সরাসরি বিষয়বস্তুতে যান

সরাসরি দ্বিতীয় মেনুতে যান

সরাসরি বিষয়সূচিতে যান

যিহোবার সাক্ষিরা

বাংলা

প্রহরীদুর্গ (অধ্যয়ন সংস্করণ)  |  অক্টোবর ২০১৪

রাজ্যের প্রতি অটল বিশ্বাস বজায় রাখুন

রাজ্যের প্রতি অটল বিশ্বাস বজায় রাখুন

“বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান।”—ইব্রীয় ১১:১.

১, ২. মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্য যে রাজ্যের মাধ্যমে পরিপূর্ণ হবে, সেই বিষয়ে কী আমাদের আস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং কেন? (শুরুতে দেওয়া ছবিটা দেখুন।)

যিহোবার সাক্ষি হিসেবে আমরা উদ্যোগের সঙ্গে এই বিষয়টা প্রচার করি, ঈশ্বরের রাজ্য হচ্ছে আমাদের সমস্যাগুলোর একমাত্র সমাধান। কিন্তু, আমরা কি আসলেই এই ব্যাপারে নিশ্চিত যে, রাজ্য হল বাস্তব এবং এর মাধ্যমে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ হবে? কেন আমরা রাজ্যের প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস বজায় রাখতে পারি?—ইব্রীয় ১১:১.

মানবজাতির জন্য যিহোবার উদ্দেশ্য, মশীহ রাজ্যের মাধ্যমে পরিপূর্ণ হবে। এই রাজ্যের অটল ভিত্তি হচ্ছে, শাসন করার ব্যাপারে যিহোবার পূর্ণ অধিকার। এই রাজ্যের রাজা কে? এই রাজার সঙ্গে আর কারা শাসন করবে? কারা এবং কোন বিষয়গুলো তাদের কর্তৃত্বের অধীনে থাকবে? যিহোবা বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে রাজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বৈধভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই চুক্তিগুলো হচ্ছে বৈধ প্রতিশ্রুতি, যেগুলো যিহোবা অথবা তাঁর পুত্র যিশু খ্রিস্ট করেছেন। এসব নিয়ম বা চুক্তি পরীক্ষা করার মাধ্যমে আমরা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব, যিহোবার উদ্দেশ্য কীভাবে পরিপূর্ণ হবে এবং কেন আমরা নিশ্চিত হতে পারি, এই রাজ্য অটল।—পড়ুন, ইফিষীয় ২:১২.

৩. এই প্রবন্ধে এবং পরের প্রবন্ধে আমরা কী পরীক্ষা করব?

 বাইবেলে ছয়টা প্রধান চুক্তি রয়েছে, যেগুলো খ্রিস্ট যিশুর দ্বারা শাসিত মশীহ রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এগুলো হল, (১) অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি, (২) ব্যবস্থা চুক্তি, (৩) দায়ূদের সঙ্গে করা চুক্তি, (৪) মল্কীষেদকের মতো একজন যাজকের জন্য চুক্তি, (৫) নতুন চুক্তি এবং (৬) রাজ্য চুক্তি। আসুন আমরা পরীক্ষা করে দেখি, প্রতিটা চুক্তি কীভাবে রাজ্যের সঙ্গে এবং পৃথিবী ও মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্যের পরিপূর্ণতার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।—“ যেভাবে ঈশ্বর তাঁর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করবেন” শিরোনামের তালিকা দেখুন।

একটা প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করে, ঈশ্বরের উদ্দেশ্য কীভাবে পরিপূর্ণ হবে

৪. আদিপুস্তকের বর্ণনা অনুযায়ী, যিহোবা কোন সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছিলেন, যেগুলো মানুষকে প্রভাবিত করে?

প্রথমে, যিহোবা পৃথিবীকে এমনভাবে প্রস্তুত করেছিলেন, যাতে এখানে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে। তারপর, যিহোবা এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন: (১) ঈশ্বর তাঁর প্রতিমূর্তিতে মানুষ সৃষ্টি করবেন। (২) মানুষেরা পৃথিবীকে পরমদেশে পরিণত করবে এবং তাদের ধার্মিক সন্তান দিয়ে তা পরিপূর্ণ করবে। (৩) মানুষেরা সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খাবে না। (আদি. ১:২৬, ২৮; ২:১৬, ১৭) এই তিনটে সিদ্ধান্ত, মানুষ ও পৃথিবীর জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে পুরোপুরিভাবে বর্ণনা করে। তাহলে কেন ঈশ্বর বিভিন্ন চুক্তি করেছিলেন?

