষয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়, তখন আমাদের মনোভাব কেমন হওয়া উচিত? আমাদের স্বেচ্ছায় তা দেওয়া উচিত কারণ এভাবে আমরা ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করে থাকি। (২ পিতর ১:৭) তবে, কারোরই এইরকম মনে করা উচিত নয়, শুধুমাত্র বেশি রিপোর্ট দেখানোর জন্য তাকে পরিচর্যায় অনেক ঘণ্টা ব্যয় করতে হবে। আসলে, একজন প্রকাশক যদি বার্ধক্য অথবা স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে পরিচর্যায় বেশি সময় দিতে সমর্থ না হন, তাহলে তিনি এমনকী ১৫ মিনিটও রিপোর্ট করতে পারেন। যেহেতু তিনি যথাসাধ্য করে এতটুকু সময়ই দিতে পারেন, তাই যিহোবা এতে খুশি হন। এ ছাড়া, যিহোবা জানেন, আমাদের ভাই ও বোনেরা তাঁকে ভালোবাসে এবং সত্যিই তাঁর সাক্ষি হতে চায়। প্রাচীন ইস্রায়েলের ব্যক্তিরা, যারা দরিদ্র হলেও ঈশ্বরের উদ্দেশে একটা উপহার উৎসর্গ করতে পারত, তাদের মতো বর্তমানে যাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারাও এমন রিপোর্ট দিতে পারে, যা তাদেরকে আনন্দিত করবে। আমাদের রিপোর্ট বিশ্বের সর্বমোট রিপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হয়, যা সংগঠনকে ক্ষেত্রের প্রয়োজন সম্বন্ধে পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। এই কারণেই, আমরা পরিচর্যায় যে-সময় ব্যয় করি, সেটার রিপোর্ট দিই।

আমাদের অধ্যয়নের অভ্যাস এবং স্তববলি

১৪. কেন আমাদের অধ্যয়নের অভ্যাস পরীক্ষা করতে হবে, তা ব্যাখ্যা করুন।

১৪ লেবীয় পুস্তক থেকে এই মূল্যবান শিক্ষাগুলো লাভ করার পর, যে-সমস্ত কারণে বইটি ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাক্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেই কারণগুলোর প্রতি আপনার উপলব্ধি কি আরও গভীর হয়েছে? (২ তীম. ৩:১৬) পবিত্র থাকার ব্যাপারে আপনার সংকল্প কি আরও দৃঢ় হয়েছে? যিহোবা চান, যেন আমরা তাঁকে সর্বোত্তমটা দিই আর তিনি তা পাওয়ার যোগ্য। এ ছাড়া, আপনি হয়তো বাইবেলের বাকি অংশ আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে চাইবেন। (পড়ুন, হিতোপদেশ ২:১-৫.) নিজের অধ্যয়নের অভ্যাস প্রার্থনাপূর্বক পরীক্ষা করুন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমি কি যিহোবাকে আমার সর্বোত্তমটা দিচ্ছি? না কি, সত্যে উন্নতি করার ক্ষেত্রে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান, ভিডিও গেমস্‌, খেলাধুলা অথবা বিভিন্ন শখ আমাকে বাধা দিচ্ছে?’ যদি তা-ই হয়, তাহলে ইব্রীয় বইয়ে পৌল যা বলেছিলেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করা ভালো হবে।

বাইবেল অধ্যয়ন এবং পারিবারিক উপাসনা কি আপনার জীবনে অগ্রাধিকারের বিষয়? (১৪ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১৫, ১৬. ইব্রীয় খ্রিস্টানদের উদ্দেশে চিঠি লেখার সময় কেন পৌল স্পষ্টভাবে তার অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন?

১৫ ইব্রীয় খ্রিস্টানদের উদ্দেশে চিঠি লেখার সময় পৌল অনেক স্পষ্টভাবে তার অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন। (পড়ুন, ইব্রীয় ৫:৭, ১১-১৪.) তিনি তাদের বলেছিলেন: “তোমরা শ্রবণে শিথিল হইয়াছ।” কেন তিনি এতটা সরাসরি কথা বলেছিলেন? কারণ যিহোবার মতো, তিনিও তাদের ভালোবাসতেন এবং তারা যে কেবল দুগ্ধ অর্থাৎ বাইবেলের মৌলিক জ্ঞানের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছিল, তা  নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। মৌলিক শিক্ষাগুলো বোঝা যদিও গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমরা যদি সত্যে উন্নতি করতে চাই, তাহলে আমাদের ‘কঠিন খাদ্য’ অর্থাৎ বাইবেলের গভীর শিক্ষাগুলো গ্রহণ করতে হবে।

১৬ অন্যদের শিক্ষা দিতে সমর্থ হওয়ার পরিবর্তে, ইব্রীয় খ্রিস্টানদের নিজেদেরই এমন কাউকে প্রয়োজন ছিল, যিনি তাদের শিক্ষা দিতে পারবেন। কেন? কারণ তারা ‘কঠিন খাদ্য’ এড়িয়ে চলেছিল। তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘বাইবেলের গভীর শিক্ষাগুলোর প্রতি কি আমার সঠিক মনোভাব রয়েছে? আমি কি সেগুলো অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক? না কি, আমি গভীর বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করা ও প্রার্থনা করা এড়িয়ে চলি? যদি তা-ই হয়, তাহলে অধ্যয়নের অভ্যাসের মধ্যে কি কোনো সমস্যা আছে?’ আমাদের শুধু লোকেদের কাছে প্রচার করলেই হবে না কিন্তু সেইসঙ্গে তাদেরকে আমাদের শিক্ষা দিতে ও শিষ্য করতে হবে।—মথি ২৮:১৯, ২০.