৫, ৬. (ক) কীভাবে শয়তান ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ হওয়ায় বাধা দিতে চেষ্টা করেছিল? (খ) যিহোবা কীভাবে এদনের বিদ্রোহ মোকাবিলা করেছিলেন?

যিহোবা ও তাঁর উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে শয়তান এক বিদ্রোহ শুরু করেছিল। সে হবাকে সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল খেতে প্রলোভিত করার মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি মানুষের বাধ্যতার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল। (আদি. ৩:১-৫; প্রকা. ১২:৯) তা করার মাধ্যমে, সে ঈশ্বরের সৃষ্টির ওপর তাঁর শাসন করার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পরে, শয়তান এই অভিযোগও করেছিল, মানুষ নিজের স্বার্থের জন্য ঈশ্বরের উপাসনা করে।—ইয়োব ১:৯-১১; ২:৪, ৫.

এই বিদ্রোহ যিহোবা কীভাবে মোকাবিলা করতে পারতেন? তিনি বিদ্রোহীদের ধবংস করতে পারতেন। কিন্তু, তা করলে সেটার অর্থ হতো আদম ও হবার সন্তান দিয়ে পৃথিবী পরিপূর্ণ করার বিষয়ে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য সফল হবে না। তাই, যিহোবা বিদ্রোহীদের ধবংস করা বেছে নেননি। এর পরিবর্তে, তিনি একটা গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলেন আর সেটা হল, এদনে করা প্রতিজ্ঞা। এই প্রতিজ্ঞা নিশ্চয়তা প্রদান করেছিল, পৃথিবী ও মানুষের জন্য ঈশ্বরের করা প্রতিজ্ঞাগুলো পরিপূর্ণ হবে।—পড়ুন, আদিপুস্তক ৩:১৫.

৭. এদনে করা প্রতিজ্ঞা সর্প ও এর বংশ সম্বন্ধে কী প্রকাশ করে?

এদনে করা প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে, ঈশ্বর সর্প ও এর বংশকে অর্থাৎ শয়তান দিয়াবল এবং যারা ঈশ্বরের শাসন করার অধিকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে তার পক্ষ নেয়, তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। আর ঈশ্বর এই বিদ্রোহীদের ধবংস করার জন্য নারীর বংশকে কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন। তাই, এদনে করা প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করে, শয়তানকে এবং তার বিদ্রোহের প্রভাবকে দূর করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া, কীভাবে তা করা হবে, সেই বিষয়টাও এই প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

৮. নারী ও তার বংশের পরিচয় সম্বন্ধে আমরা কী জানি?

নারীর বংশ কে হবেন? অবশ্যই একজন আত্মিক ব্যক্তি সেই বংশ হবেন। কেন? কারণ সেই বংশ শয়তানকে “শক্তিহীন” করবেন, যে একজন অদৃশ্য আত্মিক প্রাণী। (ইব্রীয় ২:১৪) তাই, যে-নারী এই বংশের জন্ম দেন, সেই নারীও নিশ্চয়ই অদৃশ্য হবে। এদনে প্রতিজ্ঞা করার পর প্রায় ৪,০০০ বছর ধরে নারীর বংশের পরিচয় এক রহস্য ছিল আর  সেই সময় সর্পের বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে, ওই সময়টাতে যিহোবা বিভিন্ন চুক্তি করেছিলেন, যেগুলো বংশকে শনাক্ত করে এবং ঈশ্বর কীভাবে শয়তানের বিদ্রোহের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণ করে দেবেন, তা প্রকাশ করে।

যে-চুক্তি বংশকে শনাক্ত করে

৯. অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি কী আর কখন এটা কার্যকর হয়েছিল?

এদনে প্রতিজ্ঞা করার প্রায় ২,০০০ বছর পর, যিহোবা অব্রাহামকে ঊর নগরে নিজের ঘর ছেড়ে কনান দেশে যেতে বলেছিলেন। (প্রেরিত ৭:২, ৩) ঈশ্বর তাকে বলেছিলেন: “তুমি আপন দেশ, জ্ঞাতিকুটুম্ব ও পৈতৃক বাটী পরিত্যাগ করিয়া, আমি যে দেশ তোমাকে দেখাই, সেই দেশে চল। আমি তোমা হইতে এক মহাজাতি উৎপন্ন করিব, এবং তোমাকে আশীর্ব্বাদ করিয়া তোমার নাম মহৎ করিব, তাহাতে তুমি আশীর্ব্বাদের আকর হইবে। যাহারা তোমাকে আশীর্ব্বাদ করিবে, তাহাদিগকে আমি আশীর্ব্বাদ করিব, যে কেহ তোমাকে অভিশাপ দিবে তাহাকে আমি অভিশাপ দিব; এবং তোমাতে ভূমণ্ডলের যাবতীয় গোষ্ঠী আশীর্ব্বাদ প্রাপ্ত হইবে।” (আদি. ১২:১-৩) অব্রাহামের কাছে ঈশ্বরের করা এই প্রতিজ্ঞাকে অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি বলা হয়। যিহোবা প্রথম বার ঠিক কখন অব্রাহামের সঙ্গে এই চুক্তি করেছিলেন, তা আমরা সঠিকভাবে জানি না। কিন্তু আমরা জানি, খ্রিস্টপূর্ব ১৯৪৩ সালে ৭৫ বছর বয়সে অব্রাহাম যখন হারণ ত্যাগ করেছিলেন এবং ফরাৎ (ইউফ্রেটিস) নদী পার হয়েছিলেন, তখন এই চুক্তি কার্যকর হয়েছিল।

১০. (ক) কীভাবে অব্রাহাম প্রমাণ দিয়েছিলেন যে, ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার প্রতি তার দৃঢ়বিশ্বাস রয়েছে? (খ) যিহোবা নারীর বংশের কোন বিস্তারিত বিষয়গুলো ক্রমান্বয়ে প্রকাশ করেছিলেন?

১০ যিহোবা বার বার অব্রাহামের কাছে সেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন আর প্রতি বার আরও বিস্তারিত বিষয় যুক্ত করেছিলেন। (আদি. ১৩:১৫-১৭; ১৭:১-৮, ১৬) ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলোর প্রতি  অব্রাহামের বিশ্বাস এতটাই দৃঢ় ছিল যে, তিনি এমনকী তার প্রিয় সন্তানকে বলি দিতে ইচ্ছুক ছিলেন। তাই, এই প্রতিজ্ঞা যে পরিপূর্ণ হবেই সেটার নিশ্চয়তা দেওয়ার মাধ্যমে যিহোবা সেই চুক্তিকে আরও দৃঢ় করার জন্য পরিচালিত হয়েছিলেন। (পড়ুন, আদিপুস্তক ২২:১৫-১৮; ইব্রীয় ১১:১৭, ১৮.) অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর, যিহোবা নারীর বংশের গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিত বিষয় ক্রমান্বয়ে প্রকাশ করেছিলেন। সেই বংশ অব্রাহামের বংশ থেকে আসবে, অনেক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত হবে, রাজা হিসেবে শাসন করবে, ঈশ্বরের সমস্ত শত্রুকে ধবংস করবে এবং অনেক মানুষের জন্য আশীর্বাদ নিয়ে আসবে।

অব্রাহাম ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাগুলোর প্রতি নিজের দৃঢ়বিশ্বাসের প্রমাণ দিয়েছিলেন (১০ অনুচ্ছেদ দেখুন)

১১, ১২. শাস্ত্র কীভাবে দেখায়, অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তির প্রতিজ্ঞাগুলো আরও মহৎ উপায়ে পরিপূর্ণ হবে আর আমাদের জন্য এর অর্থ কী?

১১ অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তির প্রতিজ্ঞাগুলো প্রথমে সেই সময়ে কার্যকর হয়েছিল, যখন অব্রাহামের বংশধরেরা প্রতিজ্ঞাত দেশ অধিকার করেছিল। কিন্তু, বাইবেল প্রকাশ করে, এই চুক্তি আরও মহৎ উপকার নিয়ে আসবে। (গালা. ৪:২২-২৫) প্রেরিত পৌল ব্যাখ্যা করেছিলেন, অব্রাহামের বংশের প্রধান বা মুখ্য অংশ হলেন যিশু খ্রিস্ট। আর এর গৌণ বা আরেকটা অংশ হল ১,৪৪,০০০ জন অভিষিক্ত খ্রিস্টান। (গালা. ৩:১৬, ২৯; প্রকা. ৫:৯, ১০; ১৪:১, ৪) এদনে করা প্রতিজ্ঞার নারী হল ঈশ্বরের সংগঠনের স্বর্গীয় অংশ। নারীকে “ঊর্দ্ধ্বস্থ যিরূশালেম” বলা হয় আর এটা অনুগত আত্মিক প্রাণীদের নিয়ে গঠিত। (গালা. ৪:২৬, ৩১) অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তিতে যেমন প্রতিজ্ঞা করা হয়েছে, নারীর বংশ মানবজাতির জন্য স্থায়ী উপকার নিয়ে আসবে।