১৭, ১৮. (ক) কেন আমাদের নিয়মিতভাবে ‘কঠিন খাদ্য’ গ্রহণ করতে হবে? (খ) সভার আগে মদ পান করার বিষয়টাকে আমাদের কীভাবে দেখা উচিত?

১৭ আমাদের মধ্যে অনেকের কাছে হয়তো বাইবেল অধ্যয়ন করা সহজ নয়। অবশ্য, যিহোবা তাঁর লোকেদের মধ্যে এই ব্যাপারে অপরাধবোধ জাগিয়ে তুলে তাদেরকে বাইবেল অধ্যয়ন করতে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করেন না। তবে, আমাদের ‘কঠিন খাদ্য’ গ্রহণ করে চলা উচিত, তা আমরা যত দীর্ঘসময় ধরেই সত্যে থাকি না কেন। আমরা যদি পবিত্র থাকতে চাই, তাহলে এটা অপরিহার্য।

১৮ পবিত্র হওয়ার জন্য, আমাদের মনোযোগের সঙ্গে শাস্ত্র পরীক্ষা করতে হবে এবং ঈশ্বর আমাদের যা করতে বলেন, ঠিক তা-ই করতে হবে। হারোণের ছেলে নাদব ও অবীহূর মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল কারণ তারা সম্ভবত মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় “ইতর অগ্নি” উৎসর্গ করেছিল। (লেবীয়. ১০:১, ২) এরপর ঈশ্বর হারোণকে কী বলেছিলেন, তা লক্ষ করুন। (পড়ুন, লেবীয় পুস্তক ১০:৮-১১.) এই কথাগুলোর অর্থ কি এই যে, খ্রিস্টীয় সভাতে যাওয়ার আগে আমরা মদ্য-জাতীয় কোনো কিছু পান করব না? এই বিষয়গুলো চিন্তা করুন: আমরা এখন আর ব্যবস্থার অধীন নই। (রোমীয় ১০:৪) কিছু দেশে, আমাদের সহবিশ্বাসীরা সভাতে যাওয়ার আগে খাবারের সঙ্গে পরিমিত মাত্রায় মদ্য-জাতীয় পানীয় গ্রহণ করে। নিস্তারপর্ব উদ্‌যাপন করার সময় চার কাপ দ্রাক্ষারস ব্যবহার করা হতো। আর স্মরণার্থ সভা প্রবর্তন করার সময় যিশু তাঁর প্রেরিতদের দ্রাক্ষারস পান করতে দিয়েছিলেন, যা তাঁর রক্তকে চিত্রিত করেছিল। (মথি ২৬:২৭) বাইবেল অতিরিক্ত মদ পান এবং মাতাল হওয়ার বিষয়টাকে নিন্দা করে। (১ করি. ৬:১০; ১ তীম. ৩:৮) আর অনেক খ্রিস্টান হয়তো তাদের বিবেকের কারণে যিহোবাকে উপাসনা করার আগে কোনো ধরনের মদ পান করতে চায় না। কিন্তু, বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি আলাদা এবং খ্রিস্টানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হল, “পবিত্র ও সামান্য বিষয়ের . . . প্রভেদ” করা, যাতে তারা পবিত্র থাকতে পারে ও যিহোবাকে খুশি করতে পারে।

১৯. (ক) কীভাবে আমরা আমাদের পারিবারিক উপাসনা ও ব্যক্তিগত অধ্যয়নকে আরও অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারি? (খ) কীভাবে আপনি দেখাতে পারেন যে, আপনি পবিত্র থাকার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ?

১৯ বাইবেলে বিভিন্ন চমৎকার নীতি রয়েছে। আমরা যদি ঈশ্বরের বাক্য মনোযোগের সঙ্গে অনুসন্ধান করি, তাহলে আমরা সেই নীতিগুলো খুঁজে বের করতে পারি। তাই, আপনার পারিবারিক উপাসনা ও ব্যক্তিগত অধ্যয়নকে আরও অর্থপূর্ণ করার জন্য সহজে পাওয়া যায় এমন গবেষণা সহায়ক ব্যবহার করুন। যিহোবা এবং তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আরও ভালোভাবে জানুন। তাঁর নিকটবর্তী হোন। (যাকোব ৪:৮) গীতরচকের মতো ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন, যিনি গেয়েছিলেন: “আমার নয়ন খুলিয়া দেও, যেন আমি দর্শন করি, তোমার ব্যবস্থায় আশ্চর্য্য আশ্চর্য্য বিষয় দেখি।” (গীত. ১১৯:১৮) বাইবেলের আইন ও নীতিগুলোর বিরুদ্ধে কখনো আপোশ করবেন না। ইচ্ছুক হৃদয়ে ‘পবিত্রতম’ যিহোবার বাধ্য হোন এবং উদ্যোগের সঙ্গে ‘ঈশ্বরের সুসমাচারের যাজকত্ব করুন [‘পবিত্র ভূমিকা অনুশীলন করুন’ জুবিলী বাইবেল]।’ (১ পিতর ১:১৫; রোমীয় ১৫:১৬) এই শেষকালের মন্দ পরিস্থিতিতে আমাদের পবিত্র থাকতে হবে। তাই আসুন, আমরা সবাই আমাদের আচার-ব্যবহারে পবিত্র হই এবং যিহোবার সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করি।

^ অনু. 6 ২০০২ সালের ১৫ মে প্রহরীদুর্গ পত্রিকার “পাঠক-পাঠিকাদের থেকে প্রশ্নসকল” শিরোনামের প্রবন্ধটা দেখুন।