১২ অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি, স্বর্গরাজ্যের বিষয়ে বৈধ নিশ্চয়তা প্রদান করেছিল এবং সেই রাজ্যের উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য রাজা ও তাঁর সহ-শাসকদের জন্য পথ খুলে দিয়েছিল। (ইব্রীয় ৬:১৩-১৮) এই চুক্তি কতদিন স্থায়ী হবে? আদিপুস্তক ১৭:৭ পদ বলে, এটা “চিরকালের নিয়ম” বা চুক্তি। এই চুক্তি সেই সময় পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না রাজ্য ঈশ্বরের শত্রুদের ধবংস করে এবং পৃথিবীর সমস্ত পরিবার আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়। (১ করি. ১৫:২৩-২৬) কিন্তু, এই চুক্তির উপকারগুলো অনন্তকালস্থায়ী। অব্রাহামের সঙ্গে করা ঈশ্বরের চুক্তি প্রমাণ দেয় যে, ধার্মিক মানুষের দ্বারা “পৃথিবী পরিপূর্ণ” করার ব্যাপারে যিহোবার উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ হবে।—আদি. ১:২৮.

যে-চুক্তি নিশ্চয়তা দেয়, রাজ্য স্থায়ী হবে

১৩, ১৪. দায়ূদের সঙ্গে করা চুক্তি কোন নিশ্চয়তা প্রদান করে?

১৩ এদনে করা প্রতিজ্ঞা এবং অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি আমাদের শিক্ষা দেয়, যিহোবা সবসময় তাঁর ধার্মিক মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে শাসন করেন। তাই, ঈশ্বর যে-মশীহ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেটার ভিত্তিও সেই একই ধার্মিক মানদণ্ড। (গীত. ৮৯:১৪) মশীহ রাজ্য কি কখনো কলুষিত হবে? এই রাজ্যের সরকার কি পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে? সেটা যে কখনো হবে না, সেই বিষয়ে আরেকটা বৈধ চুক্তি নিশ্চয়তা প্রদান করে।

১৪ যিহোবা প্রাচীন ইস্রায়েলের রাজা দায়ূদের কাছে একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। সেই প্রতিজ্ঞাকে বলা হয়, দায়ূদের সঙ্গে করা চুক্তি। (পড়ুন, ২ শমূয়েল ৭:১২, ১৬.) যিহোবা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, দায়ূদের একজন বংশধর মশীহ হবেন। (লূক ১:৩০-৩৩) এভাবে যিহোবা মশীহের বংশধারা সম্বন্ধে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছিলেন। যিহোবা বলেছিলেন, দায়ূদের এই বংশধরের মশীহ রাজ্যের রাজা হওয়ার “অধিকার” থাকবে। (যিহি. ২১:২৫-২৭) দায়ূদের রাজত্ব চিরকাল থাকবে কারণ দায়ূদের বংশধর যিশু ‘চিরকাল থাকিবেন, তাহার সিংহাসন সূর্য্যের ন্যায় হইবে।’ (গীত. ৮৯:৩৪-৩৭) তাই আমরা এই আস্থা রাখতে পারি, মশীহের  শাসন কখনো কলুষিত হবে না এবং এই শাসনের উপকার চিরকাল স্থায়ী হবে!

একজন যাজকের জন্য চুক্তি

১৫-১৭. মল্কীষেদকের মতো একজন যাজকের জন্য চুক্তি অনুযায়ী, বংশ কোন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং কেন?

১৫ অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি এবং দায়ূদের সঙ্গে করা চুক্তি এই নিশ্চয়তা দেয়, নারীর বংশ একজন রাজা হিসেবে শাসন করবেন। কিন্তু, মানবজাতি যাতে পূর্ণ উপকার লাভ করে, সেইজন্য এই বংশকে শুধু একজন রাজা হলেই হবে না। এই বংশকে একজন যাজকও হতে হবে। কারণ, শুধুমাত্র একজন যাজকই প্রয়োজনীয় বলি উৎসর্গ করতে পারেন, যাতে মানুষেরা পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে এবং যিহোবার পরিবারের অংশ হতে পারে, যে-পরিবার স্বর্গে ও পৃথিবীতে যিহোবার অনুগত দাসদের নিয়ে গঠিত। এই বংশ যে একজন যাজক হবেন, সেই বিষয়টা নিশ্চিত করার জন্য যিহোবা আরেকটা বৈধ চুক্তি করেছিলেন আর সেটা হল, মল্কীষেদকের মতো একজন যাজকের জন্য চুক্তি।

১৬ রাজা দায়ূদের মাধ্যমে ঈশ্বর প্রকাশ করেছিলেন, তিনি যিশুর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে একটা চুক্তি করবেন। দুটো বিষয় সেই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত: প্রথমত, যিশু ‘[ঈশ্বরের] দক্ষিণে বসিবেন’ এবং ঈশ্বরের সমস্ত শত্রুকে পরাজিত করার কর্তৃত্ব লাভ করবেন; আর দ্বিতীয়ত, “মল্কীষেদকের রীতি অনুসারে” যিশু “অনন্তকালীন যাজক” হবেন। (পড়ুন, গীতসংহিতা ১১০:১, ২, .) তবে, কেন যিশু “মল্কীষেদকের রীতি অনুসারে” একজন যাজক হবেন? অব্রাহামের বংশধরেরা প্রতিজ্ঞাত দেশ অধিকার করার আগে, মল্কীষেদক শালেমের রাজা ও সেইসঙ্গে “পরাৎপর ঈশ্বরের যাজক” ছিলেন। (ইব্রীয় ৭:১-৩) যিহোবা সরাসরি তাকে একজন রাজা ও যাজক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন এবং যিশুর আগে মল্কীষেদকই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যার একইসঙ্গে ওই দুটো পদমর্যাদা ছিল। এ ছাড়া, মল্কীষেদকের আগে অথবা পরে আর কোনো ব্যক্তিরই যেহেতু সেই পদমর্যাদায় থাকার নথি নেই, তাই বিষয়টা এমন যেন তিনি “নিত্যই যাজক” বা চিরকালীন যাজক।

১৭ এই চুক্তির মাধ্যমে, যিশু সরাসরি ঈশ্বরের দ্বারা নিযুক্ত একজন যাজক হন। যিশু “মল্কীষেদকের রীতি অনুসারে অনন্তকালীন যাজক” হিসেবে থাকবেন। (ইব্রীয় ৫:৪-৬) এই চুক্তি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যে, যিহোবা নিশ্চয়তা দেন, তিনি মানুষ ও পৃথিবীর বিষয়ে তাঁর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করার জন্য মশীহ রাজ্যকে ব্যবহার করবেন।

রাজ্যের ভিত্তি হল বিভিন্ন বৈধ চুক্তি

১৮, ১৯. (ক) আমরা যে-চুক্তিগুলো সম্বন্ধে আলোচনা করেছি, সেগুলো কীভাবে রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত? (খ) পরের প্রবন্ধে আমরা কী আলোচনা করব?

১৮ এই পর্যন্ত আমরা জেনেছি, কীভাবে প্রতিটা চুক্তি মশীহ রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং কীভাবে বৈধ চুক্তিগুলোর ভিত্তিতে রাজ্য দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদনে করা প্রতিজ্ঞা নিশ্চয়তা দেয়, যিহোবা পৃথিবী ও মানবজাতির ব্যাপারে তাঁর উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ করার জন্য নারীর বংশকে ব্যবহার করবেন। অব্রাহামের সঙ্গে করা চুক্তি ব্যাখ্যা করে, কে বংশ হবেন এবং সেই বংশের ভূমিকা কী হবে।

১৯ দায়ূদের সঙ্গে করা চুক্তি, মশীহের বংশধারা সম্বন্ধে আরও বিস্তারিত তথ্য দেয়। এ ছাড়া, এই চুক্তি যিশুকে চিরকাল পৃথিবীর ওপর শাসন করার অধিকার প্রদান করে। মল্কীষেদকের মতো একজন যাজকের জন্য চুক্তি এই নিশ্চয়তা দেয়, বংশ একজন যাজক হিসেবে সেবা করবেন। কিন্তু, যিশু একাই মানুষকে সিদ্ধ হতে সাহায্য করবেন না। অন্যেরাও রয়েছে, যাদেরকে রাজা ও যাজক হিসেবে সেবা করার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা কোথা থেকে আসবে? পরের প্রবন্ধে তা আলোচনা করা হবে।